পিঁপড়ে মনে রাখে

  • 0

পিঁপড়ে মনে রাখে

Category : Health Tips

পিঁপড়ে মনে রাখে

ভিক্টোরিয়া জিল

বিবিসি সায়েন্স রিপোর্টার

পিঁপড়েদের মধ্যে শ্রমিক হিসেবে যারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, বুননে দক্ষ, অর্থ্যাৎ যেসব পিপড়ে নিজেদের লার্ভা সিল্ক দিয়ে পাতা জুড়ে বাসা তৈরি করতে জানে,  বাইরের শত্রু  হামলা করলে তারাই রক্ষা করে নিজেদের কলোনি। তাদের এই কলোনি প্রকৃতির সবচেয়ে প্রাচীন এবং সুসংগঠিত সমাজ শত্রুকে চেনার জন্যে এক ধরনের ‘যৌথ স্মৃতি’ তৈরি করতে সমর্থ বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।

একটা পিপড়ের যখন অন্য কলোনির একজন হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করে, এই শত্রুর গন্ধ গ্রহণ করে সে, সংরক্ষণ করে, তারপর সেটা পাচার করে কলোনির বাকি সবার কাছে। এতে করে বাসা তৈরিতে তাকে যারা সাহায্য করছে তাদের সবাই হামলাকারী কলোনির পিপড়েকে চিনতে পারবে। এই আবিষ্কার সম্পর্কে রিপোর্টটা প্রথমে ছাপা হয়েছে জার্নাল ন্যাটুভিজানসাফটান এ।

বহু পিপড়ে প্রজাতির সমাজ হিসেবে সচল থাকার জন্য ঢাবি হলো রসায়ন। কীটগুলো তাদের বাসার অন্য বাসিন্দাদের শনাক্ত করে নির্দিষ্ট ‘কেমিক্যাল সিগনেচার’ দ্বারা, যেটা  ওই বাসার প্রতিটি সদস্যের শরীরে লেগে থাকে। তবে পোকারা গন্ধ শুকেও বুজে নিতে পারে কোনো হামলাকারী অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে কি না, কিংবা ইতিমধ্যেই তাদের ভেতরে ঢুকে পড়েছে কি না।

এই গবেষণা চালানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। মেলবোর্ন ভার্সিটির একটা টিম জানার চেষ্টা করছিল পিপড়েরা যেসব গন্ধের সংস্পর্শে আসে সেগুলো তারা নিজেদের স্মৃতিতে ধরে রাখতে সমর্থ কি না।

এই পরীক্ষা চালানো হয়  উইভার অ্যান্টের ওপর, যেগুলো বাড়ি তৈরি করে গাছের ডালে। প্রতিটি বাসায় বসবাস করতে পারে এদের পাচ লাখ শ্রমিক।

বিজ্ঞানীদের টিম ‘পরিচিতি পরীক্ষা’ র আয়োজন করেছিল, তাতে এক বাসার পিপড়েকে আরেক বাসায় অনু্প্রবেশ করার সুযোগ করে দেয়া হয়। একই পরীক্ষা কয়েক দফা করা হয়: গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এ রকম বাসা থেকে একটা পিপড়েকে নিয়ে এসে রাখা হয় খুদে এক পর্যবেক্ষণ মঞ্চে, তারপর সেখানে আনা হয় আরেক বাসার  এক পিঁপড়েকে ।

এভাবে পনের দফা চিনিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটানোর পর বিজ্ঞানীরা একটা নকল পিঁপড়ে হামলার আয়োজন করেন। এখন ‘পরিচিতি’ হয়ে ওঠা বাসা থেকে ২০ টা শ্রমিক পিঁপড়েকে তুলে এনে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বাসায় বা বাসার সামনে ছেড়ে দিলেন তারা।

‘প্রত্যাশা অনুসারেই এই আগন্তুকদের ওপর হামলা চালায় আবাসিক শ্রমিকরা’ গবেষকরা তাদের কাগজে রিপোর্ট করেছেন।

সম্মিলিত প্রজ্ঞা

যেসব পিঁপড়ে নিজেদের কলোনির প্রতিরক্ষার দিকটা দেখাশোনা করছিল তারা হামলাকারীদের ওপর, তাদের কজন শ্রমিক যাদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল, অনেক বেশি হিংস্র ভঙ্গিতে ছুটে যায়। টিমের তরফ থেকে ব্যাখা দেয়া হয়,  এই বাড়তি আক্রমণাত্মক ভাবটা ছিল নির্দিষ্টভাবে ‘পরিচিত’ কলোনির উদ্দেশে, স্থায়ী হয়েছে পরিচিতি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আরো ৬ দিন।

প্রধান গবেষক প্রফেসর মার্ক এলগার বিবিসি নেচারকে ব্যাখা করেছেন,  একজন শ্রমিকের অভিজ্ঞতা কলোনির বাকি সব পিঁপড়ে গ্রহণ বা সংগ্রহ করার ক্ষমতা রাখে। এটাকে তিনি যৌথ বা ‘সম্মিলিত প্রজ্ঞা’ বলেছেন।

মানুষকে দিয়ে একটা উদাহারণ তৈরি করেছেন তিনি সেটা এ রকম: ‘কল্পনা করুন বিশেষ একদল মানুষ সম্পর্কে আপনার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তাদেরকে চেনা যায় বিশেষ একটা চিহ্ন দেখে’ ধরা যাক সাবই তারা কালো রুমাল ব্যবহার করে।

‘আপনি আপনার সহকর্মীদের সর্তক করে দিয়ে বললেন, কালো রুমাল ব্যবহার করে এমন লোক সম্পর্কে সবাই সাবধান থেকো।

‘যারা আপনার কথা শুনল তাদের মধ্যে কেউ একজন অপর এক সহকর্মীকে কথাটা জানাতে পারে, আপনি যখন সতর্ক করেছিলেন তখন কামরায় সে ছিল না।

‘ ওই সহ কর্মী তথ্যটা সংগ্রহ করেছে পরোক্ষভাবে আপনার এবং আপনার সহকর্মীদের যৌথ স্মৃতি থেকে।

‘সহকর্মী বদলে পিঁপড়ে করুন, আর কালো রুমাল বদলে করুন গন্ধ, তাহলেই আমাদের গল্প বুঝে গেছেন আপনি।

রূপান্তরঃ কুমার মুসফিক

 

 


Leave a Reply