যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

  • 0

যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

Category : health tips bangla

যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

 

যক্ষা বা টিবি নামক মারাত্মক ব্যাধিটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত, যক্ষাকে ক্ষয়রোগও বলা হয়। বিশ্বের  একটি জটিল সংক্রামক ব্যাধি হচ্ছে যক্ষা। কোন এক সময়ে মানুষের ধারণা ছিল “হয় যদি যক্ষা নাই তবে রক্ষা। এখন এ ধারনাটির আর কোন ভিত্তি নেই। কারণ তখন যক্ষা বা টিবি র রোগ জীবানু সম্পর্কে চিকিৎসকদের কোন ধারণা ছিল না,  এর ফলে এ রোগটি প্রতিকারের কোন পন্থা তাদের জানা ছিল না। বর্তমানে যক্ষার রোগ জীবানু আবিষ্কারের সাথে সাথে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়েরও ওষুধ  বের হয়েছে।

যক্ষা বা টিবির রোগ জীবানু শ্বাসের সাথে শ্বাসনালীর সাহায্যে মানুষেল শরীরে প্রবেশ করে।  এ রোগটি সংক্রমিত হয় মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক অতি ক্ষুদ্র জীবানুর মাধ্যমৈ। এই জীবানু বাতাসে অনেক সময় ধরে জীবিত থাকতে পারে।

যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

আমরা অনেকে মনে করে থাকি যক্ষা বা টিবিতে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির পাশে বসলেই যক্ষা হয়ে যায়। কিন্তু এ রোগটি এভাবে কখনও সংক্রমিত হয় না। এটি সংক্রমিত যক্ষা রোগীর হাচি, কামি, কফ মলমুত্র ইত্যাদির দ্বারা। এছাড়াও যক্ষা রোগের জীবানু বন্ধ, স্যাঁতস্যাঁতে ও জনাকীর্ণ পরিবেশে খুব দ্রুত রোগ বিস্তার করে থাকে।

যে কোন সময় যে কোন বয়সের মানুষ এ ব্যাধির কবলে পড়তে পারে। যক্ষা জীবানু মানুষেরে দেহে প্রবেশের কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছরের মধ্যে  এ রোগের প্রকাশ ঘটে। সাধারণত দরিদ্র লোকদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। কফ এবং কাশি হচ্ছে যক্ষার প্রধান লক্ষণ। প্রাথমিক অবস্থায় কাশি, কফ এবং সামান্য জ্বর দিয়ে এ ব্যাধিটির শুরু হয়। ধীরে ধীরে আরো নানা ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। যেমন- খাবারে অনীহা,  শরীরের ওজন অল্প অল্প করে হ্রাস পাওয়া,  বিষাদগ্রস্থতা, মাঝে মাঝে রাত ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া ইত্যাদি। কোন কোন যক্ষা রোগীর কফ বা কাশির সঙ্গে রক্ত নির্গত হয়। কফের সাথে যে রক্ত বের হয় তা খুব বেশি লাল হয়ে থাকে। যক্ষা রোগীদের রোগের শুরুতে যে জ্বর হয় তা সাধারণত বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে থাকে কিন্তু সকালের দিকে রোগীর গায়ে আর জ্বর থাকে না। কোন ব্যাক্তির কাশি যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয় তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এ রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে সুষ্ঠু চিকিৎসার মাধ্যমে যক্ষা সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।

যক্ষা বা টিবি রোগীদের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত কফ পরীক্ষা করে থাকেন। কফের সাথে যক্ষার জীবানু পাওয়া গেলে তারা এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত হন। আক্রান্ত ব্যাক্তির হাচি, কাশি, কফ,  থুথু থেকে নির্গত জীবানু সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দেহে প্রবেশ করে যক্ষা ব্যাধিটি সংক্রমিত করে থাকে। এছাড়াও রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্রের দ্বারা যক্ষা সংক্রমিত হয়।

যক্ষা বা টিবি হলে এখন আর আতঙ্ক বা দুঃচিন্তার কোন কারণ নেই। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এর অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীলা এ ব্যাধিটিকে সম্পূর্ণ হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। যক্ষার চিকিৎসা হয় বিভিন্ন মেয়াদে। ৬ মাস, ৯ মাস,  ১২ মাস এবং ১৮ মাস পর্যন্ত ও এর চিকিৎসা হয়। তবে অধিকাংশ যক্ষাই ৬ মাসের চিকিৎসাতেই সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। অন্য ব্যাধির চিকিৎসার তুলনায়। এ রোগের চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। তাই যক্ষা বা টিবি রোগীদেরক সুস্থ জীবনের জন্য ধৈর্য সহকারে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

 

ডাঃ এ কে এম মোস্তফা হোসেন

অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন


Leave a Reply