ওষুধ ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

  • 0

ওষুধ ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

ওষুধ ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

আপনি যদি কফি পানে অভ্যস্থ না হন অনুরোধ কফি খাবেন না। মাঝেমধ্যে যারা কফি খান, তাদের রক্তচাপ কফি খেলেই দ্রুত বেড়ে যায়।

বাস চালকদের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়,  যারা দিনে সর্বাধিক দুই কাপ কফি খান যারা কানভাদ্রে কফি খান তাদের তুলনায় রক্তচাপ ৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাস্যরসাত্মক সিনেমা দেখুন

যেকোন হাসারসাত্মক চলচিত্র উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ ধরনের সিনেমা দেখুন এবং প্রাণ খুলে হাসুন। দেখবেন দেহ মনে আপনি হালকা বোধ করছেন। সুন্দর হাসি মস্তিষ্ক থেকে স্বাভাবিক পীড়নমোচক রসায়নবস্তু এনডরফিনস নিঃসরণ করে।

আর এ কারণেই দেহমনে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকেন।

       কুকুর পুষুণ

পোষা প্রাণী যেমন কুকুর বিড়াল আপনার উচ্চ রক্তচাপ হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ আপনি যেমুহূর্তে আপনার পোষা প্রাণীটির সাথে কথা বলবেন তার গায়ে আদরের পরশ বুলিয়ে দেবেন সে মুহূতেই আপনার রক্তচাপ কমে আসবে। আসলে আপনি যতক্ষণ আদরের প্রাণিটিকে সঙ্গ দেবেন ততক্ষণ আপনার রক্তচাপ একটু একটু করে কমতে থাকবে।

প্রকৃতির প্রতি আপনার মনোনিবেশ আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমায়। এ কুয়ারিয়ামে আপন মনে রং বেরং এর মাছের সাতার কাটা লক্ষ করুন। দেখবেন আপনার হাইপারটেনশন কমে গেছে।

চমৎকার চেঁচামেচি করবেন না তেমন কারণে যুক্তিতর্কে যেতে হলে অমার্জিত ও আক্রমণাত্বক কন্ঠস্বর পরিহার করুন। দেখবেন আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অ্ধ্যাপক অ্যারন সিগম্যান এক সমীক্ষণ শেষে চড়াস্বরে কর্থাবার্তার সাথে রক্তচাপ বৃদ্ধির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান। তাই সিগম্যান বলেন, উত্তেজনা পরিহার করতে আপনাকে যদি বদলে ফেলতে চান আপনি,  তাৎক্ষনিক অন্যমনস্কের ন্যায় আস্তে আস্তে কথা বলুন। স্বাভাবিক বাতচিৎ করুন। উত্তেজিত হয়ে না উঠে আপনার বরং ক্রোধের সময়ও ধীর ও নমনীয় মেজাজ বজায় রাখুন। দেখবেন ধীরে ধীরে কমে আসছে।

আপনার খাদ্য তালিকায় ‘রসুন’ রাখুন।

ইউরোপে ৪৭ জন স্বাভাবিক হাইপারটেনশেনের রোগীর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যারা প্রতিদিন ৬ শ মিলিগ্রাম (৩ /৪ কোয়া) রসুন খেয়ে থাকেন তাদের রক্তচাপ গড়ে প্রায় ১১ ভাগ কমে গেছে।

বেশি করে মাছ খান

ম্যাকরেল ও সলোমন জাতীয় সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। বেশ কটি জরিপ থেকে দেখা যায়,  এ জাতীয় মাছ হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে দারুন সহায়ক। রিপোর্টে দেখা যায়ঃ খাবারে তেলঅলা মাছ গ্রহণ করে এমন ১৬ জনের রক্তচাপ ৪ পয়েন্ট করে কমে গেছে। তবে গবেষকরা বিষয়টি সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নন যে তৈলাক্ত মাছের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্কটা আসলে কি ?

বিশেষজ্ঞরা তা স্বত্তেও সপ্তাহে দু দিন অন্তত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আঁশযুক্ত খাবার খান

আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খান। দেখবেন আপনার রক্তচাপ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এটি বিশ্বাস করেন যে প্রত্যহ ২০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় বৃদ্ধি করা হলে তা শুধুমাত্র রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে না, উপরন্তু রক্তে কোলস্টেরল দূর করতেও সহায়ক হয়। আশঁজাতীয় খাদ্য বলতে আমরা বুঝি ফল মূল, শাকসবজি, শস্যদানা,  মটরশুটি ইত্যাদি।

ব্যায়াম করুন

পরিমিত ভারোত্তোলনের কসরত উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ওষুধের মতই কার্যকর ভুমিকা রাখে। তবে তা রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়িয়েও দিতে পারে। আর এ জন্যেই ভারোত্তোলন চর্চা তথা ব্যায়াম করবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

