বুকে ব্যথা

  • 0

বুকে ব্যথা

বুকে ব্যথা

বুকে ব্যথা একধরনের জটিল সমস্যা। এই সমস্যা এতো জটিল হয় যার জন্য কোন ব্যাক্তিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হয়। বিভিন্ন কারণে বুকে ব্যথা হয়ে থাকে। প্রথমে দেখতে হবে বুকে ব্যথা আঘাতজনিত কারণে না আঘাতবিহীন কারণে। যদি আঘাতবিহীন কারণে বুকে ব্যথা হয় তাহলে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে হৃদরোগ জনিত কারণে না অন্য কোন কারণে বুকে ব্যথা হয়েছে। এই কারণ নির্ধারণের জন্য রোগীর কাছ থেকে রোগ সর্ম্পকে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে হবে এবং এর পর শারীরিক ও ল্যাব পরীক্ষা করে সঠিক রোগ নির্ণয় করলে বেশীরভাগ বুকের ব্যথা ভাল করা সম্ভব।

যে যে কারণে এই ব্যথা হয় তা হল

১। হৃদরোগ জনিত কারণ

২। ফুসফুস জনিত কারণ

৩। মাংসপেশি জনিত কারণ

৪। খাদ্যনালী জনিত কারণ

৫। মানসিক কারণ

৬। আরও অন্যান্য কারণ

প্রথম বুকের ব্যথা কোন স্থানেঃ বুকের মাঝখানে, না বাম বা ডান পাশে।

বুকে ব্যথার প্রকৃতিঃ চাপ চাপ ব্যথা, মনে হয় বুকের মাঝখানে পাথর বসিয়ে রেখেছে এমন, দম বন্ধ হয়ে আসে এমন বা অনুভূতিহীণ মেন- হৃদরোগ জনিত কারণ।

তীব্র ব্যথা, ছুরি দিয়ে আঘাত করলে মনে হয়, পুরানো ব্যথা, শ্বাস নেবার সাথে সাথে তীব্র ব্যথাঃ ফুসফুস জনিত কারণ যেমন নিউমোনিয়া, পালমোনারী অ্যামবলিজম, হৃদযন্ত্রের প্রদাহ।

হঠ্যাৎ তীব্র পীড়াদায়ক ব্যথা বুকের সামনে থেকে পিছনের চলে যায় (ধমণী ছেড়া জনিত কারণ)

যদি বুকে ব্যথা পরিশ্রম করলে, দুঃশ্চিন্তা করলে, ঠান্ডা আবহাওয়ার স্পর্শে আসলে, দুঃস্বপ্ন দেখলে বাড়ে কিন্তু বিশ্রাম নিলে, জিহ্বার নীচে নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ দিলে কমে তাহলে হৃদরোগ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। খাবার পর, শোবার পর, গরম খাবার, মদ পান করলে এবং খালী পেটে যদি ব্যথা বাড়ে, এ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেলে কমে যায়, তাহলে খাদ্য নালী জনিত কারণ বুকের ব্যথার সাথে শ্বাস কষ্ট হলে হৃদরোগ, পালমোনারী অ্যামবলিজম নিউমোনিয়া ‍নিউমোথোরক্স হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।

পরিশ্রম শুরু করার কিছুক্ষণ পর থেকে ব্যথা শুরু হয়, বিশ্রম নিলেও ব্যথা থাকে, ব্যথা নিরাময় জাতীয় ওষুধ ( যেমন ডাইক্লোফেন) জাতীয় ওষুধ থেকে ব্যথা কমে তাহলে মাংসপেশী জনিত কারণ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।

বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা, হঠ্যাৎ কোন শব্দ হরে বুকের ব্যথা বেড়ে যায় ও বুক ধড়পড় করে, কোন মৃত্যুর সংবাদ শুনলে বুকে ব্যথা শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা করলে বুকে ব্যথা বেড়ে যায় তাহলে মানসিক কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। জরুরি বিভাগের বুকের ব্যথাজনিত কারণে যেসব রোগী আসে তার শতকরা ১০ ভাগের বেশি আসে মানসিক বা দুশ্চিন্তা কারণে।

অনেক সময় পেটে ব্যথা সাথে সাথে বুকে ব্যথা থাকতে পারে যেমন পিত্তথলীতে পাথর অথবা Pancreatitis, কারণে হয়। যে কারণেই হোক না কেন রোগী অবশ্যই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ন পরীক্ষা  যেমন বুকের CXR, ইসিজি জাতীয় পরীক্ষা করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা করালে বেশীরভাগ রোগী ভাল হয়ে যায় এবং অনেক সময় দ্রুত হৃদরোগ নির্ণয় করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোন রোগের কারণ না পাওয়া যায় সেই ক্ষেত্রে রোগীকে সঠিক উপদেশ দিয়েও বুকের ব্যথা ভাল করা সম্ভব।

 

ডাঃ এ কে এম মোস্তফা হোসেন

পরিচালক

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

মহাখালী, ঢাকা।


Leave a Reply