সুস্থ শিশু ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি

  • 0

সুস্থ শিশু ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি

Tags :

Category : Health Tips

সুস্থ শিশু ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে পিতামাতার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাদের স্নেহ ভালোবাসাই শিশুকে নিরাপত্তা প্রদান করে এবং আস্থাবান ও বিশ্বস্থ হতে সহায়তা করে। অপরদিকে, পিতামাতার কিছু আচরণত শিশুর জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তানের সুস্থ জীবন গঠনে পিতামাতার ভূমিকা অব্যশই গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক বাব মা তার শিশু সন্তানকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। অতিরিক্ত প্রশ্রয় শিশুর জন্য মোটেই শুভ নয়। তাছাড়া প্রতিটি বাবা মার ই উচিত তার সন্তানকে নিয়ন্ত্রনে রাখা। অনেকেই সন্তানের ইচ্ছা পূরণে সবসময় নিজেদের অস্থির রাখেন এবং যখন যা আবদার করে তাই এনে দেন। এর পরিণাম অব্যশই ভয়াবহ। কারণ, এর ফলে শিশুর মধ্যে স্বার্থপরতা, জিদ ইত্যাদি দেখা দেয় এবং বাবা মা ‘র অর্থ অপচয়সহ পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি করে।

শিশু সন্তানকে নিয়ে অতিমাত্রায় দু চিন্তা করাও শিশুর জন্য মঙ্গলজনক নয়। অনেক বাবা মা তার আদরের সন্তানকে নিয়ে অহেতুক অতিমাত্রায় দুশ্চিন্তায় থাকেন। আর তাই স্নেহ ভালবাসার পরিমাণ বাড়িয়ে তারা তাদের শিশু সন্তানদের ওপর ভীষণ রক্ষণশীল হয়ে পড়েন। এর ফলে শিশুর স্বাধীনসত্তা বা  ইচ্ছা শক্তি লোপ পায় অর্থ্যাৎ শিশু বাবা মা র ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। নিজে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং ভীতু প্রকৃতির হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত আগলে রাখার কারণে শিশুর মধ্যে উদ্যম ও উৎসাহের ভীষণ অভাব দেখা দেয় এবং সহজেই হতাশায় ভেঙ্গে পড়ে। বাবা মার এই অতিমাত্রায় আগলে রাখা শিশুর শিক্ষা ও বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে ও তেমন আগ্রহ প্রকাশ করে না বা ব্যর্থ হয়।

শিশু

শিশু

অনেক ক্ষেত্রে বাবা মার তার শিশু সন্তানকে আদেশ মানতে বাধ্য করেন।  এটা মোটেও ঠিক নয়। এর ফলে শিশুর মনে একটা জিদ ও ক্রোধভাব ভীষণভাবে জেগে ওঠে এবং অনেক সময় অসামাজিক বা অপরাধমুলক কাজে তার জড়িয়ে পড়ে।

শিশুর প্রতি অবহেলা করাও কোনভাবেই উচিত নয়। দেখা যায়, অনেক বাবা মা তার শিশু সন্তানের প্রতি অবহেলা করে থাকেন। দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে বাবা মা তার সন্তানকে আদর স্নেহ ও ছোট খাট আবদার পূরণ থেকে দূরে থাকেন এবং অনেক সময় মারপিট, বকাঝকা বা নির্যাতনও করে থাকেন। এর ফলে শিশু মানসিক ভারসম্য হারিয়ে ফেলে এবং ভীষণ এক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে।

সুতারাং দেখা যাচেছ, বাবা মার আচরণের ওপর নির্ভর করে শিশুর সুস্থ্য ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা। তাই সন্তান প্রতিপালনে প্রতিটি বাবা মার ই সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই একটা সীমা বা দিক নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। যদিও এসব সমস্যা কখন কোনটা অতিরিক্ত হচ্ছে বা সঠিকভাবে হচ্চে না, তা বুঝা কঠিন। অবশ্য এসব ক্ষেত্রে সন্দেহ হলে অর্থ্যাৎ সঠিক ব্যাপারটি বুঝা সম্ভব না হলে মনস্তাত্বিকের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে পরিবারে শিশুর নিজস্ব মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে এবং স্বনিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকে, সেই পরিবারের শিশুর ব্যক্তিত্ব সুস্থ ও সুন্দর হয়। শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য বাবা মার পারস্পরিক সু সম্পর্ক থাকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া প্রতিটি শিশুর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্যও পরিবারের স্নেহ মমতার প্রয়োজন আছে। তাই সেসব পরিবারের এগুলোর কোনটির অভাব নেই, সেই পরিবারের শিশুরা নিঃসন্দেহে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে।

আমাদের এ সমাজে অনেক ছেলেমেয়েই মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে অপরাধ ও অসামাজিক বিভিন্ন কার্যাকলাপে জড়িয়ে পড়ছে হয়ে পড়ছে, বখাটে ও অবাধ্য। আর এ জন্য মুলতঃ দায়ী হচ্ছে বাবা মা র অস্বাভাবিক আচরণ ও পারিবারিক অশান্তি। শিশু সন্তানের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক গঠনে প্রতিটি বাবা মাকে অবশ্যই সচেতন ও মনোপযোগী হতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে ও গড়ে তুলতে হবে শিশুর উপযোগী পরিবেশ হিসেবে। আজকের শিশুই আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যত নাগরিক। তাই শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক গঠনে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত।

প্রদীপ সাহা।


Leave a Reply