শিশুর হেপাটাইটিস – Hepatitis of the baby

  • 0

শিশুর হেপাটাইটিস – Hepatitis of the baby

ডা. প্রণব কুমার চৌধুরি – Hepatitis of the baby

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

শিশুর হেপাটাইটিসের কারণ

’হেপাট’ হচ্ছে লিভার বা যকৃতের ল্যাটিন প্রতিশব্দ। লিভারে কোনো কারণে প্রদাহ হলে ‘হোপাটাইটিস’ বলা হয়। বিভিন্ন কারণে তা হতে পারে। বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে, লিভারের পিত্তনালী পথের ত্রুটি, জন্মগত কিছু অসুখে প্রদাহ হতে পারে। তবে সর্বাধিক কারণ হচ্ছে জীবাণুঘটিত সংক্রমন। এই সংক্রমন যেমন ব্যাকটেরিয়া, প্রোটেজোওয়া (আমাশা সৃষ্টিকারী জীবানু) দ্বারা হয়ে থাকে, তেমনি হয়ে থাকে ভাইরাস ইনফেকশন হতে। এই ভাইরাসগুলোকে হেপাটোট্রপিক ভাইরাস্ও বলা হয়। উল্লেখযোগ্য ভাইরাসগুলো পাঁচ শ্রেণীতে বিভক্ত যথা এ বি সি ডি ই।

কিভাবে হয়ে

এ ও ই ভাইরাস দূষিত মলমূত্র খাদ্য ও পানীয়ের সাথে মিশে সুস্থ দেহে প্রবেশ করে ও অসুখ ঘটায়। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত রোগীর রক্ত শিশুকে দেয়া হলো (ব্লাড ট্রান্সফিউশন) রক্তজাত ওষুধ, অপরিশোধিত সিরিঞ্জ; সুঁচ, রোগীর ব্যবহৃত ক্ষুর, রেজার, ব্লেড, ব্রাশ ইত্যাদির মাধ্যমি ’বি’ ভাইরাসে শিশু আক্রান্ত হতে পারে। গভবর্তী মায়ের শরীরে বি ভাইরাস থাকে তবে গর্ভস্থ সন্তান সেক্ষত্রে সংক্রমিত হতে পারে। হেপাটাইটিস ডি সর্বদাই বি ভাইরাসের সহযোগী হয়ে আসে।

শিশুর হেপাটাইটিস

শিশুর হেপাটাইটিস

রোগ লক্ষণ

সবকটির রোগ লক্ষণে মিল আছে। লিভারে প্রদাহের কারণে চোখ হলদে হয়ে যাওয়া, দেহের ত্বক হলদে হওয়া বা প্রসাব হলদেদ হওয়া অবস্থাকে বল হয় জন্ডিস। ‍শুরুতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, ক্ষুদামন্দা, বমি বমি ভাব, পেটের ডান দিকে ব্যাথা, জ্বর ইত্যাদি থাকে। হেপাটাইটিস বি র ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু লক্ষণ যেমন গাঁটে ব্যাথা, ত্বক চাকা চাকা হয়ে ফুলে ওঠা এসব দেখা যায়।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের জিন, যকৃতের কোষের জিনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গিয়ে ধিকি ধিকি আগুনের মতো লিভারের কোষ ধ্বংস করতে থাকে। হেপাটাইটিস বি, সি বা ডি দিয়ে আক্রান্ত রোগীর অধিকাংশই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে কিন্তু কখনো কখনো লিভারে ভাইরাস সুস্থ অবস্থায় থেকে যায় ও পরে সক্রিয় হয়ে রোগ বিস্তার ঘটায়। একে বলা হয় ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস এব তার পরিনামে লিভার ক্যান্সার, সিরোসিস হয়ে থাকে। বিশেষত শিশু জীবনের প্রথম বছরে বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এই ঝুকি অসম্ভব রকম বাড়ে। খুব ছোট শিশু হেপাটাইটিসের আক্রান্ত হলে জন্ডিস নাও থাকতে পারে। বরং বুকের দুধ চুষে না খাওয়া, বমি,অত্যাধিক অসুস্থতা এসব অনির্দিষ্ট চিহ্নসমুহ নিয়ে হাজির হয়।

রোগ প্রতিরোধ

শিশুর হেপাটাইটিস রোগে কতকগুলো ব্যবস্থা দারুণ কাজ দেয়।

১। শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো ও কমপক্ষে দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানো।

২। কোনো অবস্থাতেই শিশুকে ফিডার বা বোতলে করে না খাওয়ানো।

৩। নিরাপদ পরিশ্রুত জল, আহার্য ও পানীয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকা যাতে এসবে মলমুত্রের স্পর্শ না ঘটে।

৪। হেপাটাইটিস রোগীর সেবাকালে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে, শৌচের পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে তবেই শিশুর খাবার তৈরি করা, খাবার পরিবেশন কর।

৫। শিশুকে রক্ত দেয়া হলো সেই রক্ত বি ভাইরাসমুক্ত তা নির্ণয় করে দেখা।

৬। সর্বোপরি ব্যয় বহন করতে পারলে শিশুকে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধক টিকা যতো আগে পারা যায় দিয়ে দেয়া- তার সাধারণ সিডিউল নিম্নরূপ: ১ ডোজ, ১ মাস পর ২য় ডোজ, ৬ মাস পর ৩য় ডোজ। তবে মায়ের দেহে বি ভাইরাস থাকলে গর্ভস্থ সন্তান সংক্রমন পেতে পারে। তখন জন্মবার ১২ ঘন্টার মধ্যে প্রথম টিকা ও অন্য পার্শ্বের বাহুতে হেপা ইম্যুনোগ্লোবুলিন নেয়া ‍উচিত।


Leave a Reply