শিশুর যখন কথা বলতে সমস্যা!

  • 0

শিশুর যখন কথা বলতে সমস্যা!

Category : Health Tips

শিশুর যখন কথা বলতে সমস্যা!

ডা. নাভিদ ফারহান

এমবিবিএস (বিএমসিএইচ)

ভাষার বিকাশ

আপনি শুনে হয়তোবা আশ্চর্য হবেন যে, দুই থেকে পাচ বছর বয়সকালে অনেক শিশু তোতলামির মতো বাচনভঙ্গিমা ও কথার অস্বাচ্ছন্দ্য আর অসংলগ্নতা দেখিয়ে থাকে। তবে  এটি সাময়িক ব্যাপার। নির্দিষ্ট সময় পরে এটা এমনিতেই স্বাভাবিক হয়ে আসে। এসময় আপনার কোনো কিছু করার দরকার নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বিকাশ পথে এ সাময়িক বাচন অসঙ্গতির নাম ‘নরমাল ডিসফ্লুয়েন্সি’।

শিশুর তোতলামি

সন্তান যখন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকে তখন মা বাবার মনে কত স্বপ্ন, কত আকাঙ্খা থাকে। এ কারণে শিশুর বিকাশ স্বাভাবিক বিলম্ব পিতা মাতার কাছে অস্বাভাবিক বিকাশ মনে হতে পারে অনেক ক্ষেত্রেই। শিশুর ভাষার বিকাশেও অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। শিশু তো মায়ের পেট থেকে ভাষা শিখে আসে না তাকে পরবর্তীতে এটি শিখে নিতে হয়।

অনেক শিশু সাবলীল ধারাতে এগিয়ে যায়, অনেক শিশুর বেলায় এই মনোবিকাশ ধারা অমসৃণ।

এসব শিশুকে নানা অস্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যদিয়ে এগিয়ে যেতে হয় যা মাতা পিতার প্রচন্ড মনোকষ্টের কারণ দাঁড়ায়। অনেক শিশুর মাঝে ভাষাগত একদম সুস্পষ্ট বিপত্তি দেখা যায়। এ ধরনের একটা অস্বাচ্ছন্দ্যের নাম হলো ‘তোতলামি’।

সুমির কথা

সুমির বয়স ৪ বছর। সুমি কথা বলার ক্ষেত্রে দারুন ত্রুটি দেখাচেছ। এ কারণে মা তাকে স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে নিয়ে  এসেছেন। একবছর আগেও সুমির কাথাবার্তায় এমন কোনো সমস্যা ছিল না। বিকাশে সে অন্যদেশটি শিশুর তুলনায় অপেক্ষাকৃত আগে কথা বলতে শিখেছে। ১৮ মাস বয়স থেকে সে শব্দ বলতে শুরু করে। বর্তমানে সে দীর্ঘবাক্য গুছিয়ে বলতে পারে তবে কথা তেমন বেশি সাবলীল নয়।

কথা বলতে গিয়ে কোনো একটা বর্ণ কে অনেকবার উচ্চারণ করতে হচ্ছে যেমন- আ আ আ আ আমি ভালো আছি। কথার মাঝে আ শব্দটি পরিশব্দ বারবার ব্যবহার করছে। আম্মা আমি আম খেলা করতে যাচ্ছি। স্পিচ থেরাপিস্ট দেখলেন সে কেবল ভাষার উচ্‌চারণে অস্বাচ্ছন্দ্য দেখাচ্ছে না বরং যখন কথা বলে তখন হাত মাথা নাড়াসহ নানা দেহভঙ্গিমা প্রকাশ করে থাকে এর নাম ‘ম্যানারিজম’।

কথার বিকাশে শিশু যে অস্বাচ্ছন্দ্য দেখাচ্ছে তার পরিণতি কী? এটি কি তোতলামি ? নাকি এ অস্বাচ্ছন্দ্য তোতলামিতে রূপ নেবে? কী এর চিকিৎসা ? এ শিশু কি আশপাশের অপর দশটা শিশুর মতো করে গড়ে উঠতে পারবে  না।

মুখের কথা

স্পিচ থেরাপিস্ট সুমিকে দেখে তার ভাষার বিকাশ এ অস্বাচ্ছন্দ্য একদম স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করেছেন। ভাষার বিকাশে অনেক শিশু ভাষার উচ্চারণ রিদমে কমবেশি অস্বাচ্ছন্দ্য আর অসংলগ্নতা দেখিয়ে থাকে। এর নাম নরমাল ডিসফ্লুয়েন্সি।

