মাদকাসক্তির সমস্যা ও ব্যবস্থাপত্র

  • 0

মাদকাসক্তির সমস্যা ও ব্যবস্থাপত্র

Category : Health Tips

মাদকাসক্তির সমস্যা ব্যবস্থাপত্র

ডা. মো. আখতারুজ্জামান (সেলিম)

এই পর্যায়ে, শিশু সম্পূর্ণরূপে মাতাপিতা, মূল শুশ্রুষাকারী হিসাবে বিশেষ করে মাতার ওপর নির্ভরশীল থাকে। মৌলিক বস্তুগত এবং আবেগীয় প্রয়োজন ভালোভাবে পূরণ হলে শিশু নিজেকে নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ মনে করে। কিন্তু, শিশুর মৌলিক প্রয়োজন, যেমন খাদ্য বা পর্যাপ্ত ভালোবাসা এবং আদর পূরণে শুশ্রুষাকারী সামঞ্জস্যহীন হলে শিশু আস্থা স্থাপনে অক্ষম হয়, সতর্ক, থাকে এবং পৃথিবীকে সামঞ্জস্যহীন এবং অনুমান অযোগ্য চিন্তা করে।

পূর্ব প্রকাশের পরঃ

পর্যায়১ঃ জন্ম থেকে একবছর  বয়স

দন্ধ্বঃ আস্থা বনাম অবিশ্বাস (ট্রাস্ট ভার্সাস মিসট্রাস্ট)

এই পর্যায়ে, শিশু সম্পূর্ণরূপে মাতাপিতা, মূল শুশ্রুষাকারী হিসাবে বিশেষ করে মাতার উপর নির্ভরশীল থাকে। মৌলিক বস্তুগত এবং আবেগীয় প্রয়োজন ভালোভাবে পূরণ হলে শিশু নিজেকে নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ মনে করে। কিন্তু, শিশুর মৌলিক প্রয়োজন, যেমন খাদ্য বা পর্যাপ্ত ভালোবাসা এবং আদর পূরণে শুশ্রুষাকারী সামঞ্জস্যহীণ হলে শিশু আস্থা স্থাপনে অক্ষম হয়, সতর্ক থাকে এবং পৃথিবীকে সামঞ্জস্যহীন এবং অনুমান অযোগ্য চিন্তা করে।

পর্যায়২ঃ বছর বয়স

দ্বন্ধ্বঃ স্বাধিকার বনাম লজ্জা এবং সন্দেহ (অটোনমি ভার্সাস শেম এন্ড ডাউট)

সম্পূর্ণ নির্ভরশীল অবস্থা থেকে শিশু এখন তার কিছু কাজ নিজে করার চেষ্টা করে এবং আত্মবিশ্বাস জন্মায়। নিজে খাওয়া বা পোশাক পরা  এবং নিজে নিজে মলমূত্র ত্যাগ করা ইত্যাদি  শিশুর নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীনতার অনুভূতির অভিজ্ঞতা হয়। মাতাপিতার ধৈর্য্য এবং উৎসাহ শিশুকে সহায়তা করে, কিন্তু মাতা পিতার অতিরিক্ত চাহিদা বা কঠোর বিধিনিষেধ বা প্রথমদিকে স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রচেষ্টাকে ব্যঙ্গ করলে লজ্জা এবং সন্দেহ তৈরি হয়। ‘ইচ্ছার’ অনুভূতি এবং স্বাধীনভাবে করতে পারার সক্ষমতা এই পর্যায়ের মূল বৈশিষ্ট্য।

পর্যায়৩ঃ প্রাক বিদ্যালয় বছর ()

দ্বন্ধ্বঃ উদ্যোগ বনাম অপরাধ (ইনিসিয়েটিভ ভার্সাস অপরাধবোধ)

এই পর্যায়ে নতুন জিনিস চেষ্টা করে দেখার শিশুর কৌতূহল এবং উদ্যোগকে ভারসম্যপূর্ণ বিধিনিষেধ এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তা দিয়ে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত বিধি নিষেধ স্থাপন করলে এমনি স্বাভাবিক খেলাধুলাকে নিষেধ করলে শিশু অপরাধবোধ করে। স্বাধীনতার সাথে আত্মানিয়ন্ত্রণের ভারসম্য এই পর্যায়ের মূল চাবি কাঠি।

