সপ্তাহে ১ টি সুঅভ্যাস

  • 0

সপ্তাহে ১ টি সুঅভ্যাস

সপ্তাহে ১ টি

 

হ্যা, প্রতি সপ্তাহে মাত্র একটি করে সুঅভ্যাস যোগ করুন আপরনার রোজকার জীবনযাত্রায়। নিজে তো ভাল থাকবেনই, সেই সঙ্গে পরিবা রের সবাইকে নিয়ে সুখ থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। জীবনটাকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার সহজ পরামর্শে শর্মিলা বসুঠাকুর। 

 

জানি, প্রেসক্রিপশনের মতে এই হেডলাইন দেখেই আপনার ভ্রু দুটো এক জায়গায়। নিশ্চয়ই ভাবছেন জীবনটা কি সেই ‘তাসের দেশ’ এর নিয়মের রাজত্ব নাকি?  উঠতে নিয়ম, বসতে নিয়ম।  সুঅভ্যাস মানে তো সেই ঘুম থেকে ওঠা ইস্তক শুরু হবে গরম জল খাওয়া, এক্সারসাইজ, স্টিমড ব্রেকফাস্ট, রাতে শুতে যাওয়ার আগে ক্লেনজিং, টোনিং, ময়শ্চারাইজিং আরও হাজারা নিয়মের বেড়াজাল।  দৈনন্দিন জীবনে একটু স্বাধীনতা থাকবে না! সহজ, সরল গতি থাকবে না! কেবলই ঘড়ির কাটা, ডায়েট, ফিটনেস, বিউটি রেজিম! ইমপসিবল।

 

একেবারে পারফেক্ট রিঅ্যাকশন।  সত্যিই তো সকাল থেকে রাত অবধি অভ্যাসের অবর্তে ঘোরার কথা ভাবলে তো সাফাকেশনের উপক্রম হবেই।  আসলে এই প্রতিক্রিয়া কিন্তু নিয়মে থাকার বিরুদ্ধে নয়, এই বিপরীত মনোভাব একসঙ্গে একদিনে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করতে যান, সফল তো হবেনেই না। , উল্টো বদ অভ্যাসের দিকে আকৃষ্ট হবেন। তাই প্রয়োজন নিয়ম পালনের নিয়ম, সুঅভ্যাসগড়ে তোলার পারফেক্ট অ্যান্ড প্রাগম্যোটিক স্ট্রাটেজি। সবথকে সহজ, ‍উপায় হল ধীরে ধীরে এগোনো । প্রতি সপ্তাহে মাত্র একটি করে অভ্যাস আপনার জীবনযাপনে যোগ করুন।  খুব ছোট, সাধারণ একটি অভ্যাস হলেও হেলাফেলা করবেন না।  আর ঠিক মতো নিয়ম পলন করেছন কি না তা নিয়ে নিস্তর টেনশন করবেন না।   এইভাবে ধীরে ধীরে দেখবেন নিজের অজান্তেই আপনি অনেকগুলো ভাল অভ্যাস রপ্ত করে ফেলছেন। শৃঙ্খলা, সময়নুবর্বিতা, সুস্বাস্থ্য এবং আনন্দের সৌরভ ভর উঠেছে আপনার পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক প্রেক্ষিত এবং আপনার নিজের মানসিক স্বাস্থ্য। আসুন, গুড হ্যাবিটস গড়ে তোলার একটা লিস্ট করা যাক। এরপর থেকে আপনার দায়িত্ব শুধু টিক দেওয়া।

 

সপ্তাহ ১

হট শাওয়ার নিন

সারদিনের কাজের চাপ ও ক্লান্তির পর নিয়মিত হট শাওয়ার নিন। ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করেলে ক্লান্তি দূর হয়, ফ্যাট কম জমে।

 

সপ্তাহ ২

হাত ধুয়ে খাবার খান

আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার মনে হলেও খাবার আগে অবশ্যই অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার করুন।  বাড়ির বাচ্চাদের প্রথম থেকেই এই অভ্যাস করুন।  দেখবেন গোলমাল, ইনফেকশন এর হাত থেকে রেহাই পাবেন।

 

সপ্তাহ ৩

প্রোটিনসমৃদ্ধ ব্রেকফাস্ট খান

সারাদিন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যুদ্ধ, দারুণ পরিশ্রম। তাই দিনের শুরুতেই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ব্রেকফাস্ট মেনুতে। প্রোটিন এনার্জি লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ডিম সিদ্ধ কিংবা ডিমের পোচ, সসেজ, রাখতে পারেন। বেশি কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার দিয়ে দিন শুর করলে ব্লাড শ্যুগার লেভেলে তারতম্য ঘটে, ফলে দুপুরের দিকে কাজের মাঝে হাই উঠতে থাকে, ঘুম পায়।

