কমন কোল্ড

  • 0

কমন কোল্ড

Category : Health Tips

কমন কোল্ড

হাঁচি,কাশি, গলা ধরে যাওয়া এবং সর্দি – সত্যি এগুলো কমন ব্যাপার। ছোট বাচ্চার তো বটেই, বড়রাও আক্রান্ত হন যখন তখন।  নাক দিয়ে অনবরত জল পড়া, ঘন ঘন হাঁচি হলে বলা হয় আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন। বুকে কফ জমে সাঙ্ঘাতিক কাশি মানেই লোয়ার রেসপিরেটরি  ট্র্যাক্ট ইফেকশনের লক্ষণ। যে কোনও সময় ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তবে শীতকালে শ্বাসনালির অসুখ বেশি বাড়ে।

কমন কোল্ডের কারণ

  • ইনফেকশন থেকে সর্দি-কাশি হতে পারে।
  • বেশিরভাগ সময়ই সাইনাস, নাকের হাড়ের বৃদ্ধি, সেপটিক টনসিল, অ্যালার্জি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমার মতো ক্রনিক অসুক থেকে সর্দি-কাশি হয়।

আপনার ছোট্ট শিশু থেকে বষস্ক শ্বশুরবাড়ির কেউেই রেহাই পান না এর হাত থেকে।  হাড়কাঁপানো শীত কিংবা হাঁসফাঁস করা গরম- সর্দি কাশ হতে পারে যে কোনও সময়। এর হাত থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে, তাই নিয়েই এই প্রতিবেদন।

  • সর্দি-কাশি লেগে যাওয়ার পর সেই ব্যক্তির কাছাকাছি এলেও অনেক সময় সর্দি-কাশি তে পারে।
  • পেন,বই, টেলিফোন, কম্পিউটারের কী বোর্ড, মাউস, কফি কাপের উপর ভাইরাস থাকে অনেক্ষণ। ইনফেকটেড পেশেন্টের ব্যবহার করার পর অন্য যে কোনও কেউ ওগুলো না মুছে ব্যবহার করলে  ঠান্ডা ধরে নিতে পারে।
  • রোগির হাঁচি-কাশি থেকেও হতে পারে।
  • ইনফেকশেনর প্রথম দুই থেকে চার দিনের মধ্যে এই ভাইরাস বেশি করে ছড়ায়। কিন্তু তিন সপ্তাহ পর্যন্ত এই ভাইরাস জীবিত থাকে।

কমন কোল্ডের সিম্পটম

  • প্রথম দিকে নাক দিয়ে জল গড়াতে থাকে। পরে ঘণ হয়ে যায়।
  • গলা খুশ খুশ করে গলা বসে যেতে পারে।
  • অনবরত হাঁচি হয়।
  • খুব কাশি হয়।
  • জ্বর আসে
  • মাথা ধরে যায় বা মাথা ব্যাথা করে।
  • ভীষণ ক্লান্তি লাগে
  • হাত-পা, সারা শরীর ব্যাথা করে।
  • খাবারে অরুচি লাগে।
  • তিন থেকে দশ দিন ধরে এই সিম্পটম দেখা দিতে পারে।

প্রিভেনশন

  • হাত ভাল করে ধুতে হবে।
  • রোগীর কাছাকাছি থাকলে হাত না ধুয়ে নিজের নাক, মুখ, চোখে হাত দেওয়া উচিত নয়।
  • রোগীর সামনে বেশিক্ষণ না থাকাই ভাল।
  • রোগীর সামনে বেশিক্ষণ না থাকাই ভাল
  • সর্দি-কাশ হলে রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করা উচিৎ। একবার ব্যবহারের পর চেঞ্জ পর করাই বাঞ্জনীয়।
  • রোগীর সঙ্গে কোনও কিছু শেয়ার কর উচিত নয়।
  • স্মোকারেদের কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত। অসুস্থ অবস্থায় স্মোক করা ঠিক নয়।

ট্রিটমেন্ট

  • সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়। ওষুধে খুব একটা দেয় না। তবে সাধারণ সিম্পটমের জন্যে সাময়িক রিলিফ নিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।
  • এ সময় খুব করে ফ্লুইড ইনটেক বাড়ানো উচিত।
  • কমপ্লিট বিশ্রাম।
  • গার্গল খুব উপকারী
  • ভেপার নিলে উপকার পাওয়া যায়।
  • পরিমাণ মতো ভিটামিন-সি- খাওয়া বাড়ানো উচিত।

