জন্মনিয়ন্ত্রণ

  • 0

জন্মনিয়ন্ত্রণ

ডাঃ সুব্রত কুমার রায়

জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাংলাদেশে বিস্ফোরণের মতো। জনবিস্ফরোণের এই উচ্চহার সীমিত সম্পদের দেশ ভাবনার বিষয়। এটা কি আমাদের সম্পদ নাকি আপদ তা নিয়ে আরো ভেবে দেখা দরকার। যদ্দুর মনে হয় এক ‘আপদ’ বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। কোন কোন বিশেষজ্ঞ অবশ্য একে ‘সম্পদ’ হিসেবে কাজে লাগানোর ব্যাপারে সরকারী পর্যায়ে গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সর্ম্পকে আপাতসিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে এ নিবন্ধ পত্রস্থ হল।

জনসংখ্যার বিষ্ফোরণ রোধে জন্মনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা গ্রহণ একটি কার্যকরী পদক্ষেপ।  ছোট পরিবার গঠনে জন্মনিয়ন্ত্রন সামগ্রীর ব্যবহার অনস্বীকার্য। এছাড়াও দুই সন্তানের জন্মের মধ্যবর্তী সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান রাখতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

আমাদের দেশের সক্ষম দম্পত্তিদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের বিভিন্ন অসুবিধার কারণে জনসংখ্যা কমিয়ে রাখার প্রয়াস অনেকটাই হোচট খাচেছ। সক্ষম দম্পত্তিদের, যারা নববিবাহিত, প্রায়শই অজ্ঞতার কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির আওতায় আসে না। এমন অনেকে আছেন, যারা জানেন না কোথা থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণের পরামর্শ নিতে হয়, কোথা থেকে সামগ্রী সংগ্রহ করতে হয়, সর্বোপরি এর ব্যবহার কিভাবে করতে হয়, সেটাও তাদের অজানা। অনেক নবদম্পত্তির ইচ্ছা থাকলেও উল্লেখিত কারণে কখনো কখনো লজ্জায় পিছিয়ে আসে। স্বামী স্ত্রী আজকাল যে পরিবার গঠন করছেন, সেই পরিবারের সন্তানই একদিন বড় হয়ে দেশ গঠনে সাহায্য করবে। কাজেই কোন স্বাস্থ্যবতী গৃহিনী একটি স্বাস্থ্যবান শিশু উপহার দিতে পারে যেমন সমাজকে,  তেমনি সে শিশুর সঠিক লালন পালন ও সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ও ক্রমবিকাশে সর্বোপরি তাকে পরিপূর্ণ করবারও দায়িত্ব এ সমাজ ও শিশুর মা বাবার। একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী পরিবার গঠন মা ও শিশুর স্বাস্থ্য গঠনের দিকেও নজর দেয়া আবশ্যক। এ কারণেই জন্মনিয়ন্ত্রণ তথা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের জন্য কার কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া যেতে পারে, সে সর্ম্পকে খানিকটা আলোকপাত করা হচ্ছে।

এরা হলেনঃ ডাক্তার, নার্স পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা,প্যারামেডিক, মিডওয়াইফ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মী।

এরপর প্রশ্ন আসেঃ পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্বন্ধে। আমাদের দেশে (১) স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ পুরুষদের জন্য ভ্যাসেকটমি আর মহিলাদের জন্য টিউবেকটমি ছাড়াও রয়েছে (২) আইইউডি (ইনট্রা ইউটেরাইন ডিভাইস) ৩) ইনজেকটেবলস ডিপেপ্রভেরা নারিষ্টারেট, ৪) খাবার বড়ি সি ৪, ওভারাল, মায়া, নরকোয়েস্ট, মারভেলন, ওভাকন, লিনডিওল ইত্যাদি, ৫) কনডম রাজা, সুলতানা, প্যান্থার ইত্যাদি, ৬) নরপ্লান্ট।

একজন সক্ষম দম্পতিকে যদি এ সমস্ত পদ্ধতি সম্বন্ধে বলা হয়েছে, তা হলে সে নিশ্চয়ই একটা পদ্ধতি বেছে নিতে পারবে। তবে একটা প্রশ্ন থেকে যায় আর তা হচ্ছে, এর যেকোন একটি পদ্ধতি কি যেকোন লোক ব্যবহার করতে পারবেন? উত্তর হল ‘না’। কারণ বয়সী দম্পতি, সন্তান সংখ্যা ও তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনার পর তারা এটা ব্যবহার করতে পারবেন। সুতারাং দম্পতিকে সুপরামর্শ পেতে হবে। এবং বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার সম্পর্কে তার সুবিধা অসুবিধা সম্বন্ধে জেনে তবেই তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। আপনি যদি একজন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর গ্রহীতা হতে চান এবং সঠিক পদ্ধতি বেছে নিতে চান তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর গ্রহীতা হতে চান এবং সঠিক পদ্ধতি বেছে নিতে চান তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রদানকারী অথবা কোন ডাক্তারের কাছ থেকে আপনাকে নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই জেনে নিতে হবে। তা হলেই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং আপনিও একজন সঠিক ব্যবহারকারী হতে পারবেন।

১। কে ব্যবহার  করবেন?

২। কখন ব্যবহার করবেন?

যৌন মিলনের পূর্বে (খ) যৌন মিলনের সময় (গ) যৌন মিলনের পরে (ঘ) যৌন মিলনের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়।

৩। কিভাবে ব্যবহার করবেন?

৪। এটা কিভাবে কাজ করে ?

৫। শরীরের কোন অংশে এটা ক্রিয়া করে?

৬। এটা সংগ্রহের জন্য কি দরকার হয়?

৭। এর সাথে কোন যন্ত্রপাতি আছে কি ?

৮। যখন ব্যবহৃত হবে না এটা কিভাবে সংরক্ষণ করা হবে ?

৯। এটা কোথা থেকে সংগ্রহ করতে হবে ?

১০। এর জন্য কি মুল্য দিতে হবে ?

১১। এটা গর্ভসঞ্চার রোধে কতটা কার্যকরী ?

১২। এটা ব্যবহারে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি ?

১৩। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সর্ম্পকে কার কাছে থেকে পরামর্শ নেয়া যাবে ?

১৪। কতদিন পর্যন্ত এটা ব্যবহার করা যাবে ?

১৫। কতদিন পর্যন্ত এর সরবারহ থাকবে ?


Leave a Reply