গোলাকার কৃমি ( দি লার্জ রাউন্ড ওয়ার্ম) রোগ || Roundworm

  • 0

গোলাকার কৃমি ( দি লার্জ রাউন্ড ওয়ার্ম) রোগ || Roundworm

গোলাকার কৃমি ( দি লার্জ রাউন্ড ওয়ার্ম) রোগ

ডাঃ এম এ মাজেদ

আমাদের শরীরে নানা রকমের কৃমির আক্রমণ হয় যেমন গোলাকার কৃমির আক্রমণ হয় যেমন গোলাকার কৃমি (রাউন্ড ওয়ার্ম), ‍গুড়া কৃমি, সুতা কৃমি (থ্রেড/ পিন ওয়ার্ম), বক্র কৃমি (হুক ওয়ার্ম)। কিন্তু গুরুত্বের দিক থেকে বিবেচনা করলে গোলাকার কৃমি বা রাউন্ড ওয়ার্ম বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আর এই গোলাকার কৃমির আক্রমণকে ‘এ্যাসকরিয়াসিস’ বলে। আনুমানিক গড়ে পৃথিবীর প্রতি ৪ জনের ১ জন এ্যাসকেরিয়াসিসের শিকার এবং স্থানভেদে যেমন আফ্রিকার কতকাংশে ৯৫% ভাগ, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় ৪৫% এবং এশিয়াতেও এক উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এশিয়ার মধ্যে আবার চীন ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মানুষ বেশি আক্রান্ত এবং সামগ্রিক বিচারে ইউরোপের মানুষ সর্বাপেক্ষা কম আক্রান্ত। সঙ্গত কারণে আমার এবারের আলোচনা ঐ গোলাকৃতি কৃমির আক্রমণ বা এ্যাসকেরিয়াসিসে সীমাবদ্ধ থাকছে। অধিকাংশ এ রোগে আক্রান্ত হয় সাধারণতঃ ছেলেবেলায় যখন স্যাতসেতে মাটিতে তারা খেলা করে  এবং কৃমির ডিমমিশ্রিত মাটি বা মাটি হ তে সে ডিম খেয়ে ফেলে  এবং ক্ষুদ্রান্তে পৌছানো থেকে শুরু করে জীবন চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে ফুসফুসে বা অস্ত্রে রোগ লক্ষণ সৃষ্টি না করলেও কৃমির সংখ্যা শরীরে বেশি হলে তখন রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। যখন রাউন্ড ওয়ার্ম লার্ভা ফুসফুসের মধ্যে দিয়ে বেশি বেশি চালিত হতে থাকে এরকম নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে যাকে এ্যাসকারিস নিউমোনিয়া বা বলে। এই রোগের তখন জ্বর, কাশি, বুকের মধ্যে শব্দ হওয়া শ্বাসকষ্ট, ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয় এবং তাকে সিন্ড্রমও বলে। এ সময় রোগীর রক্তে বেড়ে যায় এবং  এ ইয়োসিনোফিল পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া লার্ভা অর্থ্যাৎ বাচ্চা গোলাকার কৃমি যখন রক্তের মধ্যে দিয়ে শরীরের অন্যত্র পৌছায় তখন দাঁতে দাঁত লাগিয়ে শব্দ করা (ঘুমের মধ্যে) খিঁচুনি, মৃগী রোগের ন্যায় ফীট, মাথা ব্যথা হতে এমনকি ঘুম কম হওয়া ও চোখের চারদিকে ফুলে যাওয়ায় মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। মস্তিস্কে পৌছালে ঐ লার্ভা (দ্বারা) ছোট ব্রেন টিউমারের ন্যায় রোগলক্ষণ দেখা দিতে পারে।

