মোবাইল ফোন এবং ক্যান্সার

  • 0

মোবাইল ফোন এবং ক্যান্সার

মোবাইল ফোন এবং ক্যান্সার

 

ব (শেষে মানুষের শরীরে সম্ভাব্য ক্যান্সার উপাদানের তালিকায় আমাদের নিত্য ব্যবহার্য অতিপ্রিয় মুঠোফোনের নামও উঠেছে। সম্প্রতি ক্যান্সার গবেষণার আর্ন্তজাতিক সংস্থার (International Agency for Research on cancer, IARAC) ১৪টি দেশের ৩১ জন ক্যান্সার গবেষক ফ্রান্সের একটি শহরে অনুষ্ঠিত সভায় মুঠোফোনের ব্যবহারের সময় যে বিদ্যুৎ চৌম্বক তরঙ্গের সৃষ্টি হয় তা ২ বি’ ক্যাটাগরির ক্যান্সার সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ ধরণের বিদ্যুতে চৌম্বক তরঙ্গ গ্লায়োমা নামে পরিচিত মারাত্মক ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

মোবাইল ফোন এবং ক্যান্সার

মোবাইল ফোন এবং ক্যান্সার

এতদিন পর্যন্ত মুঠোফোন ব্যবহারে সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্কটি তেমন সু প্রতিষ্ঠিত ছিল না। ২০১০ পর্যন্ত বলা হয়েছে মোবাইল ফোনের সঙ্গে ক্যান্সারের কোন সম্পর্ক পাওয়া যায় নি। এ সম্পর্কে ডেনমার্কের যে গবেষণার ফলফলের উদ্বৃতি দেওয়া হতো তা ৪২০০০ মানুষের ওপর পরিচালিত হয়েছিল। ১৩টি দেশের ৬০০০ মস্তিষ্কের ক্যান্সারের রোগীরা ওপর একটি জরীপের ফলাফলেও বলা হয়েছিল যে তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্যান্সারের কোন সম্পর্ক নেই। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেল সাধারণত যে কানে মোবাইল ফোনে বেশি সময় ধরে কথা বলা হয় সেই দিকে। মস্তিষ্কের ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি। কিন্তু মোবাইল ফোন ব্যবহার কারীদের মধ্যে সার্বিক ভাবে ক্যান্সারের হার বেশি নয়।   অনেকে যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে আসলে মুঠোফোন ব্যবহারকারী গণ ঠিকভাবে মনে করতে পারেন নি তারা কোন পাশে বেশি ফোন ধরে কথা বলে থাকেন। যা হোক এ নিয়ে বিভিন্ন দেশে নান রকম পর্যবেক্ষণ  এবং গবেষণা চলছিল।

১৯৮০ দশকে মুঠোফোনের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। মুঠোফোন যদি ক্যান্সারের কারণ হয়ে থাকে তাহলে মস্তিষ্কের ক্যান্সারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোন প্রমাণ মিলছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড মস্তিষ্কের ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা সামান্যই বেড়েছে। ব্রিটেনে এ সংখ্যা অনেকদিন অপরিবর্তিতত আছে। অবশ্য মস্তিষ্কের ক্যান্সার সৃষ্টি হতে দীর্ঘ সময় লাগে। সুতারাং আগামী পাঁচ কিংবা দশ বছর ধরে পরে এ সংখ্যা বাড়বে কি না তাই এখনই বলা যাচ্ছে না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে কেন ক্যান্সার হবে ? এখন পর্যন্ত এর কোন সদুত্তর মেলে নি। মুঠোফোন থেকে রেডিও তরঙ্গ শক্তি নির্গত হয়। কিন্তু এই রেডিও তরঙ্গের পরিমাণ এতই কম যে তা মানুষের কোষের ডি এন এ বিনষ্ট করার জন্য বা কোনো রকম বদল ঘটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে একজন মুঠোফোন ব্যবহারকারী কতটুকু রেডিও তরঙ্গের মুখোমুখি হবে, তা অনেকগুলো নিয়ামকের উপর নির্ভরশীল।

