খাবারে এলার্জিঃ শিশুদের দুর্ভোগ

  • 0

খাবারে এলার্জিঃ শিশুদের দুর্ভোগ

Category : Health Tips

খাবারে এলার্জিঃ শিশুদের দুর্ভোগ

ডাঃ  এস কে অপু

এল্যার্জি এ কথাটি শুনামাত্রই গা চুলকায়। এল্যার্জি যেমন বড়দের তেমনি শিশুদের হতে পারে। বিভিন্ন কারণে শিশুদের এলার্জি হয়।

আমাদের দেশে শিশুদের এলার্জি হওয়ার বড় কারণ শিশুর খাবার। প্রায় ১% থেকে ২% শিশু খাবারে এলার্জিজনিত কারণে বিভিন্ন উপসর্গে ভুগে। কোন খাবারে শিশুর পেটের রোগের উপসর্গ দেখা দিলেই যে খাবারে এলার্জি তা কিন্তু নয়। সে খাবার হতে পারে জীবানু দুষিত কিংবা খাদ্য বিষক্রিয়া বা টিনজাত। এসব দুষিত খাবারে উপসর্গ কিন্তু স্থায়ী নয়। কিন্তু শিশুর যে খাবারে এলার্জি এর ‍উপসর্গ অনেকদিন স্থায়ী হয়। এলার্জির কারণে সৃষ্ট উপসর্গ ইমিউনো প্রক্রিয়ায় সৃষ্টির ফলে বহুদিন এই সমস্যা বিরাজ করে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে খাবারে্‌ এলার্জির কারণে শিশুর পেটের নানা ধরনের উপসর্গের কারণ হচ্ছে ঐ খাবারে এমন একটি প্রোটিন উপাদান আছে যা শিশুর দেহের জন্য অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তাই কখনো দেখা যায় কোন কোন শিশু গরুর দুধ খেলে দেহে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কয়েক ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। গরুর দুধ না খেলে শিশুর এসব উপসর্গ আর থাকে না। এর অন্যতম কারণ হচেছ গরুর দুধে এক বিশেস ধরনের প্রোটিন অংশ যা প্রতিক্রিয়ার ‍সৃষ্টি করে।

এক বছরের শিশুর মধ্যে খাবারে এলার্জি বেশি দেখা দেয়। দেহের বিভিন্ন জায়গায় উপসর্গ নিয়ে এই এলার্জি দেখা দিতে পারে। এই উপসর্গ কখনো ত্বকে, কখনো শ্বাসতন্ত্রে কিংবা কখনো খাদ্যনালীতে প্রকাশ পায়। খাদ্যনালীর বিভিন্ন অংশ এলার্জির কারণে খুবই ক্ষতি হয়। নানা উপসর্গও প্রকাশ পায়।

শিশু খাবারের পর খাদ্যনালীর ক্ষুদ্রান্তের অংশে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। কখনো শিশু একটানা বমি করে। আবার কখনো বমি কম কিন্তু পাতলা পায়খানা বেশি দেখা দেয়। ‍শিশু কান্না করে। কারণ তার পেটে কামড়ের ভাব থাকে বা কামড়ায় কোন কোন শিশুর গরুর দুধ, মাছ, ডিম বা সয়াতে এলার্জির সৃষ্টি হলে দেখা দেয় ডায়রিয়া। অভিভাবক বা শিশুর মা বাবা ধরতে পারে না যে এসব খাবারে এলার্জি হচ্ছে। তখন শিশুর দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার রূপ নেয়। শিশুর দেহে পানি শুণ্যতা দেখা দেয়। দেহ দুর্বল হয়। স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

খাবারে এলার্জির কারণে কোন কোন শিশুর মুখের চারপাশে ঘা হয়। চামড়াতেও ঘা ছড়িয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে মুখের ভেতরে ঘা হতে দেখা যায়। িএসব উপসর্গ অন্যান্য রোগের কারণেও হতে পারে। কিছু কিছু খাবারে পাকস্থলীতে এলার্জি ঘটিয়ে ক্ষতেরও সৃষ্টি হয়। শিশু তীব্র বমি করে। সাথে সাথে পাতলা পায়কানার সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকে। শিশুর মা বাবা ভয় পেয়ে যায়। নানা ধরনের ওষুধ খাওয়ানো শুরু করে। তাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিন্তু খাবারটি না খাওয়ালে উপসর্গ থাকে না।

শিশুর খাবারে এলার্জির কারণে বেশি রক্ত বেরুলে রক্ত শূণ্যতা দেখা দেয়। কখনো দেহের আমিষ বের হলে আমিষের অভাবজনিত শিশু ফ্যাকাশে হয়। দেহ ফুলে যায়। কখনো শিশুর শ্বাসনালী সংকুচিত হওয়ার ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শিশু কখনো শকে চলে যায় একমাত্র খাবারে এলার্জিজনিত কারণেই। কিছু কিছু শিশু কোন কোন খাবারের প্রতি এলার্জি থাকলে হাপানিতে ভোগে। ত্বকে বিভিন্ন ধরনের চিহ্ন ফুটে উঠে।

এ ধরনের উপসর্গে বা রোগের কারণ ধরা কঠিন। এ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি ক্লিনিক্যাল। যদি ধারণা থাকে যে শিশুর কোন নির্দিষ্ট খাবারে এ ধরনের উপসর্গ বা লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে তবে সেই খাবার বন্ধ করে রাখাই ভালো। আজকাল এলার্জি টেস্ট এর মাধ্যমে ধরা যায় রোগী কী ধরনের খাবারে এলার্জি। চিকিৎসার প্রধান কথাই হচেছ যে খাবারে এলার্জি তা না খাওয়া। শিশু যদি বুকের দুধ খায় তা কমপক্ষে কয়েক বছর পর্যন্ত খাওয়ানো। গরুর দুধে এলার্জি হলে তা না খাওয়ানো অথবা যে খাবারে এক বার এলার্জি হয় তা বেশি না দিয়ে খুব অল্প করে দিতে হবে। ধীরে ধীরে খাবার বাড়াতে হবে। সাথে সাথে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণতঃ ২/৩ বছর পর শিশুদের খাবারে এলার্জি কমে আসে।


Leave a Reply