উৎসাহ এবং যর্থাথ্য পছন্দ করতে সহায়তা করলে শিশু কাজকর্ম করার উদ্যেগ নেয় এবং সক্ষমতার অনুভূতি অর্জন করে। অনেক বেশি অননুমোদনের অভিজ্ঞতা হলে, নিষেধাজ্ঞা থাকলে বা অধারাবাহিক হলে তা আত্ম সন্দেহের এবং অপরাধের অনুভূতি হয়, ফলে উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হয়।

পর্যায়৪ঃ ১২ বছর বয়স

দ্বন্ধ্বঃ পরিশ্রস বনাম হীনতা ( ইন্ডাস্ট্রি ভার্সাস ইনফেরিওরিটি)

সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট চাহিদার ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং অর্জন করার দিকে এই পর্যায় দৃষ্টিপাত করে। শিশু দায়িত্বশীল হতে চায়, সঠিক কাজ করে এবং ভালোভাবে করে। সফল হলে কাজ সম্পাদন করার সক্ষমতার অনূভুত হয় এবং গর্ব অনুভব করে। একাজ করতে অক্ষম হলে সাফল্য অর্জনে নিজের সক্ষমতার সন্দেহ করতে আরম্ভ করে। যোগ্যতার অনুভূতির উন্নয়ন এ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

পর্যায়৫ঃ ১২১৮ বছর বয়স (বয়ঃসন্ধিকাল)

দ্বন্ধ্বঃ পরিচিতি বনাম ভূমিকা বিহ্বলতা ( আইডেন্টিটি ভার্সাস রোল কনফিউশন)

বিকাশের ক্রান্তিকাল কেন ব্যক্তি হবে কিশোর তা সিদ্ধান্ত নেয়। বন্ধু এবং আদর্শ ব্যক্তির বিরাট প্রভাব রয়েছে। তারা অনেক প্রকার কাজকর্ম পরীক্ষামূলকভাবে করতে চায়, ফলে ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে দ্বন্ধ্ব তৈরি হয়।

নিজের কর্মজীবনের (ক্যারিয়ার) লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন এবং অন্যরা যা করতে বলে তার সাথে পরস্পর বিরোধী হতে পারে। আত্ম পরিচিতি অর্জনের ওপর গুরুত্বে দেয়া। সামাজিক মানদন্ড এবং প্রত্যাশায় মধ্যো ভারসাম্য অর্জন করা  এবং তারা কি এবং তারা কি হতে চায়’ এই পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

পর্যায়৬ঃ ১৮৩৬ বছর বয়স

দ্বন্ধ্বঃ অন্তরঙ্গতা বনাম বিচ্ছিন্নতা (ইন্টিমেসি ভার্সাস আইসোলেসন)

বন্ধুত্ব তৈরি জীবনসঙ্গী খুজে নেয়া এবং স্নেহ পেতে সক্ষম এবং অন্যকে ভালোবাসার দ্বারা অন্যের সাথে ঘনিষ্ট হওয়া সক্ষমতাকে অন্তরঙ্গতা বলে। যেসকল মানুষ ব্যক্তি পরিচিতির শক্তিশালী অনুভূতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে তারা এই পর্যায় সহজে অতিক্রম করতে পারে। তারা ঘনিষ্ট এবং অঙ্গীকারবদ্ধ সম্পর্ক অনুসন্ধান এবং তৈরি করে।

পক্ষান্তরে যাদের ব্যাক্তি পরিচিতির অনূভূতি দুর্বল তারা বিচ্ছিন্নতাবোধ করে এবং একাকীত্ব এবং বিষণ্নতায় ভোগে। স্থায়ী সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে এবং সম্পর্ক তৈরি হয় আবার ভেঙে যায়।

পর্যায়৭ঃ ৩৫৬৫ বছর বয়স

দ্বন্ধ্বঃ প্রজননশীলতা বনাম স্থবিরতা (জেনেরাটিভিটি ভার্সাস স্টাগনেসন)

