মানসিক চাপ কমানোর উপায়

  • 0

মানসিক চাপ কমানোর উপায়

Category : health tips bangla

মানসিক চাপ কমানোর উপায়

ডাঃ মো. ফারুক হোসেন

মানসিক চাপ জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানসিক চাপ থাকবেই। আমাদের লক্ষ্য হবে মানসিক চাপ কমিয়ে বা চাপমুক্ত হয়ে জীবন চলার পথে অগ্রসর হওয়া। চুইংগাম চিবালে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা দুটোই কমে। এর কারণ চুইংগাম চিবানোর সময় ব্রেইনে রক্ত চলাচল ঠিকভাবে হয়।

আবার কেউ কেউ বলেন চুইংগামের স্বাদ এবং গন্ধ দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে সহায়তা করে। ঘরের বাইরে সময় কাটানোর ফলে মানসিক চাপ কমে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় ঘরের কাছে হলেও কয়েক মিনিট বাইরে সময় কাটিয়ে এলে মানসিক চাপ কমবে এবং আপনি সতেজ ও চাঙা অনুভব করবেন।

প্রকৃত হাসি আপনার মানসিক চাপ কমায়। তাই যতদুর সম্ভব আমাদের হাসি মুখে থাকা উচিত। ল্যাভেন্ডার সৌরভ যেমন ল্যাভেন্ডার এয়ার ফ্রেশনার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্ততঃ একটি গান শুনুন। গান মানসিক চাপ কমায়। গান ব্রেইনে ডোপামিন নামে একটি রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে থাকে ; যা আপনার মুডকে উজ্জীবিত করে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়। ব্রেথিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনার মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।

শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়ামে লম্বা করে দম নিন এবং ধীরে  ধীরে দম ছেড়ে দিতে হবে। অন্তত দিনে দশবার এভাবে ব্রেথিং এক্সারসাইজ করলে মানসিক চাপ অনেক কমে যাবে।

মানসিক চাপ অনুভব করলে আপনি ডায়েরির পাতায় বা কোনো স্থানে আপনার সমস্যার কথাগুলো লিখুন এভং একটা সময় পর দেখবেন সমস্যার সমাধান আপনি নিজ থেকেই পেয়ে যাবেন। ফলে আপনার মানসিক চাপ থাকবে না।

সামাজিক বন্ধন এবং বন্ধুত্ব মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। আপনার কোনো ভালো বন্ধু থাকলে বা আপনজন কাউকে আপনার সমস্যার কথা খুলে বলুন, দেখবেন মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমে যাবে। তবে আপনার বন্ধু বা আপনজন যদি স্বার্থপর হয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমার বদলে বরং বেড়ে যাবে । তাই আপনার বন্ধু বা আপনজনকে তা আপনাকে জানাতে হবে। প্রতিদিন দিনে অন্তত একবার সকালে বা বিকালে ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন।

একটু হাঁটাচালা, নৌকা চালানো বা শারীরিক পরিশ্রম আপনার মানসিক অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়াম করলে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয় যা মানসিক চাপ কমায় এবং আমাদের মনে আনন্দের সৃষ্টি করে।  এন্ডোরফিন অর্থ এন্ডোজেনাস মরফিন বা সরাসরি আলাহ প্রদত্ত আমাদের কিনতে হয় না।

এন্ডোরফিন নিঃসৃত হলে মনে কোনো ব্যাথা বেদনা থাকলে তা কমিয়ে দেয় এবং মনে আনন্দের সৃষ্টি করে।  একটি কথা সবার জানা দরকার মানসিক চাপ ক্রমাগত চলতে থাকলে মুখের অভ্যান্তরে যেসব রোগ পরিলক্ষিত হয় তা সহজে ভালো হতে চায় না। তাই মুখের রোগ ভালো করতে চাইলে আপনাকে মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে।

শরীরের যত্নে ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন  যা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণে সহায়তা করে থাকে। ভিটামিন ‘ডি’ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সতেজ ও স্বাভাবিক রাখে। ভিটামিন ‘ডি’ দু ধরনের হয়ে থাকে।  একটি হলো ভিটামিন ‘ডি২’ বা এরগোক্যালসিফেরল যা খাদ্য থেকে পাওয়া যায় আর অন্যটি হলো ভিটামিন ‘ডি৩’ বা কোলিক্যালসিফেরল যা শরীরে উৎপন্ন হয় সুর্যের আলো বিকিরণের মাধ্যমে।

ভিটামিন ‘ডি’ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াও মাংসপেশীর কার্যকারিতার সহায়তা করে,  হৃৎপিন্ড সুস্থ রাখে আর মস্তিষ্কের গঠনে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে। ভিটামিন ‘ডি’ মাল্টিপাল স্কেলেরাসিস এবং ডিপ্রেশন বা হতাশায় ঝুকি কমাতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ প্রয়োজন খাদ্য থেকে পাওয়া ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণের জন্য। ক্যালসিয়ামও ফসফরাস মজবুত হাড়ের জন্য প্রয়োজন।

ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে হাড় ক্ষয়, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, এবং সর্বোপরি হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে শিশুদের রিকেটস এবং বড়দের ক্ষেত্রে অস্টিওম্যালেশিয়া হতে  পারে। ভিটামিন ‘ডি’ এর পরিমান স্বাভাবিক থাকলে মাল্টিপল স্কেলেরোসিস হওয়ার ঝুকি কমে যায়।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায় ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে। এছাড়া ভিটামিন ‘ডি’ এর পরিমাণ কম হলে মোটা হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়। ভিটামিন ‘ডি’ এর পরিমাণ কম হওয়ার সাথে ডিপ্রেশন  বা হতাশার যোগসুত্র থাকতে পারে। তাই এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধের সাথে ভিটামিন ‘ডি’ প্রয়োগ করলে ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলো কমে যায়।

গবেষণায় দেখা যায় ভিটামিন ‘ডি’ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে বা ক্যান্সারের ঝুকি কমায়। ভিটামিন ‘ডি’ পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে দন্তক্ষয় ও পেরিও ডেন্টাল রোগ দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায় চর্বিযুক্ত মাছে যেমন- সালমন মাছ, গরুর কলিজা, ডিমের কুসুম, দুধ ইত্যাদি খাবার। অতএব সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য ভিটামিন ‘ডি’ যেহেতু অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আমাদের শরীরে এর কোনো অভাব না হয়।

লেখকঃ মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

মোবাইলঃ ০১৮১৭- ৫২১৮৯৭


Leave a Reply