নামই যেহেতু নরমাল সুতারাং বিষয়টা স্বাভাবিক হওয়াই বাঞ্চনীয়। অনেক শিশুই তাদেরে ভাষার বিকাশে এমন একটা সময় অতিক্রম করে থাকে।

সন্তান যখন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকে তখন মা বাবার মনে কত স্বপ্ন, কত আকাঙ্কা থাকে। প্রত্যেক পিতা মাতাই কামনা তার প্রাণপ্রিয় সন্তান একদম সহজাত ধারায় স্বাচ্ছন্দ্য আর সাবলীলভাবে বেড় উঠবে। এ কারণে শিশুর বিকাশের পথে কোনো অস্বাচ্ছন্দ্য বা প্রতিবেন্ধকতা চোখে পড়লেই পিতা মাতা মারাত্মকভাবে ঘাবড়ে যায়। অনতিবিলম্বে ছুটে যায় চিকিৎসকের কাছে।

মাতা পিতার জানা দরকার

জন্মপরবর্তীতে শিশু বিকাশের ধারায় যখন এগোতে থাকে তখন চলাফেরা, হামাগুড়ি, হাটা সবকিছুই রপ্ত করতে হয়। একবার চিন্তা করে দেখুন শিশু কি একবারের চেষ্টায় হাটতে শিখেছে ? কত কষ্ট করে তাকে দু পায়ের ওপর ভর দিয়ে কোনো কিছু না ধরে হাটতে হয়েছে। প্রথম দিকের হাটাগুলো কতটা অস্বাচ্ছন্দ্য ভরা ছিল। এগুলোকে তো আমরা একদম স্বাভাবিক ধরে নিই। শিশুর কথা বলার বিকাশও এমন ধারায় এগিয়ে থাকে।

দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী বয়সকালে প্রায়ই শিশু অন্তত ক্ষণকালীন এই বাক সমস্যঅ দেখিয়ে থাকে। নরম্যাল ডিসফ্লুয়েন্সি শিশুকন্যা অপেক্ষা শিশুপুত্রদের বেলাতে বেশি দেখা যায়। পরিসংখ্যান হিসেবে তার চারগুন প্রায়। শিশু পুত্রদের মাঝে এর প্রাবল্য বেশি কেন তা জানা যায়নি।

নরমাল ডিসফ্লুয়েন্সি

কথা বলার বিকাশে স্বাভাবিক কথিত এ অস্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে প্রতিটি পিতা মাতার ধারণা থাকা উচিত। আমরা  এ ক্ষেত্রে এর নানাদিক আলোকপাত  করব।

 

ক. কথা বা বাচনের অস্বাচ্ছন্দ্য

নানাভাবে এর প্রকাশ ঘটতে পারে যেমন কোনো শ্বদ বলা সময় প্রথম বর্ণ একাধিকবার উচ্চারণ করতে পারে। (আ আ.. আ… আ.. আমি)। কথার মাঝে দীর্ঘবিরতি আসতে পারে। শিশু কথা বলতে দ্বিধাগ্রস্থ হতে পারে। মানে ইচ্ছা করে অত্যন্ত কম কথা বলে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কথার মাঝে আম আর  এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক শব্দ ঢুকে যায়। বিশেষ করে যখন কথা আটকে যায় তখনই এদের আবির্ভাব বেশি দেখা যায়।

খ. স্থিতিকাল

কতদিন বহাল থাকে বাচনের এ স্বাভাবিক অস্বাচ্ছন্দ্য ? গবেষকরা বলে থাকেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জোর কয়েক সপ্তাহ থাকে। কয়েকজনের বেলাতে তা বেশ কয়েক মাস স্থিতি হতে দেখা গেছে। কারও কারও বেলাতে এর প্রকাশ স্বরূপ আরও অদ্ভুত বাচনের অসঙ্গতি আর অসংলগ্নতা ক্রমে ক্রমে  বাড়তেই থাকে যে কারণে বাচ্চার কথা বোঝাটাই বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়ায়। কিন্তু সবসময় বেশ দ্রুত গতিতেই তা একদম সাবলীল স্বাচ্ছন্দ্য আর স্বাভাবিক হয়ে আসে।

