শিমের পুষ্টি

  • 0

শিমের পুষ্টি

Category : Health Tips

শীতকালীন সবজি

শিমের পুষ্টি

দেশী শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন সবজি। এটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং সব শ্রেণীর লোকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শিমের কচি শুটির বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও শ্বেতসার থাকে বলে খাদ্য হিসেবে খুবই উপকারী। তাছাড়া এতে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। শিমের ফলকে শুটি বলা হয়। দেশী শিমের শুটি চ্যাপ্টা, দৈর্ঘ্য ৮-১৫ সে. মি. ও প্রস্থে ২.৫-৫ সে. মি। শুটির উপরিভাগ মর্সণ অথবা কোচকানো, ত্বক সবুজ, সাদা, বেগুনি। প্রতিটি শুটিতে ৩-৬টি বীজ থাকে। পরিপক্বতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে বীজের মধ্যবর্তী স্থানে শুটি সংকুচিত হয়ে আসে এতে বীজের অবস্থান সুস্পষ্ট হয়ে যায়। বীজ গোলাকার বা লম্বাটে, কিঞ্চিৎ চ্যাপ্টা, বর্ণে কালো, হলুদ, বাদামী, সাদাটে অথবা একাধিক বর্ণে বিচিত্রত।

দেশী শিম একটি প্রেটিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি। আহার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম কচি শিমে থাকে ৩.৯ গ্রাম প্রোটিন। মানব দেহের ক্ষয়পূরণ ও বদ্ধিসাধনের জন্য প্রোটিন একান্ত প্রয়োজন। এর অভাবে শিশু ও বালক বালিকার দৈহিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

প্রোটিনজনিত অপুষ্টির দরুন মানুষ কৃশকায়,দুর্বল এবং বুদ্ধিবৃত্তির দিক দিয়ে অপুষ্ট হয়। আমাদের দেশে প্রোটিনের অভাব আজকাল এক মারাত্মক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

তাই প্রোটিনের চাহিদা পূরণে আমাদের খাদ্য তালিকায় শিম জাতীয় সবজির প্রতি অধিকতর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। প্রোটিন ছাড়াও শিমে রয়েছে ৮.০ গ্রাম শ্বেতসার, ০.৭ গ্রাম স্নেহ, ২১২ মাইঃ গ্রাম ক্যারোটিন (ভিটামিন এ), ০.১ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.৬ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লেভিন, ০.৭ মিলিগ্রাম নায়াসিন, ৯.০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ১.৭ মিলিগ্রাম লৌহ।

শিমের পাকা বিচিত্রে আছে প্রোটিন ২.৫ গ্রাম, ৬.০০ গ্রাম শ্বেতসার, ০.৮ গ্রাম স্নেহ, ১০০ মাইঃ গ্রাম ক্যারোটিন, ০.৫ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.১ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লেভিন, ১.৮  মিলিগ্রাম নায়াসিন, সামান্য ভিটামিন সি, ৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ২.৭ মিলিগ্রাম লৌহ। এছাড়া শিমের বিচির মধ্যে থাকে ফাইটো কেমিক্যাল ও Protease inhibitors যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তাই স্বাস্থ্যের জন্য শিম খুবই উপকারী সবজি। কচি শিমের ভাজি ও ব্যঞ্জন খুবই সুস্বাদু। পাকা শিমের বিচি ভেজে বা ডাল রান্না করে খাওয়া যায়। অপুষ্টি বাংলাদেশের একটি মারাত্মক জাতীয় সমস্যা। এদেশে নারী পুরুষ শিশু সর্বোপরি অধিকাংশ মানুষই অপুষ্টির শিকার। তবে শিশু ও মহিলারই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ টি শিশু (৬ বছরের নিচে) ভিটামিন ‘এ’ র অভাবে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এদের প্রায় অর্ধেক প্রোটিনের অভাবে প্রথম বছরেই মারা যায় যা অত্যান্ত দুঃখজনক। অথচ শিশুকে নিয়মিত সস্তা দামের শাক আর গাঢ় সবুজ ও হলুদ বর্ণের সবজি খাওয়ালে অপুষ্টির এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই দেহের পরিপুষ্টি এবং দেহকে সুস্থ সবল রাখার জন্য এ সময় বয়স্ক ও শিশুদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশি করে শিমকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।


Leave a Reply