এখানে কর্মজীবন এবং পরিবার এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সহায়তা করার ওপর দৃষ্টি থাকে। প্রজননশীলতা হলো অন্যের প্রতি যত্নশীল এবং এমন কাজ করা যা জগতকে ভালো স্থানে পরিণত করে। তাদের অবদানের স্বীকৃতি, নিজের অর্জনের জন্য গর্ববোধ এবং সন্তানদের বড় হতে দেখা হলে এই পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কোনো ব্যক্তি অবদান রাখতে সক্ষম না হলে এবং মহলায় তথা গোটা সমাজে জড়িত হতে না পারলে ‘স্থবিরতা’ তৈরি হয়। অণ্যকে দোষারোপ করা, অভিযোগ করা,  এবং নিজেকে ও অন্যকে নিয়ে অসুন্তুস্টি তৈরি হয়।

পর্যায়৮ঃ ৬৫ বছর  এবং ততোধিক

দ্বন্ধ্বঃ একীভূত বনাম হতাশা (ইন্টিগ্রিটি ভার্সাস ডেসপেয়ার)

সন্তুষ্টির অনুভূতি নিয়ে অতীতের প্রতিফলন ফিরে দেখতে সক্ষম এবং নিজেকে মূলব্যান অনুভব করা এই বিকাশ পর্যায়ের সাফল্য অর্জনকে চিহ্নিত করে। তাহারা বৃদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করে এবং মৃত্যুকে জীবনচক্রের অংশ হিসাবে গণ্য করে। যেসকল মানুষ  মনে করে তাদের জীবন নষ্ট হয়েছে বা তারা প্রতারিত হয়েছে, রাগ অনুভব করে, এবং বিদ্বেষপূর্ণ, ত্যক্ত বিরক্ত হয় এবং হতাশ হয়ে পড়ে।

. অ্যাডলারিয়ান তত্ব

পটভূমি

  • অ্যালফ্রেড অ্যাডলার ( ১৮৭০ -১৯৩৭) ফ্রয়েডের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তী কালে তার নিজের পন্থা প্রণয়ন করেন।
  • ফ্রয়েডের সাথে অ্যাডলার দ্বিমত করেন এবং তার মতে ব্যক্তিত্ব যার দ্বারা প্রভাবিত হয়।
  • শুধুমাত্র আন্তঃ ব্যক্তিক দ্বন্ধের পরিবর্তে আন্তঃ ব্যক্তিক বিষয় (সামাজিক সংযোগ) (সোস্যাল কানেকটেডনেস)
  • অচেতন ক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব দ্বারা নির্ধারণেল পরিবর্তে চেতন, লক্ষ্য নির্দেশিত, উদ্দেশ্যমূলক কর্মকান্ড। অ্যাডলার ব্যাক্তিক পছন্দ এবং দায়িত্বের ওপর জোর দেন।
  • অ্যাডলার যে প্রয়োজনের ওপর জোর দেন-
  • ক্লায়েন্টকে সামগ্রিকভাবে এবং যে সামাজিক তন্ত্রে বাস করে তার অংশ হিসাবে বিবেচনা করা। তিনিই প্রথম থেরাপিষ্ট যিনি পদ্ধতি পন্থা ( সিস্টেম অ্যাপ্রোচ) প্রয়োগ করেছেন বলে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।
  • ক্লায়েন্টের মূল্যবোধ, বিশ্বাস, মনোভাব এবং লক্ষ্য, এবং তার বাস্তবতার ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষণ (পার্সেপসন অফ রিয়ালিটি), যদিও তা ব্যক্তিনিষ্ঠ।
  • অ্যাডলারের ধারণা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য রুডলফ ড্রিকাসকে কৃতিত্ব দেয়া হয়।

ব্যক্তিত্ব ধারণা  এবং উপসর্গ সৃষ্টি

  • অ্যাডলার তার পন্থার নাম দিয়েছেন ‘ব্যাক্তিক মনোবিদ্যা’ (ইন্ডিভিজুয়াল সাইকোলজি)। যাহোক, তিনি মানুষকে সামগ্রিকভাবে এবং তার জীবনের সকল দিকের সাথে সম্পর্কিত করে বোঝার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

অ্যাডলার পরিবার, বিদ্যালয়, কাজ এবং কৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

