অনিদ্রাজনিত রোগ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা

  • 0

অনিদ্রাজনিত রোগ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা

Category : Health Tips

অনিদ্রাজনিত রোগ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা

ডাঃ ফারুক জামাল

শরীরে কোন রোগ না থাকার নামই স্বাস্থ্য। এটি স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের কথা। সুস্থ দেহে দীর্ঘজীবন সকলেরই কাম্য। কিন্তু দেখা যায়, শরীরের প্রতি, স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলার কারণে অকাল মৃত্যু নেমে আসছে অনেকেরই জীবনে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ লোকই স্বাস্থ্য সচেতন নয়। আর স্বাস্থ্য সচেতন নয় বলেই প্রায়শঃ নানা ধরনের রোগ ব্যাধি এসে শরীরে ভর করে। এসব রোগের অনেকগুলোই যখন খুবই মারাত্মক পর্যায়ে গিয়ে পৌছে তখনই আক্রান্ত ব্যাক্তি টের পান যে তার অসুখ হয়েছে। এমনও হয় অনেক সময় কি রোগ তা বুঝবার আগেই রোগী অক্কা পায়। প্রথম কথা রোগ অবহেলা দ্বিতীয়তঃ চিকিৎসকের সঠিক রোগ নিরাময়ের ব্যর্থতাও অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে পড়ে। কেননা আমাদের চিকিৎসা এখনো উন্নত দুরে থাক, পাশের দেশ ভারতের স্বাস্থ্য চিকিৎসার অগ্রগতির কাছে ধারেও যেতে পারেনি। ফলে বিস্তর লোককেই রোগভোগের এবং অপচিকিৎসার শিকার হতে হয়। বিশেষ করে অর্ধ শিক্ষিত চিকিৎসকরাই এর মূল কারণ। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রণহীন বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদীয় ও হেকিমী ওষুধ আমাদের দেশের ব্যাপক অসচেতন জনগোষ্টীর স্বাস্থ্যহানি ও নানা রকম রোগ ব্যাধির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাই প্রয়োজন ব্যাপক স্বাস্থ্যসচেতনতা। বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলেই মানুষের মাঝে এই সচেতনতা ব্যাপকভাবে গড়ে তোলা দরকার।

একটি বিষয় লক্ষ করা গেছে, লোকজনের একটু কিছু হলেই দৌড়ে ওষুধের দোকানে গিয়ে ওষুধ নিয়ে আসেন। এসব ওষুধের অনেকগুলোরই সাময়িক ফল ভালো হলেও সবার জন্য সব ওষুধ প্রযোজ্য নয়, এ কথা ওষুধ বিক্রেতা জানবেন কি করে? চিকিৎসক সঠিকভাবে জানেন। তাও আবার অনেক চিকিৎসকই কখনো কখনো ভুল করে বসেন। তাই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রোগীর শরীরে আরেক নতুন রোগ বাধিয়ে দেয়। তাই কথায় কথায় একটু কিছু হলেই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। যেসব কারণে রোগব্যাধি হয়, সেই সব দিকগুলো সাবধানে  এড়িয়ে চললেই, সচেতন থাকলেই রোগের ঝামেলা ঝক্কি পোহাতে হয় না। কিন্তু দেখা যায়, ব্যাপক জনগোষ্টী, বিশেষ করে গ্রামে বসবাস করেন যারা, তারা নগর জীবনের মানুষের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সচেতন না থাকায় অনেক বিপত্তি ঘটছে। গ্রামের লোকজন  সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন, এ কথা বলার মূল কারণ  হচ্ছে বিশুদ্ধ বায়ু সেবন। আমরা প্রতি মুহূর্তে শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছি। প্রাণ স্পন্দন সজীব থাকছে ? তাহলে বাতাসই জীবন। সেই বাতাস যেটুকু আমরা টেনে ভেতরে নিচ্ছি, বেচে থাকার জন্য তা যদি বিশুদ্ধ না হয় তবে শরীর সুস্থ থাকার কথা নয়। সবুজ বাংলার গ্রামীন মানুষের জীবনে এখনো বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের সুযোগ টুকু আছে। কিন্তু শহর নগর জীবনে এ সুবিধা টুকু কোথায় ! এখানে বেশির ভাগ লোকই প্রতি মুহূর্তে শুধু ব্যস্ততাজনিত নানারকম টেনশনেই যে থাকেন  তা নয়, বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের সুযোগও বিরল।  প্রতি মুহূর্তে  ইঞ্জিনের কালো ধোঁয়া, প্রয়োজনের তুলনায় গাছ গাছালির স্বল্পতা,  আরো নানা কারণে শহরে নগরের বহমান বায়ু ততটা বিশুদ্ধ নয়। শহরের নগরের মানুষ গ্রামের মানুষের তুলনায় স্বাস্থ্য সচেতন হয়েও তাই তেমন সুবিধে করে উঠতে পারেন না, এর অন্যতম  মূল কারণ এটি।

