ড্রাই স্কিন ইনফেকশন

  • 0

ড্রাই স্কিন ইনফেকশন

ড্রাই স্কিন ইনফেকশন

 

গরমে ও বর্ষায় অতিরিক্ত আদ্রতা ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তর ‘স্ট্র্যাটাম করনিয়াম’ – এ বাধা দেয়। শীতকালে ঠিক এর উল্টোটা হয়। ষ্ট্র্যাটাম করনিয়াম আবহাওয়ার পরিবর্তনের থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে স্ট্র্যাটাম করনিয়াম এই সময়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।  তাও শুষ্ক ত্বকে কিছু কিছু সমস্যা থেকেই যায়। কীভাবে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধ করেবন সেই নিয়েই এই আলোচনা।

 

শীতে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা

  • শীতকালে বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অ্যাটোপিক ডার্মাইটিস। এটা এক ধরনের একজিমা । এত বাচ্চাদের খুব হাঁচি হয় (অ্যালার্জিক রাইনাটিস) বা ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা দেখা যায়।  এই ডিজিজ অনেক ক্ষেত্রে বংশানুক্রমে দেখা যায়। মা, বাবা, দাদু, ঠাকুমা, বা ভাই-বোনের থেকেও হতে পারে।  এটা ‘জেনেটিকালি ডিটারমিনড স্কিন ডিজিজ’ ।  অ্যাটোপিক ডার্মাইটসের প্রধান সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক, যাকে টেকনিকালি কলা হয় ‘ জেরোসিস’
  • আর এক ধরনের স্কিনের সমস্যঅ হর ’ইকথিওসিস’ । এটাও হেরিডিটরি সিকনি প্রবলেম।  ত্বকের ওপর আঁশের মতো স্তর দেখা যায়।
  • এছাড়া দেখা যায় ‘সোরিয়াসিস’ । সারা শরীরে লাল প্যাচ দেখা যায়। স্ক্যাল্পে খুশকি দেখা যায়।
  • অপুষ্টি, হাইপোথাইরয়ডিজম বা ডায়াবিটিসে ভুগলে বাচ্চাদের শীতকালে অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দেখা যায়।

 

অ্যালার্জি ও স্কিন ইনফেকশন

শীককালে শুষ্ক ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা হওয়া বেশ কমন। অ্যাটোপিক ডার্মাইটিস, কনট্যাক্ট, ডার্মাইটিস, ইরিটেন্ট ডার্মাইটিস ও ন্যাপকিন র‌্যাশও হতে পারে। মডারেটর বা লো ডোজের স্টেরয়েড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে এই ধরনের অ্যালার্জির চিকিৎসা করা হয়। চুলকানোর  জন্যে ওরাল অ্যান্টিহিস্টামিনিকস দেওয়া হয়।

  • ফুল স্লিভড সুতির জামা পরিয়ে রাখুন। যাতে বাচ্চার হাত ও পা ঠান্ডার থেকে সুরক্ষিত থাকে। সিন্থেটিকের কাপড় শুষ্ক ত্বকে ইরিটেশন তৈরি করতে পারে।  সেন্সিটিভ স্কিন হলে উলের জামাকাপড়ও যেন বাচ্চার ত্বককে স্পর্শ না করে।   তখন সুতির জামার ওপর উলের সোয়েটার  পরান। তাহলে সরাসরি উলের জামা বাচ্চার ত্বককে স্পর্শ করতে পারবে না।
  • স্নানের আগে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে ভাল করে মাসাজ করুন।
  • সরষের তেল ব্যবহার করার দরকার নেই। শুষ্ক ত্বকে সরষের তেল থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। সানট্যানের ওপর সরষের তেল লাগলে ইরিটেশন হতে পারে।
  • ময়েশ্চারাইজিং সোপ বা লিক্যুইড সোপ ব্যবহার করুন। ঠান্ডা জলে নয় ঈষদুষ্ণু জলে স্নান করান। ‍
  • স্নানের জলে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করবেন না। অ্যান্টিসেপটিক সাবানও ব্যবহার করার দরকার নেই। অ্যান্টিস্যাপটিক নর্মাল ব্যাকটেরিয়া গুলো ত্বকের প্রাথমিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
  • যে সব বাচ্চাদের ত্বক খুব শুষ্ক, শীতকালে তাঁদের ঠোট খুব ফাটে,। এই সময় যদি ঠিকমতো যত্ন না নেওয়া হয়, তা হলে ইনফেকশনও হতে পারে । বাচ্চার ঠোট শুকনো মনে হলেই নারকেল তেল লাগাতে পারেন। এ ছাড়াও দুপুরে খাওয়ার পর এবং রাতে শোওয়ার আগে ঠোটে অল্প নারকেল তের লাগিয়ে দিন।  নারকেল তেলে জীবাণু প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে, তাই ইনফেকশন হওয়র প্রবণতাও কমে যায়। গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলিও ব্যবহার করতে পারে।  এতে ঠোটের নরম ভিজেভাব বজায় থাকে।  ঠোঁট যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ফাটতে শুরু করে, ডাক্তারের পরামরর্শ মতো অনুযায়ী প্রয়োজন মতো ওষুধ খেতে হতে পারে।