কোন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

  • তিন দিনের পর উপসর্গের কোনও একটাও না কমলে বা পেশেন্টের কন্ডিশন খারাপের দিকে গেলে
  • কাশতে কাশতে খুব কফ বেরতে আরম্ভ করলে।
  • একটুতেই হাফ ধরে গেলে
  • অত্যাধিক ক্লান্তি লাগলে
  • ফ্লুইড বেশিক্ষণ পেটে ধরে না রাখতে পারলে
  • খুব মাথাব্যাথা কিংবা ঢোক গিলতে অসুবিধে হলে।
  • ১০৩+ ফারেনহাইট কিংবা তার উপরে জ্বর উঠলে।
  • গলার গ্ল্যান্ড ফুলে উঠলো
  • মুখ, কান, গলায় অসহ্য ব্যাথা হলে।
  • বুকে, পেটে ব্যথা হলে।
  • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এলে
  • ঘাড় গলা স্টিফ হয়ে গেলে
  • অনবরত বাম হলে বা গা বমি বমি করলে
  • নিশ্বাস নিতে অসুবিধে হলে

হোম রেমিডি

  • সাধারণত কমন কোল্ডের জন্যে নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই।  অ্যান্টিবায়োটিক কোনও কাজ দেয় না। কিছু কিছু টোটকা এ ক্ষেত্রে বেশ উপকারী।
  • একটু গুড় ও অল্প গোলমরিচ জলে মিশিয়ে গরম করে চায়ের মতো খেলে ভাল হয়।
  • এক গ্লাস জলে দুটো লেবুর রস সঙ্গে একটু চিনি মিশিয়ে শোয়ার আগে খেতে হবে।
  • কিছুটা ইউক্যালিপটাস অয়েল শোয়ার আগে কপাল, নাক, বুকে লাগিয়ে চাদর বা কম্বল জড়িয়ে শুলে সকালেই উপকার পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রচুর ঘাম হবে।
  • লেবুর রস মধুর সঙ্গে রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সিরাপ তৈরি করে মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে।
  • গরম জলের ভাপ নিলে উপকার পাওয়া যায়।
  • এক গ্লাস গরম দুধে এক চামচ রসুন বেটে মিশিয়ে খেতে হবে। এতে গলা ছাড়বে।  ঠান্ডা বসে যেতে দেবে না।
  • এই সময় সব কিছুর সঙ্গে একটু জিরে খাওয়া উচিত।
  • আদর রস মেশানো চা খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
  • তুলসীপাতা চিবেলে কিংবা তুলসীপাতা জলে ফুটিয়ে খেলে  উপকার পাওয়া যায়।
  • পেয়াজ সর্দির ক্ষেত্রে উপকারী।
  • স্যালাইন জল ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে স্যালাইন নোজ ড্রপ ব্যবহার জরুরী।
  • বাচ্চাদের নাক মুছতে দিয়ে নাক ছঢ়ে গেলে পেট্রোলিয়াম জেলির  ব্যবহার খুব উপকারী।

লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট

  • হট ভেজিটেবল স্যুপ কিংবা কম মশলা দেওয়া স্টিমড ভেজিটেবল খাওয়া উচিত।
  • স্মোক করা কিংবা স্মোকারদের আশেপাশে থাকা চলবে না।  সহজ পাচ্য নয় এমন খাবার যেমন চিজ, দই, দুধ, মশলাযুক্ত খাবার , ভাজাভুজি, মিষ্টি এড়িয়ে চলা উচিত।
  • খুব গরম গরম খাবার না খাওয়াই ভাল।
  • ফ্রেশ এয়ারে চলাফেরা করা উচিত। সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম।
  • সব সময় খেয়াল রাখা উচিত যাতে নিজের সংক্রমিত ভাইরাস অন্যকে আক্রন্ত না করতে পারে।
  • নিজের ব্যবহৃত জিনিস সব সময় আলাদা রাখতে হবে।
  • রুমাল বা টিস্যু রাববার চেঞ্জ করে করে ব্যবহার করা উচিত।
  • অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের কাছাকাছি যাওয়া উচিত নয়।
  • বদ্ধ ঘরে থাকা চলবে না।
  • বাড়িতে এসি থাকলে তা ব্যবহার করা উচিত। এতে আর্দ্রতা কন্ট্রোল থাকে। এ ধরনের সমস্যায় খুব উপকারী।
  • সুর্দি-কাশি হলে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো অন্তত দুই তিন দিন বন্ধ রাখা উচিত।

Leave a Reply