পোষ্টাপার্টাম ডিপ্রেশন

  • 0

পোষ্টাপার্টাম ডিপ্রেশন

Category : Health Tips

পোষ্টাপার্টাম ডিপ্রেশন

অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

এম বি বি এস এফ সি পি এস এম আর সিপি এফ আর সিপি

চিকিৎসা বিজ্ঞান এটা প্রমাণ করেছে যে, গর্ভাস্থা বা গর্ভাবস্থার পরের সময়টা মহিলাদের জন্য ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার সময়।  এক দশক ধরে মেডিকেল প্রফেশনালরা একথা বিশ্বাস করে আসছেন যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হরমোন গর্ভাবস্থায় মহিলাদের ডিপ্রেশেনে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষিত রাখে। এই বিশ্বাস গড়ে উঠেছে সামাজিক কসুংস্কারের উপর ভিত্তি করে এবং সেটা হলো প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলা গর্ভাবস্থায় সুখি থাকে। কারণ সে  একটি নতুন জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করতে যাচ্ছে। কিন্তু আসল কথা হলো মহিলারা গর্ভাবস্থায় বা প্রেগন্যান্সির সময় ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারে। তবে এই কথাও সত্য যে, গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতা দরোগ নির্ণয় থেকে মহিলাদের একটি বিরাট অংশ বঞ্চিত হয়। ৭০ -৮০ র দশকে গবেষকরা আবিষ্কার করেন অনেক মহিলাই বাচ্চা জন্মদানের পর ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন। অনুসন্ধানে জানা গেছে আসলে গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেশনে ভুগেছিলেন। এখন আমরা জানি ১০% নারী গর্ভাবস্তায় ডিপ্রেশনে ভুগেছিলেন। এখন আমরা জানি ১০% নারী গর্ভাবস্থায় বা প্রেগন্যান্সির সময়ে ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন।

প্রেগন্যান্সির সময় কী রকম ডিপ্রেশন হয় /

গর্ভবতী মহিলা যদি প্রায় প্রতিদিনই এবং একাধারে ২ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে মুডের গোলমাল বা দুঃখজনিত অনুভব করেন তবে বুঝতে হবে তিনি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত। এছাড়াও যদি তার দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং নিজের প্রতি যত্ন নিতে না পারেন তাহলে বুঝতে হবে তিনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন। এরসাথে আরও যেসব উপসর্গ থাকতে পারে যেমনঃ-

  • বিষণ্ন মন মেজাজ
  • দুঃখাক্রান্ত মন
  • বেশি মাত্রায় অপরাধবোধে ভোগা
  • আশাহীনতা
  • অস্থিরতা
  • নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারা
  • শক্তির অভাব
  • এলোমেলে চিন্তা ভাবনা করা
  • মা হওয়ার জন্য অপরাধ বোধে ভোগা
  • স্বামী থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখা
  • পরিবার বন্ধু বান্ধব থেকে দূরে থাকা
  • সহকর্মী তেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া
  • নিজেকে আঘাত করার ইচ্ছা
  • রাগন্বিত হওয়া
  • খুব বেশি ঘুমানো বা খুব কম ঘুমানো
  • মনোযোগ দিতে না পারা।
  • দৈনন্দিন কাজকর্ম আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
  • উদ্বিগ্নতা
  • নিজেকে মূল্যহীন ভাবা
  • বিভ্রান্তিতে ভোগা
  • অতিরিক্ত ভয়
  • মনোশারিরিক চাপ

