এইডস এর ভয়াল থাবা

  • 0

এইডস এর ভয়াল থাবা

Category : Health Tips

এইডস এর ভয়াল থাবা

এইচআইভি আক্রান্ত সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে মোটামুটি শতকরা ৯০ জন হচেছন উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষ। জেনেভা ও ওয়াশিংটনে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষত যাদের একাধিক যৌনসঙ্গী রয়েছে বা যারা মাদক সেবন করেন তাদের জন্য সরকারের আরও নিবিড় প্রতিরোধ প্রচেষ্টা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাচাতে পারে এবং কমিয়ে আনতে পারে মহামরী সৃষ্ট মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সামাজিক দুর্ভোগ।

এইডস মোকাবিলাঃ বিশ্ব মহামারীতে জন অগ্রাধিকার শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সারাবিশ্বে এখন এইচআইভিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২৩ মিলিয়ন এবং প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন ৮,৫০০ জন। মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী এই ভাইরাসের সাক্ষাৎ পাওয়ায় দুই দশকের মধ্যে, ষাট লাখ মানুষ মারা গেছেন এইডস রোগে, নতুন সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে বোঝা যাচ্ছে সাব সাহারান আফিক্রায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ মিলিয়ন। অন্যান্য এলাকা যেমন মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ এই ভাইরাস বিষ্ফোরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকতে পারে।

এইচআইভি বিস্তার অব্যাহত আছে এবং তা ভয়ঙ্কর মাশুল আদায় করে নিচ্ছে বলেছেন প্রতিবেদনের সহ লেখক মিড ওভার। অনেক প্রকট আক্রান্ত দেশে, এইচআইভি ইতিমধ্যেই মানুষের জীবন প্রত্যাশা এক দশকের বেশি কমিয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে মহামারী প্রতিরোধ উন্নয়নশীল দেশগুলো ও আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ঝুকিপূর্ণ আচরণকারীদের নিজেদের ও অন্যান্যের এইচআইভি সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করা। এখন পর্যন্ত অনেক দেশে সরকার সমর্থিত প্রতিরোধ কর্মসূচি ঝুকিপূর্ণ আচরণকারীদের কাছে পৌছেনি। যে সমস্ত আচরণ খুব বেশি এইচআইভি সংক্রামণের ঝুকি বাড়িয়ে দেয় তার মধ্যে আছে অনেক সঙ্গীর সাথে অরূক্ষিত সহবাস এবং অবীজাণুমুক্ত (আনস্টেরিলাইজড) সুচ মিলেমিশে ব্যবহার করে মাদক গ্রহণ করা।

মি. ওভার বলেন, ঝুকিপূর্ণ আচরণকারী মানুষদের মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধ নিশ্চিত করা সরকারের একটি মৌলিক দায়িত্ব। এটিই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ প্রতিরোধ করবে এমনকি যারা ঝুকিপূর্ণ আচরণ করেন না তাদেরকেও রক্ষা করবে।

উদাহারণ স্বরূপ, কেনিয়ার নাইরোবিতে ৫০০ জন পতিতার যৌনতা বাহিত রোগের চিকিৎসা ও কনডমের ব্যবহার শতকরা ৮০ ভাগে বৃদ্ধি করা তারেদ খোদ্দেরদের স্ত্রী ও অন্যন্য সঙ্গীদের প্রতিবছর ১০,০০০ সংক্রমণ প্রতিরোধ করছে। একই সম্প্রদায়ের ৫০০ পুরুষেল একই কনডম ব্যবহার সম্ভবত একশর কিছু কম সংক্রমণ প্রতিরোধ করে থাকবে।

প্রতিবেদনের সহলেখক আইনসওয়ার্থ ওয়াশিংটনে বলেন, এইচআইভি একের পর ্ কে যুগপৎ ঘটে যাওয়া বিভিন্ন মহামারীর মাধ্যমে পুরো জনগোষ্টীকে আক্রান্ত করে। একবার যখন খুব ঝুকিপূর্ন আচরণকারী মানুষগুলোর মধ্যে ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যায় তখন অন্যান্যের মাঝে তার বিস্তার প্রতিরোধ করা ক্রমশই দুরূহ হয়ে ওঠে।

