ইফতারিতে স্বাস্থ্যসম্মত শরবত

  • 0

ইফতারিতে স্বাস্থ্যসম্মত শরবত

ইফতারিতে স্বাস্থ্যসম্মত শরবত

শরবত রোজাদারের ইফতারের অন্যতম পানীয়। রোজাদারের দেহের সারা দিনের ঘাটতি দ্রুত পূরণে শরবত বিশেষ ভূমিকা রাখে। সারা দিন অনাহারে থাকার ফলে শরবত পান করা প্রয়োজনা। এতে দেহে দ্রুত পানির ঘাটতি পূরণ করে শক্তি দেবে। শরবতে রয়েছে খাদ্যশক্তি, গ্লুকোজ, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। শরবত তৃষ্ণা মোটায়, পেট ঠান্ডা রাখে, খাদ্যদ্রব্য হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্টকাটিন্য দূর করে। স্যালাইনের মতো দ্রতি শক্তি দেয়।

শরবত

শরবত

কোন শরবত স্বাস্থ্যম্মত, সেটাই প্রশ্ন। বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের যে রঙিন শরবত পাওয়া যায় তা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। রঙিন শরবতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে। ফলের জুসে নেই ফলের রস। চিনি, গুড়, লেবু ও পানি দিয়ে তৈরি শরবতই সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত। অনেকেরেই প্রশ্ন, চিনির চেয়ে গুড় বেশি পুষ্টি ও ভেষজসমৃদ্ধ। আখের গুড় চিনির চেয়ে বেশি হজম হয়। গুড়ে আখের রসের সব খনিজ ও ক্ষারক পদার্থ সুরক্ষিত থাকে। তবে গুড়ে প্রচুর ময়লা থাকে। এই ময়লায় পরিশোধন করতে পারলে গুড়ই উত্তম হতো।

আয়ুর্বেদ মতে, গুড় রক্তস্বল্পতা, জন্ডিস, পিত্তনাশ ও কোনো স্থানে ফুলে ওঠা দূর করে। গুড়ের শরবত কোষ্ঠ্যকাঠিণ্য দূর করে। গুড়ে চিনির চেয়ে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফসফরাস বেশি থাকে। আখের রসের চেয়ে  গুড় ও চিনিতে ১০ গুন বেশি খাদ্যশক্তি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস বেশি থাকে। অনেকেই আখের রস পুষ্টিসমৃদ্ধ মনে করে ইফতারে শরবত হিসেবে পান করেন। প্রতি ১০০ গ্রাম আখের গুড়, চিনি ও আখের পুষ্টি আছে যথাক্রমে খাদ্যশক্তি ৩৮৩, ৩৯৪, ৩৯ ক্যালরি; শর্করা ৯.৫, ৯.৮, ও ৯.১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮০, ২৮ ও ১০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৪০, ৪, ও ১০ মিলিগ্রাম এবং আয়রণ ১১.৪, ০.১১, ১.১ মিলিগ্রাম। পরিষ্কার করে শরবত করতে পারলে আখের গুড়ের শরবতই স্বাস্থ্যসম্মত।

ডা. ওয়ানাইজা   লেখিকাঃ সহযোগী অধ্যাপক, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।


Leave a Reply