গ. কার্যকারণ

বাচ্চার বিকাশের পথে স্বাভাবিক কথিত এ অসংলগ্নতা কেন ? শিশুর মনে শব্দ সম্ভার এ ক্রান্তিলগ্নে অনেকটা অকস্মাৎ অনেক বেশি সমৃদ্ধ সম্ভারে রূপ নেয়। শিশু বিক্ষিপ্ত বিছিন্ন একশব্দ ভাষা হতে দ্বিশব্দ ভাষা, পরবর্তীতে বাক্য বিশিষ্ট ভাষাতে প্রবেশ করে। এই পরিবর্তনের ধারাতে বিকাশের স্বাভাবিক বিচ্যুতি এই অসংলগ্নতা। গবেষকরা আররও সুন্দরভাবে বলে থাকেন শিশুর মন জিহ্বা অপেক্ষা দ্রুততর গতিতে ভাষা তৈরি করে।  যে কারণে জিহ্বার ভাষার প্রকাশে শব্দ আটকে যায় বা উপচে পড়ে অথবা দ্বিধাদ্বন্ধের প্রকাশ ঘটে।

গবেষণায় একটা অত্যন্ত মজার দিক হলো শিশু যখন স্বাভাবিক এ বিচ্যুতিকাল অতিক্রম করে যায়, তখন তার ভাষার ধরণ প্রকাশ সমৃদ্ধি আর শুদ্ধতা আগের অবস্থার তুলনায় অনেকবেশি উৎকর্ষতর অবস্থায় পরিবর্তিত হতে দেখা যায়।

ঘ. সংশ্লিষ্টতা

শিশু তার কথা বলার যে কোনো সময় বাচনে এ অসংলগ্নতা বা অসঙ্গতি দেখাতে পারে। তবে কতক বিশেষ বিশেষ অবস্থায় এগুলোর প্রকাশ মারাত্মক হতে দেখা যায় বিশেষ করে শিশু যখন ক্লান্ত বা অবসন্ন থাকে, আবেগ, উত্তেজনায় থাকে অথবা মনেরদিক থেকে বিমর্ষ বা বিষন্ণ থাকে। এই কারণে তার জন্মদিনের উপহারের প্যাকেট খেলার আবেগ আপ্লুত অবস্থায় বা শিশুকে সকাল বেলায় স্কুলের পোশাক পরাতে খুব তাড়াহুড়া, পড়াশোনার ব্যস্ততাকালে শিশুর কথার অসংল্গনাত চলে আসতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর নিকট যখন  এমন কোনো বিষয় জানতে চাওয়া হয় যা তার জানা নেই বা অস্পষ্ট সেসব ক্ষেত্রে ভাষার অসংলগ্নতা দেখা দিতে পারে।

তোতলামি

শিশু তার কথা আর ভাষার বিকাশে যে অসংলগ্নতা দেখায় তাকে যদি নরমাল ডিসফ্লুয়েন্সির সমস্যা বলা হয় তাহলে তোতলামি কী ? এটি তোতলামি নয় কেন?  এমন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। তবে স্বাভাবিক ও বাচন অসঙ্গতি আর তোতলামির মাঝে কিছু পার্থক্য দেখা যায় যেগুলোর সাহায্যে দুটো আলাদা করে নেয়া যায়।

১. নরমাল ডিসফ্লুয়েন্সি অপেক্ষা তোতলামির প্রকটতা অনেক মাত্রায় কম। শিশুদের মাত্র চারশতাংশ চার শতাংশ মানে প্রতি পচিশ জনে একজন শিশু তোতলামির সমস্যা সংক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্তদের চারজনের তিনজন বয়ঃসন্ধি আসার আগেই ভালো হয়ে যায়। দুর্ভাগ্য একজনের বেলায় তা বয়ঃসন্ধি এবং যৌবনকাল অবধি গড়ায়।

২. তোতলামি সমস্যায় বেলায় অনেকক্ষেত্রে বংশগতির একটা সুত্র পাওয়া যায়। শিশুর পিতা মাতা অথবা বড় ভাইয়ের ছিল  এমন  ইতিহাস থাকে অনেকের ক্ষেত্রে।

৩. যাদের তোতলামির সমস্যা তারা তাদের বাচন অসংলগ্নতার কারণে মনের দিক থেকে বিষণ্ন হয়ে থাকে, হতাশায় ভোগে। স্বাভাবিক বাচন অসংলগ্নতার এগুলো দেখা যায় না।