চিকিৎসা বিজ্ঞান এটা প্রমাণ করেছে যে , গর্ভাবস্থা বা গর্ভাবস্থার পরের সময়টা মহিলাদের জন্য ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার সময়। একদশক ধরে মেডিকেল প্রফেশনালরা একথা বিশ্বাস করে আসছেন যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হরমোন গর্ভাবস্থায় মহিলাদের ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষিত রাখে। এই বিশ্বাস গড়ে ওঠেছে সামাজিক কুসংস্কারের ওপর ভিত্তি করে এবং সেটা হলো ‘প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলা গর্ভাবস্থায় সুখী থাকে’ কারণ সে  একটি নতুন জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করতে যাচ্ছে। কিন্তু আসল কথা হলো মহিলারা গর্ভাবস্থায় বা প্রেগন্যান্সির সময় ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারে। তবে এই কথাও সত্য যে, গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতা দরোগ নির্ণয় থেকে মহিলাদের একটি বিরাট অংশ বঞ্চিত হয়। ৭০ -৮০ র দশকে গবেষকরা আবিষ্কার করেন অনেক মহিলাই বাচ্চা জন্মদানের পর ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন। অনুসন্ধানে জানা গেছে আসলে গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেশনে ভুগেছিলেন। এখন আমরা জানি ১০% নারী গর্ভাবস্তায় ডিপ্রেশনে ভুগেছিলেন। এখন আমরা জানি ১০% নারী গর্ভাবস্থায় বা প্রেগন্যান্সির সময়ে ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন।

# শারিরিক বিভিন্ন উপসর্গ

দুঃখ নেতিবাচক, চিন্তা ভাবনা এবং উদ্বিগ্নতা গর্ভবতী মহিলাদের এতটাই অক্ষম করে দেই যে, তারা এসব ব্যাপারে কথাই বলতে পারে না। তাদের এ ধরনের নীরবতায় গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেশন রোগটি নির্ণয় করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। একটি আদর্শ প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থায় থেকে ডিপ্রেশন তাদের  এত দূরে সরিয়ে দেয় যে, তারা একথা ভাবতে বা বুঝতেও পারে না কী করে অন্যরা তাদের কষ্টের কথা বুঝতে পারবে। তারা ভাবে এসব অবস্থার জন্য তারাই দায়ী এবং তারা হয়তো একটি খারাপ মা হবে। এসব অযৌক্তিক কথা ভেবে তারা অযাথই লজ্জাবোধ ভুগতে থাকে।

এসব চিন্তা ভাবনা বারে বারে ঘটতে থাকলে এগুলো মারাত্মক রকমের ডিপ্রেশন হওয়ার জন্য ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। মহিলারা তাদের অনুভূতির কথা বলতে যখন চেষ্টা করে তখন স্বাস্থ্যকর্মীদের নিকট ডিপ্রেশন রোগটি নির্ণয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ ডিপ্রেশনের উপসর্গগুলো প্রেগন্যান্সির উপসর্গের অনুরূপ হেত পারে বা একইভাবে প্রকাশ পেতে পারে।

গর্ভাবস্থা বা প্রেগন্যান্সির প্রথম ট্রাইমিস্টারে গর্ভাবস্থার উপসর্গ এবং ডিপ্রেশনের উপসর্গ প্রায় একই রকম হতে পারে। এটা এমনই একটা সময় যখন অধিকাংশ মহিলাই অস্বস্তিকর শারিরীক বিভিন্ন উপসর্গের অভিজ্ঞতা লাভ করে মহিলারা।অ প্রথম এবং তৃতীয় ট্রাইমিষ্টারে গর্ভবতী মহিলা যেরূপ অনুভব করে থাকে-

  • ক্লান্তি লাগা
  • খাওয়ার অরুচি
  • ঘুমের সমস্যা ও
  • শারিরীক সমস্যা

হরমোনের সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে থাকে এই দুই ট্রাইমিস্টারে। এসময় হরমোন-

  • গর্ভাবস্থা ধরে রাখে
  • গ্ল্যান্ডকে তৎপর রাখে।
  • লেবার এবং ডেলিভারির প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং
  • দুধ উৎপাদন শুরু করে

হরমোনের এ ধর নের পরিবর্তন নারীদের মুড বা মন মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। ফলে এসময় একজন গর্ভবতী মহিলা-

  • উত্তেজিত থাকে
  • ক্রন্দনপ্রবণ হয়ে থাকে
  • উদ্বিগ্নতায় ভোগে
  • রাগন্বিত হয়ে যায়

