স্ত্রীরোগ ও ডি আ্যান্ড সি

  • 0

স্ত্রীরোগ ও ডি আ্যান্ড সি

Category : Health Tips

স্ত্রীরোগ ও ডি আ্যান্ড সি

ডাঃ কল্যানী মুখার্জি

ডি অ্যান্ড সি কাকে বলে ?

ডি অ্যান্ড সি বলতে বোঝায় জরায়ুর যে অংশটি প্রসবদ্বারের মধ্যে থাকে, তাকে সারভিক্স বলে। সারভিক্সটি একটি যন্ত্রের সাহায্যে একটু বড় করে নেয়া হয় এবং তারপরে অন্য একটি যন্ত্রের সাহায্যে একটু বড় করে নেয়া হয় এবং তারপরে অন্য একটি যন্ত্র দিয়ে জরায়ুর ভেতরের ঝিল্লির অংশ কিছুটা বার করে নেয়া হয়। অনেক সময় এই ঝিল্লির অল্প একটু অংশ বার করা হয়, আবার প্রয়োজনবোধে ভাল করে যতটা সম্ভব জরায়ুর ভেতরকার ঝিল্লি পরিষ্কার করে নেয়া হয়।

ডি অ্যান্ড সি কখন করা হয় ?

সাধারণ ডি অ্যান্ড সি বলতে সবাই বোঝেন অ্যারবশান করানোর একটি পদ্ধতি। তবে আজকাল অ্যাবরশানের জন্য সাকশন ইভ্যাকুয়েশনাই অধিক প্রচলিত। অ্যাবরশান ছাড়াও আরও অনেক কারনেই ডি সি. করানো হয়। জরায়ুতে কখনও যদি রোগের সম্ভাবনা লক্ষ্য করা হয়, তবে সেই রোগ নির্ণয়ের জন্যও ডি. সি. করার প্রয়োজন। আবার কোন মহিলা যদি সন্তান ধারণে অক্ষম হন, তাহলে তার হরমোনাল স্টেটাস অর্থ্যাৎ সেই মহিলার ডিম্বাণু গমন হচ্ছে কি না তা জানার জন্যও এই পরীক্ষাটি করা হয়। এছাড়া অনিয়মিত মাসিকের ক্ষেত্রেও ডি সি করা হয়। তবে খুব অল্পবয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে এই অপারেশন করা হয় না। এর মাধ্যমে জানা যায় কেন মাসিক অনিয়মিত হচ্ছে এবং ভালভাবে ডি সি. করার পর এই অনিয়মিত মাসিক প্রায় ৫০ শতাংশ সেরে যাওয়া সম্ভব। এই ধরনের অনিয়মিত মাসিককে ডিসফাংশনাল ইউটেরাইন হেমারেজ বলে। জরায়ুর রোগের মধ্যে ইনফেকশানজনিত রোগ যেমন টিউবারকুলিস, হলে প্রাথমিকভাবে ভীষণ মাসিক কমে যায় বা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া অতীতে যদি ফুসফুসের যক্ষা হয়ে থাকে, তাহলে ডি সি. করে দেখে নেয়া হয় জরায়ুতেও যক্ষা হয়েছে কিনা।

ইনফেকশান ছাড়াও বয়স্ক মহিলাদের অনেক সময় মাসিক বন্ধ হবার আগে বা পরে অত্যধিক রক্তস্রাব হয়। কখনও কখনও মেনোপজের সময় মাসিক বন্ধ হবার কিছুদিন পরে আবার রক্তস্রাব আরম্ভ হয়। এইসব ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা করে দেয়া হয় কোনও রকম ম্যালিগন্যান্সি বা ক্যান্সার জাতীয় কোনও রোগ হয়েছে কিনা।

কীভাবে ডি অ্যান্ড সি করা হয় ?

ডায়লেটেশান অ্যান্ড কিউরেটাজ করতে গেলে রোগীকে অ্যানেস্থিশিয়া দেয়া আবশ্যক। অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে অজ্ঞান করে অভ্যান্তরীণ পরীক্ষা করা হয়। এই ইন্টারনাল পরীক্ষার কোনও রোগের সম্ভাবনা আছে কিনা, তা ভালভাবে দেখে, তারপর স্পেকিউলাম নামে একটি যন্ত্র প্রসবদ্বারের ভেতর প্রবেশ করানো হয়। এবার সারভিক্সটি ধরে সাউন্ড নামক অন্য একটি যন্ত্র প্রবেশ করানো হয়। ডায়লেটারের সাহায্যে এরপর জায়গাটি বড় করে নিয়ে ‍কিউটে দিয়ে জরায়ুর ঝিল্লিটা বার করে আনা হয়। এই অপারেশনটি কিন্তু অজ্ঞান না করে কখনই করা উচিত নয়, কারণ রোগীর শক হতে পারে। এছাড়া অজ্ঞান না করলে ঠিকভাবে কিউরেট করাও সম্ভব নয়।

কোথায় এই অপারেশন করা যাবে ?


 

                সাধারণত সব বড় হাসপাতালে ডি. সি হয়। এছাড়া অনেক নার্সিং হোমেও অপারেশনটি করা সম্ভব।

সতর্ক – বার্তা

হাসপাতালে বা ভাল নার্সিং হোমে অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে ডি. সি. না করালে ক্ষতি হতে পারে। অপটু হাতে ডি. সি. করানোর ফলে জরায়ু  ‍ফুটো হয়ে যাবার নজির আছে। সেক্ষেত্রে পেট কেটে অর্থ্যাৎ অ্যাবডমিনাল অপারেশন করে জরায়ু সারাতে হয়।

বিশেষ জ্ঞাতব্য

১। ডি. সি. হবার পর জরায়ু থেকে বের করে আনা ঝিল্লির প্যাথলেজিক্যাল টেস্ট অর্থ্যাৎ বায়োপসি অবশ্যই হওয়া দরকার। এই পরীক্ষাটি না হলে ডি. সি. করার কোনও মূ্ল্যই নেই।

২। প্যাথলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে মূল রোগটি নির্ণীত হয় এবং এর ভিত্তিতে চিকিৎসা করা যায়। ডি. সি. করা মানেই আরোগ্য নয়, বরং অনেক সময় ডি. সি এর ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসা হয়।

৩। ডি. সি. ভালভাবে করা না হলে ভবিষ্যতে অনেক অসুবিধের সম্মুখীণ হতে হয়। জরায়ু ফুটো হয়ে যাওয়া ছাড়া, রক্তস্রাব হতে পারে বা সারভিক্স ছিড়ে যেতে পারে। অত্যধিক কিউরেট করলে মাসিক কমে যেতে পারে, কিংবা জরায়ুর  দুটো দেওয়াল জুড়ে যাওয়া সম্ভব। এর ফলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায় এবং এর চিকিৎসা অত্যান্ত কষ্টসাধ্য। বেশি ডায়লেটেশান করা হলে জরায়ুর মুখ বন্ধ হয়ে যায়, যা সন্তান ধারনের সমস্যার সৃষ্টি করে। এছাড়া অনভিজ্ঞ হাতে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ডি. সি. করালে ইনফেকশানের ভয়তো আছেই। তাই একমাত্র অভিজ্ঞ ডাক্তার ও ভাল হাসপাতাল বা নার্সিং হোমেই ডি অ্যান্ড সি করানো উচিত।


Leave a Reply