দাঁতের যত্নে ১০টি করণীয়

  • 0

দাঁতের যত্নে ১০টি করণীয়

Category : Health Tips

দাঁতের যত্নে ১০টি করণীয়

মেকআপ নয়,  শুভ্র দাতের নির্মল হাসিই আপনার প্রতি অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করবে এবং আপনি কি জানেন তা মলিন মুখের চেয়ে অন্তত ৩৮ গুণ বেশী? মুক্তোঝরা হাসির জন্য, আর তাই দরকার, আপনার ঝকঝকে শুভ্র দাতের পাটি।

সবাই সুবিমল হাসি দিতে না পারলেও একটি কাজ সবাই করতে পারি, আর তা হচ্ছে বাড়িতে অথবা দন্ত বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে আমাদের দাতগুলোকে আরো শুভ্র মুক্তোর দানার মত ঝকঝকে করে নিয়ে উজ্জ্ল হাসি হাসতে পারি। মোদ্দা কথা, আপনার চাই শুভ্র দাতের প্রাণোজ্জল হাসি।

       নিত্য ব্রাশ করবেন

১) রাতের খাবার শেষে দাতের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা খাবার টুকরোগুলো ব্রাশ না করে আপনি যদি ধপাস করে বিছানায় শুয়ে পড়েন এবং ঘুম দেন, তাহলে পরদিন সকালে দেখা যাবে আপনার দাতগুলো হলদেটে দেখাচ্ছে। কারণ, খাদ্যকণা আপনার দাতের স্বাভাবিক রংকে অস্থায়ীভাবে বিবর্ণ করে দিয়েছে। দাতের ওপর এক ধরনের আঠালো পদার্থের মত স্তর প্রতিনিয়তই জমা হয়। তা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে দাত ধীরে ধীরে কালো হয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে দাতের ওপর বেগুনী রংয়ের আবরণ সৃষ্টি হয়।

ধুমপান/ তামাকু চিবিয়ে খাবেন না

২) ধুমপায়ী লোকের দাতের দিকে লক্ষ্য করুন। আপনি কখনও এমন কোন ধুমপায়ী লোক খুজে পাবেন না, যার দাত ঝকঝকে, তকতকে। ধুমপায়ীদের প্রতি অনুরোধ ধুমপান ছেড়ে দিন। আপনি অচিরেই এর সুফল পেয়ে যাবেন। দেখবেন আপনার হাসিতে ফের মুক্ত ঝরছে। আর যারা টিকিয়ে তামাক খান কিংবা চিবান তাদের দাতের এমন স্থায়ী দাগ পড়ে যাবে যা কখনও দূর করা যাবে না। এমনকি ব্লিচিং করেও এসব দাগ দূর করা যায় না। পান তামাকের দাগ দূর করতে হলে অধিক ব্যয়বহুল প্রযুক্তির শরনাপন্ন হতে হবে, যা সবার জন্য সহজসাধ্য নয়।

       কোলাস জাতীয় পানীয় খাবেন না

৩) অন্যান্য কৃত্রিম হালকা পানীয় পান করলেও দাতের ওপর দাগ পড়ে যেতে পারে। সুতারাং আপনার মুখের সৌন্দর্য অটুট রাখতে এ ধরনের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

       ফ্লোরাইড অটুট রাখুন

৪) সুস্থ সতেজ দন্তরাজি উপহার দিয়ে ফ্লোরাইড পশ্চাত্যে সংবাদ শিরোনাম হয়ে আসছে। আমাদের দেশের  এমন কোন এলাকা নেই যেখানে পর্যাপ্ত ফ্লোরাইডযুক্ত পানি পাওয়া যায় না। পর্যাপ্ত শাকসবজি দেহেও ফ্লোরাইড যোগান দেয়। সুতারাং দাতের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রচুর শাকসবজি খাওয়া উচিত।

ওষুধ খেতে সর্তক থাকুন

৫) গর্ভাবস্থায় কোন মহিলা যদি টেট্রাসাইক্লিনজাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খান তবে তার শিশু দাত হতে পারে বিবর্ণ এবং বিকৃত গঠনের। আর এ কারণেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা অনুধ ১২বছরের ছেলেমেয়েদের টেট্রাসাইক্লিন সেবনের পরামর্শ দেন না। কারণ শৈশবে এ ধরনের এ্যান্টিবায়োটিক সেবনে দাতের রং হয় বাদামী।

দাতের যত্নে ‘ক্লিনার্স’ ব্যবহার করুন

৬) খাদ্য গ্রহণ ও ধুমপানের কারণে দাতের রং বিনষ্ট হলে দন্ত চিকিৎসকের সাহায্যে ক্লিনিং (ব্লিচিং নয়) করালে কখনও কখনও সুফল পাওয়া যেতে পারে। যেসব কারণে আপনার দাতের জন্যে ক্ষতিকর তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ না করলে পুনরায় দাতের অবস্থা খারাপ হতে পারে। সুতারাং আগে ভাগেই সাবধান !

       ঘরে বসে সমাধান

৭) আপনি ঘরে বসেই দাত শুভ্র করার দ্রবণ তৈরি করতে পারেন। এজন্য এক চামচ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড নিন। এর সাথে আর এক চামচ উন্নতমানের মাউথ রিঞ্জ একত্র করে মিশিয়ে পানিতে ঢেলে নাড়াচাড়া করুন। এ মিশ্রণটি দিয়ে নিয়মিত দু তিন সপ্তাহ দাত মাজুন। দেখবেন আপনার দাত ধবধবে উজ্জল হয়ে  গেছে।

ব্লিচিং করতে হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন

৮) দন্ত চিকিৎসকের সাহায্যে ব্লিচিং করাতে পারেন। তিনি আপনার দাতে ব্যবহারের জন্যে কার্বোমিনা পারক্সাইড জেল দিয়ে রাতে ব্যবহারের জন্য এক ধরনের পেষ্ট (যাকে নাইট গার্ড বলা হয়) তৈরি করে দেবেন, প্রতিদিন রাতে আপনি শোবার আগে পেষ্টটি দাঁতে মেখে চলুন। দু সপ্তাহের মধ্যে এ পদ্ধতির সুফল আপনার চোখে ধরা পড়বে।

বন্ডিং

৯) আপনার চিকিৎসক এক ধরনের হালকা পরিচর্যাকারী উপাদানের সাহায্যে বন্ডিং এর মাধ্যমে আপনার দাঁতের নোংরা দাগ দূর করে দিতে পারেন। বন্ডিং পদ্ধতি হচ্ছেঃ নোংরা দাতের সামান্য কিছু এনামেল চেছে ফেলে তারপর বন্ডিং (পেষ্টের মত দেখতে) দাতের ওপর খুব সাবধানে প্রলেপ বুলিয়ে নিতে হবে।  একহার এ ব্যবস্থা নিলে তা ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

পোর্সেলিন লেমিনেশন (ভিনিয়ারিং)

১০) এছাড়া, দন্ত বিশেষজ্ঞরা দাতের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরো অগ্রগতি সাধন করেছেন। যে কেউ তার ধূসর বর্ণের দাতে (চীনামাটি) এর আবরণ দিয়ে স্থায়ীভাবে দাত শুভ্র খরে নিতে পারেন। ধুসর দাঁতের ওপর পড়া স্বাভাবিক এনামেল খুব সাবধানে তুলে নিয়ে তারপর পোর্সেলিনের প্রলেপ লাগানো হয়।

বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে

 


Leave a Reply