সূচের সাহায্যে অর্থ্যাৎ ইনজেকশনের মাধ্যমে যারা মাদক নেন তাদের জন্য জীবানূমুক্ত (স্টেরিলাইজড) ইনজেকশন উপকরণ সহজলভ্য করার কর্মসূচিও খুব কার্যকর। গ্লাসগো, স্কটল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনীসহ বিশ্বের বেশকিছু শহরের চালু আছে ‘সুচ বিনিময় কর্মসূচি’ এই শহরগুলোয় ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমনের হার ৫০% এরও ওপরে উঠে গেছে। কানাডার টরেন্টো, যুক্তরাস্ট্রের টাকামো (ওয়াশিংটন), সুইডেনের লাউন্ড ও নেপালের কাঠমন্ডুতেও সুচ বিনিময় কর্মসূচি উচ্চ সাফল্য পেয়েছে।

যৌনকর্মী ও তাদের খদ্দের এবং ইনজেকশনের মাধ্যম মাদক গ্রহণকারীদের বাইরেও অনেক ঝুকিপূর্ণ আচরণে লিপ্ত হন। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে সৈনিক, পুলিশ কর্মকর্তা, বন্দী, দুরপাল্লার ট্রাক চালক, অভিবাসী শ্রমিক এবং সমকামী ও উভয়কামী পুরুষ, এদেরও প্রায় ক্ষেত্রেই অন্যানোর চেয়ে বেশি যৌনসঙ্গী রয়েছে।

সরকারের খুজে দেখা প্রয়োজন যে, কোন গোষ্ঠীতে ঝুকিপূর্ণ আচরণকারী আছে এবং এইচআইভি বিস্তার রোধের জন্য তাদের সরকারকে কাজ করতে হবে। অবশ্য েএই ধরনের গ্রুপের মধ্যে প্রতিরোধ কর্মকান্ড পরিচালনায় সমর্থন যোগাতে সরকার প্রায়শই অনিচ্ছুক থাকে কারণ সমালোচকরা যুক্তি দেখান যে, এই বিতর্কিত কর্মসূচি মানুষকে বহুগুনিতক যৌনসঙ্গী গ্রহণে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেশাকে উৎসাহিত করবে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘটনা আসলে তেনটি ঘটে না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ( এনজিও) মাঝে মাঝে ঐ বিতর্ক এড়িয়ে যেতে পারে এবং তারা খুব ঝুকিপূর্ণ আচরণকারীদের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে সরকারের চেয়ে প্রায়শই বেশি কার্যকর। উদাহারণস্বরূপ, কলিকাতার সোনাগাছির নিষিদ্ধ এলাকায় ভারত সরকার, দাতা দেশসমূহ তিনটি স্থানীয় এনজিও এবং যৌনকর্মীরা একটি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে একসাথে কাজ করছে এবং এর ফলে ঐ এলাকার যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ হান নিচু স্তরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

সম্ভাব্য দ্রুততার সাথে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে। মিস আইনসওয়ার্থ বলেন, যে সব দেশে এখন মারাত্মক মহামারি দেখা দিয়েছে, সে সব প্রতিটি দেশের মানুষ বলেছিলো, এখানে এমনটি ঘটতে পারে না। তারা ভুল ছিলো। এই সময়ের মধ্যেই এতো বেশি সংখ্যক এইডস এর ঘটনা নজরে এসেছে যে, মারাত্মক মহামারী এড়ানোর ক্ষেত্রে খুব বেশি দেরি হয়ে গেছে, ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে এইচআইভি ছড়িয়ে থাকবে। হুন্ডুরাস, যেখানে ৮,০০০ এইডসের ঘটনা জানা গেছে, আনুমানিক ৫০,০০ প্রাপ্তবয়স্ক ইতোমধ্যেই এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছে।

এখনও অনেক দেশে এইচআইভি মহামারীর ব্যাপক বিস্তার রোধের সুযোগ রয়েছে। ত্রিশটি উন্নয়নশীল দেশে এবং চীন ও ভারতের বিশাল অংশে খুব উচ্চ ঝুকিপূর্ণ আচরণকারীদের মধ্যে মাত্র শতকরা ৫ ভাগেরও কম মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিনস, প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের সবগুলো দেশ এবং পূর্ভ ইউরোপের বেশিরভাগ মহামারীর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ‘জায়মান’ মহামারির এই দেশগুলো এবং চীন ও ভারতের কিছু অংশে বসবাসকারী ২.৩ মিলিয়ন মানুষের জন্য কার্যকর প্রতিরোধ কর্মকান্ডে বিনিয়োগ সংক্রমণের হারকে রাখতে পারে খুব নিচে এবং তুলনামুলকভাবে স্বল্প ব্যয়সাপেক্ষ।