দৌড়ান, হাঁটুন অথবা সাইকেল চালান

মুক্তবায়ু সেবন স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর। আর মুক্তবায়ুতে নিয়মিত শরীরচর্চা শুধুমাত্র রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে না,  বরং প্রাথমিক অবস্থায় রক্তচাপের উপসর্গও প্রতিরোধ করে।

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় ৪ হাজার ৬ শ ব্যাক্তির ওপর ব্যায়ম অনুশীলনের ফলাফল নিরীক্ষা করে ডঃ কোপার বলেন, শারীরিক গঠন কাঠামোই অনেকের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হ্রাস করে। সে ক্ষেত্রে ব্যায়াম করা কিংবা শরীরচর্চা তো আরও একধাপ অগ্রগতি।

মেদ কমান

ভুঁড়িওয়ালার অতি সহজেই উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় পড়েন, তাই এ ধরনের রোগীদের তাদের পেটের বাড়তি মেদ কমিয়ে ফেলতে পারলে নাটকীয়ভাবে তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে কেউ কেউ অভিমত দিয়েছেন। এক জরিপে দেখা গেছেঃ শতকরা ৬০ ভাগ ভুঁড়িওয়ালা উচ্চ রক্তচাপের রোগী তাদের শরীরের অবাঞ্চিত মেদ দূর করে ওষুধ সেবনের উটকো ঝামেলা থেকে বেঁচে গেছেন।

ভিটামিন সি সেবন করুন

গবেষকরা দুটো পৃথক পৃথক জরিপ চালিয়ে দেখতে পান যেসব রোগী প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার অনুপস্থিত তাদের উচ্চ রক্তচাপের কোন পরিবর্তন হয় না।  ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য বলতে আমরা বুঝি পেয়ারা, অমলা (বৈচি জাতীয় ফল),  লেবু জাতীয় ফল, টমেটো, কাঁচামরিচ, স্ট্রবেরি ও ফুটি। এছাড়া আপনি ভিটামিন সি বড়িও সেবন করতে পারবেন্ আবার কোন কোন গবেষকের পরামর্শ হচ্ছে পটাশিয়ামও উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা হ্রাস করে। মার্কিন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন কমপক্ষে ২ হাজার মিলিগ্রাম খনিজ পদার্থ (পটাশিয়াম জাতীয়) গ্রহণের পরামর্শ দেন। একটি ভাজা আলুর ক্যালরির পরিমাণ হচ্চে ৮৪৪ মিলিগ্রাম। একটি কলার ক্যালরি ৪৫১ মিলিগ্রাম। অন্যান্য খনিজ পর্দাথের মধ্যে রয়েছে কমলা, ননী তোলা দুধ, বাচ্চা মুরগীর বুকের মাংস।

       ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা কম ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান তার উ্চচ রক্ত চাপে ভোগেন। অন্যদিকে পরিমিত ক্যালসিয়াম গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমে স্বাভাবিক হয়ে যায় এ ধরনের অনকে নজির রয়েছে।

আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপের রোগী হন, ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হচ্ছে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০০ মিলিগ্রাম (কমপক্ষে তিন কাপ) ননীযুক্ত দুধ পান করুন।

ঝুঁকিপূর্ণ পেশা পরিহার করুন সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের স্টক দালান থেকে শুরু করে আবর্জনা পরিষ্কারক শ্রমিকদের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় তারা কি পরিমাণ পেশাগত চাপ অনুভব কনে তা নিরূপণ করা হয়। দেখা গেছে,  যাদের পেশাগত চাপ বেশি তাদের রক্তচাপ যাদের পেশাগত চাপ কম তাদের তুলনায়  ৩ গুণ বেশি। তবে চাপ হ্রাস করার জন্য কয়েক ঘন্টা পর পর কর্মক্ষেত্রে অন্তত ৫ মিনিটের জন্য চোখ বুঁজে থাকুন। দুপুরে খাবারের পর একটু হাঁটাহাঁটি করুন কিংবা আগত প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনুন।

বাড়িতে নিরিবিলিতে থাকুন

বাড়িতেও উল্লেখিত নিয়ম মেনে চলুন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছেঃ সারাদিনের মধ্যে মাত্র ২০ মিনিটি সময় আপনার একান্ত গৃহকোণে অথবা অন্য কোথাও নির্জনে কাটাতে পারেন।

লবণ দানী সরিয়ে রাখুন 

       আপনি কি উচ্চ রক্তচাপের রোগী? তবে এ জটিলতা থেকে বাঁচার জন্যে সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে খাদ্যে লবণ পরিহার করা। ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় লবণ একেবারেই ছোবেন না। কারণ এগুলো হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ রোগীর সবচেয়ে বিপজ্জনক।


Leave a Reply