দ্বিতীয় ট্রাইমিষ্টারে এমন একটি সময় যখন অধিকাংশ নারীই তাদের হরমোন পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয় এবং এসময় মা তার গর্ভস্থ বাচ্চার নাড়াচড়া অনুভব করেত পারে। এসময় নারীরা সাধারণভাবে ভালোবোধ করতে থাকে। সুতারাং কোনো মহিলা যদি এসময় তাদের শারীরিক বা আবেগবোধ অস্বস্তিকর উপসর্গের কথা বলে তাহলে সেটা গুরুত্বসহকারে দেখা দরকার কারণ এসময় ডিপ্রেশন শনাক্ত করা একটু সহজ।

অনেক মহিলা সহজেই ভেঙে পড়ে। অনেকে আবার একটু সহ্যশক্তি নিয়ে সমস্যা মোকাবিলা করার চেষ্টা করে বা অন্যদের তাদের সমস্যার কথা জানায়। ফলে সহজভাবে এসব নারীর ডিপ্রেশন রোগটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অনেক মহিলা আবার তাদের কষ্টময় অনুভূতির কথা এড়িয়ে যায়। লজ্জায় বা ভয়ে অনেকেই এরকম করে থাকে। অথচ এসব মহিলা জানে না যে তারা ডিপ্রেশন নাম ্কধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছে। আর এগুলো তার নিজের এবং বাচ্চার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর্মীকে গর্ভবর্তী মহিলাদেরে ব্যাপারে সজাগ থাকা প্রয়োজন যেন তাদের মাঝে ডিপ্রেশনের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পেলে সাথে সাথে তা চিকিৎসককে জানাতে পারে। এতে করে চিকিৎসা দেয়া সহজ ও দ্রুততর হয় এবং অনেক অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

গর্ভাবস্থা বা প্রেগন্যান্সি নারীদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময়। তবে অনেক নারীর ক্ষেত্রেই মনোশারীরিক চাপ এবং বিষণ্নতার কারণে এসময়টা হয় দুঃসময়। প্রায় ১০ -১২ % নারী গর্ভাবস্থা সময় বিষণ্নতার বিভিন্ন উপসর্গরে সাথে একধরনের লড়াই করে টিকে থাকে এবং  এদের ৪ ভাগের ১ ভাগ নারী মেজর ডিপ্রেশনে ভুগে থাকে। বিষণ্নতা এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার। মুড ডিসঅর্ডার হলো আবেগের গোলমালজনিত বিশৃঙ্খলা। এসময় আবেগের নানা রকম  দ্বন্ধে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়। মুড ডিসঅর্ডারের সাধারণত দুটি বড় রূপ দেখা যায় যেমনঃ

  • বিষণ্নতা এবং
  • ম্যানিয়া

প্রতি ৪ জন নারী তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময় বিষণ্নতা নামক মুড ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হয়। তাই এটি আশ্চর্যের বিষয় নয় যদি গর্ভাবস্থায় কোনে নারী বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। বিষন্নতা স্বাভাবিক সময় হোক বা গর্ভাবস্থায় সময় হোক কোনো সময়ই ঠিকমতো ডায়ানোসিস করা না হলে রোগটি আড়ালেই থেকে যায়।

গর্ভাবস্থায় সময় নারীদের বিষণ্ণতায় অবহেলার একটি কারণ হলো এসময় মানুষ ভাবে যে, হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে বা ভারসম্যহীনতার কারণে বিষণ্নতা দেখা দিয়েছে বা এমনটা হতেই পারে। তাই অনেকেই এসময় বিষন্নতাকে রোগ বলে মেনে নিতে চায় না। অসল কথা হলো বিষণ্নতা গর্ভাবস্থার সময় হয় এবং হতেই পারে। এসময়ে বিষণ্নতাকে অবহেলা করার অর্থ হলো মা এবং গর্ভের বাচ্চা উভয়ের জন্য বিপদ ডেকে আনা।

বিষণ্নতা একিট অসুস্থতা। এটির উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে এবং এটিকে নারীর গর্ভাবস্থার সময়ও ম্যানেজ করা সম্ভব, তবে প্রথম পদক্ষেপ হরো-

