প্রতিষেধক টিকাঃ হেপাটাইটিস- বি ভাইরাস

  • 0

প্রতিষেধক টিকাঃ হেপাটাইটিস- বি ভাইরাস

Category : Health Tips

প্রতিষেধক টিকাঃ হেপাটাইটিস- বি ভাইরাস

ডাঃ এস কে অপু

জন্ডিস কী কোন রোগ ? জন্ডিস কোন রোগ নয়। তা হচ্ছে কিছু কিছু মারাত্মক রোগের লক্ষণ। সাধারণত কোন মানুষের যখন দেহের চামড়া ও চোখের অস্বচ্ছ অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে, প্রস্রাব হলুদ হতে তাকে, পিত্তের রং বা কাঁদা রং এর মত মল ত্যাগ করে আপনি বলা হয় মানুষটির জন্ডিস হয়েছে।

একজন মানুষের কয়েক ধরনের জন্ডিস হতে পারে। যেমন লাল রক্ত কনিকা ভেঙ্গে গিয়ে হিমোলাইটিক জন্ডিস, যকৃতের কোষগুলো ভেঙ্গে গি হেপাটো সেলুলার জন্ডিস এবং পিত্তরসের প্রবাহ বন্ধ হয়ে কোলেস্টিটিক জন্ডিস হতে পারে।

হেপাটোসেলুলার জন্ডিসে যকৃতের কোষগুলো নষ্ট হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে কতগুলো ভাইরাস। এই ভাইরাসগুলো হচ্ছে হেপটাইটিস এ ভাইরাস এবং হেপাটাইটিস বি।

এই হেপাটাইটিস বি ভাইরাসই বর্তমানে আমাদের দেশে প্রাণঘাতি রোগ হেপাটাইটস বি রোগ ছড়িয়ে যাচ্ছে। এই রোগের অন্যতম লক্ষণই হচ্ছে জন্ডিস।

এই রোগের ভাইরাস বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে আক্রান্ত করছে। এক  জরীপে জানা যায়, সারাবিশ্বে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ এই বি ভাইরাসে আক্রান্ত। কিন্তু প্রতিবছর এই ভাইরাসে মারা যায় প্রায় ২০-২৫ লাখ লোক।

বর্তমানে আমাদের দেশেও বি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হেপাটাইটিস বি জন্ডিস বা রোগে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। দেখা গেছে অন্যান্য ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগী সম্পূর্ণ সেরে গেলেও এই বি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা সর্ম্পূণ সেরে উঠে না। তারা এই ভাইরাস রক্তে বহন করে চলে। এদেরকে বলা হয়, দীর্ঘ মেয়াদী বাহক। এসব বাহকরাই পরবর্তীতে যকৃতের দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। রোগগুলো হচ্ছে লিভার সিরোসিস বা যকৃতের ক্যান্সার এবং মারাত্মক হেপাটাইটিস।

দেখা গেছে যকৃতের ক্যান্সারে ৮৫ ভাগ রোগীর মৃত্যুর কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। আরেক পরিসংখ্যানে যায় এশিয়া মহাদেশে যতো লোক ক্যান্সারে মারা যায় এর ৩৩% হচ্ছে যকৃতের ক্যান্সার।

এই বি ভাইরাসের বাহক হিসেবে সারাবিশ্বের প্রায় ৫-৬% লোক। কিন্তু বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের বাহক প্রায় ৮% এবং রক্তদাতাদের মধ্যে প্রায় ২০%।

যেসব মহিলা গর্ভাবস্থায় এই বি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী বাহক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৫%। যারা কম বয়সেই হেপাটাইটিস বি রোগে ভোগেন তাদের মধ্যেই বেশি দীর্ঘমেয়াদী বাহক দেখা যায় এবং তারাই জটিল রোগে আক্রান্ত হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে যে সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই বাহকের হার ২% সেই জনগোষ্টীর সবাইকে প্রতিষেধক টিকা নেয়া প্রয়োজন। আর যেখানে বাহকের হার প্রায় ৭% – ৮% সেই এলাকা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত হওয়া উচিত।

সেই হিসেবে বাংলাদেশও মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পতিত। এই অবস্থায় হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিষেধক টিকা নেয়া সবার প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এই টিকা দেয়ার নিয়ম আছে।

যদিও বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই প্রতিষেধক টিকা অন্তুর্ভূক্ত করা হয়নি কিন্তু অতিসত্বর তা করা প্রয়োজন। কারণ বয়স্কদের সাথে সাথে শিশুরাও এ রোগে খুব তাড়াতাড়ি আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

শিশুরা জন্মের পরপরই একডোজ টিকা মাংসপেশীতে নিবে। একমাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং ৬ মাস পর তৃতীয় ডোজ। অর্থ্যাৎ মোট তিনটি ডোজ নিতে হবে।

সুতারাং সরকার ও জনগনের মিলিত উদ্যোগে ইপিআই কর্মসূচিতে প্রতিষেধক টিকাকে অর্ন্তভূক্ত করে মারাত্মক ব্যাধি হেপাটাইটিস বি ও এর জটিলতা থেকে জনগণকে বিশেষ করে শিশুকে রক্ষা করা উচিত।


Leave a Reply