৪. তোতলামির বেলায় অপর একটা লক্ষণীয় দিক হলো কথার স্বরে পরিবর্তণ দেখা যায়। তাদে কথা স্বর স্বাভাবিকরে চেয়েও অনেক বেশি হয়ে থাকে। অবশ্য কিছুক্ষেত্রে তার বিপরীতও হয়ে থাকে। তারা কোনো শব্দ এতটা নিচু স্বরে বলে থাকে যা শোনাই যায় না।

৫. কথার সাথে সাথে দেহের অঙ্গ ভঙিমাতে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। শিশু যেন বাড়তি বডিল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে ভাষার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে চায়। কথার অস্বাচ্ছন্দ্যকালে শিশুর বিশেষ মুখভঙিমা, জোরে জোরে চোখ বন্ধ করা, ঠোট নাড়তে থাকা বা হাত নাড়ানো এ জাতীয় অঙ্গভঙিমা দেখাতে পারে।

৬. তোতলামির বেলাতে শিশু কোনো বাক্য বা কোনো বর্ণ অপেক্ষা শব্দের পুনঃ পুনঃ উচ্চারণ করে থাকে যেটি স্বাভাবিক অবনতির বেলায় দেখা যায় না। ‘ আব্বা আব্বা, আব্বা কখন আসছেন ?

৭. যার কথা আর ভাষার বিকাশে সামাজিক সহজাত অস্বাচ্ছন্দ্য দেখাচ্ছে তাদের সমস্য কি তোতলামিতে পরিবর্তিত হতে পারে ? বিশেষজ্ঞদের জবাব হ্যা বোধক। তবে তা কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে। যখন কোনো শিশু নরমাল ডিসফ্লুয়েন্সি দেখায় তাকে যদি অভিভাবক ভাষা শুদ্ধিকরণের জন্য অতিমাত্রায় চাপ প্রয়োগ করে থাকেন তখন অনাকাঙ্খিত বিপত্তি দেখা দিতে পারে। প্রকৃতি তার স্বাভাবিক ধারাতে সবকিছু এগিয়ে যায়। প্রকৃতির এ সহজাত ধারার ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগের ফলাফল হিতে বিপরীত হয়ে দাড়ায়।

আপনার করণীয়

শিশু তার বাচন আর ভাষার বিকাশ ধারায় সাময়িক যে সহজাত স্বাভাবিক বিচ্যুতি দেখিয়ে থাকে তাতে আপনার করণীয়-

ক. ‍দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই। শিশুর এ অসঙ্গতি বিকাশ সংশ্লিষ্ট, সাইকোলজিক্যাল কোনো কার্যকারণ এর সাথে সংশ্লিষ্ট নেই। সুতারাং বিকাশকে প্রকৃতির সহজাত স্বাভাবিক ধারায় এগোতে দিন। আপনার কিছুই করার দরকার নেই। দরকার কেবল মনকে এই বলে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখা- শিশুর বিকাশে স্বাভাবিক ধারায় এমনটি ঘটছে, তা স্বাভাবিক ধারায় আপনা থে্কেই ঠিক হয়ে যাবে। যখন আপনি শিশুকে এসব বিষয় নিয়ে তিরস্কার করেন বা ভুল শুধরে দিতে যান তখন হিতেবিপরীত ঘটে থাকে। স্বাভাবিক অস্বাচ্ছন্দ্য সুস্থিত তোতলামির স্বরূপ নেয়।

খ. শিশুর দৃষ্টি আর্কষণের কোনো দরকার নেই। এই ক্রান্তিলগ্নে প্রকৃত প্রস্তাবে শিশু যে এমনটা বাচন আর ভাষার ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে যাচ্ছে সেদিকে শিশুর দৃষ্টি আর্কষণের আদৌ কোনো দরকার নেই।

কখনোই শিশুকে খুব ধীরে কথা বলা, কোনো শব্দ বারবার উচ্চারণ করা, কোনো বিশেষ শব্দ বলা এ ধরনের নির্দেশনা দেয়ার প্রয়োজন নেই। শিশুকে তার কথা শেষ করতে দিন কথা শেষ করার মাঝে বিঘ্ন ঘটাবেন।

গ. শিশুকে রিলাক্স হতে দিন। শিশুর জন্য এমন একটা পরিবেশ গড়ে তুলুন যেন শিশু রিলাক্সবোধ করে। শিশুকে বোঝাতে হবে শিশু যা কিছু বলতে চায় তা শোনার জন্য তার সামনে অফুরন্ত সময় আছে। এটি শিশুকে বোঝানোর একটা উপায় হলো শিশু কোনো কিছু বলার ওপর একটা বিরতি দিয়ে তাতে প্রত্যুতর দেয়। বিরতি দেয়ার মানেই হলো শিশুর যদি কিছু না বলার থাকে তা যেন বলে নেয়।