 

সপ্তাহ ৪

পোরশন কন্ট্রোল করুন।

সব কিছুই খান। মিষ্টি,চকোলেট, চিজ ভালবাসলে একেবারে খাবেন না, তা কিন্তু নয় তবে পরিমিত পরিমাণে।  ভালবাসেন বলেই প্রাণ ভরে খাবেন না।  জানেন তো, ফ্রান্সে সিঙ্গল পোরশন চিজ আমাদের একটা চিজ কিউবের চার ভাগের এক ভাগ।  এবারে বুঝেছেন তো ফরাসিরর চিজ, ওয়াইনে ভরপুর থেকেও ছিপছিপে কেন ?

 

সপ্তাহ ৫

নোনতা খাবার খেয়ে জল খান।

পরোটা অলুভাজাই হোক কিংবা বার্গার, নোনতা খাবার খেয়ে একটু জল খান। এই ধরনের খাবারে সাধারণত ফ্যাট এবং নুনে ভরপুর থাকে যা ব্লাড প্রেশার এবং হার্টের পক্ষে ক্ষতিকারক। জল পান খেলে অতিরিক্ত নুন ফ্লাশ আউট হয়ে যাবে, ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমবে।

 

সপ্তাহ ৬

স্টিমড খাবার খান

সবজি সিদ্ধ করে জল ফেলে দিলে সব গুণই চলে যায়। তাই স্টিমড সবজি খাওয়াই ভাল, তা না হলে ভেজিটেবল স্যুপ খান।

 

সপ্তাহ ৭

মাটন ম্যারিনেট করুন।

কোলস্টেরল অক্সিডেশনের জন্য রেড মিট স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ বলা হয়। মাংস রান্নার এক ঘন্টা আগ সয়া সস, চিনি দিয়ে মাংস ম্যারিনেট করে রাখলে এই সম্ভাবনা কমে। তাই এবার থেকে মেনুতে মাঝে মধ্যে মাটন রাখতেই পারেন, তবে ম্যাডিনেট করতে ভুলবেন না।

 

সপ্তাহ ৮

প্রতি দিন আট থেকে দশ গ্লাসের বেশি জল খাবেন না।

বেশি করে জল খাওয়ার কথা প্রায়ই বলা হয়। আর আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশে বেশি দল খাওয়ার প্রবণতাও থাকে। কিন্তু মনে রাখবেন প্রতিদিন আট থেকে দশ গ্লাসের বেশি জল খাওয়ার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত জর খাওয়ার ফলে শরীরে ইলেকট্রোলাইট বেশি তরল হয়ে পড়ে, হার্ট বিট অনিয়মিত হয়ে পড়ে, মাসল স্প্যাজম হয়। বেশি তেষ্টা পেলে জলের বদলে ফলের রস বা স্পোর্টস ড্রিঙ্কও খেতে পারেন।

 

সপ্তাহ ৯

রাতের খাবার একসঙ্গে খান

যতই কাজ থাক, ফেরার সময় একেকজনের একেক রকম হোক,ডিনার টাইমে পরিবারের সকলে একত্রিত হোন। একসঙ্গে গল্পগুজব করুন, সকলে খোঁজখবর নিন।  এর ফলে দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয়।

 

সপ্তাহ ১০

বয়স্ক মানুষদের জন্য গেমস রাখুন।

পরিবারের বয়স্ক মানুষদের বিশেষ কিছু করার থাকে না। ধীরে ধীরে একাকিত্ব পেয়ে বসে, সেনিলিটি ডেভেলপ করে। অথচ সমান্য চেষ্টাতেই ভোক্যাবুলারি, রিজনিং স্কিল ভাল রাখা যেতে পারে। সকালে খবরের কাগজ পড়ার সময় কিংবা দুপুরে ছোট্ট ঘুম দিয়ে ‍উঠে স্ক্র্যাবল, ক্রসওয়র্ড পাজল, সুদোকুর নেশা ধরিয়ে দিন। ছেলে মেয়েদের সঙ্গে দাবা খেলতে বসান। দেখবেন মানসিক স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, পরিবারে খুশির হাওয়া বইবে।

 

