স্মোকিং এবং ড্রাগ

  • 0

স্মোকিং এবং ড্রাগ

স্মোকিং এবং ড্রাগ

 

স্মোকিং এবং ড্রাগের কবল থেকে নিজের সন্তান কে রক্ষা করবেন কী করে?  কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ।

 

সন্দেহটা কিছুদিন ধরেই দানা বাঁধছিল  বিপাশার মনে। কিন্তু আজ দুপুরে ১৮ বছরের মেয়ে টুপুরের জিনস কাচতে দেয়ার সময় ব্যাপারটা পরিস্কার হয়ে গেল । টুপুরেরি হিপ পকেটে পাওয়া গেল একটা দামি সিগারেট আর লাইটার।  টুপুর স্মোক করতে শুরু করেছে।  অথচ আগে কোনও দিন টুপুরের মধ্যে কোনও ধরনের নেশার ছিটেফোটা লক্ষ করেনি বাড়ির কেউ।  দিব্যি আর চারটে  স্বাভাবিক  ছেলেমেয়ের মতো লেখাধুল লেখাপাড়া, দুষ্টামি করেছে।  হায়ায় সেকেন্ডারি পরীক্ষায় ‍৯০% এর বেশি মার্কস পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং  কলেজে ভর্তি হয়েছে এই মোট মাস ছয়েক্ এর মধ্যেই মেয়ের কী হল কে জানে? কলেজ থেকে ফেরার পর বিপাশা মেয়েকে জিজ্ঞেস করা মাত্র সে বলে উঠল, ‘কই বাবা দাদাকে তো তুমি বারণ কর না? আমার সব বন্ধুরাই তো স্মোক করে। শুধু আমি খেলেই যতো দোষ!’ নির্বাক বিপাশা কী করবে বুঝে উঠতে পারে না।

 

মৃদুলা আর অর্ণবের সমস্য আর ঘোরতর। ওদের একমাত্র ছেলে সম্বুদ্ধ আজ প্রায় দুই বছর ধরে ড্রাগ অ্যাডিক্ট।  স্কুল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে প্রথমবার হেরোইন স্মোক করে। তারপর সেই হেরোইন আস্তে আস্তে গ্রাস করেছে কুড়ি বছরের তরতাজা ছেলেটাকে। পড়াশোনা মাথায় উঠেছে অনেক দিন এখন নিজেকে সারাদিন ঘরে বন্ধ করে ঝিম মেরে বসে থাকে বা ঘুমোয় সম্বুদ্ধ।  অনেক জোর করেও কাউন্সিলিং  বা চিকিৎসার জন্য ওকে রাজি করাতে পারেনি মৃদুলা আর অর্ণব।  ছেলের ভবিষ্যতের চিন্তা করে চোখে ঘুম নেই কারও। সর্বনাশা নেশার কবল থেকে ছেলেমেয়েকে যে কোনওভাবে ছাড়িয়ে আনতে চান যে কোনও মা বাবাই ন্তিু এই জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিল করা খুবই শক্ত। বয়ঃসন্ধির এর বছরগুলিতে পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখার ইচ্ছেটা এতই অদম্য হয়ে ওঠে যে সিগারেট বা ড্রাগকেই নিজেদের সঙ্গী বলে ভেবে নেয়। নিজের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক  জীবনও যে কত বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে এই বয়েসে, তা বোঝা অসম্ভব। তাই বাবা-মায়ের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। ছেলে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং কিছু বিশেষ ব্যাপারে নজর রাখা টিন এজ পেরেন্টিয়ের অপরিহার্য অঙ্গ।

 

কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ।

  • ব্যবহার পরিবর্তন। একা ঘরে দরজা বন্ধ কওরে বহুক্ষণ থাকা, এক জায়গায় বেশিক্ষণ না বসতে চাওয়া বা উশখুশ করার প্রবণত।
  • নিশ্বাসে, জামাকাপড়ে আর বাথরুম ব্যবহার করার পর তামাকের গন্ধ।
  • মুখের চামড়া কুচকে যাওয়া বা শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
  • শুকনো কাশি হওয়ার প্রবণতা।
  • কোনও অসুস্থতা থাকলে, তা সারতে স্বাভাবিকের থেকে বেশি সময় লাগে।
  • খেলাধুলো বা যে কোনও ফিজিকাল অ্যাক্টিবিটি থেকে উৎসাহ চলে যাওয়া।
  • ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার।
  • টাকাপয়সার জন্য মা-বাবাকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া।

