নিউমোনিয়ার কথা

  • 0

নিউমোনিয়ার কথা

Category : Health Tips

নিউমোনিয়ার কথা

জাকির আজাদ

মানুষের ফুসফুসের বিভিন্ন রকম ব্যাধির মধ্যে নিউমোনিয়া অন্যতম। সাধারণত নিউমোনিয়া দু রকমের হয়। একটি হচ্ছে ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া অপরটি লোবার নিউমোনিয়া। ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া আবার প্রাথমিক ও অন্যান্য রোগের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েও হতে পারে। তবে সাধারণতঃ অল্প বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যেই রোগটির প্রকোপ বেশি। পনেরো থেকে চল্লিশ বছর বয়সের মধ্যে এই রোগের মেয়েদের চেয়ে পুরুষদেরই বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তাছাড়া বৃদ্ধ বয়সে নিউমোনিয়া অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়ায়। পরিবর্তনশীল ও স্যাৎসেতে আবহাওয়াযুক্ত জায়গায় এই রোগের প্রাবল্য। রোগটির আক্রমণের মূলে পারিপার্শ্বিক যে কয়টি বিশেষ অবস্থার জন্য দায়ী করা হয় তা হচ্ছে-০

১। গৃহস্থালীর অস্বাস্থ্যকর অবস্থা।

২। আলো বাতাসের অপাচর্য

৩। একই গৃহে অনেক লোকের বসবাস

এই কারণে একই লোকের একাধিকবার নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়া বিচিত্র নয়। সুস্থ সবল লোকও যে এই রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পায় তা নায় বরং তাদের মধ্যেই হঠাৎ নিউমোনিয়ার আক্রমণ ঘটে থাকে। তাছাড়া অন্যান্য কয়েকটি রোগের আনুষাঙ্গিক পরিণতি হিসেবে নিউমোনিয়ার অনেকেই আক্রান্ত হয়। এই সব রোগের ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডায়বেটিস, নেফ্রাইটিস ও প্লেগ অন্যতম। তাছাড়া যে কোন ভারী রোগের পর নিউমোনিয়া হওয়ার আশংকা থাকে। অত্যাধিক পরিশ্রম বা বেশি ঠান্ডা লাগলেও এই রোগের উৎপত্তি হতে পারে। নিউমোনিয়া রোগের কারণ হিসাবে যে জীবাণু দায়ী, তার নাম নিউমোক্কাস। তাছাড়া স্টেপটোক্কাস, ষ্ট্যাফাইলোকক্কাস, গনোকক্কাস, টাইফোসাস, পাতুর্সিস জীবানুর আক্রমনে নিউমোনিয়ার আক্রমণ হঠাৎই হয়। সুস্থ সবল লোকের শীত করে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এর সঙ্গে দু একবার বমিও হয়। জ্বর ক্রমশঃ ১০৩ -১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট দাড়ায়। সেই সঙ্গে খুসখুসে শুকনো কাশি ও বুকে কতকটা ব্যাথাও থাকতে পারে। কাশি ও বুকের ব্যথা ক্রমশঃ বাড়তে থাকে এবং রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রোগে আক্রান্ত হবার দু তিন দিন পরে কাশি, ‍বুকের ব্যাথা ও শ্বাস প্রশ্বাসের কষ্ট কমে আসে। এই সময়ে কাশির সঙ্গে লালচে রঙের থুথু আসতে থাকে। সময়ে সময়ে রক্তের ছিটাও দেখা যেতে পারে। রোগের এই উপসর্গগুলোর সঙ্গে অনিদ্রা, মাথাব্যাথা, ভুল বকাও কিছু অস্বাভাবিক নয়। জ্বর ১০৩- ১০৪ ডিগ্রি ফাঃ ছাড়িয়ে আরও বেশি হতে পারে। এই ব্যাধির শুরু থেকে সাত দিনের দিন সাধারণতঃ ঘন্টা বারোর মধ্যে জ্বর স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসে এবং আনুষঙ্গিক উপসর্গদির উপশম হয়। কষ্টের লাঘব হওয়ার রোগীর সুনিদ্রা হয়, কিন্তু প্রচুর ঘামতে থাকে দুর্বলতা থাকা স্বত্তেও রোগী অনেকটা সুস্থ বোধ করে থাকে। এই সময়ে রোগীর পাতলা পায়খানা ও বেশি পরিমাণে প্রস্রাব হয়। এইভাবে রোগী ক্রমশঃ সুস্থতার দিকে এগিয়ে যায়, ও দু তিন সপ্তাহের মধ্যে আরোগ্য লাভ করে। তবে সব ক্ষেত্রেই রোগের আক্রমণ, উপসর্গাদি ও তার উপশম একইভাবে হয় না, অর্থ্যাৎ কিছু ব্যতিক্রমও দেখা যায়। নিউমোনিয়া থেকে সেরে উঠে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে খানিকটা মানসিক দৌর্বল্য লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে ফুসফুসের আবরণী বা প্লুরা খানিকটা মোটা হয়ে জুড়ে যায়। ফলে শ্বস প্রশ্বাসের সঙ্গে বুকে সামান্য ব্যথা থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুসে এক রকমের পুজযুক্ত ঘা বা এমপাইমা বা ব্রঙ্কিয়েকট্যাসিস হতে পারে।

এই রোগটি নিরূপনে চিকিৎসক তার স্বাভাবিক পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াও অনেক সময়ে থুথু, রক্ত, প্রস্রাব ইত্যাদি পরীক্ষা করে থাকেন এবং সেই সঙ্গে বুকের এক্স রে ফটো তুলে থাকেন। এইসব অনুসন্ধানের ফলে  কোন জীবানু দ্বারা এই রোগ সংঘটিত হয়েছে, তা নিরূপন করা সহজসাধ্য হয়। কেননা, প্রায় একই রকমের উপসর্গ নিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় প্লরিসি ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইফয়েড বা মোনঞ্জাইটিস হতে পারে।

নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি মারাত্মক ব্যাধি। তাই সময়মত এই রোগের কারণ নির্ধারণ  ও চিকিৎসা হওয়া উচিত। নিউমোনিয়া অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়ে ও অনেক সময় বয়স্কদের জীবন সংকটপন্ন করে তোলে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম বাড়ির অন্যান্য সুস্থ লোকদের সংস্পর্শ থেকে স্বতন্ত্র করার ব্যবস্থা করা বাঞ্চনীয়। বেশ আলো বাতাস থাকে এমন একটি ঘরে রোগীকে পরিচর্যার জন্য রাখতে হবে। ‍রোগী যাতে পূর্ণ বিশ্রাম পায় এবং তার নিদ্রার কোন ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। তাছাড়া পুষ্টিকর খাদ্যদ্রবাদি যাতে সময়মত দেয়া হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।


Leave a Reply