 

মনে রাখুন

  • বাচ্চাকে প্রতিদিন সাবান দিয়ে স্নান করানো দরকার । এর সঙ্গে সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার শ্যাম্পু দিয়ে বাচ্চার চুল পরিস্কার করুন।  দিনে দুই- তিন বার হাত পা ভাল করে ধুয়ে দিন।  বিশেষ করে বাচ্চা বাইরে থেকে এলে ভাল করে হাত- পা পরিস্কার করে ধুয়ে নিন।
  • বাচ্চাদের মেটালের তৈরি কোন লকেট না পরানোই ভালো। মেটাল থেকে শুষ্ক ত্বকে নানা ধরণের ইরিটেশন হতে পারে। এর পাশা-পাশি মেটালের লকেট যে সুতোয় পরানো থাকে, সেখানে ফাংসার বা ব্যাকটেরিয়া বাসা বাধতে পারে। তাই এই ধরনের জিনিস না পরানোই ভাল।
  • ভাল কোম্পানির ইয়ারবাড ব্যবহার করে কান পরিস্কার করা দরকার কানে ময়লা জমবে না।
  • পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুব জরুরি। নখ ছোট করে কেটে দিন, হাত ও পা হ্যান্ড লোশন দিয়ে ধুয়ে দিন।
  • বাড়িতে পোষ্য না রাখাই ভাল। কারন পোষ্যের লোম থেকে শুষ্ক ত্বকে অ্যালার্জি  হওয়ার প্রবণতা ভীষণ ভাবে বেড়ে যায়।
  • বাচ্চারা যেন খুব বেশি গাছে না হাত দেয়। এর থেকেও ত্বকে অ্যালর্জি হতে পারে।

 

ডায়েট 

  • ত্বক ভালো রাখার জন্যে দরকার ব্যালেন্সড ডায়েট। মানে এমন ডায়েট যেখানে উপযুক্ত পরিমাণে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি, ওমেগা ছয় সমৃদ্ধ ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে।
  • সবুজ শাকসবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাল কাজ করে। বাচ্চাদের টিফিনে, স্ন্যাকসে নানারকমভাবে সবুজ শাকসবজি দেওয়া খাবার সার্ভকরার চেষ্টা করুন।
  • সিজিনাল ফ্রুটস খাওয়া সব সময়েই ভাল। ফল থেকেও যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।
  • জল, ফলের রস যথেষ্ট পরিমাণে খাওয়া দরকার।

 

লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট

  • বাইরে খুব বেশি ঠান্ডায় বাচ্চাকে না নিয়ে যাওয়াই ভাল। আউটডোর অ্যাক্টিভিটি যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করুন।  শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ার সংস্পর্শে ত্বকের রুক্ষতা আরও বেড়ে যেতে পারে।  একান্তই বাইরে নিয়ে যেতে হলে যথাযথ সুরক্ষা মেনে চলুন।
  • চকলেট, চিপস, কোল্ড ড্রিংকসের মতো খাবার যেগুলোয় বেশি ক্যালরি রয়েছে, সেগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

