এইডস এবং মুখের রোগ

  • 0

এইডস এবং মুখের রোগ

Category : Health Tips

এইডস এবং মুখের রোগ

এইচআইভি ভাইরাস এইডস রোগ সৃষ্টি করে থাকে। এই ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়তে পারে রক্ত সঞ্চালন, এইচআইভি আক্রান্ত সুচ এবং যৌন সর্ম্পকের মাধ্যমে। এছাড়াও এইচআইভি বহনকারী মহিলা থেকে গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবকালীন সময়ে তার সন্তানের নিকট এই ভাইরাস বিস্তার লাভ করতে পারে। এইডস তখনই হয় যখন এইচআইভি সংক্রামণের কারণে কারও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। সর্ব সাধারনের সচেতনার জন্য এইচআইভি সংক্রামনের কিছু লক্ষণ অব্যশই জানা প্রয়োজন যা নিম্নরূপ:

* দ্রুত গতিতে ওজন কমে যাওয়া * বার বার জ্বর আসা * রাতের বেলায় প্রচন্ড ঘামিয়ে যাওয়া* অনবরত এবং বর্ণিনাতীত দুর্বলতা * কিছু স্থানের লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া। * এক সপ্তাহেরে বেশি সময় ডায়রিয়া থাকলে* সাদা অথবা ব্যতিক্রমধর্মী কোন দাগ জিহ্বা বা ‍মুখের ভিতর দেখা দিলে * স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে নষ্ট হওয়া এবং বিষণ্নতা। এইচআইভি আক্রান্তদের মুখের সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। এইচআইভি আক্রান্তদের তিনভাগের একভাগেরও বেশি মানুষের মুখে সমস্যা থাকে। এটি হয়ে থাকে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে। এইচআইভি আক্রান্তদের মুখের সমস্যার লক্ষণসমূহঃ ওরাল ক্যান্ডিডসিস (থ্রাশ), * বার বার মুখে এ্যাপথাস আলসার, * হেয়ারি লিউকোপ্লাকিয়া, জ্বর, ঠোসা, * ক্যাপোসিস সারকোমা (টিউমার), হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস সংক্রমণ, *লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, লালাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া, *শুষক্ মুখ যার কারণে দাতে ক্ষয়, খাবার গ্রহণ এবং গলাধকরণে সমস্যা হতে পারে,  *জিহ্বা বা মুখে কালো, সাদা বিশেষ ধরনের দাগ। তার মানে এই নয় যে, উপরের মুখের এবং শারীরিক লক্ষণসমূহ দেখা দিলেই কেউ এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন বা এইডস রোগ আছে  এমনটি ভাবা মোটেও ঠিক নয়। এক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে আপনাকে এইডস পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। এইডস পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আপনার এইডস রোগ হয়ে গেছে। এমন অনেক মানুষ দেখা গেছে যারা এইচআইভি আক্রান্ত তাদের অনেক বছর কোন লক্ষণই দেখা যায়নি। এইচআইভি সংক্রমনের লক্ষণসমুহের ওপর ভিত্তি করেও সব সময় মন্তব্য করা ঠিক নয়। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তবেই সিধান্ত নিতে হবে।

এইডস বিস্তারে বর্তমানে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ঝুকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। এইডস রোগীর পরিসংখ্যান যাই হোক না কেন একথা নির্দ্ধিধায় বলা যায় যে, সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিবে। কেবল সভা, সেমিনার নয় সত্যিকার অর্থে কাজ করতে হবে। তাই বাচতে হলে শুধু জানলেই হবে না,  অন্যকে জানানোর মাধ্যমে সার্বিক সামাজিক সচেতনতার লক্ষ্যে সবাইকে  একযোগে কাজ করতে হবে। নষ্ট করার মতো সময়ও এক মুহূর্ত নেই। আসুন আমরা গোঁড়ামি ও চরম পন্থা বর্জন করে ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মেনে নৈতিক মুল্যবোধ সম্পন্ন জীবন গড়ার মাধ্যমে প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার শপথ গ্রহণ করি।

ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ

মোবাইলঃ ০১৮১৭- ৫২১৮৯৭


Leave a Reply