এইডস ! প্রতিরোধের এখনই সময়

  • 0

এইডস ! প্রতিরোধের এখনই সময়

Tags :

Category : Health Tips

এইডস ! প্রতিরোধের এখনই  সময়

১৯৮১ সাল। আরেকবার থমকে দাড়ালো এই গ্রহের মানুষ। সভ্যতা। সামান্য এক ভাইরাস। কী ভয়ঙ্কর এর শক্তি। সভ্যতার শুরু থেকে এ পর্য্ন্ত অগ্রগতির সামনে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন। সেই শুরু থেকে। সামান্য একটি ভাইরাসকে জয় করতে পারছে না মানুষ। সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্য্ন্ত যতো ভয়ঙ্কর মহামারি হয়েহে এটি হচ্ছে অন্যতম। এই ঘাতক ভাইরাসের নাম এইচ আইভি। মৃতদূত এইডসের প্রাণভোমরা এইচ আইভি। 

এইডস Prevention center

এইডস Prevention center

এইডস

এইচ আইভি

মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী ভাইরাস এইচ আইভি (HIV) হচেছ এইডস রোগের কারণ।

H= Human

I= Immunodeficiency

V= Virus

মানুষের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। এইচ আইভি খুব একটা শক্তিশালী ভাইরাস নয়। দেহের বাইরে আধঘন্টার বেশি টিকতে পারে না। ৫৬ ডিগ্রি সেলাসিয়াস  তাপমাত্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। তারপরও এটি মারাত্মক। কারণ দেহে ঢোকার পর এটি রোগ প্রতিরোধ কোস টি ফোর কে সরাসরি আ্ক্রমন করে। টি ফোর একটি অতি জরুরি রোগ প্রতিরোধক কোষ। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা, ডিসেন্ট্রির বিরুদ্ধে এটি কাজ করে। এইচ আইভি এই টি সেলকে ধীরে ধীরে শেষ করতে থাকে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমান্বয়ে রোগের সাথে যু্দ্ধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। রক্তে টি ফোর কোষের মাত্রা কমতে থাকে। কমতে থাকে শরীরের ইমিউনিটি। গড়ে প্রায় ১০ বছর লাগে পুরোপুরে কাবু হতে। তাই ১০ বছর পর্য্ন্ত। কোনো প্রকার বড়ো ধরনের উপসর্গ ছাড়াই এইচআইভি দেহে তার অশুভ প্রক্রিয়া চালাতে থাকে। আলটিমেটলি যখন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই থাকে না তখনই দেখা দেয় এইডস।

এইডস

Aids prevention center

Aids prevention center

A = Acquired

I= Immune

D= Deficiency

S= Syndrome

এইডস হচ্ছে এইচআইভি সংক্রমন পরবর্তী অবস্থা যখন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কমে যায় বলে সামান্য ডায়রিয়া জ্বর কাশিকেও প্রতিরোধ করতে পারেনা।

এইডস  এবং তরুণ সমাজ

UNAIDS বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৯৮ এর শেষে সারা বিশ্বে এইচআইভিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ। এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় শতকরা ১০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এইচআইভিতে আক্রান্তের ৯৫% ভাগই হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশে।

Know Aids

Know Aids

প্রতি মিনিটে সমগ্র বিশ্বে প্রায় ১১ জন পুরুষ মহিলা ও শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হচেছ যার মধ্যে ৫ জনই যুবক ও যুবতী বলতে ১৫-২৪ বছর বয়সের মধ্যে, সুত্র AIDS EPIDEMIC UPDATE, DECEMBER, 24TH NOVEMBER, 1998)।

Aids prevention

Aids prevention

সম্বন্বিত জাতিসংঘ এইডস কর্মসুচি (ইউএন এইডস) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক যুক্ত সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী দেড় যুগের ব্যবধানে এইডস ইতিমধ্যে ছিনিয়ে নিয়েছে প্রায় দেড় কোটি তরতাজা প্রাণ। কেবলমাত্র ১৯৯৮ সালে এইডস জনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ লাখ। যদি অচিরেই এইডস চিকিৎসার ওষুধ আবিষ্কার না হয় তবে আগামী এক দশকের মধ্যে বর্তমানে যে সংখ্যক জনগোষ্টি এক ভাইরাসের আক্রান্ত তাদের বেশির ভাগই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। মধ্যে আফ্রিকার নয়টি দেশের এক হিসাবে দেখা গেছে মানুষের গড় আয়ু ২৭ বছর পর্যন্ত কমে গেছে। সুতারাং এখন্ই যদি আমরা এইডস প্রতিরোধ না করি তবে সেইদিন বেশি দুরে নয় যখন বাংলাদেশে এইডস মহামারী আকার ধারণ করবে। যুবক / যুবতীরা এই রোগে আক্রান্ত হবার বিশেষ কারণ রয়েছে। এইডস মূলতঃ যৌন মাধ্যমে ছড়ায়। যুবকরা বয়ঃপ্রাপ্ত হবার সঙ্গে সঙ্গে অনুসন্ধিসা আর উদ্ভাবনী শক্তির প্রকাশ ঘটে এবং এ বয়স হলে নতুন চারিত্রিক আচরণ ও সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়াস প্রায়। আর যৌন আচরণ হচ্ছে এর একটা বিশেষ অংশ যা প্রায়শঃই এই বিষয়ে নবীনদের জন্য ঝুঁকিপূর্ন হওয়া স্বাভাবিক।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বিশ্বে প্রতি মিনিটে তরুনদের মধ্যে পাঁচ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছে। অরক্ষিত যৌন মিলন, এইচআইভি আক্রান্ত হবার ঝুঁকিসমূহের প্রধান একটি নির্দেশক হলেও অন্যান্য যৌন রোগ যেমন গনেরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি এইডসের ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি বছর ৩৩ কোটি ৩০ লাখ নতুন যৌন রোগীদের মধ্যে অর্ধেকের বয়সেই হচেছ ২৫ বছরের নিচে। তরুনীরা বিশেষত জৈবিক কারণেই তরুণদের চেয়ে তরুণীদের নিজেদের জীবন বা শরীরের উপর কম নিয়ন্ত্রন থাকে। স্বভাবতই তরুণীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতারণা, ফুসলানো, জোরপূর্বক অসামাজিক কার্যকালাপে লিপ্ত করা বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।

