সিজার বা সিজারিয়ান অপারেশন

  • 0

সিজার বা সিজারিয়ান অপারেশন

Category : health tips bangla

সিজার বা প্রসঙ্গ সিজারিয়ান অপারেশন

ডাঃ লায়লা আফরোজ নীলা

প্রসুতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ

‘সিজারিয়ান’ শব্দটার সঙ্গে আমরা মোটামুটি পরিচিত। যখন স্বাভাবিক প্রসব মা বা অনাগত শিশু অথবা উভয়ের জণ্যেই ঝুকিপূর্ণ, সেসব ক্ষেত্রে সিজারিয়ান অপারেশনের বিকল্প নেই। কেউ কেউ যে কোনো মূল্যেই হোক স্বাভাবিক প্রসবের অপেক্ষায় থেকে মা কিংবা শিশু অথবা উভয়কেই হারায় বা ক্ষতির শিকার হয়। কাজেই অকারনে অপারেশন করা বা প্রয়োজনে না করা দুটোই ক্ষতিকর।

সিজারিয়ান অপারেশনের আগে করণীয়

অপারেশনের আগে গর্ভবতীর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ, রক্তের গ্রুপ, ডায়াবেটিস ও জন্ডিসের পরীক্ষা করে নিতে হবে। অপারেশনের আগেই যদি তার রক্তস্বল্পতা থাকে অথবা অপারেশনে সময় এবং পরে যদি বেশি রক্তপাত হয় তাবে শরীরে রক্ত পরিসঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে। যাদের গর্ভফুল নিচে তাদের অবশ্যই রক্ত সংগ্রহ করে অপারেশনে যেতে হবে।

অপারেশনের আগে সময় এবং সুযোগ থাকলে গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরবেন। মনে সাহস রাখবেন। অপারেশনের ছয় ঘন্টা আগে শক্ত খাবার খাওয়া বন্ধ রাখবেন। চার ঘন্টা আগ পর্যন্ত পানি ও তরল খাবার খেতে পারবেন। বাচ্চার এবং আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগেই গুছিয়ে নেবেন। যাদের পর্যাপ্ত টাকা নেই তারা গর্ভের শুরু থেকেই অতিপ্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া অন্যান্য খরচ কমিয়ে প্রতিমাসে সঞ্চয় করুন। ডেলিভারি কোথায় করাবেন, সিজারিয়ান প্রয়োজন হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন আগে থেকেই ঠিক করে রাখবেন।

অপারেশনের সময় আপনার করনীয়

ঘাবড়াবেন না, সাহস রাখবেন। যে কোনো অসুবিধা ডাক্তারকে জানাবেন। আংশিক অবশের জন্য পিঠে একটা ইনজেকশন দিতে হয়। সে সময় ডাক্তারকে সহযোগীতা করবেন। ঘন্টা দুই তিন আপনার নিচের অংশ অবশ থাকবে, সেটা নিয়ে অস্থির হবেন না। তবে কষ্টের কথা অবশ্যই জানাবেন।

অপারেশনে পর কী করবেন বা কী করবেন না

  • বাচ্চাকে দুধ দেবেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
  • শালদুধ ফেলে দেবেন না্ শুধু দুধের বোটা পরিষ্কার করে বাচ্চাকে দুধ দেবেন।
  • পা ভাঁজ করবেন, এপাশ ওপাশ ঘুরবেন। তবে ১২ ঘন্টা উঠবস বা হাটাচল না করাই ভালো।
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। প্রতিদিন দু বার এবং প্রয়োজনে আরও তাড়াতাড়ি পোশাক পরিবর্তন করুন।
  • কোনো ধরনের খাবার বেছে খাবেন না। সব ধরনের খাবার খেলে আপনি এবং আপনার বাচ্চার পুষ্টি ঠিকমতো হবে। আপনি তাড়াতাড়ি সেরে উঠবেন এবং আপনার বাচ্চাও বড় হবে স্বাভাবিক নিয়মে।
  • অপারেশনের পাচ ছয়দিন পরই ব্যান্ডেজ খুলে গোসল করা যায়।
  • গোসলের সময় ক্ষতস্থানে হাল্কা করে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন। অনেকে ভয়ে সে জায়গাটা পরিষ্কার রাখেন না, ফলে পরে ইনফেকশনে ভোগেন।
  • অপারেশনের পরের দিন থেকেই হাল্কা হাটাচলা করুন।
  • বাচ্চাকে আপনার কাছে রাখুন। শুধু বুকের ‍দুধই খাওয়াবেন।
  • দেড়মাস মোটামুটি বিশ্রামেই কাটান। তারপর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করবেন এবং তিন মাস পর থেকে আর দশজনের মতোই চলাফেরা কাজকর্ম করবেন।
  • দেড়মাস পর থেকে জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি গ্রহণ করুন।
  • তিন বছর পর প্রয়োজনে আরেকটি সন্তানের কথা ভাবুন। তবে যারা সিজারিানের পর সন্তান হারিয়েছেন তারা ছয় মাস পরই আবার গর্ভবতী হতে পারেন।
  • পেটে বেল্ট বা বাইন্ডার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
  • কোনো সমস্যা হলে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • শরীরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য দেড়মাস পর থেকে ব্যায়াম করুন।
  • গর্ভবতী অবস্থার চেয়েও দুগ্ধপানকারী মায়ের পুষ্টি বেশি প্রয়োজন। তাই পর্যাপ্ত এবং পুষ্টিকর খাবার খান।
  • আয়রন ট্যাবলেট ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট বাচ্চা হওয়ার পর আরও ৩ মাস খাবেন।
  • আরও কিছু জানতে হলে আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন। প্রতিবেশী বা মা খালাদের ভ্রান্ত ধারণার শিকার হয়ে ভুল করবেন না। আপনি সচেতন হন এবং সচেতন করে তুলুন আপনার আশপাশের মা বোনদের।

Leave a Reply