  • সাহায্য খোজা/ নেয়া
  • সার্পোট করা

গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতা ঠিক ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের মতোই। গর্ভাবস্থায় সময় হরমোনের পরিবর্তন মস্তিস্কের বিভিন্ন কেমিক্যাল প্রভাব ফেলে এবং এগুলো অনেক সময় বিষণ্নতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত থাকে। এসব সম্পর্কযুক্ত অবস্থা আরও কঠিন হয়ে দেখা দিতে পারে সামাজিক কঠিন পরিস্থিতির সময়ে; যা কি না গর্ভাবস্থার সময় বিষণ্নতার কারণ হয়।

গর্ভাবস্থায় রিস্ক ফ্যাক্টর

  • সম্পর্কের সমস্যা
  • পারিবারিক বিষণ্নতার ইতিহাস
  • ব্যাক্তিগত বিষণ্নতার ইতিহাস
  • অনুর্বরতার চিকিৎসা
  • পূর্বে গর্ভাবস্থা নষ্টের ইতিহাস
  • জীবনের চাপপূর্ণ ঘটনা
  • গর্ভাবস্থার জটিলতা
  • আঘাত
  • পারিবারিক অপব্যবহারের ঘটনা
  • স্বামীর অত্যাচার
  • কোনো রকম হুমকি

বিষণ্নতা কি বাচ্চার ক্ষতি করে?

গর্ভাবস্থার সময় নারীর বিষণ্নতা যদি ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হয় এবং তা যদি অবহেলিতভাবে রাখা হয় তাহলে গর্ভবতী নারঢী এবং তার গর্ভের বাচ্চার জন্য যথেষ্ট ক্ষতির কারণ হতে পারে। চিকিৎসাহীনতা বিষণ্নতা নিয়ে যেতে পারে।

  • পুষ্টিহীনতায়
  • মাদকতায়
  • মদ্যপানের খারাপ ও জঘন্য অভ্যাসের দিকে
  • আত্মহত্যার মতো নির্মম পরিণতির দিকে

বিষণ্নতার পরিণতি

গর্ভাবস্থার সময় নারীর বিষণ্নতা অনেকে অনাকাঙ্খিত পরিণতি বয়ে আনতে পারে। এসব পরিণতির মধ্যে থাকতে পারে-

  • অকাল গর্ভাপাত
  • কম ওজনের বাচ্চা জন্মদান এবং
  • বাচ্চার বিকাশে সমস্যা

গর্ভাবস্থার সময় বিষন্নতায় ভোগা নারী স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জীবনযাপন করতে পারে না বা চায় না। কোনো কিছুতেই তার শরীর চলতে চায় না। সারাক্ষণ একধদরনের অষ্পষ্ট ক্লান্তি সারাশরীর মনে বিরাজ করে। এসময় খাওয়ার রুচি নষ্ট হয় বলে গর্ভবতী নারী ঠিকমতো খেতে পারে না; ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে আর দুর্বল শরীরে নানারকম রোগের আক্রমণ বেড়ে যায়; যা কি না মা এবং গর্ভস্থ বাচ্চা উভয়ের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক।

গর্ভাবস্থার সময় বিষণ্নতা কোন নারীর ক্ষেত্রে দেখা দেবে তা আগে থেকে বলার উপায় নেই। যদি কারও এসময় বিষণ্নতা দেখা দেয় তাহলে করনীয় বিষয় হলো একে গুরুত্বের সাথে নেয়া এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর শরণাপন্ন হওয়া। মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ যত দ্রুত গ্রহণ করা হবে মা ও গর্ভস্থ বাচ্চার ক্ষতির সম্ভাবনা ততো দ্রুত কমে আসবে যা সবার জন্যই মঙ্গলজনক।

