নবজাতকের যত্ন

  • 0

নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের যত্ন

পুরাতনকে সরিয়ে দিয়ে নতুনের আগমন এই সৃষ্টি জগতের চিরন্তন নিয়ম। লাখ কোটি নতুন প্রাণের আবির্ভাবকে প্রতিনিয়ত মুখরিত হচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী। প্রতিদিন আমাদের দেশে প্রায় ৬ হাজার নতুন শিশু আসছে। এরাই দেশের ভবিষ্যৎ।  এদের সঠিক যত্নের ভাব আমাদেরই উপর।

নবজতাক বলতে যদিও একটি সদ্যজাত শিশুকে মনে হয় কিন্তু জন্ম থেকে ২৮ দিন বা চার সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত শিশুদেরকে নবজাতক বলা হয়।  আমাদের দেশে শিশু মৃত্যুর হার প্রায় ১০০। অর্থ্যাৎ এক বছরের কম বয়স পূর্ণ হবার আগেই মারা যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতে এই শিশু মৃত্যুর হার দশেরও কম। শ্রীলংকাতে মাত্র আঠারো। আমাদের দেশের এই হাজারে একশ শিশুর মধ্যে প্রায় ৬০ জন শিশুই মারা যাচ্ছে নবজতাক অবস্থায় কম বয়সে। আমাদের দেশের নবজাতকের এই মৃত্যুহারের প্রধান প্রধান কারণগুলো হচেছ।

  • অপরিনত ও অতি কম ওজনের শিশুর জন্ম।
  • জন্মকালীন সময়ের আঘাত।
  • জন্মের সাথে সাথে শ্বাস নিতে পারা।
  • নবজাতকের দেহে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ যেমন নিওমোনিয়া, ডায়রিয়া, মেনাইনজাইটিস (মস্তিষ্কে প্রদাহ, সেপটিসিমিয়া (রক্ত প্রদাহ) ইত্যাদি।
  • নবজাতকের ধনুষ্টংকার।
  • অতিমাত্রায় জন্ডিস।

নবজাতকের সঠিক যত্ন নিতে পারলে তাদের মৃত্যুহারর সাথে সাথে সামগ্রিক শিশু মৃত্যুর হার কমবে।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের যত্ন কিন্তু শুরু হয় মাতৃগর্ভে তার জন্মলগ্ন থেকেই। ভূমিষ্ট হবার আগে থেকে তাকে যত্ন করতে হলে স্বভাবতঃই তার মাকে যত্ন করতে হবে অর্থ্যাৎ মার সঠিক গর্ভকালীন পরিচর্যা করতে হবে। ততার সঠিক পুষ্টি, বিশ্রাম, ব্যায়াম, নিয়মিত ডাক্তার দেখানো ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। গর্ভকালীন সঠিক পরিচর্যার অভাবে কিন্তু আমাদের দেশে অনেক শিশু অপরিণত ও অপুষ্ট হচ্ছে যাদের মৃত্যুহার অনেক বেশি।

নবজাতকের ভুমিষ্ট হবার সময় কতকগুলো অসুবিধা হয়ে এবং তাদের এ সময় কিছু বিশেষ সাহায্যের প্রয়োজন হয় এ সম্বন্ধে প্রথমে কিছু বলা যাক। এ সময়ে যিনি মায়ের সাহায্যে তার কাছে থাকেন তার কতকগুলো জিনিস বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

  • নবজাতককে গ্রহণ করবার জন্য কতকগুলো পরিষ্কার গরম সুতির কাপড় রাখতে হবে।
  • নাভী কাটবার জন্য নতুন ব্লেড ও জীবানুমুক্ত করাবার জন্য ডেটল পানি রাখতে হবে।
  • নাভী ভালভাবে বাধার জন্য পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত শক্ত সুতা রাখতে হবে।

