শ্বাসকষ্টের সমাধান – বৃদ্ধ বয়সে হাঁপানির প্রতিকার

  • 0

শ্বাসকষ্টের সমাধান – বৃদ্ধ বয়সে হাঁপানির প্রতিকার

Category : health tips bangla

শ্বাসকষ্টের সমাধান – বৃদ্ধ বয়সে হাঁপানির প্রতিকার

হাঁপানি এমন একটি মানসিক ব্যাধি যা কিনা একেবারেই নিরাময় সম্ভব নয়। কিন্তু সঠিক সময়ে সুষ্ঠু চিকিৎসা গ্রহণ করলে খুব সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করা সম্ভব।

বয়সী হাঁপানি রোগীদের চিকিৎসকগণ সাধারণত খুব সর্তকতার সাথে রোগীদের চিকিৎসা করেন। কারণ বৃদ্ধ বয়সে হাপানিতে আক্রান্ত হলে রোগীদের দেহে তা খুব মারাত্মক আকারে প্রকাশ ঘটায়। বৃদ্ধ বয়সে এ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড খুব দ্রুত কাজ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন এটি ব্যবহার করলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। স্টেরয়েড ব্যবাহারে যক্ষায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বয়স্ক লোকদের এ্যাজমার সময় যে উপসর্গসমূহ প্রকোপ আকার ধারণ করে সেগুলো হ্রাস করর জন্য ডিসপেপসিয়ার ওষুধ, হজমের ওষুধ এবং এন্টাসিড সহায়তা করে থাকে। কিন্তু এ বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোন ওষুধ যেমন- গ্লুকোমা খুবই ক্ষতিকর।

আর বৃদ্ধ বয়সী হাঁপানি রোগীদের যদি কারো প্রস্টেট গ্রন্থিতে কোন সমস্যা থাকে এবং তারা যদি এ সময় এফিড্রিন ও স্টেরয়েড জাতীয় কোন ওষুধ সেবন করেন তবে তাদের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে।

তাই বয়স্ক হাঁপানি রোগীদের হাঁপানি কোন লক্ষণ দেখা দিলে খুব দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। শ্বাসকষ্টের সমাধান জানতে হলে আপনাকে আরও বেশি বেশি করে এই বিষয়ে জানতে হবে এবং সচেনতা মূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

যক্ষা কি ছোয়াচে ?

যক্ষা বা টি. বি নামক মারাত্মক রোগটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। যক্ষাকে ক্ষয়রোগও বলা হয়। বিশ্বের একটি জটিল সংক্রামক ব্যাধি হচ্ছে যক্ষা। কোন এক সময় মানুষের ধারণা ছিল, হয় যদি যক্ষা নাই তবে রক্ষা। এখন এ ধারণাটির আর কোন ভিত্তি নাই। যক্ষা বা টি. বি এর রোগ জীবাণু সম্পর্কে চিকিৎসকদের কোন ধারণা ছিল না। এর ফলে এ রোগটি প্রতিকারেরও কোন পন্থা তাদের জানা ছিল না। বর্তমানে যক্ষার রোগ জীবানু আবিষ্কারের সাথে সাথে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়েরও ওষুধ বের হয়েছে। যক্ষা বা টি. বি র রোগ জীবানু শ্বাসের সাথে শ্বাসনালী বা পরিপাক নালীর সাহায্যে মানুষের শরীরের প্রবেশ করে।  এ রোগটি সংক্রমিত হয় মাইক্রোব্যাকটেরিয়াল টুবরিকিউলোসিস নামক অতি ক্ষুদ্র জীবানুর মাধ্যমে। এই জীবানু বাতাসে অনেক সময় ধরে জীবিত থাকতে পারে।

আমরা অনেকে মনে করে থাকি যক্ষা বা টি. বি তে আক্রান্ত কোন ব্যাক্তির পাশে বসলেই যক্ষা হয়ে যায়। কিংবা যক্ষা মানেই ছোয়াচে কোন রোগ। এ ধারণাটি ঠিক নয়, কারণ সব ধরনের যক্ষা বা টি. বি ছোয়াচে নয়। যদিও এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি কিন্তু সকল ধরনের যক্ষা রোগী থেকে এ রোগের জীবানু ছড়ায় না। যে সকল যক্ষা বা টি বি. রোগীদের কফ বা কাশি পরীক্ষার পর জীবানু পাওয়া যায়, সে সকল রোগীদেরকে ওপেন কেস বলা হয়। এদেরকে ওপেন কেস বলা হয় কারণ,  এদের হাঁচি, কাশি এবং কফের সাথে প্রতিনিয়ত জীবানু বাইরে এসে বাতাসে মিশে যায়। যা কিনা একজন সুস্থ লোকের জন্য খুব বিপজ্জনক। এ সকল রোগীর পাশে বসলে কিংবা তাদের ব্যবহৃত কোন জিনিস ব্যবহার করলে সুস্থ ব্যক্তির যক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

আবার যে সকল রোগীর কফে জীবানু থাকে না সে সকল সংক্রামিত হওয়ার সম্ভবনা কম। অসংক্রামক যক্ষা রোগীরা কখনও কখনও ওপেন কেসে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তাই সকল ধরনের যক্ষার বা টি. বি রোগীদের সতর্তক থাকা উচিত। সুস্থ ব্যাক্তিদের সচেতন থাকতে হবে, যেমন যক্ষা রোগীদের পাশে গেলে বা তাদের ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহারের পূর্বে মুখ ও নাক ঢেকে রাখা উচিত।  সবচেয়ে ভাল হয় যদি  এক্ষেত্রে মুখ মাসক ব্যবহার করা যায়। এতে যক্ষার জীবানু সহজে সুস্থ ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে পারবে না।

কোন পরিবারের একজন সদস্য যদি ওপেন কেসে আক্রান্ত থাকে সেক্ষেত্রে অন্য সদস্যদের রোগীর কাছ থেকে সতর্ক হয়ে চলতে হবে। যক্ষা বা টি. বি রোগীদের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত কফ পরীক্ষা করে থাকেন, কফ ও কাশি হচ্ছে যক্ষার প্রধান লক্ষণ। কোন ব্যাক্তির কাশি যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয় তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট যেতে হবে। এ রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে সুষ্ঠু চিকিৎসার মাধ্যমে যক্ষা সম্পূর্ণ ভাল করা সম্ভব।

যক্ষা হলে এখন আর আতঙ্ক বা দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এর অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এ ব্যাধিটির সম্পূর্ণ হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ রোগ সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়। যক্ষার চিকিৎসা হয় বিভিন্ন মেয়াদে। ৬ মাস, ৯ মাস, ১২ মাস, এবং ১৮ মাস মেয়াদ পর্যন্ত এর চিকিৎা হয়। তবে অধিকাংশ যক্ষাই ৬ মাসের চিকিৎসাতেই সম্পূর্ণ  ভালো হয়ে যায়। অন্য রোগের চিকিৎসার তুলনায় এ রোগের চিকিৎসা সাধারনত দীর্ঘ মেয়াদী হয়ে থাকে। তাই যক্ষা বা টি. বি রোগীদেরকে সুস্থ জীবনের জন্য ধের্য সহকারে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

 

ডা. এ কে, এম মোস্তফা হোসেন

পরিচালক

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

মহাখালী, ঢাকা।


Leave a Reply