ডায়াবেটিস রোগীর সেহরি ইফতার

  • 0

ডায়াবেটিস রোগীর সেহরি ইফতার

Category : Health Tips

ডায়াবেটিস রোগীর সেহরি ইফতার

রোজার মাস আসতেই ডায়াবেটিস রোগীদের বেশির ভাগই শঙ্কিত হয়ে পড়েন। সারা দিন রোজা রেখে হিসাব করে কী খাওয়া সম্ভব ? কথা তো ঠিকই, ১০ ঘন্টা পানাহার না করে থেকে যদি ইফতারে কেউ বলে এটা খাওয়া যাবে না, ওটা খাবেন না, স্বাভাবিকভাবেই মাথা গরম হয়ে যাওয়ার কথা। বলুন তো, আমি এখন কী করি,  এভাবে কি রোজা রাখা যায়?

আমি মাহবুব সাবকে আশ্বস্থ করলাম, আচ্ছা আপনি বলুন তো, আপনার আসল সমস্যা কি, রোজা করতে এক কষ্ট কেন? ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগে রোজ করা অভ্যাস ছিল তো? তা ছিল স্যার, কিন্তু ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর বাড়ির লোকজন তো খেতেই দিতে চায় না ঠিকমতো। স্যার, সারা দিন রোজা থাকার পর মেপে মেপে ভাত তরকারী এমনকি ইফতারিও গুনে গুনে দিলে রোজা থাকি কী করে স্যার ?

আচ্ছা, আমি তার সমস্যাটা পুরোপুরি বুঝতে পারলম, পরে তাকে বললাম, ইফতারির মোটামুটি একটা মেনু বা তালিকা বলুন তো কী খেলে আপনার কষ্ট কম হবে? তিনি আমাকে বললেন, স্যার সবাই যা খায় আমিও এ রকমই চাই।

আচ্ছা মাহবুব সাব, আপনাকে যদি ইফতারে ছোলা,  পেয়াজু, বেগুনি, চপ, মুড়ির সাথে শসা বা টমেটোর সালাদ পরিবেশন করা হয় আপনি খুশি তো! স্যার বলেন কী? এত খাবার একসাথে; আমি বললাম শুধু তাই না এর সাথে আপনি একটা কমলার শরবতও খেতে পারবেন অথবা লেবুর শরবত এক গ্লাস।

তাহলে তো সন্ধ্যা রাতে খাওয়ার কোনই রুচি থাকবে না। আমি বললাম, যেহেতু ডায়াবেটিসের একটা ওষুধ খেতে হয় আপনার, সকালের ওষুধটা সন্ধ্যায় খাওয়ার আগে খেয়ে নিবেন। রাতে দু এক কাপ ভাতের সাথে এক কাপ সবজি, ৩০ থেকে ৬০ গ্রামের এক টুকরো মাছ ও এক কাপ ডাল খেতে পারবেন। সেহরিতে দুই তিন কাপ ভাত (১২০ গ্রাম পরিমাণ) সবজি এক কাপ, মাংস এক টুকরো, (৩০ -৬০ গ্রাম), ডাল এক কাপ, দুধ এক কাপ (১২০ মিলি) খেতে পারবেন। রাতে ওষুধটা সেহরির আগে খেতে পারেন। তারপর তার অভিব্যাক্তি এভাবেই প্রকাশ করলেন – স্যার, রোজা তো ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগেও করেছি। কিন্তু এরকম বাহারি ইফতারি তো আয়োজন করার কথা ভাবিনি কখনো।

ঠিক আছে স্যার, এই গরিবের বাড়িতে ইফতারে একদিন আসবেন কি দয়া করে?

আমি ভাবলাম ইফতার তো বাসায়ও করি, তার বাসায় না হয় এবার করে দেখি না। একদিন গিয়ে দেখলাম, ব্যতিক্রম এক আয়োজন, ডায়াবেটিস রোগীদের মিনি এক সম্মেলন বলা যায়।

যেখানে ব্যানারে লেখা বাহারি রসনায়/ ইফতার করব একত্রে সবাই। আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম, জীবনে অনেক সভা সমিতি দেখেছি, কিন্তু ডায়াবেটিস সদস্য সমিতি দেখিনি কখনো। ইফতারির মেনুতেও দেখালাম সেই বাহারি সমাহার, যেখানে শুরু করা হলো- টসটসে কমলার শবরত দিয়ে, শেষে হলো ছোলা,  পেয়াজু,  বেগুনি, আলুর চপের সাথে মুড়িভর্তা দিয়ে। তার আয়োজন দেখে, এত ডায়াবেটিস রোগীর চোখে মুখে নির্মল হাসির ছোয়া দেখে সত্যিই খুশিতে চেম্বার করতে পারিনি সেদিন।

শুধু আমার সৎ একটা পরামর্শ, ওদের জীবনে যেন খুশির জোয়ার এনে দিয়েছিল সেদিন মাগরিবের নামাজের পরে শুধু এ দোয়াই কামনা করেছিলাম তারা যেন সমাজে কারো বোকা হয় না কোন দিনও।

লেখক : মেডিক্যাল অফিসার, জেনারেল হাসপাতাল, জামালপুর।

 


Leave a Reply