  • অ্যাডলার বিশ্বাস করতেন প্রত্যোক ব্যক্তির মধ্যে হীনতার (ইনফিরিওরিটি) অনুভূতি থাকে। যাহোক, এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয় না। হীনতাবোধের কারণে মানুষ যোগ্যতা তৈরি এবং বিশুদ্বতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে। যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করছে তার ভিত্তিতে ব্যক্তিকে বোঝা যেতে পারে, এটাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
  • ব্যক্তি নিজেকে, অন্যদের এবং পৃথিবীকে যেভাবে দেখে তার ভিত্তিতে সে চিন্তা এবং কাজ করার বিশিষ্ট বা বিশেষ উপায় তৈরি করে। এটাকে ‘জীবন শৈলি’ (লাইফ স্টাইল) বা ‘জীবনের পথ মানচিত্র’ রোড ম্যাফ অফ লাইফ) বলে। ব্যক্তির বয়স ৬ বছর হলে এটার বিকাশ হয় এবং পরবর্তী ঘটনা এবং অভিজ্ঞতা এটাকে প্রভাবিকত করে।
  • ঘটনার ব্যাখা বা অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তি যেভাবে দেখে (ব্যক্তিনিষ্ঠ বাস্তবতা) তা প্রকৃত ঘটনার চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূণ বলে বিবেচনা করা হয়।
  • এই ঘটনাগুলোকে ভূলভাবে ব্যাখা করলে অকার্যকারিতা (ডিসফাংসন) হতে পারে।
  • ত্রুটিপূর্ণ অনুমান সংশোধন এবং পরিবর্তন সাধন করলে নতুন জীবনশৈলি তৈরিতে ক্লায়েন্টকে সহায়তা করতে পারে।

উদাহারণস্বরূপ, ব্যাক্তি হয়তো বিশ্বাস করে যে ‍কেউ তাকে নিয়ে চিন্তা করে না এবং সিদ্ধান্ত নেয় সে ভালোবাসার অনুপযুক্ত। এর ফলে ব্যাক্তিটির বিষণ্নতা আরম্ভ হয় এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় যা তার বিষন্নতা আরও বৃদ্ধি পায়। কেউ তাকে ভালোবাসেনা’ তার যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার শিক্ষা সে থেরাপিতে পেয়ে থাকে।

  • ‘সামাজিক আগ্রহ’ (সোশ্যাল ইন্টারেস্ট) অ্যাডলারের আর একটি সুস্পষ্ট ধারণা। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ অর্থপূর্ণভাবে অন্যের সাথে যোগাযোগ এবং অন্যের মঙ্গলের জন্য করতে পারলে তার হীনতাবোধ হ্রাস পায়। বন্ধুত্ব করা এবং অধিকারভূক্ত হওয়ার (বিলংগিং) মনোস্তাত্বিক সক্ষমতা, অবদান রাখা, আত্মমূল্য এবং সহযোগীতা হলো স্বাস্থ্যকর কার্যকারিতার মৌলিক বিষয়। এর কোনো একটিতে অকার্যকারিতা মানসিক বৈকল্য নির্দেশ করে।
  • তিনটি সার্বজনীন জীবনকর্মের ওপর কর্তৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়-
  • বন্ধুত্ব স্থাপন (সামাজিক কর্ম) সোস্যাল টাস্ক।
  • অন্তরঙ্গতা তৈরি করা (ভালোবাসা বৈবাহিক কর্ম) লাভ ম্যারেজ টাস্ক।
  • সমাজে অবদান রাখা ( পেশাগত কর্ম), অকুপেশনাল টাস্ক।

পরবর্তীতে অন্য থেরাপিস্টগণ (ড্রিকাস এবং মোসাক) আত্ম গ্রহণযোগ্যতা এবং অ্যাধ্যাতাত্মিক পরিমন্ডল তৈরি করা (মূল্যবোধ, জীবনের লক্ষ্য  ইত্যাদি এর অর্ন্তভূক্ত)। থেরাপির লক্ষ্য হলো জীবনশৈলি পরিবর্তন এবং সেই কর্মগুলা অর্জন করতে ক্লায়েন্টকে সহায়তা করা।