ডিপ্রেশনের নানা ফ্যাক্টর

গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেশন হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফ্যাক্টর কাজ করে থাকে। কিছু কিছু নারী জেনেটিক কারণে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়। যেসব নারীর রক্ত সর্ম্পকিত আত্মীয় স্বজন ডিপ্রেশনে আক্রান্ত বিশেষ করে তা যদি হয় পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। এ ধরনের রোগীদের গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুকি বেড়ে যায়।  ৩% নারী যারা তাদের তারুণ্যের সময় অথবা বয়োঃ প্রাপ্তের সময় ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়েছিল তাদের প্রেগন্যান্সির সময় ডিপ্রেশনের আরেকটি  এপিসোড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্ধেকেরও বেশি নারী যারা প্রথম বাচ্চা প্রসবের পর ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয় তারা দ্বিতীয়বারের প্রেগন্যান্সির সময় আবারও ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারে। আবার কিছু নারী বেশি মাত্রায় ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারে। আবার কিছু নারী বেশি মাত্রায় ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারে যদি তাদের অনাকাঙ্কিত প্রেগন্যান্সি হয়ে থাকে। আবার এটার বিপরীত ব্যাপারটিও ঘটতে পারে।  যে নারী প্রথম বয়সে অনুর্বর ছিল এবং শেষ বয়সে যখন গর্ভবতী হয় এরাও ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চমাত্রায় ঝুকি বহন করে।   এগুলো সবই ঘটে থাকে নারী শরীরে হরমোন লেভেলের ওঠানামার কারণে।

হরমোনের এ ধরনের ওঠানামা হয় যখন নারী গর্ভবতী হয় আবার যখন গর্ভাবস্থার সময় হরমোন এ ধরনের উঠানাম হয় যখন নারী গর্ভবতী হয় আবার যখন গর্ভাবস্থার সময় হরেমোনের পরিবর্তন সাধিত হয় তখন। এছাড়াও অন্যান্য যেসব ফ্যাক্টর নারীকে ডিপ্রেশনের দিকে ধাবিত করে সেগুলো হলো-

  • সমর্থহীন সম্পর্ক
  • অন্যন্য সামাজিক সমর্থনের অভাব
  • বিচ্ছিন্ন থাকা
  • ভায়োলেন্সের পূর্ববর্তী ইতিহাস
  • অ্যাবিউসের পূর্ব ইতিহাস
  • ড্রাগের অপব্যবহার
  • মদের বদঅভ্যাস
  • কারও মৃত্যু
  • বাড়ি পরিবর্তন করা
  • চাকরি পরিবর্তন
  • সাম্প্রতিক কোনো চাপপূর্ণ কোনো ঘটনা
  • মাত্রাতিরিক্ত দায় দায়িত্ব
  • অর্থনৈতিক চাপ
  • উদ্বিগ্নতা
  • ভয়

ডা. শায়লা মিসরী একজন রিপ্রোডাক্টিভ মেন্টল হেলথ প্রোগ্রামার এবং ব্রিটিশ কলোম্বিয়ার নারী সেন্টারের মনোবিজ্ঞানী। তিনি বলেন কতক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মী এবং নারী বুঝতে পারে যে গর্ভবতী মহিলা ডিপ্রেসিভ  এপিসোডের ট্রিগারে রয়েছে।  এদের মধ্যে কিছু নারী ডিপ্রেশন বা ফ্যানিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত থাকে। প্রেগন্যান্সির ২ সপ্তাহের মধ্যে এসব নারীর সিভিয়ার ডিপ্রেসিভ উপসর্গ প্রকাশ পায়। এসময় এরা কান্নাকাটি করে, ঘুমায় না, জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়।

“শারা” নামে একজন মহিলা প্রেগন্যান্সির সময় বিভিন্ন কারণে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়। ভাগ্যক্রমে শারা একটি প্রেগন্যান্সি লস প্রোগ্রামের সাথে সংযুক্ত ছিল। ফলে তাকে রিপ্রোডাক্টিভ মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামে সমর্থনমুলক কাউন্সিলিং নেয়ার জন্য রেফার করা হয়।

এতে জানা যায় যে,  কাজের চাপ ১৪ সপ্তাহ পর্যন্ত পারিবারিক বিছিন্নতা এরকম জীবন যাপনের পর সে উদ্বিগ্নতায় আক্রান্ত হয়েছে। শারা অবশেষে ডিপ্রেশন বিরোদী ওষুধ গ্রহণ করতে শুরু করে এবং সেই সাথে কাউন্সিলিং চলতে থাকে। প্রেগন্যান্সির একপর্যায় থেকে শুরু করে পোস্টপার্টাম সময় পর্যন্ত সে ওষুধ গ্রহণ করে এবং একসময় চিকিৎসায়  সে অসুস্থ হয়ে ওঠে। যেসব নারী প্রেগন্যান্সির সময় ডিপ্রেশনে ভুগে তারা তাদের প্রসব পূর্ববর্তী সেবা যত্ন  এড়িয়ে চলে ফলে তারা স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন করে না। এসময় তারা ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করে না এবং ঘুমায় না। এসব ফ্যাক্ট বা মনোশারীরিক চাপ একসাথে মিলে ডিপ্রেশন ঘটায় এবং তা সন্তান প্রসবের সময় বিভিন্ন প্রকার মেডিকেল সমস্যা তৈরি করে যেমন-