ঘ. শিশুকে বলার সুযোগ করে দিন। শিশু যখন তার মনের কথা বলতে চায় তখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কথা বলতে পারে অনেক কথা বলে থাকে। শিশুর এ ‍দুঃ সময় অতিক্রমকালে মাতাকে বিশেষ উদ্যোগী হতে হবে। শিশুর সাথে কথা বলার জন্য স্পেশাল সময় বের কের নিতে হবে যেখানে কেবল আপনি আর আপনার মিশু মন প্রাণ ভরে কথা বলবেন। আপনি স্বাভাবিক ধীরস্থিরভাবে কথা বলুন। আপনার শিশু তা শুনবে, অনুকরণ করার চেষ্টা করবে। দেখবেন কথার অসংলগ্নতা ও অসামঞ্জসতা কত দ্রুত কেটে যাচ্ছে।

তোতলামির চিকিৎসা

আপনার শিশু যদি তোতলামির ‍সমস্যায় আক্রান্ত হয় তাহলে কাকে দেখাবেন ? অনেকে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের কথা বলে থাকেন। আসলে তোতলামি সারাতে যে পেশাদার প্রযোজ্য তিনি হলেন স্পিচ থেরাপিস্ট। আমাদের দেশে এখনও বিদেশ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো পেশাদার স্পিচ থেরাপিস্টে  নেই। তবে এর বিকল্প পেশাদার হলো মনোচিকিৎসক। তিনি  এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। যারা তোতলামির সমস্যায় আক্রান্ত তাদের বেলাতে এর সাথে মানসিক উদ্বেগ সমস্যা দেখা যায়। এই কারণে স্পিচ থেরাপিস্ট রোগীকে অভিজ্ঞ মনোচিকিৎসকের তত্বাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তোতলামির চিকিৎসার নাম স্পিচ থেরাপি। এটি আসলে কথা বলার ক্ষেত্র বিশেষ নির্দেশনা।

আপনি কী করবেন ?

তোতলামির চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো ধৈর্য। আপনি রাতারাতি ভালো হয়ে যাবেন এমনটি কখনও ভাববেন না। লক্ষনীয় উন্নতি নজরে আসতে তিন থেকে ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে।

  • রোগীকে উদ্যোগী হতে হবে। সমস্ত নির্দেশনা আন্তরিকভাবে মানতে হবে। অন্যথায় আপনাকে হতাশ হতে হবে।
  • তোতলামি সমস্যায় ক্ষেত্রে স্পিচ থেরাপিষ্টরা যে উপদেশটি প্রথমে দিয়ে থাকেন তা হলো ধীরগতিতে, ধীরস্থিরভাবে সম্পূর্ণ রিলাক্স হয়ে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলা।
  • নিঃশ্বাস ছাড়াকালে কথা বলতে শেখান এতে কথা খুব বেশি শখ হলেও তা চর্চা করান। দেখবেন এক সময় আপনার শিশু অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক কথা বলতে পারছে।
  • অনেক থেরাপিষ্ট ভাষায় উৎকর্ষ বিধানে একজন পার্টনার বেছে নিতে উপদেশ দিয়ে থাকেন। যে হবে সম্পূর্ণ সুস্থ বাচন ক্ষমতাসম্পন্ন। এক্ষেত্রে পার্টনারশিপের কাজ হলো তার সাথে একই প্রসঙ্গে তাল মিলিয়ে রিডিং করা। কোনো প্রবন্ধ ফটোকপি করে পড়তে বসে যাওয়া।
  • কেউ কেউ বলে থাকেন রুমের দরজা জানালা বন্ধ করে গলা ফাটিয়ে কোনো প্রবন্ধ পড়ার রিহারসেল দিতে এতে খুব অল্প দিনে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। এরপরে শিশুর বিচরণক্ষেত্র বিস্তৃত করুন। আশপাশের লোকজনের সাথে প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। দেখবেন আপনার শিশুর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে।
  • যাদের বেলায় তোতলামির সমস্যার পাশাপাশি উদ্বেগ সমস্যা আছে তাদেরকে মনোচিকিৎসকের তত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা করাতে হবে। অনেকক্ষেত্রে ট্যাবলেট প্রোপনল ১০ মিলিগ্রাম সেবন করাতে দেয়া হয়।

 


Leave a Reply