ভিটামিন সি দীর্ঘায়ু করে

  • 0

ভিটামিন সি দীর্ঘায়ু করে

Category : Health Tips

ভিটামিন সি দীর্ঘায়ু করে

শুনলে আশ্চর্য লাগে এসবের জন্য দায়ী অক্সিজেনের বিষক্রিয়তা। অক্সিজেনের আবার বিষক্রিয়তা সত্যই আশ্চর্যের কথা, যে অক্সিজেনসমৃদ্ধ বাতাসের সাগরে আমরা নিত্য ভেসে বেড়াচ্ছি, প্রতি প্রশ্বাসে সাথে অক্সিজেন দেহে গ্রহণ করছি যার অভাব হলেই মৃত্যু অবধারিত সেই অক্সিজেনই বিষ হিসেবে দেখা যায়। প্রত্যেক জিনিসেরই একটা সীমা আছে। তা একটা নির্দিষ্ট বলয় পর্যন্ত মঙ্গলজনক কিন্তু তা অতিক্রম করলেই বিপত্তি। অক্সিজেনের বেলাতেও কথাটা খাটে।

অক্সিজেন আমাদের জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একথা অতীব সত্যি। তবে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়াও রয়েছে যথেষ্ঠ। অক্সিজেন  একটি শক্তিশালী সক্রিয় রাসায়নিক পর্দাথ। বইয়ের আলমারীতে রাখা বই দীর্ঘদিন পর হলদে হয়ে যায় এই অক্সিজেনের প্রভাবেই। দেশলাই ঠুকে কাগজ ধরালেই বিষক্রিয়া হয় সেটাই এখানে ঘটেছে খুব ঢিমেতালে। অক্সিজেনের শরীরে উপর বিষক্রিয়াটাও ঘটছে খুব ধীরে এবং অলক্ষ্যে। প্রতিনিয়ত অক্সিজেন দেহের কলাতে বিশ্লেষিত হচ্ছে, যার ফলেই তাপ সৃষ্টি হচ্ছে, দেহের অঙ্গের কলাসমুহ কাজ করে যেতে পারছে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকাকালীন অবস্থায় এমন কিছু বিক্রিয়া ঘটে যা অবাঞ্চিত। আপনা থেকেই তা ঘটে যায়। তার ফলে জন্ম নেয় আর এক রাসায়নিক পর্দাথ। যা আরো বিধ্বংসী ও সক্রিয়। এরা কোষের উপর কু প্রভাব ফেলে এবং তাদের ধ্বংস সাধন করে ফেলে। এক লহমায় এ ঘটে না, ঘটে ধীরে ধীরে এ অলক্ষ্যে।

এই সৃষ্টিনাশক কলানাশক ক্ষতিকর পর্দাথটির নাম ফ্রি অক্সিজেন র‌্যাডিকেল যা সুপার অক্সাইড নামেও অভিহিত হয়। এরা মোলিকিউলার বা পরামানু লেভেলে কাজ করে কোষ ধ্বংস করছে। শুধু কোষের অভ্যন্তরেই নয়, কোষের বাইরেও তারা ক্ষতিসাধন করছে। ইমারতের এক একটা ইটকে বেধে রেখেছে। চুন সুরকী তেমন দেহের কোষসমূহকে ধরে রেখেছে আন্তুঃকোষীয় তন্তু যাকে ডাক্তারী ভাষায় বলে কোলাজেন। বোঝানোর জন্য বলা যায় একটা হাতির শরীর নিজ শরীরের ভারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত যদি এই কোলাজেন তা ধরে না রাখত। এক মিঃ মিঃ মোটা এক কোলাজেন তন্তুতে ১০ কিলোগ্রাম ভার ঝুলিয়ে দিলেও তা ছেড়ে না। কিন্তু এহন পোক্ত ও শক্তিশালী কোলেজেনও সুপার অক্সিজেনের কাছে অসহায়।

সেও এর দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। দু কলার মধ্যবর্তী স্থানে প্রচুর সুপার অক্সিজেন তৈরি হয়। প্রতি মুহূর্তে যে পরিমাণ অক্সিজেন আমরা গ্রহণ করছি তার পাঁচ শতাংশ সুপার অক্সাইডে পরিণত হয়।

জেমস লিন্ডে নামে এক ব্রিটিশ চিকিৎসক স্কার্ভি থেকে রক্ষা পাবার টাটকা শাক সবজি বিশেষ করে লেবুর ভান্ডার নিয়ে নাবিকদরে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার পরামর্ম দেন। ব্রিটিশ নৌ বহর নাবিকদের লেবু খাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল। তাই অন্যরা ব্রিটিশ নাবিকদের ‘লাইমি’ বলে সন্মোধন করতো তখন। লেবুর রসের প্রধান উপাদানটি ভিটামিন সি বলে প্রতিষ্টিত করেছিলেন বিজ্ঞানি জিসিকিং ১৯৩২ সালে। ১৯২৬ সনে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী এলবার্ট সেন্ট জিয়ার্জি স্কার্ভির প্রতিষেধক হেস্কোউবোনিক এসিড আবিষ্কার করেন। এই নাম পরে রূপান্তরিত হয় অ্যাসকরবিক অ্যাসিডে।

ভিটামিন সি কেমন করে কাজ করে তা রহস্য ছিল এতদিন। এই রহস্য এখন উদঘাটিত হয়েছে। আরও হচ্ছে যা পূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে।

শিরা ও উপশিরার দেয়াল তৈরি হয়েছে ঐ কোলাজেন দিয়ে। সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হলে তড়িঘড়ি করে রিপুকর্মের মত। ঐ জায়গাতে এসে সে পড়ে কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন জড়িত কোলেসটেরল। আস্তরটা পুরু ও কঠিন হতে থাকে। এর ফলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। কখনও পলেস্তারা খসে পড়ার মত ওখান থেকে ছালকা উঠে ভাসতে ভাসতে এসে হার্টে বা মস্তিষ্কের রক্তনালিতে আটকে যেতে পারে। পরিণতি থ্রমবোসিস বা স্ট্রোক। কিন্তু এ অবস্থা থেকে অনেকটা বাচায় ভিটামিন সি।

দু দুবার নোবেল পুরুষ্কার বিজয়ী প্রয়াত ডাঃ লাউনাস পাউলিং ঘোষণা করেছিলেন চড়ামাত্রায় (দিনে ২.৩ গ্রাম) ভিটামিন সি খাওয়া প্রয়োজন। তা হলে সর্দি সারে, মানুষ দীর্ঘায়ু হয়, ক্যান্সারের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু তার এই দাবি পূরণ হয়নি। ভারতের বিখ্যাত রাসায়নিক যিনি ভিটামিন সি এর কার্যকারিতা উপর কাজ করছেন, তার এই দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, হতে পারে ডাঃ লাউনাস পাউলিং এর দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু আমাদের কাজ থেকে বোঝা যাচ্ছে ওর কথায় এক ধরনের সত্য প্রচ্ছনন্ ছিল। দীর্ঘায়ু হবার পেছনে ভিটামিন সি এর একটা হাত রয়েছে তা সত্যিই।


Leave a Reply