 

মিথস অ্যান্ড  ফ্যাক্টস

  • বিশ্বের মোট ডায়াবেটিক জনসংখ্যার মধ্যে ৫০ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশের অধিবাসী। ভারতে রয়েছেন পাঁচ কোটি ডায়াবেটিসের রোগি।
  • শহুরে অঞ্চলে ডায়বেটিক রোগির সংখ্যা শতকরা আট শতাংশ থেকে পনের শতাংশ। কলকাতায় এটি দশ থেকে বার শতাংশ।
  • ডায়াবেটিস আছে মানেই মিষ্টি খাওয়া বারন নয়। আসলে মিষ্টি খেলে ওবিসিটির সম্ভাবনা বাড়ে যা ডায়াবিটিসের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। মিষ্টি খেলে চেষ্টা করুন সেই মিল থেকে কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার যেমন রাইস বা পাস্তা বাদ দেওয়ার।
  • অনেকের ধারণা ইনসুলিন নিলে ডায়াবেটিস আদৌ কিয়োরেবল নয়। নিয়ন্ত্রণ থাকে মাত্র।
  • ডায়াবেটিস শুধুমাত্র বংশগত কারণেই হয় বলে অনেকের ধারণা । এটি সত্যিই হলেও, অত্যাধিক ওজন আর স্ট্রেসফুল লাইফস্টাইলও ডায়াবিটিসের জন্য দায়ী।

 

ডায়াবিটিসের মোকাবিলায়

ডায়াবেটিস আছে মানেই কি জীবন থেকে সব ’সুমিষ্ট রস’ ‍উধাও? সারা জীবন শুধু পথ্যের ভরসাতেই চলতে হবে? ভুল! আপনিও বাঁচতে পারেন আর পাঁচজনের মতো। জানাচ্ছে ডা.তীর্থঙ্কর চৌধুরী।

পুজোর সময় পাড়ায়-পাড়ায় ডজনে ডজনে গজিয়ে উঠছে রোল-চাওমিন-ফাস্টফুডের দোকান। এগুলোর দিকে তাকিয়ে আপনি ছোট একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন। বিয়ে বাড়িতে আপনার প্রতিবেশিরা কবজি ডুবিয়ে মাংস-পোলাও –মিষ্টি খেলেও আপনি সেদিকে হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। আপনার কোলিগ মাটন বিরিয়ানি খেলেও আপনার ভাগ্যে জুটেছে পথ্য । কারণ আপনার তো ওই খাবারগুলোর সঙ্গে অলিখিত শত্রু তা রয়েছে।  সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার জন্য বরাদ্দ তেতো সবজি।  এরপরে সারদিন ডায়েট চার্টের ঠেলায় একেবারে নাভিশ্বাস ওঠার জোগার। সঙ্গে ব্লাড শুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হতাশাতেই মনে হয় জীবনের অর্ধেকটা বরবাদ হয়ে গেল। ডায়াবিটিস থাকলেই মেপেজুখে জীবন কাটাতে হবে, এটা কিন্তু এখন সত্যই মান্ধাতার ভাবনা।  আপনিও আর পাঁচজনের মতো স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারবেন।

 