তরুন/ তরুণীদের মাঝে মাদকাসক্তি আরেকটি বৃহৎ সমস্যা। একই সিরিঞ্চ দিয়ে রক্তনালীতে নেশাকরক ইন্জেকশন ব্যবহারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। মায়ানমারের দুই তৃতিয়াংশ রক্তনালীতে নেশাকারকরা বর্তমানে এইডস আক্রান্ত।

Aids prevention 2

Aids prevention 2

বাংলাদেশ পরিস্থিতি

বাংলাদেশের সীমানা ভারত, মায়ানমার ও বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত। ভারত ও মায়ানমারের এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যাা আশংখাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত  বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্টি। অন্যদিকে আমাদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ভারতের রয়েছে অবিচ্ছেদ্য মিল। স্বভাবতই বাংলাদশে খুব ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশে ১৯৮৯ ইংরেজীতে প্রথম এইডস রোগরে জীবানু এইচআইভি ধরা পড়ে। তখন থেকে জুন ১৯৯৮ ইং পর্য্ন্ত ১০২ জন রোগীর মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া যায়।

এইচআইভিতে আক্রান্ত বাহক মোট ৯২ জন

পুরুষ   জীবিত ৭২ জন

মৃত্যু    ১  জন

মহিলা  জীবিত ১৬ জন

মৃত্যু    নাই

শিশু     জীবিত ৩ জন

মৃত্যু    নাই

এইডস রোগী মোট ১০ জন

পুরুষ   জীবিত ৩ জন

মৃত্যু    ৭  জন

মহিলা  জীবিত নাই

মৃত্যু    নাই

শিশু     জীবিত নাই

মৃত্যু    নাই

এইডস  প্রতিরোধে যুবশক্তি

১৯৮৮ সালের লন্ডন ডিক্লারেশনের মাধ্যমে প্রতিবছর ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর একটি মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালন হয়। সময়োচিত এই সকল প্রতিপাদ্য বিশ্বব্যাপী এইডসের পরিস্থিতির উপর নির্ধারণ করা হয়। বিশেষ কোনো সমস্যাকে চিহ্নিত করে সে বিষয়ে জোর কর্মসুচির পাশাপাশি গনসচেতনাত বৃদ্ধিই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও একটি বিশেষ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বব্যাপী এইডসের পরিস্থিতি যাচাই করে ধারনা করা হচ্ছে যে, যুবক যুবতীরা বর্তমানে এইডসে বেশি আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত। তাই এ বছরের এইডস বিরোধী প্রচারণায় যুবক যুবতীদের সমন্বিত করার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করার নিমিত্তে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- Force for change world AIDS campaign with young people অর্থ্যাৎ এইডস প্রতিরোধ যুবশক্তি। এবারকার বিশ্ব এইডস দিবসের প্রচোরণায় পাঁচটি উদ্দেশ্য রয়েছে। যেগুলো এইডস বিস্তার কমাতে পারে এবং তরুন তরুণীরা যারা এইডসে আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের সহায়তা জোরদার করতে পারে।

১. তরুন তরুণীদের এইডস প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রন কর্মসুচিতে সত্যিকার অর্থে অংশগ্রহন করোনো।

২. মানবাধিকার সামনে রেখে তরুন তরুণীদের স্বাস্থ্য ও উন্নয়নে নীতিমালা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৩. তরুন তরুণীদের উপর এইডসের প্রভাব বিষয়ে সচেতনাতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা করা।

৪. তরুন তরুণীদের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কাজে সামাজিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা।

৫. স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রচারণায় সদ্য জাগ্রত দৃষ্টি রাখা।


Leave a Reply