জন্মের সাথে সাথে শিশু যেন কাদতে পারে ও সঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারে সে জন্য তাকে প্রথমেই পরিষ্কার গরম কাপড়ে ভালভাবে মুছে নিয়ে তার নাক ও মুখের ভেতরের ময়লা, পানি, রক্ত ইত্যাদি পরিষ্কার করে দিতে হবে। শিশুর মাথা কিঞ্চিত নিচুতে রেখে হাতে কাপড় পেচিয়ে তার নাক মুখের ময়লা পরিষ্কার করে দিতে হবে। হাসপাতাল বা ক্লিনিকে সাকার মেশিন দিয়ে যা করা হয় এরপর শিশুর পিঠ ও পায়ো টোকা দিয়ে বা হাত দিয়ে তাকে উত্তোলিত করতে হবে। এতে শিশু সাধারণত শ্বাস নিতে থাকে।

যদি শিশুটি অপরিণত বা কম ওজনের হয়, প্রস্রবে যদি অনেক সমময় নেয় ও কষ্টের হয় শিশুর গলায় যদি অধিকক্ষণ নারী পেচিয়ে থাকে অথবা অন্য কোন কারণে যদি শিশুটি অত্যান্ত দুর্বল তবে সে আপন হতেই জোরে শ্বাস নিয়ে কাদতে পারবে না। এ সময় হাসপাতাল তাকে অক্সিজেন দেয়া হয় এবং মুখে ব্যাগ লাগিয়ে তার বুক ফুলিয়ে দেয়া হয়। এসবের অভাবেও আমরা শিশুটিকে শ্বাস নিতে সাহায্য করতে পারি। তাহলে “মুখে মুখে শ্বাস দেয়া” শিশুটি যখনই আপনা তেকে শ্বাস নিতে পারলো না তখনই দেরী না করে তার নাক ও মুখ পরিষ্কার করে নিয়ে তার নাক ও মুখ পরিষ্কার করে নিয়ে তার উপরে একটি পাতলা কাপড় দিয়ে শিশুর নাক ও মুখের উপর মুখ চেপে পর পর কয়েকবার ফু দিয়ে তার বুক ফুলিয়ে দিতে হবে। এর ফলে অধিকাংশ সময়ই শিশু নিজে নিজে শ্বাস নিতে পারবে। জন্মাবস্থায় শিশুর ফুসফুস অনেকটা চুপসানো বেলুনের মত থাকে। চুপসানো বেলুন ফুলাতে যেমন প্রথমে একটু বেশি শক্তি লাগে, শিশুর প্রথম শ্বাস নেবার সময়ও একটু বেশি শক্তি লাগে। দূর্বল শিশুটিকে মুখে মুখে শ্বাস দিয়ে প্রথমে একটু সাহায্য করলে পরে সে নিজেই বাকিটা ফুলাতে পারে।

আমাদের দেশে অনেকেই এ সময় মায়ের ফুল নিয়ে নানান কিছু করে গরম পানিতে ডোবান, কড়াইতে ভাজেন ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে যে এসব করে সময় নষ্ট না করে শিশুটির মুখে মুখে শ্বাস দিতে হবে যা তার জন্যে ঐ মুহূর্তে অপরিহার্য।

এরপর শিশুর নাভী কাটা দুই ইঞ্চি মতো নাভী রেখে পরিষ্কার সুতায় ভালোভাবে কমপক্ষে পর পর দুটি বাধ দিয়ে জীবানুমুক্ত ব্লেড বা কাচি দিয়ে নাভী কাটতে হবে এবং নাভীমুখ কিছুক্ষণ চেপে রেখে পরে দেখতে হবে যে রক্তক্ষরণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে কিনা। শিশুর সারা শরীর ভালোভাবে মুছে নিয়ে উষ্ণ কাপড়ে তাকে পেচিয়ে রাখতে হবে। নবজাতকের ত্বকে সাদা যে প্রলেপ থাকে তা অলিভ অয়েল বা প্যারাফিন অয়েল দিয়ে মুছে ফেলা উচিত।