সমস্যার গভীরে

দু’ধরনের ডায়াবেটিসের কথা আমরা জানি: টাইপ ওয়ান আর টাইপ টু। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস বেশিরভাগই পাঁচ থেকে পনের বছরের মধ্যে হয়।  ইনসুলিনের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কোনও ভাইরাল ইনফেকশনের সৌজন্যে বা শরীরে কোনও ফরেন প্রোটিনের উপস্থিতির ফলে এটি হতে পারে ।  তক্ষুনি রোগীকে হাসপাতালে না পাঠালে ব ইনসিলুন না দিলে সমূহ বিপদ। হু-হু করে ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তিবোধ ইত্যাদি এঁদের নত্যিসঙ্গি। আজকাল তরুণ প্রজন্ম আকছর ডায়বিটিসের শিকার হচ্ছে।  এর জিনগত কারণ ছাড়াও টিনএজ ওবিসিটি দায়ী।  শারীরিক পরিশ্রম প্রায় নেই বললেই চলে।  স্ট্রেসও বাড়ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার অভ্যেস। ঠিকমতো ডায়েট করলে। ডায়াবিটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।  তবে নিত্যদিন যে হাজার হাজার ডায়াবিটিক রোগিকে আমরা দেখি, তাঁদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই কিন্তু টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভোগেন।  বংশে থাকলে হতে পারে।  আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সমভাবনাও বাড়তে থাকে।  কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ওবিসিটি, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ইত্যাদির প্রবণতাও বেশি থাকে।  তবে আজকাল তো ব্যস্ত লাইফস্টাইল এর কল্যাণে কম বয়সেও আকছার লোতে এই রোগের শিকার হচ্ছেন।  জিনগত বা বংশগত কারণ, ইনসুলিন উৎপাদন না হওয়া  বা ইনসুলিন সঠিক ভাবে কাজ না করা, ওবিসিটি বা ওজন অত্যাধিক বেড়ে যাওয়া এবং সেডেন্ডারি জীবনযাপন দায়ী।

 

এছাড়া আরও দু’ধরনের ডায়াবেটিস আছে: প্রেগনেন্সি ডায়াবেটিস আর সেকেন্ডারি ডায়াবেটিস যা মূলত হরমোনাল কারণে হয়। প্রেগনেন্সি ডায়াবেটিস দু’ধরনের হয়। কিছু  ডায়াবিটিক রোগি এই অসুখ থাকাকালীন প্রেগনেন্ট হন। আবার অনেকের প্রেগনেন্সির সময় ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। প্রেগনেন্সির সময় শুগার কন্ট্রোল করা প্রয়োজন।  সাবধানে ডায়েট কন্ট্রোল করা হয়।  কারণ এসময়ে ক্যালরি রিকোয়ারমেন্ট তুলনায় বেশি।  এতে কাজ না হলে ইনসুলিন দেওয়া হয়। এখন কিছু কিছু ওষুধ দেওয়া হয়।  এ তো গেল ডায়াবেটিসের ইতিবৃত্তান্ত।   কিন্তু বুঝবেন কী করে যে আপনার শরীরে বাসা বেধেছে এই রোগ।  তেষ্টা পাবে বেশি, বারবার ইউরিন পাওয়া।  ক্লান্তিবোধ, ওজন কমে যাওয়া, কোথাও আঘাত লাগলে তাড়াতাড়ি শুকোতে না চাওয়া, চোখে দেখতে সমস্যা, বারবার ইনফেকশন হওয়া ইত্যাদি উপসর্গগুলো থাকলে একবার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

 

ডায়াবিটিস থেকে জটিলতা

ব্লাড গ্লুকোজের মাত্রা একটু-আধটু বেশি হলে ওষুধের সাহায্যে তাকে কন্ট্রোল এ রাখা যায়। তবে এটি মাত্রাছাড়া  হয়ে গেলে তাকে বলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া । আক্রান্ত হতে পারে হার্ট,ব্রেন, কিডনি, চোখ ও পা।  এছাড়া ডায়াবিটিস থাকলে খুব সহজেই ইনফেকশন, স্কিন ডিজিজ, গাঁটে ব্যাথা হতে পারে।  যদি আপনি ডায়াবেটিসের ‘ভোটেরান’ রোগী হন(ধুমপান করলে তো সোনায় সোহাগা) তাহলে বুকে ব্যাথা বা অস্বস্তি হলে বা নিঃশ্বাসে অসুবিধে হলে সতর্ক হন।  ট্রেড মিল টেস্ট, ইকোকার্ডিওগ্রাম করে দেখতে পারেন।  ডায়াবিটিস হলে নার্ভের উপর আর ব্লাড ভেসেলের উপরেও বিরূপ প্রভাব পড়ে। ব্রেন ষ্ট্রোক হতে পারে।  কিডনির সমস্যা প্রতিরোধে প্রথম থেকেই ব্লাড গ্লুকোজের মাত্রা ও রক্তচাপ বেধে রাখা পয়োজন।  ছ’মাস থেকে এক বছর অন্তর ইউরিনে মাইক্রো অ্যালবুমিন চেক-আপ কিডনির সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। প্রতি বছর একবার করে চোখের চেক-আপ করিয়ে নিন।   এখনও অনেক ক্ষেত্রেই অন্ধত্বের অন্যতম কারণ উচ্চমাত্রায় ব্লাড শুগার।  রক্ত সঞ্চালনও কম হয়। লাইট ফুটেড বোধে হতে থাকায় অল্পেতেই চোট লাগতে পারে। পায়ে কোনও ঘা হলে খেয়াল রাখুন সেটি তাড়াতাড়ি সারছে কি  না।