  • স্বল্প ওজনের শিশু
  • অপরিণত গর্ভাবস্থা

যেসব নারী দুশ্চিন্তা এবং হতাশা নিয়ে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে তারা এ ধরনের যাতনা থেকে মুক্তির জন্য অনেক সময় মাদক বা মদ গ্রহণ করে; যা কি না তার গর্ভস্থ শিশুর জন্য অত্যান্ত ভয়ানক ফলাফল বয়ে আনে। চিকিৎসাহীন থাকলে প্রেগন্যান্সির সময় ডিপ্রেশন আরও খারাপ আকার ধারণ করে। ফলে এই অবস্থা নারীকে আরও বেশি অরক্ষিত করে। তখন গর্ভবতী নারী বাচ্চা প্রসবের পরও আরও বেশি মাত্রায় ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়। বাচ্চা জন্ম পরবর্তী ডিপ্রেশন চিকিৎসায় সাড়া দিতে বেশি সময় নেয় এবং তা মা ও বাচ্চার সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় দেখা গেছে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মা তার শিশুর দিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে ফলে এই সময়-

  • বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় মা সন্তানের দিকে খুব একটা দৃষ্টি দেয় না।
  • মা বাচ্চার সাথে খুব কমই আনন্দপূর্ণ অবস্থায় থাকে।
  • বাচ্চার সাথে খেলে না এবং
  • বাচ্চা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়।

ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মায়ের বাচ্চা সাধারণত

  • চেয়ে থাকে
  • বেশি বেশি কান্নাকাটি করে
  • দুঃখাক্রান্ত থাকে
  • চাঞ্চল্যতা কম থাকে এবং
  • ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না।
  • উত্তেজিত / খিটখিটে থাকে
  • কর্ম তৎপর হয়
  • কম মনোযোগী হয়
  • কম ওজনের হয়
  • অপরিপক্ব জন্ম

এই ধরনের ডিপ্রেশনের নেতিবাচক প্রভাব বাচ্চার ক্ষেত্রে কমানো যায়। যদি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মা খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসা গ্রহণ করে। প্রেগন্যান্সির সময় ডিপ্রেশনের উপযুক্ত চিকিৎসা করা হলে তা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা বাচ্চা প্রসব পরবর্তী সময়ের ডিপ্রেশন হওয়ার ঝুকি অনেকাংশে কমে যায়। এতে করে মা ও বাচ্চার নিরাপদ স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়। বাচ্চার ক্ষতির সম্ভাবনা কমে যায়। তাই মা ও বাচ্চার উন্নত জীবনের জন্য ডিপ্রেশনের আধুনিক চিকিৎসা নেয়া অত্যান্ত জরুরী।

চিকিৎসাহীন বিষণ্নতা

গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতা যদি চিকিৎসাহীন থাকে তাহলে তা গর্ভস্থ বাচ্চা এবং বাচ্চার মায়ের জন্য ঝুকির কারণ হতে পারে এসব ঝুকির মধ্যে থাকে-

  • প্রিঅ্যাকলাম্পশিয়া
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস
  • গর্ভাবস্থায় অযত্ন
  • মাদকের ব্যবহার

বিষন্নতায় আক্রান্ত নারী হতে পারে

  • অস্থির
  • উত্তেজিত/ বিরক্ত
  • অলস

গর্ভাবস্থায় খাদ্যগ্রহণে সমস্যা এবং ঘুমের সমস্যা গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে একেবারেই কমন ব্যাপার। আবার অন্যান্য মেডিকেল উপসর্গও বিষণ্নতার মতো হতে পারে যেমন- কোনো মহিলার রক্তশূণ্যতা বা অ্যানিমিয়া আছে অথবা থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো সমস্যা আছে তাহলে এসময় নারীর ক্লান্তি থাকতে পারে কিন্তু বিষণ্নতা থাকে না।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসা

