জ্বর ও সাবধানতা

  • 0

জ্বর ও সাবধানতা

Category : Health Tips

জ্বর ও সাবধানতা

অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ বাহার হোসেন

লিভার, গ্যাস্ট্রএন্ট্রোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইউনাইটেড হাসপাতাল, ঢাকা

শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে হচ্ছে জ্বর। আবালবৃদ্ধ বনিতা কেউই জ্বর থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে মনে হয় না। জ্বর নিজে কোনে রোগ নয়, রোগের উপসর্গ মাত্র। প্যারাসিটামল খেলে জ্বর খানিকটা উপশম হয়ে কিন্তু সেরে যায় না। জ্বরের কারণ জানতে হয় এবং সে মোতাবেক চিকিৎসা নিতে হয়। একেক রোগের কারণে একেক ধরনের জ্বর হয়। তাই জ্বরের ধরন জানা আবশ্যক। কোনো কোনে জ্বর  হয় অল্পদিনের জন্য। আবার কোনো কোনো জ্বর হয় অনেক দিনের জন্য। কোনো কোনো জ্বর এক নাগাড়ে ভোগাতে থাকে। আবার কোনো জ্বর এখন আছে তো তখন নেই। কোনো জ্বরের সঙ্গে কাপুনি হয়, শীত লাগে, তীব্র মাথা ব্যথা ওঠে, বমি হয়। ইদানিংকালের ডেঙ্গু জ্বরে হাড় কাপানো ব্যথা হয়। কোনো কোনো জ্বর প্যারাসিটামল ছাড়া কমানো যায় না। প্যারাসিটামলের কার্যকারিতা শেষ হলেই জ্বর বেড়ে যায়। ম্যালেরিয়া হলে জ্বর নাশক ছাড়াই দৈনিক দু এক বার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে রোগী ফুরফুরে হয়ে ওঠেন। টাইফয়েড হলে আবার সিড়ির মতন দিনকে দিন লাফিয়ে লাফিয়ে জ্বর বাড়তে থাকে। তাই ডাক্তার জ্বরের ধরণটা কেমন জানতে চান। জ্বরের মাত্রা কখন কত ছিল জানতে চান।

রোগী হিসেবে আপনার অথবা আপনার অভিভাবকের দায়িত্ব হল জ্বরের সঙ্গে এসব উপসর্গগুলো লক্ষ্য করা। দৈনিক চার থেকে ছয়বার জ্বরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে মেপে চার্ট তৈরি করে রাখা্। আমার অনেক খারাপ লাগে, রাতে শীত লাগে, গা গরম লাগে, ঠোটে ফোসকা হয় এর কোনটাই জ্বর চিকিৎসার সঠিক মাপকাঠি নয়। বিভিন্ন সময়ের সঠিক তাপমাত্রাই বলে দেয় ওই জ্বরের কারণ কি? জ্বর মাপা কখনই কঠিন কোনো কাজ নয়। থার্মোমিটার ঝাকিয়ে পারদের অবস্থান শূণ্যতে নামাবেন। বগলের অথবা জিহ্বার নিচে েএক মিনিট রেখে দিলে দাগাঙ্কিত স্থানে পারদের অবস্থানেই আপনার রোগীর তাপমাত্রা নির্নয় করে দেয়। আজকাল অবশ্য ডিজিটাল থার্মেমিটার তাপমাত্রার লিখিত নির্দেশ দেয়। অবশ্যই তারিখ ও সময় উল্লেখ করে তাপমাত্রার চার্ট তৈরি করে রাখবেন।

জ্বর সাধারনত রোগীর শরীরে জীবাণু আক্রমণে প্রদাহের বার্তা বহন করে। মস্তিস্কের পর্দায় প্রদাহ হলে মাথা ব্যাথা, ঘাড় শক্ত হওয়া, খিচুনি থেকে শুরু করে রোগী বেহুশও হয়ে যেতে পারেন। নাকে বা সাইনাসে প্রদাহ হলে সর্দি হবে- মাথা, কপালে বা নাকের পাশে ব্যথা হবে। টনসিলে প্রদাহ হলে গলা ব্যথা হয়, ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। নিউমোনিয়া হলে বুকে ব্যথা হয়, শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে বুঝতে হবে মুত্রতন্ত্রে প্রদাহ হয়েছে। পাতলা পায়খানা মানে অন্ত্রে প্রদাহ। তা ছাড়া রক্তে জীবানু ছড়িয়ে গেলে পুরো শরীরে ‍কিংবা সিস্টেমকেই বিকল করে দিব। জ্বর উপসর্গ হলেও তা হয়েছে জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ফলে।

তাই জ্বরের চিকিৎসা সর্তকতার সাথে ধীরস্থির মেজাজে করতে হয়। রোগী বা তার অভিভাবক জ্বরের ধরণ এবং অন্য উপসর্গ গুলো চিকিৎসককে জানাবেন। জ্বরের কারণের চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জ্বর স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রোগীকে জ্বর নাশক প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াবেন, মাথা ধুয়ে দেবেন, জল পট্রি দেবেন। জ্বরের কারণ যাই হোক, শিশু ও বৃদ্ধদের অধিক তাপমাত্রা মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে।


Leave a Reply