নবজাতকের প্রথম খাবার

জন্মের সাথে সাথেই কিন্তু শিশু খেতে চাইবে না । কিছুক্ষণ একটু বিশ্রামে শ্বাস নিতে চাইবে তারপরই খাবার একটু চাহিদা হবে এবং তার প্রথম খাবার হচ্ছে স্রষ্টার শ্রেষ্ট দান মায়ের শাল দুধ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মায়ের স্তনে লাগিয়ে তা দেবার চেষ্টা করতে হবে। জন্মের পরে দুই ঘন্টা বা ছয় ঘন্টা কিছু দিতে নেই এমন ধারণা কিন্তু ভুল।

শাল দুধ

নবজাতক শিশুর জন্মের পরে প্রথম ২-৩ দিন যে হলুদ রংয়ের দুধ বের হয় তাকে শাল দুধ বলে। কুসংস্কারের কারণে ানেক মহিলা মনে করেন এটা কাসতে দুধ, এটা শিশুকে পান করান যাবে না কেন? উত্তর কেউ জানে না। এই দুধ কোন অবস্থাতেই ফেলে দেয়া উচিত নয়। কারণ িএই দুধের ভেতরের প্রচুর প্রোটিন, রোগ প্রতিরোধক কণিকা ও জীবন্ত কোষ থাকে, যা নবজাতকের জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনীয়।

শিশুর জন্মের পর পরই কিন্তু মায়ের দুধ বেশি করে আসে না। শিশুর ক্ষুদা লাগবে, কাঁদবে এবং মা উদগ্রীব হয়ে  সেই ক্ষুদা নিবৃত্তির জন্য তার স্তন চোষাত থাকবেন। এমনিভাবে বারবার চোষার ফলে এবং মায়ের প্রবল ইচ্ছার কারণে মায়ের স্নায়ুগুলো সচল হয় এবং কতকগুলো হরমোন এর সাহায্যে মায়ের স্তনে দুধ আসে এবং তা নিঃসৃত হয়। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকরী হতে দুই এক দিন সময় লাগে। তাই এই সময়টা ধৈর্য ধরে ঘন ঘন শিশুকে স্তন চুষতে দিতে হয় এবং মাকে কিছু অতিরিক্ত, বিশেষ করে তরল জাতীয় খাদ্য খেতে হয়। জন্মের পর  পরই কিন্তু শিশুর বেশি খাবারের প্রয়োজন পড়ে না। বরং জন্মের সময় শিশুর দেহে কিছু অতিরিক্ত পানি বা রস থাকে যা প্রথম দুই তিন দিনে কমে যায় এবং এ সময় শিশুর ওজনও কিছুটা কমে। আবার এক সপ্তাহ বা দশ দিনের ভেতরেই জন্ম ওজনটা ফিরে আসে। নবজাতককে যদি অতিরিক্ত দুধ বা পানি খাওয়ানো হয় তবে তাদের চোখের পাতা ফুলে যায়। তার কারণ হলো যে, শিশুটির অপরিণত কিডনি এই অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে বের করতে পারে। তাই প্রথম প্রথম মায়ের যে অল্প পরিমাণ দুধ আসে সেটাই তার জন্য যথেস্ট। তাছাড়া এ সময় শিশুকে বাড়তি পানি বা বাইরের দুধ খাওয়ালে শিশু মায়ের স্তন কম চোষে, ফলে বুকে দুধ আসতে আরও দেরী হয়।  এছাড়াও মায়ের স্নায়ু ও হরমোনগুলোর সঠিক কাজের জন্য মাকে মনে করতে হবে যে, তার স্তনের দুধেই তার শিশুর জন্য একমাত্র খাবার এবং মনেপ্রাণে তা দেবার জন্য বার বার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে অবশ্যই, কিছুটা সময় নিলেও মায়ের দুধ আসবে। এর অন্যথা হলে দুধ আসতে বিলম্ব হবে এবং মা/ নানী অধের্য্য হয়ে শিশুর মুখে বাজারের কৃত্রিম (ভেজাল) দুধ তুলে দিতে চাইবেন।