 

চিকিৎসা

গ্লুকোমিটার বা বাড়িতে ব্লাড গ্লুকোজ মনিটর করা খুবই জরুরি। প্রেগনেন্সি ডায়াবিটিসের সময় ও ইনসুলিন নিতে হলে এটি করতে হয়। যেহেতু ডায়াবিটিস ইনসুলিনের অভাবে বা ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্সের ফলে হয়ে থাকে, তাই ইনসুলিন ইনটেকের প্রয়োজন হয়। ওষুধও খেতে দেওয়া হয়। কিছু আধুনিক চিকিৎসার দৌলতে ডায়াবিটিসকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।

কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং সিস্টেম: টিস্যু ফ্লুইডে একটি সেন্সের রেখে পনের মিনিট অন্তর ব্লাড গ্লুকোজ মনিটর করা হয়। ইনটেনসিভ মনিটরিয়েংর ক্ষেত্রে কার্যকর।

ইনসুলিন পাম্প: সিভিয়ার হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ক্ষেত্রে এই যন্ত্রটি ক্যাথিটারের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইনসুলিন জোগাতে থাকে ব্লাড গুগার ফ্লাকচুয়েট করলে বা হঠাৎ করে শুগার ফল করলে ইনসুলিন পাম্প কাজ করে।

DPP4 inhibitors and GLP-1: ইনসুলিন উৎপাদন করতে, ওজন বাড়া রুখতে, খাবার পরে ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করতে এই মলিকিউল ব্যবহার করা হয়।

 

কিপ ইট আন্ডার কন্ট্রোল

  • কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এরসঙ্গে রক্তচাপও স্বাভাবিক রাখতে হবে।
  • ডায়াবিটিসকে জব্দ কারার মোক্ষম মন্ত্র হল ‘লুজ ইয়োর ওয়েট’ । ওজন কমানো খুব জরুরি।
  • সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন এক্সারসাইজ করুন। শারীরিক কসরতের ফলে মাসল সেলগুলি আরও বেশি ইনসুলিন সেনসিটিভ হয়।  এতে গ্লুকোজের মাত্রা কমে।  টাইপ চু ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে দিনে একঘন্টা এক্সারসাইজ করতে পারলে ভাল হয়।  ত্রিশ মিনিট অ্যারোবিক এক্সারসাইজ ( বেছে নিন ব্রিস্ক ওয়াক, সাইক্লিং, ট্রেডমিলের  মধ্যে একটি। সাঁতার বা ব্যাডমিন্টন খেলাও ভাল)।  প্রত্যেক মিলের পরে একটু হেঁটে আসুন।  যেমন দুপুরে অফিসে লাঞ্চ করার পরে সম্ভব হলে মিনিট দশেকে হাঁটাচলা করে নিন।  ওয়েট ট্রেনিং করলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেসিস্ট্যান্স এক্সসারসাইজ ( আপার আর্ম ও পায়ের জন্য) ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল কমাতে সাহায্য করে।

ক্লান্তিবোধ, ওজন কমে যাওয়া, বারবার ইউরিন পাওয়া, চোখে দেখার সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।

 