 

বাড়ির পরিবেশ।

 

বাড়ির বড়দের দেখে ছোটরা অনেক কিছু শেখে। সিগারেট খাওয়া বা অপরিমিত অ্যালকোহল খাওয়ার বড়দের দেখে ছেলেমেয়েরা খুব সহজেই শিখে ফেলে। সুবিধে মতো অভিযোগের আঙুলও বড়দের দিকে ঘুরিয়ে দেয় তারা।  সমীক্ষায় এও দেখা গিয়েছে যে, যে সব শিশুর বাবা বা মায়ের মধ্যে যে কোনও একজন স্মোকার , বড় হয়ে বড় হয়ে তার সিগারেট খাওয়া বা অন্যান্য নেশা করার সম্ভাবনা বিশ ভাগ বেড়ে যায়।  এই সব পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্যে প্রথম থেকেই বাড়ির ছোটদের সামনে স্মোক করা থেকে বিরত থাকুন।  এতে বাচ্চাও প্যাসিভ স্মোকিং থেকে মুক্তি পাবে। বদ্ধ জায়গায়, বেডরুমে বা গাড়িতে কখনওই স্মোক করবেন না। সন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক  হয়ে গেলেও তাকে সিগারেট আফার করবেন না । স্কোম করার অভ্যেস  থাকলেও সিগারেট  প্যাকেট এমন জায়গায় রাখবেন না যেখানে বাচ্চার সহজেই হাত পায়।

 

বন্ধুদের প্রভাব।

 

এমন একটা বয়েসে আমরা সবাই পেরিয়ে এসেছি যখন বন্ধুদেরই সবচেয়ে কাছের লোক মনে হয়।  বন্ধুদের কথা বেদবাক্যের সামিল। এই বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সিগারেট বা ড্রাগের শোয় আক্রান্ত হয় অধিকাংশ টিন এজার।  বন্ধুদের প্রভাব থে কে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে একা একা বেড়ে ওঠা সম্ভব নয়।  তবে আপনার সন্তানের মধ্যে ছেলেবেলা থেকে একটা নিজস্বাতা আপনি গড়ে দিতেই পারেন যা ওকে বন্ধুদের  কপরামর্শ থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।  ছেলেবলা থেকে বোঝান যে, কোনওরকম নেশাই মানুষকে তার ক্রীতদাস বানিয়ে রাখে।  নেশা কখনওই কোন ধরেনের গ্ল্যালামার বা রোম্যান্সের  ‍উপকরণ হতে পারে না। কাউকে ইম্প্রেস করার জন্য নেশার দ্বারস্থ হওয়াও নেহাতই বোকামি। যে কোন নেশার কুপ্রভাব নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা বা ইন্টরনে সার্ফ করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন একসঙ্গে। অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা যে বড় হওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, সেটা ওকে বুঝতে সাহায্য করুন।

 

 

’না’ বলতে শেখা।

 

আপনার সন্তান ’না’ বলতে তখনই শিখবে যখন যে নিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হবে। একে কনিফিডেন্ট করে তোরলার কাটা আপনার।  ছোটবেলা থেকে ওকে অন্যদের মতো হওয়ার অনুপ্রেরণা না দিয়ে ওর যা করতে ভালবাসে সে দিকে উৎসাহ দিন। হবি, খেলাধুলো, কো-কারকুলার  অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে ও নিজেকে অন্যদের থেকে ছুটি নিয়ে দিনটা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। অলাদা মনে করবে।  ফলে বন্ধুদের ইচ্ছেঅনিচ্ছার  সঙ্গে সবসময় একমত হওয়ার দায় ওর থাকবে না।  এসব ছাড়াও স্মোকিং বা ড্র্রাগস সংক্রান্ত  বেসব অনুরোধ  বা ঠাট্টা বন্ধুদের তরফ থেকে ওর দিকে আসতে পারে, সেগুলো মোকাবিলা করার জন্যে কী বলতে হবে, সেটাও ওকে ধীরে ধীরে শিখিয়ে দিন। প্রতিদিন কিছুটা সময় ওর সঙ্গে কাটান ।  স্কুলের বন্ধু, পাড়ার বন্ধু সবার সম্বন্ধে খোঁজখবর নিন।  তাহলেই আপনার সন্তানকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারবেন।

 


Leave a Reply