থেরাপিস্টের ভূমিকা

অ্যডলারিয়ান কাউন্সেলিং চার পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা যায়।

পর্যায়- ১ঃ সম্পর্ক স্থাপন করাঃ থেরাপিষ্ট সমস্যার পরিবর্তে ব্যক্তির ওপর নজর দেয় এবং শ্রবণ, প্রতিক্রিয়া, এবং পরিবর্তন তাদের সক্ষমতায় আশা ও বিশ্বাস প্রকাশ করার মাধ্যমে ইতিবাচক সম্পর্ক স্থাপন করে। আন্তরিক সর্ম্পককে  গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।

পর্যায়-২ঃ মনোস্তাত্বিক গতিময়তা (সাইকোলজিক্যাল ডিনামিক্স)ঃ ক্লায়েন্টের সাথে বিস্তারিত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নিরূপণ করা হয় যেন বোঝা যায়-

  • পরিবার পুঞ্জঃ পারিবারিক আবহমন্ডল, জন্মেরক্রম এবং সাংস্কৃতিক বিষয়।
  • ১০ বছর বয়সের আগের ঘটনা সর্ম্পকে স্মৃতিচারণ
  • অতীত থেকে পাওয়া বার্তায় ত্রুটি সনাক্ত করা

পর্যায়-৩ঃ আত্ম বোধগম্যতা এবং অন্তর্দৃষ্টিকে উৎসাহিত করাঃ নিরূপনে প্রাপ্ত বিষয়কে ব্যাখা করা এবং সতর্কতার সাথে উপস্থাপন করা যেন ব্যক্তি বুঝতে পারে।

  • কি এই আচরণক অনুপ্রাণিত করেছিল
  • এটা কীভাবে সমস্যা সৃষ্টি করেছিল
  • এটা সংশোধনের জন্য কি করা যেতে পারে

পর্যায়-৪ঃ পুনঃ পরিচিতি ( রি অরিএন্টিসন) এবং পুনঃ শিক্ষা (রি এডুকেশন)ঃ তৈরি হওয়া অন্তুর্দৃষ্টি তার জীবন পরিবর্তনে ব্যবহার করা। থেরাপিস্ট শিক্ষক বা দিক নির্দেশকের মতো কাজ করতে পারে এবং তথ্য এবং উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে। পরিবর্তনের কাজে সহায়তা করবেন। এই পর্যায় উৎসাহিতকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে দেখা হয়।

সামর্থ্য এবং প্রতিবন্ধকতা

  • সামাজিক প্রভাবের গুরুত্ব এবং ভাগ্য নির্ধারণে ব্যাক্তির পছন্দের স্বাধীনতা ( ফ্রিডম অফ চয়েস) স্বীকার করা এই পন্থার গুরত্বপূর্ণ শক্তি।
  • সাংস্কৃতিক বিষয়ের গুরুত্ব প্রদান এবং এর নমনীয়তার কারণে বিভিন্ন স্থাপনায় এবং গ্রুপে অ্যাডলারিয়ান পন্থা প্রয়োগ করা সম্ভব করেছে (যুগল কাউন্সেলিং, মাতাপিতার শিক্ষা, দলীয় কাউন্সেলিং ইত্যাদি)।
  • অন্যান্য পন্থায় এই মৌলিক ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রায় সকল পন্থা পরবর্তী অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।
  • এই পন্থার কিছু প্রতিবন্ধিকতা –
  • বর্তমান সমস্যা নিয়ে কাজ করতে অতীত অভিজ্ঞতার বিশদ বিশেষণের উদ্দেশ্য ক্লায়েন্ট স্বীকার নাও করতে পারে।
  • কিছু কৃষ্টিতে প্রত্যাশা করা হয়, থেরাপিষ্ট বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করবেন এবং তাদের সমস্যার সমাধান করবেন। এই পন্থায় থেরাপিষ্ট সমস্যার সাথে খাপ খাওয়ানোর বিকল্প উপায় শিক্ষা দেন, যা হতাশা ব্যাঞ্জক হতে পারে।
  • অ্যাডলারের কিছু ধারণা দ্রব্য ব্যবহার রোগ চিকিৎসায় প্রয়োগ করা যেতে পারে। দ্রব্য ব্যবহার রোগ থাকা মানুষেরা হীনতার অনুভূতির সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রতিক্রিয়া হিসাবে দ্রব্য ব্যবহার করে থাকে। ক্লায়েন্টকে সহায়তা করা যায়।
  • তাদের অতীতের ব্যখাকে পুনঃপর্যালোচনা করা।
  • ত্রুটিপূর্ণ অনুমানকে উদ্দিষ্ট করা
  • তাদের চারপাশের মানুষের সাথে সামাজিক সম্পর্ক জোরাল করা।
  • রিকভারী শক্তিশালি করা।
  • থেরাপি উপকরণ হিসাবে উৎসাহিতকরণের ভূমিকা এবং রিকভারির আশা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা থেরাপিষ্টের অনুমোদন করা প্রয়োজন।
  • কার্যকারিতার ক্ষেত্রে গবেষণা সমর্থন সীমিত।
  • মোটের উপর, অন্যপন্থায় অ্যাডলারের উপস্থাপিত ধারণা ব্যবহার করা হয়ে থাকে, কিন্তু অ্যাডলারিয়ান পন্থা চিকিৎসা অনুশীলনে তার প্রসিদ্ধি হারিয়েছে। কার্লস এবং ইঙ্গলার কার্লসন (২০০৮) এই বলে মন্তেব্য করেছেন, ‘অন্য পন্থায় অ্যাডলারিয়ান ধারণা বেঁচে থাকলেও প্রশ্ন থাকে যার যে অ্যাডলারিয়ান তত্ব একক পন্থা হিসাবে দীর্ঘ মেয়াদে বেঁচে থাকবে কিনা য়