সপ্তাহ ১১

স্কিমড মিল্ক খান

হোল মিল্কই একমাত্র স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল তা কিন্তু ঠিক নয়। এমনকী দুই বছরের পর ছোটদেরও স্কিমড মিল্ক চলতে পারে। এর ফলে ছোট থেকেই ফ্যাট ডিপোজিশন আটকানো সম্ভব।

 

সপ্তাহ ১২

নিয়মিত মাশরুম খান

মেনু প্ল্যানিংয়ের সময় সপ্তাহে একদিন অন্তত মাশরুম রাখুন। নানারকম রেসিপি চেষ্টা করতে পারেন। মাশরুম খুব ভাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

 

সপ্তাহ ১৩

সোশাল ওর্য়ক করুন

সাধ্য মতো দুস্থ মানুষকে সাহায্য করা, ব্লাড ডোনেট করা কিংবা অন্য কোনও কিছু সম্ভব না হলে বাড়ির কাজের লোককে পড়তে শেখান। আপনাকে দেকে অপনার সন্তানও ছোট থেকে অন্যের জন্য ভাবতে শিখবে, সাহায্য করার মানসিকতা তৈরি হবে।

 

সপ্তাহ ১৪

খাওয়ার আগে স্যুপ কিংবা স্যালাড খান

ডিনারের মেনুতে অবশ্যই স্যুপ, স্যালাড রাখুন। খিদের মুখে প্রথমেই স্যুপ, স্যালাড খেলে খিদে কিছুটা কমবে, ফলে ক্যালরি ইনটেক ঠিক থাকবে। তাছাড়া স্বাস্থ্যের পক্ষে স্যুপ আর স্যালাড খুব উপকারী।

 

সপ্তাহ ১৫

নিজের কাজ নিজে করুন

বাড়িতে কজের লোক থাকলে ফরমাশ করা অভ্যাস হয়ে যায়। এ ব্যাপারে সচেতন থাকুন। যতাট সম্ভব নিজের কাজ নিজে করুন । এর ফলে নিজে অ্যাক্টিভ থাকতে পারবেন, বাচ্চাদেরও ছোট থেকে ‍সূঅভ্যেস গড়ে উঠবে।

 

সপ্তাহ ১৬

গান শুনুন

পছেন্দের গান শোনা অভ্যেস করুন। সকালে কাজ সারতে গান শুনতে পারেন, রাতে ঘুমানোর সময় গান শুনতে পারেন, আপনার সময় ও সুবিধের ওপর নির্ভর করবে কখন শুনবেন। একবার অভ্যেস হয়ে গেলে দেখবেন মন ভাল রাখতে এ র জুড়ি নেই।  তা ছাড়া এইভাবে  আপনার ভাল গান সঙগ্রহের অভ্যাসগড়ে উঠবে, গানবাজনা বুঝতে শিখবেন, ওয়াকিবহাল থাকবেন আর আপনার পরবর্তী প্রজন্মও এই ভাললাগার আস্বাদ নিতে শিখবে।

 

সপ্তাহ ১৭

বই পড়া অভ্যেস করুন। সময় কাটে, মন ভাল থাকে, জানার পরিধি তো বাড়বেই। শুনতে সহজ হলেও অভ্যেস না থাকলে কনসেনট্রেট করা মুশকিল হয়, ভালও লাগে না। তাই প্রথম দিকে অভ্যেস গড়ে তুলতে হালকা যে কোনও বই, ম্যাগাজিন পড়ার চেষ্টা করুন, সুবিধে হবে।

 

সপ্তাহ ১৮

মেডিক্যাল রেকর্ডস সঙ্গে রাখুন

এমার্জেন্সিতে খুব প্রয়োজন মেডিক্যাল রেকর্ডস। আপনার ব্লাড গ্রুপ, প্রেশার, ড্রাগ অ্যালর্জি যদি থাকে তার উল্লেখ এবং অন্যান্য জরুরী তথ্য কাগজে লিখে আপনার ওয়ালেট, গাড়িতে, অফিসে রাখুন। রেকর্ড  নিয়মিত আপডেট করুন।

 

সপ্তাহ ১৯

বাগান করুন

নিজের হাতে গাছ করার আনন্দই আলাদা বাগান করার আলাদা জায়গা না থাকলে বারান্দাতে টবেই পছেন্দের ফুল কিংবা পাতাবাহর গাছ লাগান, নিজে দেখভাল করুন, সঙ্গে আপনার সন্তানকে নিন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে।

 