জন্মের পর প্রথম পাচ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধই শিশুর জন্য যথ্ষ্টে। এরপর আস্তে আস্তে অন্য খাবার যোগ করতে হয়। কিন্তু বুকের দুধ শিশুর দুই বছর  টানেন, পবিত্র কোরআনে বলা আছে “মায়েরা তাদের সন্তানদের পুরো দুই বছর বুকের দুধ পান করাবে” (আলবাকারা- ২৩৩)

কখন কিভাবে, কতটুকু খাওয়াবেন

শিশুকে তার চাহিদা মত অর্থ্যাৎ যতটুকু খেতে চাইবে ততটুকুই খাওয়ানো উচিত। সময় বেধে ঘড়ি দেখে ঘুম থেকে জাগিয়ে, জোর করে খাওয়ানে উচিত নয়। শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত করলে তার বৃদ্ধি বা এর ব্যাঘাত হয়। দীর্ঘদিন ঘুমানোর পর কিছু সময় ঘন ঘন খেয়ে আবার ঘুমাতে পারে – এটা স্বাভাবিক। আবার ঘুমের মধ্যে শুইয়ে  শুইয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে দুধ গড়িয়ে গড়িয়ে শ্বাসনালীতে যেতে পারে এবং তাতে শিশুর কাশি তও নিউমোনিয়ো হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই সম্পূর্ণ জাগ্রত অবস্থায় শিশুর মাথা ও বুক কিছুটা উচু করে অর্ধবসা অবস্থায় তাকে ভালোভাবে ধরে তার মুখের ভিতরের দুধের বোটাসহ কালো অংশ পুরো পুরিয়ে দিয়ে দুধ চোষাতে হয়।  তাতে বোটায় ঘা হয় না, শিশুর পেটে বাতাস যায় না এবং উপর থেকে চোষার জন্য বেশি পরিমাণে দুধ নিঃসৃত হয় এবং শিশু ও মা অল্প সময়ে তৃপ্ত হয়। প্রতিটি স্তনে একবারে ৮ -১০ মিনিট করে দুই স্তন মোট ১৫- ২০ মিনিট ধরে খাবে। অপরিণত ও কম ওজনের শিশুদের বেলায় এ সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। মা প্রশস্ত মনে ভাল করে ঠেস দিয়ে বসবেন। না পারলে শুয়ে পাশ ফিরে শিশুর মাথা কিছু উচু করে ধরে খাওয়াবেন। খাবার পরে বুকে কিছুক্ষণ ধরে রেখে। পেটে মৃদু চাপ দিয়ে ঢেকুর দোয়াবার চেষ্টা করলে পেটে অতিরিক্ত বাতাস থাকলে তা বের হয়ে যাবে। বেলাতেও শিশুকে বুকের দুধ দেবেন।

মা কয়েক ঘন্টগার জন্য বাইরে বা কর্মক্ষেত্রে গেলে বাচ্চার জন্য দুধ গালিয়ে রেখে যেতে পারেন। তা অল্প গরম করে শিশুকে চামচে খাওয়ানো যাবে। একবার বোতলে দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস করলে শিশু আস্তে আস্তে মায়ের দুধ কম চুষতে থাকে যেহেতু সে বোতলে সহজে দুধ পায় এবং দুই ধরনের নিপলে তার কিছুটা অস্বস্তি হয় এবং একটাকে বেশি পছন্দ করে।

শিশু ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে কি না তা বোঝার উপায় হচ্ছে শিশুর ঠিকমত প্রসাব হবে, কান্নাকাটি কম করবে, ভাল ঘুমাবে ও খেলবে। শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।