অন্যান্য দেশগুলোতে ইতোমধ্যেই উচ্চ ঝুকিপূর্ণ আচরণকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এইচআইভি বিস্তার লাভ করেছে কিন্তু এখনও অন্যান্য মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে তা ছড়িয়ে যায়নি। পাকিস্থান, ইউক্রেন, ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ, পশ্চিম আফ্রিকার কয়েক অংশে এবং ইন্দোচিনের বেশিরভাগ চল্লিশটিও বেশি উন্নয়নশীল দেশে আছে ‘কেন্দ্রেীভূত’ মহামারী। ভারতের কয়েক অংশে ও মাদক ব্যবসায়ের ‘গ্লোডেন ট্রায়েঙ্গেল’  সীমান্ত সংলগ্ন চীনের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলেও আছে কেন্দ্রীভূত মহামারী।

১.৬ মিলিয়ন মানুষের আবাস এই দেশগুলোর মহামারীর ব্যাপক বিস্তার এখনও সম্ভব, তবে প্রারম্ভিক পর্যায়ে প্রতিরোধের চেষ্টা না করলে ক্রমাগত এই মহামরি মোকাবিলা করা জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীভূত মহামারীরর দেশ থাইল্যান্ডে পতিতালয়গুলোর সার্বজনীনভাবে কনডমের ব্যাপক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে চালানো প্রচারাভিযান মহামারির বিস্তার শ্লথ করে দিয়েছে। সামরিক বাহিনীর যুব সদস্যদের মধ্যে সংক্রমনের হার নামিয়ে দিয়েছে।

একশ টি দেশে আছে ‘জেনারালাইজড’ বা সাধারণীকৃত মহামারি, এই সব দেশে যেসব মহিলা মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকে আসেন তাদের ৫% এরও বেশি সংক্রমণের শিকার। এই দেশগুলোর সবগুলোই হচ্ছে আফ্রিকার নিম্ন আয়ের দেশ যেখানে মহামারীর সাথে এটে ওঠার মতো সম্পদ সবচেয়ে বেশি অপ্রতুল। ২২৬ মিলিয়ন মানুষের এই দেশগুলোর  ঝুকিপূর্ন আচরণকারী মানুষদের,  তাদের নিজেদের ও অন্যান্যদের রক্ষা করার লক্ষ্যে সাহায্য করা এখনও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে মহামারী ছড়িয়ে পরার সাথে সাথে স্বল্পসঙ্গীর মানুষদের মধ্যে প্রতিরোধ গড়ে তোরা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাধারণীকৃত মহামারীরর এই দেশগুলোর সরকারও কীভাবে ক্রমবর্ধমান মেডিক্যাল সেবা চাহিদা মেটাবে এবং কীভাবে দরিদ্র পরিবারগুলো ওপরে এইডস  এর প্রভাব মোকাবিলা করবে সেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যায় সম্মুখীন হয়। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যে, প্রতিটি দেশের সরকার বিশেষত মারাত্মকভাবে সংক্রমিত অঞ্চলগুলোর সরকারকে প্রায়শেই এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের জন্য স্বল্পমূল্যে কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থার সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। উদাহারণস্বরূপ মুখের অভ্যান্তরে প্রদাহ যা খাদ্য গ্রহণকে অত্যান্ত কষ্টকর করে তোলে এবং এইডসের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক মানুষকে আক্রমণ করে, তার চিকিৎসার জন্য প্র্রতি পর্বে মাত্র দুই ডলার ব্যয় হয়।

মি. ওভার বলেন, ওষুধ সহজলভ্য হলে এমনকি একেবারে দরিদ্র পরিবারগুলিও নির্দ্বিধায় এই ব্যয় বহন করবে। কিন্তু দুঃখজনক হচেছ, িএই ওষুধগুলো প্রায়ই সহজে পাওয়া যায় না।

যক্ষা যা প্রায়ই এইচআইভি বাহনকারীদের আক্রমণ করে তার চিকিৎসা সম্ভব খুব কম, মাথাপিছু মাত্র ৩৬ ডলার ব্যয়ে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যেহেতু যক্ষা অত্যান্ত সংক্রমণশীল, সুতারাং সরকারের ব্যাধ্যবাধকতা আছে এইচআইভি আক্রান্ত যে কোন রোগীর জন্য যক্ষার চিকিৎসায় তহবিল যোগানো, নইলে এরা চিকিৎসাহীন থেকে যেতে পারেন। প্রতিবেদনে এও সর্তক করে দেয়া হয়েছে যে, ব্যয়বহুল ড্রাগের সমন্বয়ে এইচআইভি/ এইডস চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে তা অত্যান্ত জটিল এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যাপক ব্যবহারের জন্য অত্যান্ত ব্যয়বহুল।

