প্রতিবন্ধী শিশুরা মানসিক রোগী নয়

  • 0

প্রতিবন্ধী শিশুরা মানসিক রোগী নয়

প্রতিবন্ধী শিশুরা  মানসিক রোগী নয়

ডাউন বেবি

মানুষের কোষের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়াসের মাঝে মানব প্রজাতির জন্য নির্দিষ্ট ২৩ জোড়া ক্রোমোজেম থাকে। নতুন প্রাণ সৃষ্টির প্রয়োজনে তথা বৃদ্ধির জন্যে এক কোষ ভাগ হয়ে দুটি কোষ তৈরি হয়। কোষ বিভাজনের সঙ্গে সঙ্গে ঘটে ক্রোমজোমের বিভাজন। ক্রোমোজনের এই বিভাজনের মধ্যে হঠাৎ ঘটে ভুল। এই ভুলের একটি হলো ক্রোমোজোমের সংখ্যাগত পরিবর্তন। 

ক্রোমোজোমের পুরো সেটে পরিবর্তন না হয়ে একটি বা বেশি ক্রোমোজেম সংখ্যায় পরিবর্তনকে বলে অ্যানিউপ্লয়ডি। অনেক সময়ে অটোজম অর্থ্যাৎ এক্স এক্স বা এক্স ওয়াই জোড়া ছাড়া বাকি যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে সেখানেও আনিউপ্লয়ডি হয়। মানুষের ২১ নম্বর ক্রোমোজোম অ্যানিউপ্লয়ডির ফলে নবজাতকের কোষে ওই ক্রোমোজোমটি দুইয়ের বদলে তিনটি থাকে। মানবদেহের স্বাভাবিক ৪৬ টা ক্রোমোজোমের বদলে এই রোগে আক্রান্ত রোগীদরে দেহে ক্রোমোজোম থাকে ৪৭টা। ১৮৪৪ সালে প্রথম এ ধরনের অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করা হয়। তখন থেকে এই রোগটিকে ডাউন সিনড্রোম বলা হয়। ডাউন এক বহুল পরিচিত সিনড্রোম। সিনড্রোম হচ্ছে এক ত্রুটির সঙ্গে অভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক নানা ত্রুটির মিশ্রণ। সাধারণভাবে পরস্পরের আপাত যোগ্যসুত্রহীন এই ত্রুটির মধ্যে বংশগত রোগের সুত্রটি যিনি প্রথম খুঁজে পেয়েছেন তার নামেই সিনড্রোমার নামকরণ হয়ে থাকে।

প্রতিবন্ধী শিশুরা

প্রতিবন্ধী শিশুরা

রোগের চেহারাটি

স্পষ্ট মঙ্গোলিয়া ছাঁদের মুখমন্ডল দেখে এই রোগ দ্রুত শনাক্ত করা যায়। সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর করতলে একাধিক রেখার বদলে থাকে আড়াআড়ি একটি সুস্পষ্ট রেখা। জন্মের কয়েক মাস পর থেকে স্বাভাবিক শিশুটির তুলনায় দৃষ্টিকটুভাবে সে পিছিয়ে পড়ে। মানসিক প্রতিবন্ধীত্ব এ রোগের বড় সমস্যা। এদের খাদ্যনালী বা হ্রৎপিন্ডের নানা জন্মগত ত্রুটি দেখা দেয়। লিউকোমিয়া হাইপোথাইরয়েড অসুখে ভোগার ঝুকি থাকে বেশি। লক্ষণীয়ভাবে ডাউন বেবি মিউজিকের ভক্ত।

প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা

একটি ডাউন বেবি হলে মায়ের ক্রোমোজোম পরীক্ষা দরকার। কারণ মায়ের ক্রোমোজোমে সমস্যা থাকলে পরবর্তী প্রজন্মে ফের ডাউন বেবি দেখা দিতে পারে। তাছাড়া ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে মায়ের বয়সের একটা সম্পর্ক আছে। মা হওয়ার বয়স তিরিশের কম থাকলে ডাউন বেবির সম্ভাবনা প্রতি পাঁচশতে এক, মায়ের বয়স চল্লিশ ছুঁলে সে সম্ভাবনা ২০ গুন বেড়ে যায়। সে কারণে বেশি বয়সী মা, বিশেষত ৩৫ এর উর্ধ্ধে এসে গর্ভধারণ করলে গর্ভাবস্থার তিনমাসের মধ্যে প্রিনেটাল ডায়াগনসিসের দ্বারা ভ্রুণ ডাউন কিনা তা জেনে নেয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করা উত্তম। ডাউন বেবির ব্যবস্থাপনায় শিশু বিশেষজ্ঞ থাকবেন ম্যানেজার হিসেবে। অসুখে আক্রান্ত শিশুটির জন্য কি কি ত্রুটি রয়েছে তা চিহ্নিত করে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী একটা ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি করা চাই।


Leave a Reply