ডিপ্রেশন একটি সিরিয়াস মেডিকেল কন্ডিশন। এটা গর্ভবতী নারী এবং তার গর্ভস্থ বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর। তবে বিষন্ণতার অনেক ধরনের চিকিৎসা রয়েছে যেমন-

  • থেরাপি
  • গ্রুপ সার্পোট এবং
  • মেডিকেশন

যারা গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত থাকেন তাদের মধ্যে কয়েক ধরনের স্বাস্থ্য সেবাদানকারী সদস্য থাকলে ভালো হয়। এসব স্বাস্থ্যসেব দলের সদস্যদের মধ্যে থাকতে পারে-

  • সেবাদানকারী যিনি গর্ভাবস্থায় সময় গর্ভবর্তীকে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।
  • মানসিক স্বাস্থ্যসেবাদানকারী এবং
  • এমন সেবাদানকারী যিনি বাচ্চা জন্মের পর তার স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন

প্রায়ই গর্ভবতী নারী দ্বিধায় ভোগেন যে বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ তার নিজের এবং গর্ভস্থ বাচ্চার কোনো ক্ষতি করবে কি না? তাই এক্ষেত্রে কোনো সহজ উত্তর পাওয়া কঠিন। গর্ভবতী নারীর জন্য বিষণ্নতার কোন ওষুধটি গ্রহণ করা যাবে সেই সিদ্ধান্ত নিজে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। একথা মনে রাখা দরকার যে বিষণ্নতারোধী ওষুধের দুটি দিক রয়েছে-

  • একটি হলো ঝুকির দিক
  • অন্যটি হলো উপকারী দিক

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

আপনি যদি গর্ভবতী অবস্থায় বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ সেবন করেন তাহলে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করবেন না। যদি আপনার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে ফোন করুন এবং আপনার সমস্যার কথা বলুন। মনে রাখবেন বিষণ্নতা বিরোধী ওষুধ হঠ্যাৎ করে বন্ধ করে দেয়া স্বাস্থ্যকর নয় বরং তা ক্ষতিকর। বিষণ্নতা এমন একটি অসুস্থতা যা আঘাত করে ব্যক্তির-

  • শরীর
  • মন এবং
  • চিন্তা চেতনায়

বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ

অধিকাংশ বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ যেমন SSRTs hf সিলেক্টিভ সেরোটনিন রিআপটেক ইনহিবিটরস। এই গ্রুপের ওষুধগুলো হলো-

  • প্রোজাক (ফ্লুক্সাটিন)
  • ল্যাক্সাপ্রো (এসিটালোপ্রাম)
  • জোলপ্ট (সারট্রালিন)
  • অ্যাফেক্সর (ভ্যানলাফ্যাক্সিন)
  • প্যাক্সিল (প্যারোক্সেটিন)

এছাড়া আছে TCAs বা ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেশান্টস। এই গ্রুপের ওষুধগুলো হলো

  • অ্যালাভিল ( অ্যামিট্রিপটাইলিন)
  • টোফরানিল ( ইমিপ্রামিন)
  • প্যামোলোর ( অ্যাভেন্টিল)
  • নরট্রিন (নরট্রিপটাইলিন)

গর্ভাবস্থায় যেসব নারী বিষন্নতায় আক্রান্ত হয় তাদের উপরোক্ত ওষুধের যে কোনো গ্রুপের ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা যেতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত একমাত্র ডাক্তারই নিতে পারেন এবং কোন রোগীর ক্ষেত্রে কোন মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে তাও ডাক্তার নির্ণয় করবেন। কোনো ব্যক্তিরই নিজের চিকিৎসা নিজে করা ঠিক নয়। তাই এ ব্যাপারে একজন অভিজ্ঞ মনো চিকিৎসকের সাহায্য গ্রহণ করা জরুরী।

 


Leave a Reply