প্রযুক্তির বিষ্ময়কর সাফল্য

  • 0

প্রযুক্তির বিষ্ময়কর সাফল্য

Category : Health Tips

প্রযুক্তির বিষ্ময়কর সাফল্য

স্টেম সেল

স্টেম সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমেরিকার প্রজনন বিজ্ঞানীরা দুই জনক ইদুর থেকে স্ত্রী ও পুরুষজাতের ইদুর উৎপাদনে সফল হয়েছেন। স্তন্যপায়ী কোন প্রজাতির দুই জনকের একই সন্তান ‍উৎপাদনে এই সাফল্য বিপন্ন প্রজাতিগুলোকে রক্ষা করা, গবাদি পশুর জাতকে উন্নত করে তোলা এবং মানুষের সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে পরিণত হতে পারে। তাছাড়া সমলিঙ্গের দম্পত্তিদে জেনেটিক সন্তান লাভের সম্ভাবনাও উন্মোচিত হয়েছে এই সাফল্যের মধ্যে দিয়ে।

দুই জনক ইদুরের একই সন্তান উৎপাদনে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন টেক্সাসের এমডি এন্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের ড. রিচার্ড বোরিংগারের নেতৃত্বাধীন প্রজনন বিজ্ঞানীদের একটি দল। তারা প্রথমে একটি পুরুষ ‍ইদুরের ভ্রুণ (এক্স ওয়াই) থেকে ক্রাইব্রোব্লাস্ট (সংযোজন টিস্যু যা থেকে কোলাজেন প্রোটিন তৈরি ও নিঃসরণ হয়) বের  করে নেন ইনডিউসড প্লুরিপোটেন্ট স্টিম সেল লাইন থেকে উৎপন্ন এক শতাংশ আইপিএস সেল আপনা থেকে ওয়াই ক্রোমোজমটি হারিয়ে ফেলে। এর ফলে তৈরি হয় এক্সও সেল। এক্সও আইপিএস সেলগুলো ডোনার স্ত্রী জাতের ইদুরের ব্লাস্টোসিস্টো (অর্থ্যাৎ সেই পর্যায় পর্যন্ত ধারণ করার মতো ব্যবস্থা আছে) ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তারপর সেই ব্লাস্টোসিস্ট প্রতিস্থাপন করা হয় বিকল্প মা ইদুরের গর্ভে। সেই মা ইঁদুর পরে এমন অদ্ভুদ ধরনের স্ত্রী জাতের বাচ্চা প্রসব করে যেগুলোর মূল পুরুষ ইঁদুরের ফ্রাইব্রোব্লাস্টের একটি এক্স ক্রোমোজম আছে।

‘এক্সও’ কোষগুলো থেকে উদ্ভুত ওসাইট (অর্থ্যাৎ বিকাশের প্রক্রিয়ধীন স্ত্রীজাতের বীজ কোষ) কোষ বহনকারী স্ত্রী জাতের এই ইদুরগুলোকে পরে স্বাভাবিক পুরুষজাতের ‍ইদুরের সঙ্গে প্রজনন করা হয়। সেই ইদুরের যে বাচ্চা হয় তার কতগুলো ছিল পুরুষ জাতের এবং কতগুলো স্ত্রী জাতের যেগুলো দুই জনক ইদুরের জিন ধারণ করে আছে। বিজ্ঞানীরা জানান , এই গবেষণায় পুরুষ ও স্ত্রী জাতের বংশর তৈরির উদ্দেশ্য দুটি পুরুষ ইদুরের এলিলি (অর্থ্যাৎ একটি নির্দিষ্ট জিনের দুই বা ততোধিক রূপের ডিএনএ সিকোয়েন্সের একটি) মুক্ত করার জন্য আইপিএস কোষ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হয়েছে। সোজা কোন স্তন্যপায়ী প্রাণীর এক নতুন ধরনের প্রজননের ব্যবস্থা করা হয়। গবেষণায় ব্যবহৃত এই কৌশলটিকে কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী প্রজাতিগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে যাতে করে জেনেটিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন স্ত্রী জাতের মধ্যে বাইরের কোন জাতের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য না ঢুকিয়ে দিয়ে দুই পুরুষ প্রজাতির সেই কাঙ্কিত জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে যুক্ত করা যায়।

বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন, এটাও আজ সম্ভব যে, পুরুষ ও স্ত্রীকে বংশধর সৃষ্টির উদ্দেশ্যে স্ব নিষিক্তকরণের জন্য একটি পুরুষের ওসাইট ও স্ফার্ম উভয়েই উৎপাদন করতে পারবে। স্ত্রী জাতের যখন নেই তখন প্রজাতি সংরক্ষণের জন্য এই কৌশল অমুল্য প্রমাণ হতে পারে। আগামীতে পুরুষ আইপিএস কোষ থেকে মানব ও …..তৈরি করাও সম্ভব হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করেন। তখনও দুই জনেকের সন্তান গর্ভে ধারণ ও প্রসবের জন্য বিকল্প মায়ের প্রয়োজন হবে। শুধু তাই নয়,  এ কৌশলের ভিন্নতর প্রয়োগ ঘটিয়ে স্ত্রী ডোনার থেকে স্মার্শ বা শুক্রাণু উৎপাদন করা এবং দুই জনই পুরুষ বা স্ত্রী জাতের বংশধর সৃষ্টি করাও সম্ভব হবে।


Leave a Reply