২. ব্যক্তি কেন্দ্রিক থেরাপি পটভূমি

  • কার্ল রজারের ( ১৯০২- ১৯৮৭) কাজ মুলতঃ ব্যক্তি কেন্দ্রিক পন্থার প্রধান ভিত্তি।
  • মনোসমীক্ষণ পন্থা দৃষ্টি দিত অতীতে এবং আচরণগত পন্থা গুরুত্ব দিত অনুশীলনে এই দুই পন্থা থেকে রজারের উপস্থাপন করা পন্থায় সুস্পষ্ট পৃথক ছিল। যেমন ব্যখা করা, শিক্ষা দেয়া, রোগ নিদান, এবং ‘ কাউন্সেলর সবচেয়ে ভালো জানেন’ কৌশলের এই ধারণাগুলোতে রজার প্রশ্ন তোলেন।
  • কার্ল রজার ‘মানবিক পন্থা’ কে (হিউম্যানিস্টিক অ্যাপ্রোচ) জোর দেন যে, সকল মানুষের প্রচ্ছন্ন সম্ভাবনা আছে এবং সঠিক অবস্থা প্রদান কররে স্বয়ংক্রিয় উপায়ে ইতিবাচকভাবে বেড়ে উঠবে।

মানবপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা এবং চিকিৎসাগ পদক্ষেপ

  • ব্যক্তি কেন্দ্রিক থেরাপি ব্যক্তির ওপর নজর দেয়, সমস্যাতে নয়। এ (দৃশ্যমান) পন্থা থেরাপিষ্ট প্রদত্ত ব্যখার পরিবর্তে ক্লায়েন্টের প্রত্যক্ষণ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সমস্যা নিরীক্ষা করে।
  • এই পন্থার দৃঢ় বিশ্বাসের ভিত্তি হলো, নিজেকে আরোগ্য করা, অনুপোযোগী আচরণ ( ম্যাল – এডাপটিভ বিহেভিয়র) থেকে সরে আসা এবং মনোস্তাত্বিক সুস্থতার দিকে চলতে মানুষ সক্ষম)
  • থেরাপির লক্ষ্য হলো তাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সমস্যার সাথে খাপ খাওয়াতে ক্লায়েন্টকে সহায়তা করা।
  • ব্যাক্তি কেন্দ্রিক থেরাপি অসংগত অবস্থায় থাকে, ক্লায়েন্ট যে অবস্থায় আছে এবং যে অবস্থায় যেতে চায়, তারমধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উদাহারণ স্বরূপ, দ্রব্য ব্যবহার রোগের ক্লায়েন্ট তার দক্ষতা এবং অবদানের স্বীকৃতি চায়, কিন্তু দ্রব্য ব্যবহার সংশ্লিষ্ট ক্ষতি এই স্বীকৃতিকে রোধ করে।
  • নিরাপদ পরিবেশ প্রদান করে থেরাপিষ্ট তাদের বিস্তৃতে অভিজ্ঞতাকে অনুসন্ধান এবং কাজ করতে সহায়তা করে। কাউন্সেলিং পরিবেশ ক্লায়েন্ট অনুভব করে যে তাকে বুঝতে পেরেছে, গ্রহণ করেছে, নিরাপদ আছে, ফলে সে সমথ্য হয়।
  • নিজেকে, অন্যকে এবং তাদের অবস্থাকে সঠিকভাবে দেখা।
  • সাংঘর্ষিক এবং এলোমোলো অনূভূতিকে সনাক্ত এবং স্বীকার করা।
