মায়ের ‍দুধ কিভাবে তৈরি হয়

  • 0

মায়ের ‍দুধ কিভাবে তৈরি হয়

Category : Health Tips

মায়ের ‍দুধ কিভাবে তৈরি হয়

প্রতিটি মা চান তার শিশুর সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি ঘটক শিশুর সঠিক সুস্থ স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং পুষ্টির জন্য দরকার মায়ের বুকের পর্যাপ্ত দুধ। মায়ের বুকের দুধে আছে শিশুর ৫ মাস পর্যন্ত সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সঠিক উপাদান। শিশুর জন্মের পরে মায়ের বুকে দুধ নামতে থাকে সৃষ্টিকর্তারই নির্দেশে সন্তানের জন্মের পরে মায়ের শরীর প্রস্তুত হয়ে ওঠে শিশুকে তার পরিপূরক সঠিক খাবার দেয়ার জন্য। শিশুর জন্য সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ট খাবার হচেছ মায়ের বুকের দুধ। কেননা এই দুধে আছেঃ

১) পর্যাপ্ত আমিষ

২) পর্যাপ্ত চর্বি

৩) প্রচুর পরিমাণে শর্করা যা গরু, ছাগল, মহিষ ইত্যাদির দুধের তুলনায় অনেক বেশি।

৪) পর্যাপ্ত ভিটামিন

৫) পর্যাপ্ত লৌহ সে জন্য যে শিশুর মাতৃদুগ্ধ পান করে তাদের জন্ম থেকে ৯ মাস পর্যন্ত লৌহ ঘাটতি জনিত রক্ত শূণ্যতা হয় না।

৬) মায়ের দুধে ও নামে এমন একটি উপাদান আছে  যা শিশুর মস্তিস্কের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ফলে শিশুর বুদ্ধি বাড়ে।

৭) পর্যাপ্ত পানি যা নাকি অত্যন্ত গরমকালেও শিশুর চাহিদা মেটাতে সক্ষম। পর্যাপ্ত লবণ, ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট যা শিশুর শরীরে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়। পক্ষান্তরে গরুর দুধেল অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শিশুর অপরিপক্ব কিডনির ওপরে চাপ সৃষ্টি করে।

৮) মায়ের দুধে আছে লাইপেজ নামে একটি এনজাইম যা শিশুর জন্য চর্বি হজম করতে সাহায্য করে। সুতারাং পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ শিশুকে খাওয়ালে শিশুর ৫ মাস পর্য্নত কোন রকম দুধ, অন্য বাড়তি খাবার এমনকি পানিরও প্রয়োজন নেই।

পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ খাওয়াতে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে মায়ের বুকে শিশুর সংস্থাপন এবং শিশুর ও মায়ের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা।

মায়ের অবস্থান বা এবং শিশুর অবস্থান।

১) মা শিশুকে আরাম করে বসে খাওয়াতে পারেন। প্রয়োজনে হাতের নীচে বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। মাকে সোজা হয়ে অথবা হেলান দিয়ে বসে শিশুকে বুকের যত কাছাকাছি সম্ভব টেনে নিতে হবে। সামনে ঝুকে বসবেন না। হেলান দিয়ে বসলে মা অনেকক্ষণ বসে থাকতে পারবেন। পিঠে ব্যথা করবেন না।

২) যে মা শুয়ে খাওয়াতে পছন্দ করেন তাকে শিশুকে একইভাবে বুকের কাছে টেনে নিতে হবে।

৩) শিশু পুরোপুরি মায়ের বুকের দিকে ঘুরানো থাকবে।

৪) শিশুর বুক মায়ের বুকে এবং শিশুর পেট মায়ের পেটের সাথে লাগবে।

৫) শিশুর মাথা ঘাড় এবং শরীর একটি সরল রেখা তৈরি করবে। তাতে শিশুর ঘাড় বাকানো বা twisted থাকবে না। ঘাড় বাকানো থাকলে শিশু আরাম করে পেট ভরে খেতে পারে না- পেট ভরার আগেই স্তন ছেড়ে দেবে।

মায়ের বুকে শিশুর সংস্থাপন

১) মা শিশুকে এবার স্তনের বোটা শিশুর ওপরের ঠোটে কয়েকবার লাগাবেন- তাতে শিশু বড় করে হা করবে। শিশু হা করলে তার মুখে বোটাসহ স্তনের কালো অংশ ঢুকিয়ে দিতে হবে। কেননা বুকের কালো অংশের নীচে দুধ জমা থাকে। শুধু বোটা মুখে দিয়ে চুষলে শিশু সামনের ‍দুধ বা যাতে পানির পরিমাণ বেশি সেই দুধ খাবে এবং শিশুর পেট ভরবে না। বোটার পাশের কালো অংশসহ যখন শিশু চোষে শিশুর পেট ভরে ঘন দুধ যা পিছনের দিকে থাকে তা খেতে পারবে।

২) মা প্রয়োজনে শিশুর ঘাড়ের নীচে হাত দিতে পারেন,  কিন্তু কখনই মাথায় হাত দিবেন না। মাথায় হাত দিলে শিশু বিরক্ত হয়।

