ক্রনিক ব্রংকাইটিসঃ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ

  • 0

ক্রনিক ব্রংকাইটিসঃ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ

Category : Health Tips

ক্রনিক ব্রংকাইটিসঃ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ

ডাঃ ইকবাল হাসান মাহমুদ

রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারেন নানা কারণে। এসব কারণের একটি হচ্ছে ক্রনিক ব্রংকাইটিস রোগ। এ রোগ সাধারণতঃ পুরুষেরই বেশি হয়ে থাকে এবং মধ্য বয়সের পর থেকেই প্রকাশ পেতে শুরু করে। পুমপায়ীদের মধ্যে এই রোগটির প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ধুমপানকে তাই এ রোগের একটি প্রধান করাণ হিসেবে আমরা সনাক্ত করে থাকি। ধুমপান ছাড়াও ধুলা, ধোয়া, করারখানার বিষাক্ত পরিবেশ এবং স্যাঁত স্যাতে অবস্থা এই রোগের সহায়ক।

গ্রামে নির্মল পরিবেশ ‍অধুমপায়ী কোন ব্যাক্তির মধ্যেই এ রোগ খুবই কম দেখা দেয়।

সাধারণতঃ কোন লোক বছরে অন্তত তিনমাস ধরে কাশিতে ভুগতে থাকলে এবং এভাবে দুই বছরের অধিক হলে আমরা রোগীকে ক্রনিক ব্রংকাইটিসের রোগী বলে ধরে নেই। অবশ্যই এই লক্ষণের সাথে রোগীর বয়স এবং ধুমপানের ইতিহাস যোগ করে দিলে রোগ নির্ণয়টা নিখুঁত হয়। অনেকে আবার সাধারণ হাঁপানির সাথে এই রোগকে এক করে দেখেন। হাঁপানি এবং ক্রনিক ব্রংকাইটিস সম্পূর্ণ আলাদা কারণে এবং আলাদা ধরনের দুটি রোগ যদিও এই দুই রোগেই শ্বাসকষ্টে ভোগে এবং পরে সারা বছর ধরেই কষ্ট পেতে থাকে। রোগী যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করে এবং যদি ধুমপান বন্ধ না করে এবং যদি ধুমপান বন্ধ না করে তবে ক্রমশ এই রোগটি অবনতির দিকে যেতে থাকে। প্রথমদিকে তরল কাশি থাকে কিন্তু পরে সেটা জীবানু কর্তৃক সংক্রমিত হয়ে পাকা হলুদ কফে পরিণত হয়।

বিলাত এবং ইউরোপের যেসব দেশে বছরে বেশির ভাগ সময়ই স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া বিদ্যামান সেসব দেশে এই রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের দেশে তুলনামুলকভাবে এই রোগীর সংখ্যা এখন কম। তবে যে হারে কলকারখানায় ধূয়া পরিবেশকে দুষণীয় করছে এবং যে হারে অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন হচ্ছে তাতে অদুর ভবিষ্যতে এই রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশেও বেড়ে যাবে বলে আশংকা করা হচেছ।

টেট্রাসাইক্লিন, এমপিসিলিন, কোট্রাইমেক্সিজল জাতীয় যেকোন একটি এন্টিবায়োটিক ৫ থেকে ৭ দিন খেতে হয় এবং অনেক বুদ্ধিমান রোগী বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পাঁচ থেকে সাত  দিনের ওষুধের মজুদ সবসময় হাতের কাছেই রাখে। শ্বাসকষ্টের জন্য সালবুটামল, এমাইনোফাইন, থিওফাইলন জাতীয় ওষুধ খেতে হয়। কোটিসন জাতীয় ওষুধ যেমন ওরাডেক্সন বা প্রেডনিসোলন এই রোগের নিরাময়ে খুব একটা কার্যকর অবদান রাখে না যদিও রোগী হাপানি মনে করে নিজে নিজেই এই ওষুধ কিনে খেতে থাকে।

এই রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের উপরই আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখুন, ধুমপানকে বিষপান মনে করে আজই তা পরিত্যাগ করুন। ধোয়া ধুলা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। স্যাঁত স্যাঁতে জনাকীর্ণ পরিবেশ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন। মিল কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যাতে পরিবেশ দুষণ করতে না পারে এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন যাতে ঘটতে না পারে সেদিকে দৃস্টি দিন।


Leave a Reply