ফুড ডায়েরি

ডায়াবিটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন ব্যালেন্সড ডায়েট। সারাদিনে তিনটে মেজর মিল আর তিনটে স্ন্যাকস খান।  ১৫০০ ক্যালরি আপনার টার্গেট। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবারযুক্ত খাবার যেন ডায়েটে থাকে। ফল, শাকসবজি যত পরিমাণে খাবেন ততই ভাল। সিম্পল শুগার যেমন মিষ্টি, কেক, কুকিজ, চকলেট এড়িয়ে চলুন।  ব্রাউন রাইস, রুটি চলতে পারে। বেশি করে খান বিনস, আপেল, ন্যাসপাতি, পেঁপে।  মাছ আর স্কিনলেস চিকেন খেতে পারেন।  হেলদি ফ্যাটযুক্ত খাবার যেমন আমন্ড, ওয়ালনাট ভাল ।  ডেয়ারি প্রডাক্ট বা অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিনের স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলুন।  ডিম, মাটন, হাই ফ্যাট চিজ বাদ দিয়ে দিন ডায়েট থেকে।  লো ফ্যাট ছানা খান।  হার্বাল টি খান । মেথি রসুন, পেঁয়াজ,ফাইবার যুক্ত ফল (আপেল, পেয়ারা, সয়াবিন) খান। লেবু, দারচিনি খান।  যেসব রান্নায় চিনি দিতে হয়, গেুলোতে চিনির পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে দিন।  ভাত, দুধ ইত্যাদি কনসেনট্রেটেডে ক্যালরি।  অনেকে বলেন আমি পায়েস খাই শুগার ফ্রি দিয়ে।  এতে কিন্তু কোন লাভ হয় না।  কারণ পায়েস,মিষ্টি,চকোলেট ইত্যাদিতে যে পরিমাণ মিষ্টিত্ব আছে, শুগার ফ্রি ব্যবহারের ফলে তাতে কোন হেরফের হয় না ।

চিকেন পক্স ও প্রেগনেন্সি

আমার বয়স ত্রিশ বছর। আমি ছ’মাসের অন্তুসত্ত্বা । দু’মাস আগে আমার স্বামীর চিকেন পক্স হয়েছিল। কিন্তু আমারা এটা যখন বুঝতে পারি তখন চার –পাঁচ দিন হয়েগিয়েছিল।  এর আমি বাপের বাড়ি গিয়ে থাকতে শুরু করি।  এর থেকে তি আমার গর্ভস্থ সন্তানের কোনও রকম অসুখ হতে পারে ? আমরা খুবই চিন্তায় আছি।

নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

 

আপনার যদি আগে চিকেন পক্স হয়ে থাকে, তা হলে আপনার আরও একবার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা সাধারণত থাকে না।  আর আপনার যদি পক্স না হয়, সেক্ষেত্রে আপনার গর্ভস্থ সন্তানও সুরক্ষিত থাকবে।  তবে আপনার যদি আগে কখনও চিকেন পক্স না হয়ে থাকে তাহলে আপনার চিকেন পক্স হতে পারে।  চিকেন পক্স হলে টেনশন করবেন না।  সেক্ষেত্রে আপনি যে ডাক্তারকে দেখান তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করে কোনন অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ খেতে পারেন।  এ ছাড়াও আর কোনও চিকিৎসা নেই।  এবং চিকেন পক্স সম্পূর্ণভাবে সেরে গেলে আলট্রাসোনোগ্রাফি করে একবার দেখে নিতে হবে গর্ভস্থ সন্তানের শারীরিক অবস্থা কেমন আছে। তবে সাধারণত গর্ভস্থ সন্তানের কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

 

আমার বোনের বয়স ২৯ বছর। ও তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা । ওর হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা আছে। সাধারণত ওর প্রেশার ১৬০/৯০ থাকে। সিজার করলে কি কোনও রিস্ক দেখা দিতে পারে?

 

সুমেধা বসুমল্লিক, ঢাকা

 

আপনার বোন সবে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখনই আপনি ওর ডেলিভারি নিয়ে এত চিন্তা করছেন কেন? তবে হ্যা ওর ব্লাড প্রেশার যেহেতু সামান্য বেশি তাই নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে যাতে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রেণে থাকে। এবং সময়মতো চেক-আপ করাতে হবে। অ্যাডভান্সড স্টেজে কোনও রকম অসুবিধে হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন। আর হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে তো বেশিরভাগ সময়েই সিজার করা হয়ে থাকে ।

 


Leave a Reply