  • অতীতে অগ্রাহ্য করা নিজের একটি অংশকে বুঝতে পারা।
  • অ্ন্যকে ‍বুঝে এবং গ্রহণ করে।
  • সংকটকালে প্রয়োগ করলে (অসুস্থতা বা দুর্যোগ), তার কথা শোনা এবং বুঝা হলে শান্তভাব বৃদ্ধি পায়, পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে এবং অধিকতর ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

থেরাপিষ্টের ভূমিকা

  • থেরাপিষ্টের ব্যক্তি বৈশিষ্ট্য এবং ক্লায়েন্ট থেরাপিষ্ট সম্পর্কের মান কার্যকর ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
  • থেরাপিষ্টের মনো ভাবকে সবচেয়ে কার্যকর এবং একমাত্র উপকরণ (টুল) হিসাবে এ পন্থায় বিবেচনা করা হয়।
  • তিনটি গুণ থেরাপিস্টের থাকা প্রয়োজনঃ

১. সংগত অকৃত্রিমতাঃ অন্তঃস্থ অভিজ্ঞতা এবং তার বহিঃ প্রকাশে সাদৃশ্য থাকবে এবং কাউন্সেলর খোলাখুলিভাবে তার চিন্তা, অনূভূতি, বিক্রিয়া  এবং মনোভাব প্রকাশ করবেন। কাউন্সেলর মিথ্যা মুখোশ ধারণ করবেন না (ভান করবেন না) এবং অকৃত্রিমভাবে আস্থা তৈরি করবেন।

২. শর্তহীন ইতিবাচক শ্রদ্ধাবোধ (গ্রহণীয়তা এবং স্নেহ)। কাউন্সেলর ক্লায়েন্টের অনূভূতি, চিন্তা বা আচরণকে ভালো মন্দ বিচার বা মতামত প্রদান করবেন না।  ক্লায়েন্ট যেমন আছে ঠিক তেমনভাবে গ্রহণ করার একটি উপায়।

কাজেই কাউন্সেলরের কাছে গ্রহণীয়তা হারানো ঝুকি ছাড়াই ক্লায়েন্টে নিজেকে অবাধভাবে প্রকাশ করতে পারে। কিছু অনূভুতির বা বিশেষ উপায়ে আচরণ করার ক্লায়েন্টের অধিকার স্বীকার করা এই গ্রহণীয়তার ভিত্তি।  তবে, এর অর্থ এই নয় যে তার সকল আচরণের স্বীকৃতি প্রদান করা হলো।

৩. যথার্থ সমানুভূতিক বোঝাপড়া (অ্যাম্প্যাথেটিক আন্ডাস্টান্ডিং) ( ক্লায়েন্টের কথা বুঝতে পারা) ।  এর সাথে জড়িতঃ

  • ক্লায়েন্টের অভিজ্ঞতা বুঝতে পারা
  • অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল এবং
  • ক্লায়েন্টের অভিজ্ঞতার অনুভূতি সনাক্ত করার সক্ষমতা এর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট তার অনুভূতির সংস্পর্শে আসে এবং তাদের অবস্থা স্বীকার করে।

 

সুত্রঃ Icce Guide Book Colombo Plan


Leave a Reply