ব্রণ

  • 0

ব্রণ

Tags :

Category : Health Tips

ব্রণ

ডা. রাশেদ মো: খান

ত্বক বিশেষজ্ঞ

ব্রণের অন্য নাম একনি। একনি বা ব্রণ হচ্ছে আমাদের শরীরের ত্বকের ফলিকলের এক প্রকার ক্রনিক রোগ। মুখু, গলা, বুকের উপরিভাগ এই রোগটা হয়। এসব জায়গায় ছোট, ছোট দানা, ছোট ছোট ফোঁড়া, সিস্ট এমনকি নোডিউল হতে পারে। এ  রোগটা মুখেই সাধারণত বেশি হয়। বেশিরভাগ সময়ে গাল, নাকে কপালে আর থুতনিতে হয়ে থাকে। পিউবার্টি বা বয়ঃসন্ধিকালে হরমোন টেসটোস্টেরন আর প্রজেস্টেরনের প্রভাবে ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি বেশি করে তেল নিঃসরণ শুরু করে। তবে এই তেল বের হয়ে আসতে পারে না। কারণ তেল বেরিয়ে আসার পথটি ত্রুটিযুক্ত থাকে। তাই তেল গ্রহ্নিথর ভিতর জমতে শুরু করে। জমতে জমতে এক সময় গ্রহ্নিটা ফেটে যায়। ফলে তেল আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ব্যাকটেরিয়া তেলকে ভেঙে টিস্যুতে ফ্যাটি এসিড তৈরি করে। এই ফ্যাটি এসিড ত্বকের ভেতর সৃষ্টি করে প্রদাহ। এর ফলে চামড়ার মধ্যে দানার সৃষ্টি হয়। যা ব্রণ নামে পরিচিত। বয়ঃসন্ধিকালে এ রোগটা শুরু হয়। ১৫ থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বলা যেতে পারে, এটা টিন এজারদের রোগ। অনেক অনেক বছর ধরে এ রোগে ভোগে। ২০ বছর বয়সের পর রোগটা কমে আসে। তবে কিছু মেয়েদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স পর্যন্তও এ রোগ দেখা যায়। ছেলেদের বেলায় যদি ২১ বছরের পরও রোগটা হয় তবে তাকে একনি কংলোবেটা বলে।

ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়

  • মুখের তৈলাক্ততা কমানোর জন্য সাবান দিয়ে দিনে কয়েকবার মুখ ধুতে হবে।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছবে, সেটাও বারবার ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • সবচেয়ে বেশি হবে শাকসবজি।
  • তৈলাক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া খাবারসহ চকলেট, আইসক্রিম খাওয়া কমাতে হবে।
  • ব্রণ একবার হয়ে গেলে খোটা যাবে না।
  • খুঁটলে গর্ত হয়ে যাবে। তাছাড়া হাত আর নখ থেকে জীবানু বেয়ে ব্রণকে আক্রান্ত করে। এটা কোনভাবেই করা যাবে না। এতে চামড়ার প্রচন্ড ক্ষতি হয়। স্টেরয়েড অয়েনমেন্ট ব্যবহার করার জন্য উল্টো ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে।
  • ব্রণের জন্য যে দাগ আর গর্ত হয়, তা দুর করার ব্যবস্থা এখন দেশেই রয়েছে। তার মধ্যে পাঞ্চ স্কাররিমুভার, স্কার এলিভেশন, ডার্মাব্রেশন পদ্ধতিতে গর্ত আর দাগ দূর করে মুখের ত্বক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যাচ্ছে।

অনুলিখন * ওমর শরীফ


Leave a Reply