রাতে সুনিদ্রা ও দেহমনের কুশল

  • 0

রাতে সুনিদ্রা ও দেহমনের কুশল

Category : Health Tips

রাতে সুনিদ্রা ও দেহমনের কুশল

ঘুমের ঘাটতি হলে শরীর, মন এবং গোটা স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ে নানা ভাবে। জানলে অবাক হবার মতো।

গবেষণা করে দেখা গেছে, দিনের পর দিন ‍ঘুম কম হওয়া, ঠান্ডা জ্বর, ফ্লু, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এমনকি স্থুলতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাহলে প্রশ্ন তো উঠতেই পারে, ভাল ঘুম হলে কি অসুখ থেকে রক্ষা হয় শরীরের ? উত্তরটি ইতিবাচক।

শিকাগোর নর্থশোর স্লিপ মেডিসিনের প্রতিষ্ঠাতা লিসা পাইডস বলেন, ঘুম হলো শান্ত নিস্তব্ধ এক সময় যখন দেহ কোষের অনেক মেরামতি কাজকর্ম চলতে থাকে। ‍ঘুমের সময় দেহের হরমোনগুলো এমনকি দেহরক্ষা ব্যবস্থাও কাজ করে অন্যভাবে। দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি ঠিকমতো না চলে তাহলে অসুখ এড়াবো কি করে ? শরীরের ক্ষয়প্রবণ চলবে কেন?

শরীরের কিছু সমস্যা আরও জটিল হয় ঘুম কম হলে। দেখা গেছে রাতে অন্তত ৭ ঘন্টা নিরুপদ্রব ঘুমালে বেশ উন্নত হয় স্বাস্থ্যকুশল।

  • ঠান্ডা লাগা, ফ্লু ও নিদ্রার সঙ্গে এর সম্পর্ক

ঘুমের ঘাটতি হলে শরীর ম্যাজম্যাজ করে, কেমন ভাল লাগে না যেন। শরীর যে সংরক্ষনের প্রতি নতজানু তা বোঝা গেল। ওহাইও স্লিপ ডিসঅর্ডারস সেন্টারের ডক্টর ডোনা এরাল্ড বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর সংক্রমণ প্রবণ হয়ে যায় আর একে ঠেকানোও কঠিন হয়ে যায়। দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়াতেই এমন হলো। তখন ফ্লু, ঠান্ডা লাগা,  অন্যান্য সংক্রমণকে লড়াই করে পরাজিত করা কঠিনই হবে।

হৃদরোগ ও নিদ্রার সাথে সম্পর্ক

আমেরিকার এক সময়ের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ২০১০ সালে এক সাক্ষাতকারে বললেন, দেহের ধমনীপথ রুদ্ধ হবার কারণে তার যে হাসপাতাল বাস করতে হলো এর মূলে একটি বড় কারণ ছিল কম ঘুম হওয়া। “মাসখানেক আমার ঘুম খুব কম হচ্ছিল, তাই শরীর যা হচ্ছিল তা এজন্য বেশ ত্বরান্বিত হলো।

সম্ভবত ঠিকই বলেছেন প্রেসিডিন্ট ক্লিনটন। ঘুম পর্যাপ্ত না হলে, হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীতে প্রদাহের সাড়া পাওয়া যায় এতো ভাল নয়, বলেন ডোনা এরাল্ড। উচ্চরক্ত চাপ হলেও এমন দেখা যায়। ঘুমের ঘাটতি যদি চলে দীর্ঘদিন তাহলে কণিক প্রদাহ ঘটে। এর সঙ্গে জোরালে সম্পর্ক যেসব রোগের সেগুলো হলো ঃ হ্যার্ট এ্যার্টকা, স্ট্রোক, ও ডায়াবেটিস।

ঘুম ও ডায়াবেটিসঃ পরস্পর সম্পর্ক

টাইপ-২ ডায়াবেটিস মূল অন্তগর্ত সমস্যঅ হলো ইনসুলিন রেমিস্ট্যান্স। শরীর তখন হরমোন ইনসুলিনকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না। কি হলো ? যার কম ঘুম হয়, তখন শরীরে এমন এক অবস্থা যা হয় ইনসুলিন রেজিষ্ট্যান্সের মতোই। ঘুম কম হলে, শরীরে গ্লুকোজ সহযোগীতা ব্যাহত হয়। আমরা জানি ডায়াবেটিস হবার আগে এমন পরিস্থিতি হয় শরীরের ভেতর।

  • মগজের কাজকর্ম, মানসিক স্বাস্থ্য ও ঘুমঃ পরস্পর সম্পর্ক

ঘুমের ঘাটতি যদি ক্রনিক হয়ে যায় তাহলে মনে এমন এক অনুভূতিঃ কাজকর্ম কর্মস্থলে ভালই করে যাচ্ছি, গাড়ি যদি চালাই, নিরাপদে চালাচ্ছি, অথচ ধারণাটি ভুল। গবেষকরা বলেন, ঘুম যাদের কম হয় ড্রাইভ করাটা এদের এত বিপজ্জনক যা মদ্যপ হয়ে ড্রাইভ করার মতোই।

যাদের ঘুমের ঘাটতি এরা নিজের পারফরমান্সকে ভূল বিচার করেন। এরা ভাবেন স্মরণ করি, সমন্বয় কাজ সব ভালই হচেছ অথচ তা হচ্ছে না। শ্রবণশক্তি অনেক দুর্বল হয় ঘুম কম হলে।

  • স্থুল ও নিদ্রাঃ সম্পর্ক

ঘুম কম হরে কি মানুষ স্থুল হয়ে যায় ? বয়স্ক লোক ও শিশুদের মধ্যে অনেকগুলো গবেষণা এদের মধ্যে সম্পর্কটি বিশ্লেষণ করে দেখেছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে ৭-৮ ঘন্টা নিদ্রা যান এদের তুলনায় যারা ৪-৫ ঘন্টা ঘুমান এদের  স্থুল হবার প্রবণতা ৭৫% বেশি। বস্তুত আর এক গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে স্থুলতার েএকটি বড় কারণ হলো রাতে এদের ঘুম কম হওয়া।

কেন এমন হয়? কেউ কেউ বলেন, হরমোন ভারসাম্য টলে যাবার জন্য। ঘুম কম হলে হরমোন লেপটিন মান যায় কমে। লেপটিন হরমোন ক্ষুধা হ্রাস করে। সুসংবাদ হলো এই ক্ষতি পুরণ সহজে দ্রুত। আবার রাতে ভাল ঘুম দিলে সব ঠিক। ভাল না ?

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

পরিচালক ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস

বারডেম


Leave a Reply