নাভীর যত্ন

নবজাতকের নাভীকে একটি ক্ষত মনে করি এটি পুরোপুরি শুকিয়ে পড়ে না যাওয়া পর্যন্ত এর যত্ন করা উচিত। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার নাভীমুল ও অগ্রভাগ একটু স্পিরিট বা অন্য কোন জীবানুনাশক দিয়ে মুছে দিলে নাভীতে প্রদাহ হতে পারে না। নাভীতে রক্তক্ষরণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তা ভাল করে চেপে ধরে রাখতে হবে কিছুক্ষণ এবং নাভীতে আরো একটি শক্ত বাঁধন দিতে হবে। শুকানোর সময় নাভীমূলের চটা উঠে গিয়ে কয়েক ফোটা রক্ত আসতে পারে। এটা নিয়ে চিন্তিত হবার কারণ নেই আপনা তেকে বন্ধ হয়ে যায়। নাভীর চারপাশে যদি ফলে যায় যা লাল অথবা পুঁজ আসে তবে বুঝতে হবে নাভীতে ইনফেকশন বা প্রদাহ হয়েছে তখন অব্যশই ডাক্তারের পরামর্শমত নাভীতে ওষুধ দিতে হবে এবং মুখেও ওষুধ খাওয়াতে হতে পারে। কারণ নাভীতে ঘা হয়ে তা রক্তে সংক্রমিত হয়ে মারাত্মক রূপ নিতে পারে। নাভীর ঘা থেকে টিটোনাস বা ধনুষ্টংকার হয়ে শিশুর মৃত্যুর হতে পারে।

চোখের যত্নঃ জন্মের পর পর পরিষ্কার ফুটানো পানিতে তুলা ভিজিয়ে ভাল করে চোখ পরিষ্কার করে দিতে হয় এবং প্রতিদিন কয়েকবার চোখ পরিষ্কার করা উচিত।

ত্বকের যত্নঃ নবজাতকের ত্বক অত্যন্ত নরম থাকে সঠিক যত্নের অভাবে এতে নানন অসুখ চবা ইনফেকশন হবার সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত গোসল করিয়ে বা ফুটানো পানিতে ভাল করে ত্বক মুছে পরিষ্কার রাখতে হয়। জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই গায়ে লাল লাল দানা উঠতে পারে। এগুলো হচ্ছে যাকে অনেকেই “মাসী পিসী’ বলে এগুলো হাম বা ক্ষতিকর কিছু না। ২/ ৪ দিনের মধ্যে আপনা থেকেই সেরে যায়। এ সময় গায়ে তেল না মাখিয়ে পাউডার দিয়ে রাখলে কিছুটা উপকার হয়।

       অপরিণহত ও কম ওজনের

Pre mature /  Low Birth

নবজাতকের বিশেষ যত্ন

এদের অধিকাংশ জন্মের সময়ে জোরে কেঁদে বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিতে পারে না। ফলে এদের অক্সিজেনের অভাবে মস্তিস্কের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এসব শিশুর জন্ম হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ডাক্তারের তত্বাবধানে হওয়াই বাঞ্চনীয় আগেই বলেছি, শ্বাস নিতে একটু দেরী হলেই এদেরকে মুখে  মুখে শ্বাস দিয়ে সাহায্য করতে হবে।

এদের দেহে খাদ্যের সঞ্চয় কম থাকে। সহজেই রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গিয়ে  এদের খিচুনি হতে পারে। জন্মের পর পরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। মায়ের শাল দুধ চেপে নিয়ে চামুচে বা ড্রপারে খাওয়ানো যেতে পারে। তা না পাওয়া গেলে অন্য দুধ দেড় দুই ঘন্টা পর পর একটু করে চামুচে খাওয়াতে হবে। যতদিন পর্যন্ত ভাল করে মায়ের দুধ চুষতে না পারবে ততদিন তা গালিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

অপরিণত শিশুর নিজেদের শরীরে তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে না। অল্পতেই ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে।  এদেরকে গরম জায়গায় এবং একটু বেশি কাপড় জড়িয়ে রাখতে হয়।

এদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমত কম। তাই এদের বিশেষভাবে আগলিয়ে রাখতে হয়, যাতে রোগ জীবাণু সহজে তার সংস্পর্শে না আসে। পরিষ্কার হাতে ডেটল / স্যাভলন দিয়ে হাত পরিষ্কার করে এদের পরিচর্যা করা উচিত।


Leave a Reply