পুষ্টি

  • 0

পুষ্টি

পুষ্টি

বাংলাদেশসহ এশিয়া আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বহুদেশে নানারকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ও জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যে, এই দেশগুলোতে বেশির ভাগ লোকই অপুষ্টিতে ভুগছে। শিশু মৃত্যুর হারকে কোন দেশের পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় বিশ শতাংশই পাচ বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা যায়। এর কারণ হলো শক্তি ও আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাব অথবা সেগুলো্ গ্রহণের ব্যর্থতা কিংবা আর্থিকভাবে অপারগতা। একজন শিশুর বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাপ নিয়ে যদি দেখা যায় যে, সে মাপগুলো প্রয়োজনীয় মাপের চেয়ে আলাদা রকমের তখনই বুঝতে হবে সে অপুষ্টির শিকার হয়েছে।

শিশুদের আমিষ ও তাপশক্তির (প্রোটিন ক্যালরীর) অভাবজনিত অপুস্টি আজকের বিশ্বে পুষ্টির ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় ও ব্যাপক সমস্যা। এই ধরনের অপুষ্টির মারাত্মক পরিণতি নির্দেশ করে এমন নানা লক্ষণের সামগ্রিকভাবে প্রধান দুটি অবস্থার একটিকে বলে ম্যারাসমাস। কোয়াশিয়রকরের বেলায় মূল ঘাটতিটা ঘটে আমিষের আর ম্যারসকমাসের বেলায় ঘটে শক্তিদায়ক খাদ্য এবং আমিষসহ খাদ্যের সামগ্রিক ঘাটতি। শিশুদের মধ্যে যারা অপুষ্টিতে ভুগছে, যাদের শরীরের বৃদ্ধি ঠিক মত হচ্ছে না এবং যাদের আমিষ ও তাপশক্তির খাদ্য িএবং আমিষসহ খাদ্যের সামগ্রিক ঘাটতি। শিশুদের মধ্যে যারা অপুষ্টিতে ভুগছে যাদের শরীরের ঠিক মত হচ্ছে না এবং যাদের আমিষ সহ খাদ্যের সামগ্রিক ঘাটতি এবং যাদের আমিষ ও তাপশক্তির অভাবজনিত যেকোন গুরুত্বররোগ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তাদের সংখ্যা প্রায় ৮০%। নানা কারণেল মধ্যে যেকোন একটি কারণে এসব শিশুর অপুষ্টির অবস্থা এমন এক পর্যায়ে এসে দাড়াতে পারে যাকে এই্ দুই ধরনের রোগের কোন একটিতে আক্রান্ত বলে ধরে নেওয়া যায়।

গত দুই শতকে বিশ্বের বহু জায়গায় কোয়াশিয়রকর রোগের প্রকোপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমিষ ও তাপশক্তি (প্রোপিন  ক্যালরীর) অভাবজনিত অপুষ্টির মধ্যেই অনেকে অবস্থান করছে। তবে আমাদের দেশে এ দু টোই বিশেষভাবে সক্রিয় বলে দেখা যাচ্ছে।  ম্যারাসমাস রোগের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে কোয়াশিয়রকর রোগের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাধান্য পেলে সে অবস্থাকে মারাসমিক কোয়াশিয়রকর বলা হয়। এ রোগগুলো সম্বন্ধে আমাদের ভালভাবে জানা দরকার।

কোয়াশিয়রকর (গাফোলা রোগ) এ রোগ ১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চাদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অনেক দেশে এ রোগের প্রকোপ বেশি। এ রোগের বিস্তারের প্রথম কারণ হিসেবে ধরা যায় দরিদ্রতা। বিশেষ করে শিশুরা যখন মায়ের দুধ ছাড়ে সেই সময়েই এ রোগটা বেশি হয়। তখন শিশুর খাদ্যে প্রচুর আমিষ ও শকর্রাজাতীয় উপাদান থাকা দরকার। কিন্তু দরিদ্রতার কারণে অভিভাবকরা তা বেশি তো দূরের কথা, পরিমিত পরিমাণও সংগ্রহ করতে পারেনা। এ জন্য ৬ মাস বয়সের পরও শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো উচিত। এক্ষেত্রে এদেরকে এক অর্থে বঞ্চিত শিশু বলা যেতে পারে। এই বঞ্চনার কারণগুলো নিম্নরূপঃ