বহমান বাতাস থেকে আমরা যে অক্সিজেনটুকু গ্রহণ করছি, অন্যান্য সময়ের চেয়ে ভোরের বাতাসে তা থাকে খুবই সতেজ সজীব। তাই সবুজ ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাটা এবং সুর্য ওঠার আগে ভোরের বিশুদ্ধ বায়ু সেবন শরীর চাঙ্গা করে তোলে। শুধু শরীর নয়, মনও চাঙ্গা করে। শরীর মন যদি চাঙ্গা থাকে, সারাদিনের কাজে স্পৃহা জাগে। শরীর সুস্থ থাকলে রাতে ঘুম হয় ভালো। ঘুম শরীর ও মনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। রাতে যদি  ঘুম ভালো হয় তাহলে শরীর মন দুই ই সতেজ থাকে। এটুকু লক্ষ্য করলেই তাই দেখা যাবে প্রায়শঃ চিকিৎসকরা জিজ্ঞেস করে থাকেন, রাতে  ভালো ঘুম হয় তো? আর সকলেই পরামর্শ দিয়ে থাকেন রাত দশটার মধ্যে বিছানায় যাবেন। বিশেষ করে যারা অসুস্থ তাদের জন্যে এ পরামর্শ চিকিৎসকের থাকবেই। ঘুমের কথা বলা হচ্ছে। অথচ ঘুম আজকের বিশ্বের দেশে দেশে বহু মানুষের জন্যে এক দুর্লভ জিনিস। ভালো ঘুম না হওয়ার কারণে তাই অনেকেই অনেক ধরনের রোগ ব্যাধি বাধিয়ে থাকেন। একটু ঘুমের জন্যে অনেকেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে থাকেন। ঘুমের ওষুধ যে সত্যিকার অর্থেই ঘুম পাড়িয়ে দেয় তা কিন্তু নয়। নার্ভগুলো কিছুটা শিথিল করে দেয়। তাই অচেতন শরীর মনে কিছুটা বিশ্রাম মেলে।

ঘুম না হওয়ার কারণে অনেক সময় শ্বাস কষ্টও দেখা যায়। কয়েক মুহুর্তের জন্যে শ্বাসযন্ত্র কাজ করে না। কখনো কখনো এই শ্বাসকষ্ট ৬০ সেকেন্ড পর্যন্তও বন্ধ থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা একে বলেছেন স্লিপ এপেনা বা যাকে বাংলায় বলা যেতে পারে নির্ঘমজনিত শ্বাসকষ্ট। কখনো এ ধরনের রোগীর কয়েকশ বারও শ্বাস মুহূর্তে মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যার কারণে মাথা ব্যাথাতো হতেই পারে। যৌন শক্তি ও স্মৃতিশক্তিও লোপ পায় এবং পরেক্ষভাবে এটা মানুষের মৃত্যুই ডেকে আনে। এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে ঘরে বাইরে রাস্তাঘাটে কাজের সময় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। নির্ঘুমজনিত রোগের ক্ষেত্রে এটি নির্ণয়ের ঘটনা এখনো বিরল। বিশেষ করে এশিয়াতে। হংকংয়ের কর্পোটে হেলথ কনসালট্যান্ট রোজ অং বলেছেন, “চিকিৎসক এবং সাধারণ লোকজনের ভেতর এই ধরনের রোগ সর্ম্পকে সচেতনতা খুবই কম”। এ ব্যাপারে ব্যাপক আকারে গবেষনা আজও তেমন একটা হয়নি। পত্র পত্রিকায় এসব বিষয়ে লেখালেখিও তেমন ছাপা হয়নি।

নির্ঘুমজনিত শ্বাসকষ্ট তখনই হয় যখন গলার ভেতরে শ্বাসনালীর পেছনে শিথিল এবং সংকীর্ণ হয়ে আসে। আর মাংসপেশীর ভেতর দিয়ে বাতাস প্রবাহের পথগুলা যখন উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এ সময় কখনো কখনো প্রচন্ড গতিতে ভেতরে বাতাস বয় এবং নাক ডাকাডাকি শুরু হয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক নতুন গবেষণায় পাওয়া গেছে, এক সময় এ রোগের কথা যতটা ভাবা গিয়েছিল এখন তা দেখা যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি। গবেষকরা ৩০ এবং ৬০ বছর বয়সী মানুষের মাঝে শতকরা ৯ জন মহিলার এবং শতকরা ২৪ জন পুরুষের ক্ষেত্রে ঘন্টায় পাঁচবার করে শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে শতকরা ২ ভাগ মাঝবয়সী মহিলা এবং শতকরা ৪ ভাগ পুরুষের অন্য রোগে রূপ নেয়।


Leave a Reply