গাঁজা মানবদেহে কি প্রতিক্রিয়া হয়

  • 0

গাঁজা মানবদেহে কি প্রতিক্রিয়া হয়

Category : Health Tips

গাঁজা মানবদেহে কি প্রতিক্রিয়া হয়

গাঁজা কি ?

গাঁজা বা ক্যানাবিস হচ্ছে এক ধরনের নেশা জাতীয় উদ্ভিদ। এর ল্যাটিন নাম ক্যানাবিস স্যাটিভা। এতে রয়েছে টিএইচসি বা ট্রেটাহাইক্যানাবিনল নামক এক সক্রিয় উপাদান যা ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থায় ও চেতনায় পরিবর্তন ঘটায়। বাংলাদেশের  যে যে ধরনের ক্যানাবস/ গাঁজা দেখতে পাওয়া যায় সেগুলো হচ্ছেঃ

মারিজুয়ানাঃ মারিজুয়ানা গাঁজা গাছের পাতা ও ফুলের অগ্রভাগ। কখনও একে হেস্প বলা হয় এবং রং ধুসর সবুজ অথবা ধুসরবাদামী, গন্ধ তীব্র এবং সাধারণ ধুমপানের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

হাশিশঃ হাশিশ গাজা গাছের রস থেকে প্রস্তুতকৃত করা হয়। কখনও কখনও একে চরস বলে। এর রং গাঢ় বাদামী অথবা কাল এবং সাধারণত ধূমপান অথবা সরাসরি চুষে খাওয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

হাশ তৈলঃ হাশ তৈল হাশিশ থেকে প্রস্তুত করা হয়, তবে এতে অধিক মাত্রায় টিএইচসি থাকে। এটা সাধারণঃ ধুমপানের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

ভাংঃ ভাং গাজা শ্রেণীর গাছের পাতা, দুধ ও অন্যন্য উপাদানের মিশ্রণে তৈরি এবং একটি নেশা জাতীয় পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  একে সিদ্ধিও বলে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাজার ব্যাপক অবৈধ ব্যবহার লক্ষ করা যায়। যাই হোক, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে ১৯৮৪ সাল থেকে গাজার চাষ, বিক্রি ও ব্যবহার অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গাজা ব্যবহারে কি কি প্রতিক্রিয়া ?

গাজার প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে এর বিশুদ্ধতা, কি পদ্ধতিতে এটা গ্রহণ করা হয় এবং কি পরিমাণ গ্রহণ করা হয় তার উপর। ধুমপানের মাধ্যমে গ্রহণ করা হলে সাধারণতঃ সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া অনুভূত হয় এবং তা ‍দুই থেকে তিন ঘন্টা স্থায়ী হয় ধীরে ধীরে, তবে তা ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

স্বল্প মেয়াদী প্রতিক্রিয়াঃ ব্যবহারকারীকে নিস্তেজ, অবসন্ন ও বেশি ব্যবহারকারীর ভিতর মতিবিভ্রম ও সন্ত্রস্তভাব পরিলক্ষিত হয়। তার স্থান ও সময় জ্ঞান পরিবর্তিত হয় এবং অনূভূতি শক্তির তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন শারীরিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে চলাফেরার অসংলগ্নতা, হৃৎস্পন্দন দ্রুত হওয়া এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া, লালচে চোখ ও মুখের শুষ্কতা। যেহেতু গাজা শারীরিক চলাফেরা। প্রতিনিধি এবং সবিস্তরে মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, কাজেই গাজা ব্যবহাররত অবস্থায় গাড়ি অথবা মেশিন চালানোর মত কাজ করা বিপজ্জনক।

দীর্ঘ মেয়াদী প্রতিক্রিয়াঃ দীর্ঘদিনের ব্যবহার উৎসাহ বা ‍উদ্যম কমিয়ে দিতে পারে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ক্ষেত্রে অবনতি ঘটাতে পারে। কিছু কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহারের ফলে মস্তিস্ক কোষের ক্ষয়প্রাপ্তি ঘটতে পারে। কিছু কিছু গবেষণা থেকে কোষের ক্ষয়প্রাপ্তি ঘটতে পারে। কিশোর ও যুবকদেরে জন্য এটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কেননা, ঐ বয়সে লেখাপড়া অথবা কর্মসংস্থানের জন্য তাদের দক্ষতা বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। সিগারেটের মত গাজা অথবা হাশিশ ধূমপানের ফলেও শ্বাস প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা এমনকি ফুসফুস অথবা গলায় ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। ঘন ঘন গাজা সেবনকারী গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভস্থ সন্তানের জন্মগত বিকৃতি দেখা দেয়ার ঝুকি রয়েছে। প্রচুর পরিমাণে এবং ঘন ঘন ব্যবহারের ফলে পুরুষদের শুক্রের পরিমাণ কমে যেতে পারে, মহিলাদের মাসিকের পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং এসবের ফলে উভয়ের ক্ষেত্রেই সন্তান জন্মদান ক্ষমতা সাময়িকভাবে লোপ পেতে পারে।

গাঁজা কি নেশা সৃষ্টিকারী ?

       সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গাঁজা ব্যবহারের ফলে তা মানসিক নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। অর্থ্যাৎ এই মাদকদ্রব্যের এর জন্য ব্যগ্র হয়ে ওঠে এবং একই অনুভূতি লাভের জন্য এই মাদকদ্রব্য আরও বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। নিয়মিত অথবা অধিক পরিমানে ব্যবহারকারীরা হঠ্যাৎ করে এই মাদকদ্রব্য গ্রহণ বন্ধ করে দিলে যে সব লক্ষণ দেখা দিতে পারে তার মধ্যে রয়েছে উদ্বেগবোধ, অনিদ্রা, ঘাম হওয়া এবং ক্ষুদামন্দা। সাধারণত এসব লক্ষণ,যা প্রায়শই মনোদৈহিক এক সপ্তাহেরও কম স্থায়ী হয়ে থাকে।

গাজার ব্যবহার অন্যান্য মাদকদ্রব্য আসক্তির সৃষ্টি করে বলে কোনো প্রমাণ নেই। তবে অবৈধ বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি হতে দেখা যায় এবং সহজ প্রাপ্যতার কারণে ব্যবহারকারীর হেরোইন, আফিম ও বিভিন্ন ধরনের ট্রাংকুলাইজার এর মত আরও শক্তিশালী। মাদকদ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মোঃ জাহাঙ্গীর


Leave a Reply