১) দ্রুত বাড়ন্ত শিশুর আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদাও অপেক্ষাকৃত বেশি হারে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তারা পরিমাণে পায় কম।

২) শিশুকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

৩) পরিবারের প্রাপ্ত খাদ্যসামগ্রীর ত্রুটিপূর্ণ বন্টন, যেমনঃ বড়রা ও বেশি বয়সের শিশুরা প্রায়ই মাংস বা এই জাতীয় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের সিংহ ভাগ পায়।

৪) দারিদ্র ও আনুষঙ্গিক রোগব্যাধি।

৫) খাদ্যের ব্যাপারে বাছবিচারসহ প্রচলিত ভুল খাদ্যাভাস, যার ফলে শিশুরা প্রয়োজনীয় খাদ্যে থেকে বঞ্চিত হয়।

৬) রোগের সংক্রমণ যেমন উদারময়, হাম. হুপিং কফ ইত্যাদি।

৭) শিশুর আহার তালিকায় কি কি খাদ্য থাকা দরকার সে সর্ম্পকে পিতামাতা ও অভিভাবকের অজ্ঞতা। এই রোগের লক্ষণগুলো হলোঃ

১) দৈহিক বৃদ্ধ ব্যাহত হয়। শরীরের ওজন হবে স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে কম।

২) শীর্ণহতা প্রাপ্তিঃ শোথ বা রস স্ফীতির দরুন অনেক সময়েই শীর্ণতা ধরা পড়ে না। অনেক সময় বাহুর পেশিতে এই শীর্ণতা ধরা পড়ে।

৩। এ রোগে সর্বদাই শোথ বা রসস্ফীতি দেখা দেয় অর্থ্যাৎ শরীরে পানি আসবে এবং শরীর ফুলে যাবে।  শরীরের যেকোন অংশে এই স্ফীতি দেখা দিতে পারে। তবে যে সমস্ত শিশু হাটাচলা করে বেড়ায়, তাদের স্ফীতি গা থেকে শুরু হয়ে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

৪) মানসিক পরিবর্তনঃ এ রোগে শিশু তার পারিপার্শ্বিূকতা সম্বন্ধে উদাসিন ও নিস্পৃহ থাকে। তার মুখ বিষন্ন ও নিস্পৃহ থাকে। তার মুখ বিষন্ন থাকে ও অন্যের কথাবার্তা বা আচরণে সে বিরক্তিবোধ করে এবং খিটখিটে মেজাজের হয়ে ওঠে।

৫) চুলের পরিবর্তনঃ চুলের গঠন ও রঙের পরিবর্তন হয়। চুল টানলে উঠে আসে। চুল পাতলা হয়। কালো চুল বাদামী হয়ে  যায়।

৬) ত্বকের পরিবর্তণঃ এ  পরিবর্তন সম্বন্ধে বিশেষ কোন বাধাধরা নিয়ম নেই। তবে যেসব জায়গায় অহরহ ঘরা লাগে (কাপড় দ্বারা আবৃত অংশ) সেইসব জায়গায় অহরহ ঘষা লাগে (কাপড় দ্বারা আবৃত অংশ) সেইসব জায়গায় স্তরে স্তরে লালভ ক্ষত দেখা যায়।  আগুনে পুড়ে গেলে ক্ষত স্থান যেমন দেখায়, এগুলোও তেমন দেখায়।

৭) পেটের পীড়াঃ মল প্রায়ই পাতলা হয়। মলের সঙ্গে থাকে হজম করতে না পারা খাদ্যকনা। অনেক সময় মলে খুব দুর্গন্ধ হয়।

৮) রক্তস্বল্পতাঃ কোয়াশিয়রকর রোগে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু রক্তস্বল্পতা থাকে। লৌহস্বল্পতা, বক্রক্রিমির সংক্রমণ এবং ম্যালেরিয়া ইত্যাদি কারণে শরীরে যে রক্তস্বল্পতা ধেখা দেয় তা এই রোগের ক্ষেত্রে প্রায়ই নানান্ উপসর্গ সৃষ্টি করে।

৯) যকৃতেরে বৃদ্ধিঃ যকৃত আকারে কিছুটা স্ফীত হতে পারে। যকৃতের মধ্যে স্নেহজাতীয় পদার্থ সঞ্চিত হওয়া জন্যই আই স্ফীত হয়। কোয়াশিয়রকর রোগে সাধারণত সর্বদাই যকৃতের স্ফীতি দেখা যায়।


Leave a Reply