শীতে স্বাস্থ্য পরিচর্যার কিছু কথা

  • 0

শীতে স্বাস্থ্য পরিচর্যার কিছু কথা

Category : Health Tips

শীতে স্বাস্থ্য পরিচর্যার কিছু কথা

শীত ক্রমশ বাড়ছে। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া আমাদের শরীর ও মন স্বস্তি পায়। তাই প্রচন্ড শীতে আমরা অস্বস্তিতে ভুগি। এ সময় আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা হলেও কমে যায়। তাই সহজে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দ্বারা আমরা আক্রান্ত হই।  তা ছাড়া কিছু কিছু রোগের সমস্যা হয় বেশি। তবে আশার কথা হলো স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে একটু যত্নশীল হলে অনেক সময় আমরা সহজে কাটিয়ে উঠতে পারি।

ঠান্ডা বা সর্দি কাশি

ঠান্ডা লাগা বা সর্দি কাশি এ সময়ের একটি সাধারণ সমস্যা।  ঠান্ডা ও ফ্লু ভাইরাস এ সময় আক্রমণ করে বেশি।  অধিকাংশ ঠান্ডা জনিত ভাইরাস সরাসরি সংস্পর্শে সংক্রামিত হয়।  আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত জিনিস পত্রের মাধ্যমে রোগ অন্যের ভেতর ছড়াতে পারে।  এই জীবানুগুলো মানুষের দেহ ছাড়াও ঘন্টার পর ঘন্টা, কখনও কখনও কয়েক সপ্তাহ বেচে থাকে। তাই সারাদিনে বেশ কয়েকবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।  যখন তখন চোখ, নাক ও মুখে হাত দেয়া যাবে না। সর্দি কাশি হলে বাষ্প টানা, লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া করা, গরম আদা চা খাওয়া উচিত।

নিউমোনিয়া

শিশু এবং বৃদ্ধদের শ্বাস তন্ত্রের সংক্রমনের হার বেড়ে যায়। শিশুর ত্বক ও শাসতন্ত্র নাজুক এবং অপরিণত।  তাই শিশু তাপ ধরে রাখতে পারে না।  সহজে ঠান্ডা হয়ে যায়।  এ জন্য তাকে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরাতে হবে।  আসলে পর্যাপ্ত শীতে কাপড় সবারই পরা উচিত।  সময়মতো চিকিৎসা না নিলে শিশুরা খুব খারাপ পরিণতির দিকে অগ্রসর হতে পারে। তাই নিজে নিজে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

টনসিলাইটিস ও গলাব্যথা

ঠান্ডার কারণে গলার ভেতরে টনসিলের ইনফেকশন হতে পারে। এতে জ্বর এবং গলাব্যথা হয়। তা ছাড়া শীতে ঠান্ডা পানি খেলে বা গরম কাপড় চোপড় না পরলেও গলা ব্যথা হতে পারে। টনসিলাইটিস হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং লবণ পানি দিয়ে গড়াগডা ও বিশ্রাম নিতে হবে।

এ্যাজমা বা হাঁপানি

শীতের শুষ্ক আবহাওয়া ধুলাবালির প্রকোপ থাকায় এ্যালার্জি হয়।  অতিরিক্ত ঠান্ডার ফলেও মানুষের নাক, কান ও গলায় এ্যালার্জির প্রকাশ দেখা যায়। ফলে এ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তাই ধুলা বালি এড়িয়ে চলতে হবে। ঘরের ধুলাবালির প্রতিও যথেষ্ট গুরুত্ব দেবেন। ঠান্ডা বাতাস যেন সরাসরি শ্বাসনালীতে প্রবেশ না করে, সে জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন। নাক দিয়ে শ্বাস নেয়ার অভ্যাস করুন।  কারণ নাক দিয়ে শ্বাস নেয়ার ফলে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা উভয় বেড়ে যায়। চোখ, নাক, ও মুখে হাত দেবেন না। নাক পরিষ্কার করার জন্য টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। নিজে নিজে ঘর ঝাড়ামোছা থেকে বিরত থাকুন। বাসায় কার্পেট ব্যবহার করবেন না। বিছানায় লোমযুক্ত কম্বল বা চাদর ব্যবহার করবেন না। স্টেরয়েড জাতীয় ইনহেলার শীতকালজুড়ে ব্যবহার করুন।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা

শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এতে ত্বক চুলকাতে পারে, ফেটে যেতে পারে এবং বিভিন্ন রকম চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব হতে পারে। তাই ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করা খুবই জরুরী।  এ জন্য অলিভ অয়েল বা লোশন ব্যবহার করতে পারেন। বেশি বেশি পানি খেতে হবে। বিভিন্ন প্রকার শীতকালীন শাকসবজি, ফলমূল খাবেন।

খুশকি

শীতকালে খুশিকি সমস্যা কয়েকগুন বেড়ে যায়। মাথা থেকে চামড়া ওঠাকে খুশকি বলে। খুশকির ফলে মাথার চামড়া চুলকায়। খুশকির সঙ্গে প্রদাহ থাকলে তাকে সেবেরিক ডার্মাটাইটিস বলে।  খুশকিকে সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব নয়। খুশকি শ্যাম্পু দিয়ে দমিয়ে রাখতে হয়। তা না হলে মাথার চুল ঝরে যেতে পারে। মাথায় তেল ব্যবহার করা যাবে না। মাতা ভেজা রাখা যাবে না। এক জনের চিরুনি আরেকজন ব্যবহার করা যাবে না। প্রত্যহ গোসল করতে হবে।

বাতের ব্যথা

শীতে বাতের ব্যথা বাড়ে। তাই শরীরের যত্নে চলাফেরা, ব্যায়াম এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক হতে হবে। চিকিৎসকের শেখানো ব্যায়াম নিয়মিত করবেন। ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। দীর্ঘসময় একটানা দাড়িয়ে বা বসে থাকবেন না। ফাম বা জাজিমে না শুয়ে উচু শক্ত সমান বিছানায় শুবেন। ঘুম থেকে ওঠার সময় যে কোন পাশে কাত হয়ে হাতের ভর দিয়ে উঠবেন।

শীতনিদ্রা যাওয়ার স্বভাব মানুষের নয়। প্রতিদিনের কর্মব্যস্থতা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিচর্যায় নির্দেশিত পথ ধরে শীতকে মোকাবেলা করতে হবে। জীবনের জন্য জীবনী শক্তিকে চাঙ্গা করতে হবে। সকল প্রতিকুল পরিবেশে আমাদের খাপ খাইয়ে চলতে হবে।

 

ডা. শ্যামল কুমার মজুমদার

জেনারেল প্রাকটিশনার, ফরিদপুর।


Leave a Reply