সপ্তাহ ২০

এক্সারসাইজের একঘেয়েমি কাটান।

ফ্রি-হ্যান্ড, জগিং, যোগাসন, হাঁটা নিয়মিত অবশ্যই করা জরুরি। কিন্তু রুটিন এক্সারসাজে একটা একঘেয়েমি আছে যার ফলে কিছুদিন পর আর এইসব এক্সারসাইজ করতে ভাল লাগে না। সে ক্ষেত্রে সালসা, ব্রেক ডান্স যা ভাল লাগে তাই অভ্যেস করুন। কোনও সালসা ক্লাসে ভর্তি হয়ে যান স্বামী-স্ত্রী দুজনেই। অস্বস্তি বোধ করলে  বাড়িতে মিউজিক চালিয়েই নাচুন, মজাও লাগবে, ওজনও কমবে।  আর ক্ল্যাসিক্যাল নাচের অভ্যেস থাকলে তো কথাই নাই।

 

সপ্তাহ ২১

হাসতে শিখুন, জোক বলুন

হাসলে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়, আর্টারি সবল থাকে, অ্যাবডমিনাল পেশি সুঠাম হয়। বাড়ির সকলে মিলে জোক বলুন, মজার ছবি দেখুন।

 

সপ্তাহ ২২

ডায়াবিটিস রুখতে রান্নায় দারচিনি ব্যবহার করুন।

আমাদের বিভিন্ন কোষে গ্লুকোজ সরবরাহতে ইনসুলিনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দারচিনি, যার ফলে ডায়াবিটিস রেধে সহায়ক হয। দৈনিক আধা চামচ দারচিনি খেলে ডায়াবিটিকদের ব্লাড শ্যুগার লেভেল ২০% কমবে। আর সাধারণ মানুষেদের পক্ষে এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ দারচিনি গুড়ো নিয়মিত খেলে ব্লাড শ্যুাগার রোধ করা সম্ভব। সবজি, কফি, অ্যাপেল স্ট্যুতে ব্যবহার করতে পারেন দারচিনিগুঁড়ো।

 

সপ্তাহ ২৩

কোমর থেকে ঝুঁকেবেন না।

মাটি থেকে কোন জিনিস তোলার সময় কোমর থেকে ঝুঁকে তুলবেন না, লোয়ার ব্যাকে অযথা চাপ পড়ে।  হাটু ভেঙ্গে মাটিতে বসে তোলার চেষ্টা করুন।

 

সপ্তাহ ২৪

মেডিটেট করুন

সারাদিন কাজের চাপে বিপর্যস্ত? দিনের শেষেও ঝেড়ে ফেলতে পারেন না কাজের ভূত? বাড়ি ফিরে স্নান সেরে প্রদীপ কিংবা মোমের কম্পমান শিখার দিকে তাকিয়ে থাকুন, গ্রেট স্ট্রেস রিলিভার।

 

সপ্তাহ ২৫

ল্যাভেন্ডার তেল ব্যবহার করুন।

ইনসমনিয়া এবং ডিপ্রেশনে ল্যাভেন্ডার অয়েল দারুন কাজ করে। সারাদন ক্লান্তির পর অনেক ময় ঘুম আসতে চায় না। ডায়াল্যুটেড ল্যাভেন্ডার অয়েল কপালে ধীরে ধীরে মাসাজ করতে পারেন। নাইট বালবে কিংবা খাটের গদিতে দু-এক ফোটা ল্যাভেন্ডার অয়েল স্প্রে করে রাখুন।  স্নিগ্ধ গন্ধে মন ভাল থাকবে, ঘুম হবে।

 

সপ্তাহ ২৬

পরিমিত পরিমাণে ওয়াইন খান

হার্ট এবং ত্বকের পক্ষে অঙুর খুব ভাল। কজেই রেড অথব হোয়াইট ওয়াইন অল্প করে খেলে চেহারা ভাল থাকবে, হার্ট ভাল থাকবে। রেড ওয়াইন খোসা সমেত অঙুর থেকে তৈরি হয় বলে বেশি উপকারী।  হোয়াইট ওয়াইন খোস ছাড়া অঙুরের পাল্প থেকে তৈরি এটিও উপকারী।

 

সপ্তাহ ২৭

ফুড লেবেল পড়ুন

আজকাল প্যাকেড ফুড, ফ্রোজেন ফুডের রমরমা। এ ছাড়াও দোকান থেকে যখনই কোন জিনিস ক্রয় করবেন, তা সে খাবারই হোক কিংবা ওষুধ, ভাল করে লেবেল পড়ে দেখুন। এক্সপায়ারি ডেট, কম্পোজিশন, ইনগ্রেডিয়েন্টস ঠিকভাবে দেখে নিন।

 

