ভিটামিন এ সপ্তাহঃ শিশুদের জন্য পুষ্টির প্রতিশ্রুতি

  • 0

ভিটামিন এ সপ্তাহঃ শিশুদের জন্য পুষ্টির প্রতিশ্রুতি

Category : Health Tips

ভিটামিন এ সপ্তাহঃ শিশুদের জন্য পুষ্টির প্রতিশ্রুতি

রুহুল মতিন

মায়ের দুধের বিকল্প নেই। তাই আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দু বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য মায়ের দুধ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়ে শুরু হয়েছে ভিটামিন এ সপ্তাহ।

ভিটামিন এ র অভাবে প্রতিদিন বাংলাদেশে একশ শিশু অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতি ঘন্টায় দৃষ্টি হারাচেছ চারটি শিশু। কিন্তু, এদেরকে এই দুর্ভাগ্য থেকে বাচানো সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মায়ের দুধ নিশ্চিত করতে পারলে বেশিরভাগ শিশুকে অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ বাংলাদেশে দু হাজার সালের মধ্যে কার্যকরভাবে ভিটামিন এর অভাব পূরণ এবং মায়ের ‍দুধের বিকল্প খাদ্যের বিরুদ্ধে জোর প্রচারণা শুরু করেছে।

বাংলাদেশে শিশুদের ক্ষেত্রে ভিটামিন এ র অভাবে শুরু হয় জন্মের প্রায় সাথে সাথেই। আমাদের দেশে অধিকংশ মায়েরা জন্মের পর শিশুকে বুকের ‍দুধ খাওয়ান না। দুধের বদলে খাওয়ান চিনির পানি বা মধু জাতীয় তরল খাদ্য। ‍দুধ খেতে দেন তিন চার দিন পর।

তারা মনে করেন শাল দুধ হলো জন্মে থাকা পুরনো দুধ এটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। শাল দুধে ভিটামিন এর পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। নবজাতককে শাল দুধ না খাওয়ানোর ফলে তার শরীরে ভিটামিন এর অভাব গুরুতর হয়ে দেখা দেয়।

ভিটামিন এ অভাবজনিত সমস্যা বাংলাদেশের একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ১৯৮৯ সালে পরিচালিত জাতীয় জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে রাতকানার হার ১.৭৬ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী রাতকানার হার এক শতাংশের উপরে হলে একে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ভিটামিন এ শিশুকে হাম ও ডায়রিয়ার নানা জটিলতা থেকে রক্ষা করে। শিশুর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এ সমীক্ষায় দেখা গেছে ঢাকা শহরের বস্তি এলাকায় বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার শতকরা ৯৫ ভাগ। বস্তির বাইরে অন্যান্য এলাকায় এ হার আরো কম। মাত্র ৬৮ ভাগ। এর মধ্যে আবার অধিকাংশ বাচ্চার বয়স পাঁচ মাস হলে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেয়া হয়। দেখা গেছে, সম্পন্ন পরিবারের শতকরা ৮০ টি বাচ্চাই বেড়ে ওঠে বোতলের গুড়ো দুধ খেয়ে।

মায়ের দুধের প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষনের জন্য বিকল্প খাদ্যের অবাধ বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এই লক্ষ্য ১৯৮৪ সালে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্য বিপনন অদ্যাদেশ জারি করা হয়।

অধ্যাদেশে বিকল্প খাদ্যের বিজ্ঞাপন, উন্নয়ন ও লেবেলিং এর বিষয়ে কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুড়ো দুধের পক্ষে কোন বিজ্ঞাপন তৈরি, প্রদর্শন, বিতরণ এবং মুদ্রণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইভাবে গুড়ো দুধ মায়ের দুধের সমকক্ষ, উৎকৃষ্ট অথবা বিকল্প এরূপ কোন তথ্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রচার সর্ম্পূণ নিষিদ্ধ।

গুড়ো দুধ কেনায় প্রলুব্ধ করার জন্য কোন ‍উপহার সামগ্রী, মূল্যহ্রাস অথবা দুধের সাথে বিনামুল্যে কোন জিনিস দেয়াও নিষিদ্ধ। এছাড়া কৌটার গায়ে বাংলা স্পষ্ট অক্ষরে “মায়ের দুধের সমকক্ষ, উৎকৃষ্ট অথবা বিকল্প নেই” লেখা থাকতে হবে। প্রস্তুতির তারিখ ও মেয়াদ শেষে হওয়ার তারিখ অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে। কৌটার গায়ে কোন শিশুর ছবি থাকতে পারবে না এবং গুড়ো দুধ প্রস্তুত করার সঠিক নিয়ম এবং গুড়ো দুধ প্রস্তুত করার সঠিক নিয়ম এবং উপাদানগুলোর পরিমাণ স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকতে হবে। এসব নিয়ম লংঘনের দায়ে কারাদন্ড অথবা জরিমানা হতে পারে।

কিন্তু একশ্রেণীর আমদানিকারক এই আইনে থোড়াই পরোয়া করছে। তার বিকল্প শিশু খাদ্যের প্রচার অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া “মায়ের দুধের বিকল্প নেই” কথাটি এত ছোট করে লেখা থাকে যে সহজে চোখে পড়ে না।

অনেক কোম্পানী বিজ্ঞাপনে বড়দের সাথে বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানো দেখাচ্ছে। এর পরোক্ষ মানে হলো, বড়দের দুধ শিশুদেরকেও দেয়া যেতে পারে। কিন্তু জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ডাঃ সাঈদা বেগম বললেন, এটি বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর বড়দের জন্য প্রস্তুত করা গুড়ো দুধের উপাদান বাচ্চাদের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি। তাৎক্ষনিকভাবে এর ক্ষতি বোঝা না গেলেও পরবর্তীতে বাচ্চাদের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে ডাঃ সাঈদা উল্লেখ করেন। এ কারণে বাচ্চাকে ‍গুড়ো দুধ না খাইয়ে দু বছর পর্যন্ত একটানা বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি ইনস্টিটিউটের একজন উর্দতন কর্মকার্তা বলেছেন, দুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রভাবিত করে কৌশলে বিকল্প শিশু খাদ্য বিক্রির প্রচারণা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ার এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।


Leave a Reply