সুস্বাদু ফল কামরাঙ্গা

  • 0

সুস্বাদু ফল কামরাঙ্গা

Tags :

Category : health tips bangla

সুস্বাদু ফল কামরাঙ্গা

 

কামরাঙ্গা টক মিষ্টি জাতীয় সুস্বাদু, উপকারী ও লোভনীয় ফল। ঘন সবুজপত্র শোভিত ছায়াদানকারী এ গাছ প্রকৃতি বান্ধব। যে কোন বাড়ী বা বাগানে এরকম মাঝারি ধরনের একটি গাচ সে বাড়ী বা বাগানর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আজকাল মাটির টব বা ড্রামে রোপিত কামরাঙ্গা গাছে ফল ধরতে দেখা যায়। গাছটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর দেখায়। ঝুড়ি ঝুড়ি ফল গাছের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দেখলে মনে হয় যেন সারা গাছটাই যেন ফলে আবৃত। মনোহর আকৃতির হলুদ রংয়ের আর্কষণীয় এ ফল দেখলে যে কোন কারো জিভে পানি আসে। ফলটি রসে ভরা। কামরাঙ্গা পেকে গেলে খালি মুখে চিবিয়ে খেতেও ভাল লাগে। কামরাঙ্গা কাচামরিচ দিয়ে চাটনি করে খেতেও খুব ভাল লাগে। এছাড়া তরকারি, অম্বলও ডাল দিয়ে রান্না করে খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। আবার কামরাঙ্গা দিয়ে অনেক গৃহিনী উন্নতমানের জেলি তৈরি করে থাকেন।  এ জেলি নাস্তার টেবিলের আর্কষন বৃদ্ধি করে। ইদানিং কামরাঙ্গার জেলি বিদেশেও রপ্তানিরও প্রচেষ্টা চলছে। কামরাঙ্গা গাছ বছরে ২/৩ বার ফল প্রদান করে থাকে। কামরাঙ্গার চাষ পদ্ধতি সহজ। বীজ অথবা গুটি কলম করে কামরাঙ্গার চাষ করা যায়। উর্বর দো আশ মাটি এ চাষের বেশি উপযোগী হলেও সব ধরনের মাটিতেই কামরাঙ্গার চাষ কম বেশি করা যায়। পাহাড় বা টিলা এলাকায় কামরাঙ্গা ভাল ফলে। সারাদেশে কামরাঙ্গার চাষ হয়। তবে বৃহত্তর বগুড়ার জয়পুরহাট এলাকায় পশ্চিমাঞ্চলের অনেক চাষী কামরাঙ্গার চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ঢাকাসহ সারাদেশে এ অঞ্চলের কামরাঙ্গা সরবারহ করা হয়ে থাকে।

বর্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে অর্থ্যাৎ এপ্রিল মে মাসে ৭-৮ মিটার দুরুত্বে ৭.৫ সে.মি. চওড়া এবং ৭৫ সে. মি. গভীর। গোলাকার গর্ত তৈরি করে প্রতি গর্তে ২০ কেজি গোবর, ১ কেজি খৈল, টিএসপি ৫০০ গ্রাম ও ছাই ৪ কেজি মিশিয়ে মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করে রাখতে হবে। সপ্তাহ দুয়েক পর গর্তের মাটি ভাল করে ওলোট পালট করে ঐ গর্তে গাছের চারা বা বীজ রোপন করতে হবে। প্রতি বিঘা জমিতে ৩০-৪০টি চারা রোপন করা যায়। গাছে যখন ফল আসতে শুরু করবে তখন গাছ প্রতি ২৫ কেজি গোবর, ১ কেজি খৈল ও ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম, টিএসপি ৭০০ গ্রাম এবং এমপি সার ৫০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। কামরাঙ্গা ফলের বাগান সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। খরা মৌসু মাঝে মাঝে সেচ প্রদান করা ভাল। গাছের অপ্রয়োজনীয়ং দুর্বল অংশ কেটে, ছাটাই করে রাখলে গাছের বাড়তি ও ফলন ভাল হয়। কামরাঙ্গা গাছ সাধারণত ফাল্গুন – চৈত্র এবং আশ্বিন কার্তিক মাসে ফল দেয়। এছাড়া কোন কোন গাছ হতে সারাবছর ফল পাওয়া যায়। গাছের নিয়মিত যত্ন ও পরিচর্যার এক বিঘা জমির ৩৫টি গাছে ২.৫০ গাছ থেকে ৩ হাজার কেজি কামরাঙ্গা সংগ্রহ করা যায়। প্রতি গ্রামে কেজি কামরাঙ্গা গড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাজারে বিক্রি হয়। সে হিসাবে বছরে প্রতি বিঘা জমিতে কামরাঙ্গা চাষ করে ৪৫-৫০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

কামরাঙ্গা টক হলেও অত্যান্ত পুষ্টিকর ফল। আহার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙ্গা থেকে ০.৫ গ্রাম আমিষ, ১০ গ্রাম শ্বেত সার, ১ গ্রাম চর্বি, ০.৫ মিলিগ্রাম খনিজ লবণ, ৬১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.২ মিলিগ্রাম লৌহ ও ক্যারোটিন অল্ম এবং ৫০ ক্যালরি খাদ্য শক্তি পাওয়া যায়।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক ও কলামিস্ট


Leave a Reply