ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

  • 0

ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

Category : health tips bangla

ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

 

বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ স্বল্পতা জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম সমস্যা এবং সেইসাথে এটি শিশুর প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব, শিশুরোগ ও শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি শিশু ও গ্রামীণ নারীদের (বিশেষভাবে গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদানকারী মা) মধ্যে ভীষণভাবে প্রকট।

ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়্ হাম, ম্যালেরিয়া, এইডস রোগের জটিলতা বাড়ে, শিশুরেদ শারীরিক বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। নারী ও শিশুদের রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। এছাড়া গর্ভকালীন সময়ে মৃত্যুঝুকি ও বিষণ্নতা বাড়ে ও কার্যক্ষমাত কমে যায়। যেকোনো খাদ্যদ্রব্যের সাথে এক বা একাধিক অনুপুষ্টি (ভিটামিন ও/ বা খনিজ) নির্র্দিষ্ট পরিমানে মাধ্যমে খাদ্যটির গুণগত পুষ্টিমান বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ফুড সমৃদ্ধকারণ বলে। ফুড সমৃদ্ধকরণ দেশের জনগোষ্ঠীর অনুপুষ্টি অভাবজনিত সমস্যা দুরীকরণ এবং প্রতিরোধের একটি অন্যতম উপায়। বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ জনগন দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করার কারণে শুধু খাবারের মাধ্যমে তাদের পক্ষে শরীরের জন্য প্রতিদিনের প্রয়োজনয়ি পুষ্টিপূরণ সম্ভব নয়। এর চিকিৎসা করাও তাদের পক্ষে ব্যয়সাধ্য এবং কষ্টসাধ্য। দশের সকল জনগনের পুষ্টিহীনতাজনিত রোগ ব্যাধিতে দূর করতে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব পূরণ করার জন্যই ফুড সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। যেকোনো রান্নায় খাবার তেল কম বেশি সবাই ব্যবহার করে বলে সব খাদ্যের সাথেই পুষ্টিমান ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়। অন্যদিকে ভিটামিন এ তেলে সহজে মিশে যায় এবং এতে গুণগতমানও হারায় না। ক্রেতা বা ভোক্তাকে আলাদাভাবে কিছু কেনার ঝক্কি পোহাতে হয় না। তাই আমাদের দেশে অতি দ্রুত এবং সকল পর্যায়ে পুষ্টিমান পৌছানোর ক্ষেত্রে খাবার তেল সমৃদ্ধকরণ সবচেয়ে উপযোগী।

বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত তেল, ময়দা, সুজি, চিনি, মার্জারিন, সয় সস, সিরিয়াল, দুধ, লবণ প্রভৃত্তি খাবারকে সমৃদ্ধকরণ করা হয়েছে। এ ধরনের খাবারগুলো প্যাকেটজাত হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাউথ আফ্রিকায় প্রধান খাদ্য রুটি ও ময়দার সাথে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ করে সেখানকার শিশুমৃত্যু, জন্মগতত্রুটি, অন্ধত্ব ইত্যাদি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কানাডা, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া, সৌদি আরবসহ পৃথিবীর বহু উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ফুড সমৃদ্ধকরণ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইদানিং ভারত ও ফিলিপাইনেও খাদ্যে সমৃদ্ধকরণ চলছে।

খাবার অল্প আচে রান্না করাই স্বাস্থ্যকর। গরম তেলে ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত ভোজ্য তেলের গুণাগুণ নষ্ট হয় না। ভিটামিন ‘এ’ শরীরের জন্য উপকারী ও সহজপাচ্য। তাই ফর্টিফাইড তেলের রান্না খেলে পেট ভালো থাকবে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায়  এ পর্যন্ত ভিটামিন মিশ্রিত তেলের ব্যবহারজনিত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় নি। তেলের সাথে মিশ্রিত ভিটামিন ও খনিজ যথাযথ মান নিয়ন্ত্রনেরে মাধ্যমে খুব নিরাপদ মাত্রা বজায় রেখে তৈরি করা হয়। ভিটামিন ব্যবহারের  একটি স্বীকৃত মাত্রা রয়েছে যার অনুমোদিত মাত্রা মোট গ্রহণ করা খাবারের সর্বোচ্চ শতকরা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত।

অনেকেই মনে করতে পারেন, সমৃদ্ধ করার কারণে তেলের বাজারমূল্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। এতে তেলের বাজারমূল্য তেমন তারতম্য ঘটবে না। কারণ প্রতি লিটার খাবার তেলে ২২ পয়াস বাড়তে পারে যা প্রতি ৫ লিটার তেলের বোতলের ক্ষেত্রে ১ টাকার সমপরিমাণ মাত্র। উল্লেখ্য, ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতিজনিত সকল স্বাস্থ্যগত সমস্যা দুর করার উদ্দেশ্য ইউনিসেফ এর কারিগরি ও গেইন এর আর্থিক সহায়তায় এবং শিল্প মন্ত্রনালয় ২০১০ সালে ভোজ্যতেলের সাথে ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃষ্টপোষকতায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ এর যৌথ উদ্যোগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি, ‘ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্টানে শিল্পি মন্ত্রী, দিলিপ বড়ুয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দেশের অভাবগ্রস্থ ও অজ্ঞ জনগনকে সচেতন করতেই জাতীয়ভাবে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশে জেলা পর্যায়ে মোট নয়টি ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত ভোজ্যতেল’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ক্রেতা হিসাবে সব সময়ই অসাধু চক্রের প্রতারণা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশেও একটি লোগে তৈরি করা হয়েছে যাতে সবাই খুব সহজে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ তেল কিনতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্টানে শিল্প মন্ত্রী, দিলিপ বড়ুয়া, লোগোটির শুভ উদ্বোধন করেন।

সবশেষে, ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রিত তেল ব্যবহারের ফলে সবল ও উদ্যমী জাতি গড়ে উঠবে। শিশুর মৃত্যুর হার কমবে এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যর উচ্চ পর্যায়ে বৃদ্ধি হবে।


Leave a Reply