অনিদ্রা কোন রোগ নয়

  • 0

অনিদ্রা কোন রোগ নয়

Category : health tips bangla

 

অনিদ্রা কোন রোগ নয়

অনিদ্রা কোন রোগ নয়, তবে এটা রোগ সৃষ্টির পূর্বাভাস। সারাদিনি মানসিক বা শারীরিক পরিশ্রম করার পর প্রত্যেক ব্যক্তির নির্দিষ্ট পরিমাণে নিদ্রার প্রয়োজন। অনেকেই অনিদ্রার হাত থেকে রেহাই পেতে মদ্যপান করেন। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে অনিদ্রা এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যা দূর করতে মদ্যপান করা একটা ধারায় পরিণত হয়েছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের জনক মহামতি চরক আজ থেকে ৫০০০ বছর পূর্বে অনিদ্রা  রোগের বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন। এ অনিদ্রাকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে- ১) নিদ্রাহীনতা ২) নিদ্রাধিক্য ৩) মধ্যাবস্থাজনিত নিদ্রাহীনতা। প্রথম বিষয়ের ক্ষেত্রে দু/একদিন ঘুম আসতে দেরি হতে পারে এবং কালক্রমে ইহা অভ্যাসে পরিণত হয়। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গের ফলে এরকম হতে পারে। নিদ্রাহীনতাকে স্বল্পকালীন এবং দীর্ঘকালীন এ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। স্বল্পকালীন নিদ্রাহীনতার কারণসমূহ হল- উদ্বেগ, ভয়, শোক, ক্রোধ, বাসস্থান পরিবর্তন, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত চা, কফি ইত্যাদি পান, মাত্রাধিক্য মদ্যপান, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগ, হাঁপানি, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড গ্রন্থির

অনিদ্রা কোন রোগ নয়

অনিদ্রা কোন রোগ নয়

অসুখ, গর্ভবতী মহিলা, পথ দুর্ঘটনা, রক্তপাত, ব্রংঙ্কাইটিস, ডায়রিয়া, মদ্যপান আসিক্তি ইত্যাদি। দীর্ঘকালীন অনিদ্রা মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। যৌবনকালে সাধারণত ৮ ঘন্টা নিদ্রার দরকার। গড়ে অন্তত ছয় ঘন্টা ঘুম নিতান্তই প্রয়োজনীয়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঘুম কমে আসে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ৫০ থেকে ৬০ অথবা এর অধিক বয়সের লোকের জন্য ৪-৬ ঘন্টা ঘুম স্বাভাবিক বলে আখ্যায়িত করেন। সাধারণত অবসরের সময় অনেকে দিনে ২-৩ ঘন্টা ঘুমিয়ে কাটান। দিবানিদ্রা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকার। কর্মহীন, অত্যান্ত অলস, খাদ্য বিলাসী, আর্থিকভাবে সচ্চল  ইত্যাদি লোক অতিনিদ্রার শিকার হতে পারেন। অনিদ্রা দূর করার জন্য নিম্নের কয়েকটি সাবধানতা পালন করা যায় – সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ একান্ত প্রয়োজন। রাত ১০-১০.৩০ এর মধ্যে নিয়মিতভাবে বিছানায় যাওয়া উচিত। একদিন হঠ্যাৎ ঘুম না এলে ঘুমের বড়ি ব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত গুরু পাক খাদ্য বর্জন করা উচিত। ধুমপান বর্জন করা উচিত। মদ্যপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। অত্যধিক চা, কফি বা শীতল পানীয় সেবন না করাই ভালো। শেষ রাত পর্যন্ত বই পড়া বা টিভি দেখা অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করতে হবে। গুটখা, পানমশলা ইত্যাদি ব্যবহার করা ঠিক নয়। নির্ধারিত সময়ে মেডিটেশন করা উচিত। যোগ ব্যায়ামের সুনিদ্রার জন্য অত্যন্ত উপকারী। রাতে ঘুমানোর আগে কম করে পানি খাওয়া উচিত। ঘুমানোর আগে পরনিন্দা বা পরচর্চা করা নিষেধ।

আফতাব চৌধুরি

 


Leave a Reply