সপ্তাহ ২৮

ডিপ ব্রিদ করুন

সকালে নিয়মিত করতে পারলে তো ভালই, তা ছাড়াও সাড়া দিনের কাজের ফাঁকে দশ মিনিটের জন্য মোবাইল বন্ধ করে গভীরভাবে শ্বাস নিন, চুপচাপ থাকুন। দেখবেন এনার্জি লেভেল ফিরে পাবেন। ক্রমাগত কথা, আওয়াজ আমাদের ব্রেনকে ক্লান্ত করে, এনার্জি ক্ষয় হয়।

 

সপ্তাহ ২৯

বয়স্কদের বেশি করে জল খেতে বলুন

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তেষ্টা কমে আসে, ফলে বয়স্ক মানুষরা কম জল খান যা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। তাই পরিবারের বয়স্ক সদস্যের ঘরে আলাদা করে জলের বোতল রাখুন সারাদিনে কতটা জল খেলেন সেটা বুজতে সুবিধে হবে।

 

সপ্তাহ ৩০

দাম্পত্য সম্পর্কে সেক্স

নিয়মিত সেক্স লাইফ বজায় রাখুন। কার্ডিও ভাস্কুলার অ্যাক্টিভিটিও হবে, সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হবে।

 

সপ্তাহ ৩১

ক্র্যানবেরি জুস খান

মেয়েদের ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনে হামেশাই ভুগতে হয়। ন্যাগিং এই সমস্যার জন্য ঝামেলার অন্ত নেই । ফ্রিজে সব সময় ক্র্যানবেরি জুস মজুন রাখুন, নিয়মিত খান। ইনফেকশনের হাত থেকে রেহাই পাবেন।

 

সপ্তাহ ৩২

মাঝে মাঝে খুশি মতো খান

মাসে দুবার নিজের খুশি মতো খান, বাচ্চাদেরও খেতে দিন। সব সময় ’চকলেট খাবে না’ ’ফুচকা খাবে না’ শুনতে শুনতে তারাও বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে, আপনার নিজেরও একঘেয়ে লাগাতে পারে । তাই মাঝে মাঝে প্রাণ ভরে ভললাগার খাবার খেয়ে নিন।   নিয়ম ভাঙ্গার মজায় মন খুশি হবে, নিয়মে ফিরে আসতে সহায়ক হবে।

 

সপ্তাহ ৩৩

বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন

স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকুন, স্কুল, কলেজের বন্ধুদের সেঙ্গে যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দেবেন না। ফেলে আসা দিনর সঙ্গীদের সেঙেগ যোগাযোগ রাখাটাও একটা অভ্যাসের ব্যাপার। কোনও একটা ছুটির দিনে স্বামীর ওর সংসারের দায়িত্ব দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গেটটুগেদারে যান। আপনার বর্তমান জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, ছাত্র জীবনের নানা ঘটনার স্মৃতি রোমন্থনে ফিরে যান সেই বয়সে। দেখবেন এনর্জিতে ভরপুর হয়ে ফিরে আসবেন।

 

সপ্তাহ ৩৪

ফ্রেশলি গ্রাউন্ড কফি খান

চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস মোটামুটি আমাদের সকলেরই। দোকান থেকে কফির শিশি না কিনে কফি বিন কিনুন। কফি খাওয়ার আগে গ্রাউন্ডারে গ্রাউন্ড করে সেই ফ্রেশ কফি খাওয়া অভ্যাস করুন। কফির কড়া গন্ধে মন ভরতে তো বটেই তা ছাড়াও ফ্রেশলি গ্রাউন্ড কফি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।  দীর্ঘদিন শিশিতে রাখা গুঁড়ো কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লেভেল ক্রমশ কমেতে থাকে।

 

সপ্তাহ ৩৫

নিয়মিত মাসাজ নিন।

ক্লান্তি কমাতে, স্ট্রেস দূর করতে মাসাজ দারুণ। মাসাজ অয়েল কিংবা অলিভ অয়েল তো ভালই, খাঁটি নারকেল তেলও ত্বক নরম রাখতে সাহয্য করে। নির্দিষ্ট মাসার থাকলে  আপনার সুবিধে মতো বাড়েতেই করাতে পারবেন, অথবা ভাল পার্লারে গিয়ে নিয়মিত মাসাজ করান।  খরচ সাপেক্ষ মনে হলেও নিজেকে ঠিক রাখতে, দৈনন্দিন স্ট্রেসের মোকাবিলা করতে মাসাজের কোন বিকল্প নেই।

 


Leave a Reply