ধুমপান মানুষকে বধ করে

  • 0

ধুমপান মানুষকে বধ করে

Category : health tips bangla

ধুমপান মানুষকে বধ করে

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা আমরা অনেক সময় পুরোপুরি বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু আমরা যাই ভাবি না কেন বিভিন্ন সুত্র কিন্তু পরিষ্কারভাবে জানায় যে, তামাক ব্যবহারকারীদরে অবস্থা ভালো নয়। এদের মধ্যে মৃত্যু হার তামাক যারা ব্যবহার করনে না তাদের থেকে দু থেকে তিন গুণ বেশি। অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায় যে, যারা তামাক ব্যবহারজনিত ক্ষতির কারণে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হন। সারা বিশ্বের হিসেবে এই সংখ্যাটা বিরাট। বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৭০- ৮০ শতাংশ।

ধুমপান মানুষকে বধ করে

ধুমপান মানুষকে বধ করে

বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিগত ৩/৪ দশক ধরে তামাকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি  এসব দেশগুলোতে তামাক ব্যবহারের কুফলও ফুটে উঠেছে। চীনের মতো দেশও এই সমস্যায় ভুগছে। যদিও তামাকের বিপক্ষে জোরদার প্রচার চলছে তবুও উন্নত দেশগুলোও তামাকের সমস্যায় জর্জরিত। যখন কোনো অধুমাপায়ী শিশু বা ব্যক্তির কাছে বসে ধুমপান করেন তখন ওই অধুমপায়ী মানুষটির শরীরের তামাকের ধোয়া প্রবেশ করে। আর এভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াকে পরিবেশগত ধুমপান বলা হয়। ধুমপায়ী তামাকের ধোয়া পরিবেশ ছেড়ে দেন, আর তা অধুমপায়ী স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেবার সময় নিজের ভেতরে টেনে নেয়। এইভাবে পরোক্ষ অধুমাপায়ী ব্যক্তি তামাকের ধোয়া নিজের ভেতরে টেনে নেন বলে একে পরোক্ষ ধুমপানও বলে। পরোক্ষ ধুমপানে শিশুরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। শিশুদের শ্বাসের রোগ বেড়ে যায়। অ্যাজমা, শ্বাসনালীর প্রদাহ, কফ কাশি, কানের নানা রোগ ইত্যাদি বহুলাংশে বেড়ে যায়। আবার পরোক্ষ ধুমপানে ফুসফুরের ক্যানসারের সম্ভাবনাও ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। তামাকের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য তামাকের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সচেতন করে তুলতে হবে। এ বছল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি বিশেষ সনদ সামানে নিয়ে  এসেছেন। এখন পর্যন্ত অনেক। দেশই এই সনদকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই সনদটি সমাজের সকল স্তরের মানুষের স্বার্থে বানানো হয়েছে। এই সনদটি সবাইকে তামাকের কুফল থেকে রক্ষা করার জন্য, আইনগত সাহায্যও দেবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশা করে এই সনদে স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ সনদের উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য নান প্রকল্প গ্রহণ করবে ও নিজেদের মধ্যে নানা আলোচনাচক্রের আয়োজন করে এই সনদকে সাফল্যমন্ডিত করে তুলবে। এই সনদের মূল বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হল-

বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্প হতে তামাকের উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর অন্তনির্হিত শক্তিক প্রতিহত করা। তামাকের চাহিদা কমানোর জন্য এর উপর যথেষ্ট পরিমাণ কর বাড়িয়ে দেয়া। মানব সমাজকে তামাকের ধোঁয়ার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করা। তামাকজাত পণ্যে বিভিন্ন সামগ্রীর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। তামাকজাত পণ্যে কী কী আছে তা খেয়াল করা। তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের এবং এর লাগানো মোড়কের নিয়ন্ত্রণ করা। তামাকের কুফল সম্বন্ধে জনগনকে অবহিত করা। তামাকজাত পণে্যর বিজ্ঞাপন, উন্নয়ন ও এসব থেকে বিভিন্ন কাজে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করা। মানুষের তামাকের নেশা বন্ধ করতে সাহায্য করা। তামাকের বেআইনি ব্যবসা বন্ধ করা। কম বয়সীদের কাছে তামাকের বিক্রি বন্ধ করা। তামাক চাষিদের তামাকের বদলে অন্য লাভজনক কিছু চাষে উৎসাহিত করা। মানুষের মৃত্যুর প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে তামাকের নাম। নানা সুত্র বলে যে, এ বছর কম করেও ৫ মিলিয়ন লোক তামাক ব্যবহারজনিত নানা রোগ যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ফুসফুসের রোগ ইত্যাদিতে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ২১ শতকে তামাক ব্যবহারের জন্য ১ বিলিয়ন লোকের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। তামাকের ব্যবহার এখন সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করেছে।

তাই  এই মহামারীর হাত থেকে বাচতে হলে চাই গণআন্দোলন। সবাই মিলে এই গনআন্দোলন ঝাপিয়ে পড়লে তবেই মুক্তির আশা রয়েছে।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক কলামিষ্ট


Leave a Reply