৩) শিশু দুধ খাবার সময় একটি তৈরি করে খায়। প্রশ্বাসের জন্য চোষে গেলে থামে শিশুর প্রশ্বাস নেবার জন্য চুপ করে থাকা দেখে অনেক মা শিশু আর দুধ খাবে না বলে ধরে নিয়ে শিশুকে বুক থেকে ছাড়িয়ে নেন। সেই সময় অনেক মা শিশুকে সজাগ করার উদ্দেশ্য গালে টোকা দেন। গালে টোকা দিলে শিশু স্তন ছেড়ে দিয়ে গালের জায়গায় স্তন আছে মনে করে ঘড়ি ঘুড়ায়। এতে শিশু বিভ্রান্তি হয় এবং কান্না শুরু করে। তাই কখনও দুধ খাবার সময় শিশুর গালে টোকা দেয়া ‍উচিত নয়। এতে শিশু তার অনুসারে বিভ্রান্ত হয়ে দিক পরিবর্তন করবে।

৪) শিশু যখন একটি স্তন খেয়ে নিজের থেকেই ছেড়ে দেবে তখন তাকে অন্য স্তনটি দিতে হবে। অন্য স্তনটি খাবার পরে শিশুকে আবার প্রথম স্তনটি আবার দেয়া যায়। যদি শিশুর পেট না ভরে থাকে- তাহলে সে আবার প্রথম স্তনটি চুষবে। ২য় স্তনটি চোষার কারণে প্রথমে স্তনে দুধ তৈরি হতে থাকে। তাই প্রয়োজনে শিশুকে আবার প্রথম স্তন দেখা যায়। কখনই শিশুর মুখ থেকে জোর করে স্তন ছাড়াতে নেই।

সঠিকভাবে শিশুর মায়ের বুকে সংস্থাপিত হয়েছে তার লক্ষণ

       ১) শিশুর শরীর মায়ের শরীরের যথাসম্ভব কাছাকাছি থাকেব।

২) শিশুর মুখ স্তনের দিকে পুরোপুরি ফেরানো থাকবে।

৩) শিশুর মুখ স্তনের দিকে পুরোপুরি ফেরানো থাকবে।

৩) শিশুর মুখ স্তনের বড় হা করা থাকবে।

৪) শিশুর থুতনি মায়ের স্তনে লাগানো থাকবে।

৫) শিশুর নীচের ঠোট নীচের দিকে বাকানো থাকবে।

৬) শিশুর মুখে স্তনের বোটা এবং কালো অংশ ঢুকানো থাকবে। এতে বোটার নীচের দিকে প্রায় পুরো কুলো অংশ শিশুর মুখের মধ্যে থাকবে।

৭) শিশু খাচ্ছে এবং গিলছে এটা বাইরে থেকে দেখা যাবে।

৮) খাবার সময় শিশুর দুই গাল ফুলে উঠবে।

৯) খাবার সময় শিশুর গোলার শব্দ শোনা যাবে।

১০) খাবার পরে শিশু পরিতৃপ্ত থাকবে এবং কান্নাকাটি করবে না।

১১) শিশুকে খাওয়ার সময় এবং খাওয়াবার পরে মা বোটাতে কোন ব্যথা অনুভব করবেন না।

সঠিকভাবে সংক্ষিপ্ত হয়নি তার লক্ষণ

১) শিশুর শরীর মায়ের যথা সম্ভব কাছে এবং পুরোপুরি ফেরানো নেই।

২) শিশুর থুতনি মায়ের বুকে লাগানো নেই।

৩) শিশু খুব ছোট করে হা করে আছে।

৪) শিশুর ঠোট সোজাসুজি আছে অর্থ্যাৎ নীচের দিকে বাকানো নেই।

৫) শিশু দ্রুত চুষছে।

৬) চোষার সময় শিশুর গাল চুপসে আছে ভেতর দিকে।

৭) শিশু দুধ খাবার পরে পরিতৃপ্ত হয় না।

৮) মা বোটায় ব্যথা পান।

শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে তার লক্ষণ

১) শিশু দিনে ৬ বারের বেশি প্রস্রাব করে (২৪) ঘন্টায়।

২) শিশুর ওজন সঠিকভাবে বাড়ে। জন্মের পরে প্রথম সপ্তাহে শিশু কিছুটা ওজন হারায়। (জন্ম ওজনের ১০%) শিশুর শরীরে জন্মের সময় যে বাড়তি পানি থাকে যা মায়ের পেটে থাকাকালীন শিশুর শরীরে জমা হয় সেই পানির ওজনটুকুই শিশু জন্মের পরে হারায়। কিন্তু শিশুকে পর্যাপ্ত ‍বুকের দুধ খাওয়ালে শিশু ২-৩ সপ্তাহে মধ্যেই তার জন্ম ওজন ফিরে পায়। প্রথম ৬৫ মাস পর্যন্ত শিশুর দিনে ১৮- ৩০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি পায়। মোটামুটি হিসেবে ৬ মাসে শিশুর ওজন জন্ম ওজনের ২ গুন হয় এবং ১ বছরে হয় ৩ ‍গুন। প্রতিমাসে শিশু ৫০০ – ৬০০ গ্রাম বাড়লেও সঠিক। ওজন বাড়ছে বলে ধরা যেতে পারে।

৩) দিনে ৮ -১২ বার শিশু দুধ খায়।

৪) শিশু দুধ খাবার ফাকে পরিতৃপ্ত থাকে।

৫) দিনে শিশু ৩-৮ বার পায়খানা করে। শিশু দিনে দিনে বড় হয় এবং পায়খানার পরিমাণও কমতে থাকে। তবে এটা কোন কোন শিশুর অভ্যাসের উপরও নির্ভর করে।

ডাঃ শাহেদা পারভীন


Leave a Reply