বড় আকারের কৃমি দ্বারা রোগ লক্ষণের মধ্যে মাঝে মাঝে পেট ব্যাথা, বমি / বমি বিমিভাব, পুষ্টিহীনতা, পেট মোটা বাচ্চা শরীর ফুলে যাওয়া হতে পারে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চার মা হয়তো কেচো আকৃতির কৃমি রোগীর মলে বা বমিতে দেখে থাকতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক পরিণতি সৃষ্টি হয় অসংযত চলমান বড় আকারের কৃমি দ্বারা যা কিনা ক্ষুদ্রান্ত্রের বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অবস্ট্রাকশন ভলভুলাস,  এবং ইন্টাসাসেপশান, ক্ষুদ্রান্ত ফুটো হয়ে যাওয়া, (ইন্টেসটিন্যাল পারফোরেশন) এবং পেরিট্রোনাইটিস বা পেটের ঝিল্লি প্রদাহ, এপিন্ডিসাইটিস, যকৃত ও পিত্তথলিতে/ নালীতে জন্ডিস লিভার এ্যাবসেস সাপুরেটিভ কোলানজাইটিস, একটু কলিসিসটাইটিস: অগ্নাশয়ের প্রদাহ, শ্বাসনালীর অংশ ল্যারিক্সে বমির সাথে আসা কৃমিতে শ্বাসকষ্টের (এ্যাসফাক্সিয়া) মত বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। আর এতকিছুর জন্য দায়ী হতে পারে ক্ষেপে যাওয়া গোলাকার কৃমি,  যাদের ক্ষ্যাপার কারণ হতে পার জ্বর, অজ্ঞান হওয়া ওষুধ কৃমির এক ধরনের ওষুধ টেট্রাক্লোরোইথিলিন ইত্যাদি।

আমাদের মনে রাখা দরকার

এসকোরিয়াসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও টিসিই অতিমাত্রায় টক্সিক ইফেক্ট থাকার কারণে আজকাল ব্যবর্হত হয় না।

  • এ রোগের সবচেয়ে সস্তায় চিকিৎসা লেভামিজল দ্বারা সম্ভব।
  • অনেকের দেহে এ্যাসকেরিস এন্টিজেনের বিরুদ্ধে এ্ল্যার্জি থাকতে পারে সে ক্ষেত্রে ঐসব লোকের মলদ্বার …..আলজিহরা ফুলে যেতে পারে ঐ এল্যার্জির কারণে।
  • এই কৃমির আক্রমণে ভিটামিন এ সি এর অভাব দেখা দিতে পারে এবং বাচ্চাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
  • অপুষ্টি বিশেষ করে আমীষের অভাব হতে পারে যাকে কোয়াশিওরকর বলে।
    • এ রোগেরে চিকিৎসা শুধুমাত্র বয়স্ক কৃমির উপর কার্যকরী, লার্ভার উপর নহে। এ ক্ষেত্রে Albendazole কিছুটা ব্যতিক্রম।
  • যদি সম্ভব হয় এবং সময় পাওয়া যায় তবে পেটের কোন রকম অস্ত্রোপাচারের পূর্বে এ্যাসকোরিয়াসিসের চিকিৎসা করা উচিত।
  • অল্প বয়স্কদের মধ্যে বিশেষ করে স্কুল পূর্ভ বয়সের বাচ্চাদের গোলাকার কৃমির আক্রমণ বেশি হয়।
  • এ কৃমির ডিম ছায়াযুক্ত স্যাঁতসেতে মাটিতে আক্রমণক্ষম পর্যায়ে পৌছায় এবং এই রোগ সাধারণত একই পরিবারের অধিকাংশকে / সকলকে আক্রান্ত করে। মাটিতে দীর্ঘদিন যাবত গোলাকার কৃমির ডিম আক্রমণক্ষম থাকত্বে পারে এমনকি ১০ বছর পরও একটি ডিম আক্রমণ ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে।
  • Ascaris ডিম সুর্যের আলোতে এবং ৪৫ % এর উপরের তাপে নষ্ট হয়ে যায়।
  • আমাদের ন্যায় ভিজা দেশে সারা বছর ধরে গোলাকার কৃমির সংক্রমণ চলতে থাকে।
  • তাই এই কৃমির আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য উন্নত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য চর্চা পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা যেমনঃ মানুষেল মল নিরাপদ স্থানে ফেলা এবং কখনো সার হিসেবে ব্যবহার করতে গেলে ৪৫. সে. এর উপরের তাপমাত্রায় করে ব্যবহার করা ঘরের চারদিকের স্যাতসেতে মাটি কৃমির ডিমযুক্ত মল দ্বারা দূষিত না করা  ইত্যাদি প্রয়োজন।
  • স্বাস্থ্য শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের বছরে অন্ততঃ ২ বার করলে এ রোগের সংক্রমণ ও প্রকোপ অনেকাংশে কমে যায়।

Leave a Reply