  • মুঠফো কল এর সংখ্যা এবং কথা বলার স্থায়ীত্ব কাল।
  • বেস স্টেশন থেকে মুঠোফোনের দুরুত্ব
  • কোনো বিশেস সময় সেলফোনের ব্যবহার কারীর সংখ্যা।
  • মুঠোফোনে রেডিও তরঙ্গ প্রবাহের মান
  • হ্যান্ডসেটের আকার এবং গঠন।
  • মুঠোফোনে রেডিও তরঙ্গ প্রবাহের মান
  • হ্যান্ডসেটের আকার এবং গঠন
  • মুঠোফোন হাতে না ধরার জন্য কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা ইত্যাদি। অনেক দেশেই মুঠোফোন ব্যবহারের রেডিও তরঙ্গ নিঃসরণ নিরাপদ মাত্রা মেনে চলার নির্দেশিকা রয়েছে।
  • এটা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যেন শিশুরা মুঠোফোন ব্যবহার করলেও তা কোন বিপদের কারণ হবে না। আর মুঠোফোনের বেস স্টেসনের আশে পাশে বসবাসকারীদের নিরপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে এ সমস্ত স্টেশনের আশে পাশে যে রেডিও তরঙ্গ নিঃসৃত হয় তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুকি সৃষ্টি করে না। তবে মুঠোফোন ব্যবহার করার কারণে এই বিপত্তি ঘটেছে।

যা হোক ‍মুঠোফোন আধুনিক প্রযুক্তি। যে কোনো নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ  এবং ব্যবহার নিয়ে মানুষের শংকা এবং সংশয় থাকাটা স্বাভাবিক। এতদিন পর্যন্ত মুঠোফোনের ব্যবহার নিয়ে যে সকল গবেষণা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে দীর্ঘ ১০ বছর মুঠোফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু আরও দীর্ঘ মেয়াদি ব্যবহারের ফলাফল আমরা জানিনা। কিংবা শিশুরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে, তার কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া আছে কিনা আমরা জানিনা। এজন্য সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে কতগুলি সর্তকতামুলক নির্দেশনা দিয়েছে। আর এ সকল সতর্কতার মূলে বার্তাটি হচ্ছে মুঠোফোন থেকে নির্গত রেডিও তরঙ্গের মস্তিস্কের সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টি করার ক্ষমতা রয়েছে। এ সম্পর্কে আরও দীর্ঘ মেয়াদী পর্যবেক্ষনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখন মুঠোফোন ব্যবহার গ্রুপ-২ বি জাতীয় ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত এটাকে একেবারে বিপদমুক্ত ঘোষণা না দেওয়া হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের সতর্কতা মূলক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। মার্কিন জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিস্টিউটের নির্দেশণায় সম্ভাব্য ঝুকি  এড়ানোর জন্য বলা হয়েছে-

  • মোবাইল কালের সংখ্যা সময় কাল কম রাখাটাই নিরাপদ
  • ল্যান্ডফোন থাকলে সেটা ব্যবহার করা নিরাপদ।
  • মোবাইল থেকে মস্তিষ্কের যথেষ্ট ব্যবহার রাখার জন্য বিশেষ ধরনের হস্ত মুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • ১৬ বছরের কম বয়সীরা মুঠোফোন ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কারণ এ বয়স পর্যন্ত কোমলমতি শিশু কিশোরদের স্নায়ু ও মস্তিষ্কের নানা রকম গঠনমুলক বৃদ্ধি হয়ে থাকে। সবচেয়ে মনে রাখতে হবে প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে শ্রেয়।

ডাঃ এ আর, এম, সাইফুদ্দিন একরাম।

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মেডিসিন বিভাগ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী।


Leave a Reply