মাদক পরিহার করুন

  • 0

মাদক পরিহার করুন

Category : health tips bangla

মাদক পরিহার করুন

মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ব্যাধি,  এটি সর্বগ্রাসা মরণ নেশা। এ নেশার কারণে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। মাদকের  নীল দংশনে তরুন সমাজ আজ বিপন্ন । মাদকের নীল দংশনে তরুন সমাজ আজ বিপন্ন। এর বিষবাষ্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের দেশের প্রতিটি অঞ্চলে। মাদকের বিষাক্ত ছোবল গ্রাস করে চলেছে নতুন প্রজন্মকে। ফলশ্রুতিতে এর বিষাক্ত কামড়ে অকালে ঝরে পড়ছে বহু তাজা প্রাণ। শূণ্য হচ্ছে অনেক মায়ের বুক। সে সন্তানহারা মা বাবার আহাজারিতে দিন দিন ভারী হচ্ছে বাতাস। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোতে এখন শুধু শোকের মাতম। কারা সৃষ্টি করছে এমন দুর্বিসহ পরিস্থিতি ? কারা ছড়িয়ে দিচ্ছে এ ভয়ানক আতংক, কারা কেড়ে নিচ্ছে মায়ের বুক থেকে তার প্রিয় সন্তানকে, দায়ী কারা ? আজ আমরা এমনই এক বৈরি পরিবেশে এবং কঠিন সময়ের মুখোমুখি।

মাদক পরিহার করুন

মাদক পরিহার করুন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাদক কি ? হিরোইন, কোকেন, সিডাকসিন, ইনোকট্রিন, মারফিন, টেট্রাহাইড্রো, ক্যানাবিনল, মথাডন, বিয়ার, কেনা বিসরোসিন, এ্যাবসলিউট এ্যালকোহল, ভেষজ কেনাবিস, গাঁজা, দেশি বিদেশী মদ প্রভৃতি। বর্তমানে ফেনসিডিলিই ব্যবহার হচ্ছে সর্বত্র। এর পরিণাম যে কি হবে তা নিয়ে ভাবলে শরীরে শিহরণ জাগে।

মাদক ব্যবহারে শরীর স্বল্প মেয়াদী প্রতিক্রিয়াঃ মাদক রক্তচাপ কমায় এবং শ্বাস প্রশ্বাসের মাত্রা হ্রাস করে। ক্ষুধা ও যৌন অনুভূতি দ্রুত হ্রাস পায়। মতি বিভ্রম ঘটে এবং তার মধ্যে সতন্ত্রভাব দেখা যায়। শ্বাস প্রশ্বাস ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়। মাদকসেবী ক্রমে ক্রমে নিস্তেজ এবং অবসন্ন হয়ে যায়। হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পেলে রক্তচাপও বৃদ্ধি পায়। চলাফেরার অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। স্মৃতি শক্তি ও মনোযোগের ক্ষমতা সাময়িক হ্রাস পায়্। তাই যে কোন  মূহূর্তে জীবন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। চোখ লালচে হয় এবং মুখ শুকিয়ে যায়। উগ্র মেজাজ, নিদ্রাহীনতা ও রাগান্বিতভাব দেখা যায়। চামড়ায় ফুসকুড়ি, বমি বমিভাব এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অধিকমাত্রায় মাদকসেবী মাতালের আচরণ করে এবং হঠ্যাৎ ঘুমিয়ে পড়ে।

মাদক ব্যবহারে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়াঃ স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। এছাড়া মস্তিস্কে কোষের ক্ষয়প্রাপ্তি ঘটতে পারে। স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা জ্ঞান লোপ পায়। জীবনের সব বিষয়ে নিরাসক্ত হয়ে পড়ে। কোন কোন মাদকদ্রব্য আসক্ত ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। মাদকাসক্ত মেয়েদের গর্ভের সন্তানের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে এবং সন্তানও মাদকাসক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মাদক ব্যবহারে অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষতিঃ শ্বাস প্রণালীতে ক্ষতি- খুসখুসে কাশি থেকে যক্ষা, ব্রঙ্ককাইটিস, নিউমোনিয়া, ক্যান্সার, শ্বাস প্রশ্বাস ক্ষীন হওয়া। চোখের ক্ষতি চোখের মণি সঙ্কুচিত হওয়া, দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। লিভারের ক্ষতি- জন্ডিস, হেপাটাইটিস, সিরোসিস ও ক্যান্সার। কিডনির ক্ষতি- কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, ঘন ঘন সংক্রমণ হওয়া, পরিশেষে কিডনি অকার্যকর হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি। হৃদযন্ত্র ও রক্ত প্রনালীতে ক্ষতি- হৃদস্পন্দন  অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্র বড় হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া। রক্ত কনিকার সংখ্যায় পরিবর্তন, রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা কমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি।

মাদকসেবীদরে চিহ্নিত করার উপায়ঃ

মাদকসেবীদের চিহ্নিত করার স্বাভাবিক লক্ষনগুলো হলো- চোখে সাধারণ আকৃতির চেয়ে  বড় করে তাকানো। হঠ্যাৎ স্বাস্থ্যহানী বা আকস্মিক স্বাস্থ্যবান হয়ে যাওয়া। চোখ ও মুখ ফোলা এবং চোখ লালচে হওয়া। সামান্য বিষয়ে অতিরিক্ত রেগে যাওয়া। অধিক রাত করে ঘুমানো এবং বিলম্বে ঘুম থেকে উঠা। একাকি অন্ধকার নির্জন রুমে সময় কাটানো। উদাসী উদাসীভাব এবং সবকিছুতে ভুল করা। নিকটাত্মীয় এবং পরিবার  পরিজনদের সাহচর্য এড়িয়ে চলা।

পারিবারিক কর্তব্যঃ পারিবারিকভাবে মাদক বা ড্রাগসেবীদের চিহ্নিত করতে পারলে, তাদের উচিৎ কাজ হলো- মাদকে আসক্তির মূল কারণ খুজে বের করা। প্রেমঘটিত কোন কারণ হলে এর সুস্থ সুন্দর সমাধান দেওয়া। মানসিক পারিবারিক চাপ প্রয়োগ না করে তাকে ভালবাসা ও স্নেহের বন্ধনে আরো নৈকট্যে নিয়ে আসা। পরিবারের কেউ অন্তত তার খুব কাছাকাছি হওয়া এবং বন্ধুত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া। সর্বোপরি তাকে বুঝিয়ে মাদক সেবন থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করা।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক ও কলামিষ্ট


Leave a Reply