মিঃ ওভার বলেন,  এন্টিরেট্রাভাইরাল থেরাপিতে প্রতিবছর খরচ পরে প্রায় ১২,০০০ ডলার এবং এর জন্য প্রয়োজন হয় অত্যাধুনিক ক্লিনিকাল সর্মথনের যা উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষের জন্য কদাচিৎ সহজলভ্য। ফেয়ারনেস বজায় রাখতে সরকারের উচিত হবে অন্যন্য সমান ব্যয়বহুল, জটিল ও পরীক্ষা নিরিক্ষা পর্যায়ের রোগের চিকিৎসার মতো এইচআইভির ব্যয়বহুল চিকিৎসাতেও ভূতুর্কি দেয়া।

যদি এইচআইভি/ এইডস নতুন চিকিৎসা খরচ খুব কমেও যায় তারপরও সরকারের উচিত হবে সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা যে,  অপ্রতুল সরকারী সম্পদ চিকিৎসায়, না প্রতিরোধে ব্যয় করা হবে।

মারাত্মকভাবে সংক্রমিত দেশগুলোর এইডস কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুহার খুব বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে, তারা মারা যাচ্ছেন কাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়সে। এই রকম মৃত্যুগুলো দরিদ্রতম পরিবারগুলোর  জন্য লক্ষণীয় দুর্ভোগ সৃষ্টি করে, আয় হ্রাস মোকাবিলায় তারা প্রায়ই তাদের খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং সন্তানদের স্কুল পড়ানো বন্ধ করে দেয়।

প্রতিবেদনে পরামর্শ দেয়া হয়েছে সরকার এইচআইভি/ েএইডস আক্রান্ত পরিবারগুলোকে দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা নিশ্চিত করে এই মহামারীরর ভয়াবহতা কমিয়ে আনতে পারে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও সিনিয়র সহসভাপতি জোসেফ স্টিগলিৎস ওয়াশিংটনে বলেন, জনগনের সম্পদ কোথায় বা কোন ক্ষেত্রে বরাদ্দ করা উচিত হবে এইডস নীতি চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে যা ফোয়ার ও ব্যয়সাশ্রয়ী। জন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভোঙ্গী থেকে মহামারীকে বিশ্লেষণ করায় এই প্রতিবেদনটি এইচআইভি/ এইডস সংক্রান্ত অন্যন্য সমীক্ষা থেকে ভিন্ন ধরনের এই প্রতিবেদনে আলোকপাত করা হয়েছে কীভাবে সরকারী সম্পদ বন্টন করতে হবে তার ওপরে।

জেনেভায় এক প্রেস বিফ্রিংয়ে ইউএন এইডস এর নির্বাহি পরিচালক পিটার পায়োট বলেন, এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিশ্বব্যাংকের গবেষণা এইডসের ক্ষেত্রে আর্ন্তজাতিক সহযোগীতা জাত সুফলের উদাহারণ। তিনি সকল সরকারকে এইডসকে তাদের এজেন্ডার শীর্ষে রাখার আহবান জানান। সরকারকে অবশ্যই এক্ষুণি এই মহামারী মোকাবিলায় সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে এবং সমাজের প্রতিটি সেক্টরকে অংশ নেয়ার চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে। প্রতিবেদন তৈরিতে ইউএনএইডস ও ইউরোপীয় কমিশন থেকে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গেছে।

মিঃ পায়োট বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জেমস উলফেনসন ও ইউরোপিয়ান কমিশনের সদস্য যোয়াও ডি ডেয়াস স্বাক্ষরিত বইটির মুখবন্ধে প্রতিবেদনটিকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলিতে িএইডস মহামারী মোকাবিলার সরকারী ভূমিকা কী হবে সে সংক্রান্ত আর্ন্তজাতিক বির্তকের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান বলে প্রশংসা করা হয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এইডস প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অর্থসরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যংক  বৃহত্তম। বিশ্বব্যাংক, ১৯৯৩ সালে শেষ নাগাদ ৪১টি দেশের ৬১টি এইচআইভি/ এইডস প্রজেক্টে ৬৩২ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


Leave a Reply