বয়স্ক মানুষের হাঁপানি

  • 0

বয়স্ক মানুষের হাঁপানি

বয়স্ক মানুষের হাঁপানি

ডা. মোঃ আতিকুর রহমান

হাপানি রোগ নির্দি্স্ট বয়সের রোগ নয়। এই রোগে যেকোনো বয়সের মানুষই আক্রান্ত হতে পারে। তবে শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ও বৃদ্ধদের মধ্যে হাপানি ভিন্ন ভিন্নভাবে আ্ত্মপ্রকাশ করতে পারে। শিশুদের মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্ট, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্টের আক্রমণ এবং বৃদ্ধদের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ছাড়াও সামান্য পরিশ্রমে হাপিয়ে পড়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। শেষ পর্যণ্ত অসম্ভব শ্বাস কষ্ট শুরু হয়ে যায়। মনে হবে প্রাণটা এই বুঝি বেরিয়ে গেল। বয়স্কদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটার কারন হলো ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ও এমপিসিমা। যেখানে প্রাপ্তবয়স্করা দুটি হাঁপানির আক্রমনের মধ্যবর্তী সময়ে অস্বাভাবিক থাকে সেখানে বৃদ্ধরা হাঁপানি আক্রমন ছাড়াও বেশির ভাগ সময়ই শ্বাসকষ্টের হাত থেকে রেহাই পাননা। যেসব রোগীদের অল্প বয়সে হাঁপানি দেখা দেয়, তাদের চেয়ে বৃদ্ধ বয়সে হাঁপানি দেখা দিলে কষ্ট হয় হু গুন বেশি। একটি দেশের উন্নতি দেশের বয়স্ক মানুষে সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। স্বাভাবিক কারণেই বৃদ্ধ বয়সের হাঁপানি রোগ একটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। যদিও হাঁপানি খুবই প্রচলিত রোগ তবে বয়স্কদের ওপর এই রোগের প্রকোপ সংক্রান্ত সমীক্ষা নেই বললেই চলে। বর্তমানে ৫০-৬০ বছর বয়স্কদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে এই রোগের প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়স্কদের বুকে চাপ অনুভব, কাশি ও ছোট ছোট শ্বাসই হাঁপানির উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পায়। আবার বুকের চাপকে হাপানি উপসর্গ হিসেবে উপেক্ষা হৃদরোগের উপসর্গ মনে করার প্রবণতাও যথেষ্ট আছে। গ্লুকোমা, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বয়স্কদের হাপানির উপসর্গকে বৃদ্ধি করে। আবার হজমের ওষুধ, ডিসপেপসিয়ার ওষুধ, অ্যান্টিসিড হাঁপানির উপসর্গকে কিছুটা কমাতে পারে। তাই বৃদ্ধ বয়সে যারা হাপানিতে কষ্ট পান তাদের চিকিৎসা খুব সাবধানে করতে হয়। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ একনাগাড়ে বেশি দিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করার ফলে কাজ হয় ম্যাজিকের মতো কিন্তু শরীরের অস্থিগুলো খুব নরম হয়ে যায়। এতটাই হাড় গোড় নরম হয়ে যায় যে, খুব সামান্য কারণেই শরীরের যেকোনো স্থানের হাড় ভেঙে যেতে পারে। আবার খুব জোরে কাশলে বুকের পাঁজরের হাড়ও ভেঙে যাবার আশঙ্কা খুবিই বেশি থাকে। আবার যারা স্টেরয়েড ব্যবহার করেন তাদের যক্ষা রোগ হওয়ার আশঙ্খা থাকে।

যেসব বয়স্ক ব্যক্তির প্রস্টেট গ্রহ্নিতে গোলমাল আছে তারা যদি বেশি মাত্রায় স্টেরয়েড এবং এফিড্রিন খান তবে তাদের প্রসাব বন্ধ হয়েও যেতে পারে। যাদের উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ আছে তারা যদি অ্যাড্রিনেলিন ইনজেকশন নেন তবে তাদের মহা বিপদ ঘটার আশঙ্খা রয়েছে।

লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক, রেসিপিরেটরি মেডিসিন, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।


Leave a Reply